07/08/2026
আপনি কী ডেঙ্গু, হাম , অতিমাত্রায় চুলকানি এবং বিশেষ করে এত রোগবালাই বেড়ে যাওয়া নিয়ে চিন্তিত? বুঝতেছেন না কি করবেন কীভাবে বাঁচাবেন নিজেকে এবং নিজের ভবিষ্যৎক?
আসুন আমরা আজ এক ধারণা সম্পর্কে জানি যা আপনাকে পথ দেখাবে এই জটিল অবস্থা উত্তরণের যার নাম হলো One Health. One Health মানে হলো Human health, Animal health and Environment Health এর সমন্বয়ে একক স্বাস্থগত ধারণা। অনেকে ভাবতে পারেন আরে ভাই প্রাণী স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের স্বাস্থ্য কীভাবে আসল? এখানেই আমাদের মূল জিনিস নিহিত। আমাদের রোগবালাই এর জগতে অনেক রোগজীবাণু আমাদের প্রাণীরা বহন করে যারা কিনা থাকে বন্য পরিবেশে এখন কেন এরা আমাদের শরীরে আসছে আমাদের এই প্রশ্নটার উত্তর খুঁজেলেই বেড়িয়ে পড়বে কেন প্রয়োজন আমাদের এই One Health. আমাদের অতিপরিচিত কোভিড ১৯ ও কিন্তু প্রাণী দেহ থেকে মানবদেহে এসেছে এর মূল কারণ বন্য প্রাণীদের আবাসস্থল ধ্বংস। এর ফলে আমাদের সাথে বন্যপ্রাণীদের যে দূরত্ব থাকা প্রয়োজন কমে যাচ্ছে। আমরা যদি বন্য প্রাণীদের আবাসস্থল পুনরুদ্ধার না করতে পারি ভবিষ্যতে আমাদের আরো বড়ধরনের মহামারীর শিকার হতে বাধ্য হব। সুইনফ্লু, নিপাহ ভাইরাস সবি প্রাণী বাহিত রোগ এর থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় প্রাণীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করা। শুধু যে প্রাণী মানবদেহে রোগ ছড়াতে পারে তাই নয় আমরা মানুষরাও কিন্তু পারি কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যক্ষ্মা মানুষ দেহ থেকে গবাদি পশু, এবং আমাদের হাম বানরের দেহে ছড়াতে পারে! এই যে হঠাৎ করে চর্ম এবং চুলকানি জাতীয় রোগ প্রচুর বেড়ে যাচ্ছে কারণ আমাদের ওজন স্তর ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে অনেক। শুধু তাই না বাড়ছে অস্বাভাবিক অসময়ে গরম এবং বৃষ্টি। যা কিনা বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু মশার প্রজনন। আমরা কিছু সময় পর এদের মাড়ার জন্য গ্যাস ব্যবহার করলেও আস্তে আস্তে তাঁরা এর বিরুদ্ধে রেজিস্টেন্স করছে। আজ যদি আমাদের পরিবেশে ব্যাঙ থাকত এবং তার টিকে থাকার মতো বন্য পরিবেশে তারা এই ডেঙ্গুর লার্ভা খেয়ে এদের প্রজনন অনেক কমিয়ে আনতে সক্ষম হতো। আমরা যদি এখন প্রতিটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিন্দুকে একসাথে করি তাহলে দেখতে পাচ্ছি যে, আমাদের মানব গোষ্ঠীকে বাঁচাতে হলে আগে বাঁচাতে হবে আমাদের সাথে থাকা আরো অন্যান্য জীব বা প্রাণী গোষ্ঠীকে এবং তাদের বাঁচাতে হলে আগে বাঁচাতে আমাদের এই ধরিত্রী মাতা পৃথিবীর পরিবেশকে।
তাই One Health প্রোগ্রাম হলো সেই ধারণা যা কিনা আমাদের সেই বাঁচার এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে উপহার দেওয়ার জন্য একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করে।
মোহাম্মদ লাবিদ
অনার্স ২য় বর্ষ
২০২৩-২৪
প্রাণিবিদ্যা বিভাগ
Reference:
1. One Health – WHO
2. About One Health – Center For disease control and prevention USA.
3. The One Health Concept – National Institute of health
4. Environmental biology – K. M. Aurangzeb
04/08/2026
আজকের সেশন এর কিছু স্থিরচিত্র।
তারিখ : ০৪ আগষ্ট ২০২৬
31/07/2026
কঙ্গোর রহস্যময় কমলা-ঠোঁটের বানর: ১৮ বছরের অনুসন্ধানের পর নতুন প্রজাতির স্বীকৃতি.......
আফ্রিকার গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (DRC) ঘন বর্ষাবনে সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা একটি নতুন বানর প্রজাতি শনাক্ত করেছেন। এর বৈজ্ঞানিক নাম Colobus congoensis এবং স্থানীয় নাম লিকওয়েলি (Likweli)। এটি আফ্রিকায় গত ৭৫ বছরে আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত হওয়া মাত্র পঞ্চম নতুন বানর প্রজাতি।
📍পরিচিতি :
লিকওয়েলি একটি কোলাবাস (Colobus) বানর। এর সারা শরীর কালো লোমে ঢাকা, তবে মুখের চারপাশে উজ্জ্বল কমলা-ক্রিম রঙের অংশ এবং কমলা ঠোঁট এটিকে অন্য সব কোলাবাস বানর থেকে আলাদা করেছে।
♻️আবিষ্কারের ইতিহাস :
২০০৮ সালে কঙ্গোর রেইনফরেস্ট বা বৃষ্টিবনে প্রথম একটি অস্পষ্ট ছবিতে বানরটিকে দেখা যায়। পরে ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে গবেষকরা বারবার এটিকে পর্যবেক্ষণ করেন ( ২০১৮ সালে একই অঞ্চলে আবারও প্রাণীটির দেখা মেলে। এরপর গবেষকেরা কয়েক বছর ধরে মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ, শব্দ রেকর্ডিং, শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ এবং ডিএনএ পরীক্ষা চালান )। ডিএনএ বিশ্লেষণ, দেহের গঠন এবং স্বর বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতি। গবেষণাটি ২০২৬ সালে PLOS ONE-এ প্রকাশিত হয়।
➡️Classification of Orange-Lipped Colobus :
Phylum : Chordata
Class : Mammalia
Order : Primates
Family : Cercopithecidae
Genus : Colobus
Species : Colobus congoensis
***এটি একটি Old World Monkey (পুরাতন বিশ্বের বানর) এবং Colobinae উপপরিবারের সদস্য। এরা প্রধানত পাতাভোজী (leaf-eating) বানর এবং আফ্রিকার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চলে বাস করে।
👉বৈশিষ্ট্য :
১. কালো লোম ও কমলা-ক্রিম রঙের মুখমণ্ডল
২. লম্বা লেজ
৩. গাছের অনেক উঁচুতে বসবাস করে
৪. গভীর গর্জনের মতো স্বর করে, যা অন্য কোলাবাস বানরের থেকে ভিন্ন।
🛖বাসস্থান :
এটি কেবল গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের লোমামি ন্যাশনাল পার্ক এবং আশপাশের প্রায় ১,৭০০ বর্গকিলোমিটার বনাঞ্চলে পাওয়া গেছে।
🗞️সংরক্ষণ অবস্থা :
এই বানরের সংখ্যা খুবই কম এবং বন উজাড় ও শিকারের কারণে এটি হুমকির মুখে। গবেষকরা একে বিপন্ন (Endangered) হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেছেন।
⚠️গুরুত্ব :
লিকওয়েলির আবিষ্কার প্রমাণ করে যে কঙ্গোর বিশাল রেইনফরেস্টে এখনও এমন অনেক প্রাণী রয়েছে যাদের সম্পর্কে বিজ্ঞান জানে না। এই আবিষ্কার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তথ্যসূত্র :
1. Likweli: A remarkable new species of Colobus monkey from the Lomami National Park, Democratic Republic of Congo - Authorised by John A. Hart ( Lead Author ) , Junior Amboko , Kate Detwiler , Julia Arenson , Jean Pierre Kapale , Eric J. Sargis & others.
2. Yale News. (2026, July 15). Meet ‘Likweli’: A new monkey species discovered in the Congo Basin.
3. Le Monde. (2026, July 22). New monkey species identified in Lomami National Park, Democratic Republic of Congo.
4. Jamuna Television ( News Link - https://www.facebook.com/share/v/1LjtGfQmpE/ )
লেখক :
অতনু ব্যানার্জী
স্নাতক ২য় বর্ষ ( শিক্ষাবর্ষ : ২০২৩-২০২৪ )
প্রাণিবিদ্যা বিভাগ , সরকারি বাঙলা কলেজ
29/07/2026
International Tiger Day 2026 reminds us that protecting tigers means protecting our forests, biodiversity, and the future of our planet. As one of nature's most iconic apex predators, tigers play a vital role in maintaining ecological balance. On this special day, Zoology Club–GBC calls on everyone to raise awareness, conserve wildlife, and take collective action to ensure that future generations inherit a world where tigers continue to thrive. Together, let's protect tigers and preserve nature.
28/07/2026
ঘুমের ঘোরে হাটা রোগ বা সোমনাম্বুলিজম
গভীর রাতে হুট করে বিছানা থেকে উঠে কেউ একজন ঘরের মধ্যে উদ্দেশ্যহীন ভাবে হাঁটছে চোখ দুটো পুরো খোলা কিন্তু দৃষ্টি একদম শূন্য। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় সোমনাম্বুলিজম এবং সাধারণ মানুষের কাছে ইতি স্লিপওয়াকিং নামে পরিচিত।
লক্ষণ :
(১)আক্রান্ত ব্যক্তি হুট করে বিছানায় সোজা হয়ে বসে পড়তে পারেন
(২)ঘুমন্ত অবস্থাতেই ঘরের ভেতর বা বাইরে শান্তভাবে অথবা তাড়াহুড়ো করে হাঁটতে পারেন
(৩)ঘুমের ঘরে পোশাক পরা বা জিনিসপত্র সরানো, দরজা খোলার মতো দৈনন্দিন কাজ করতে পারেন।
(৪)হাঁটার সময় তাদের চোখ খোলাই থাকে।
(৫)চোখ খোলা থাকলেও দৃষ্টি শক্তি স্থির থাকে, কাঁচের মতো এবং অভিব্যক্তিহীন এরা সামনে থাকা মানুষকে সহজ চিনতে পারেন না।
(৬) হাটার সময় ডাকলে বা স্পর্শ করলে তারা কোন সাড়া দেন না
(৭) ঘুমের মধ্যে অস্পষ্ট ভাবে বা অগোছালোভাবে বিরতি করে কথা বলতে পারেন।
(৮)সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে রাতের এই ঘটনার কথা তাদের বিন্দুমাত্র মনে পড়ে না।
কারণ :
(১)পরিবারের অন্য কারো এরূপ রোগ থাকলে এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা আপনা আপনি বেড়ে জায়
(২)বাবা মায়ের মধ্যে কোন একজনের এই সমস্যা থাকলে সন্তানের এটি হওয়ার সম্ভাবনা তিনগুণ বেশি হয়।
(৩)সঠিক সময়ে না ঘুমানো বা দীর্ঘ সময় জেগে থাকা অন্যতম প্রধান কারণ।
(৪)অতিরিক্ত টেনশন, উদ্বেগ, মানসিক অবসাদ এই সমস্যা কি ট্রিগার করে।
(৫)ঘুমের মধ্যে পা নাড়ানোর অস্বস্তিকর রোগও এর জন্য দায়ী হতে পারে।
(৬)কিছু নির্দিষ্ট ঘুমের ঔষধ এলার্জির ঔষধ বা মানসিক রোগের ঔষধ জীবনের কারণে এটি হতে পারে।
(৬) শিশুদের মধ্যে রোগটি বেশি হয়ে থাকে কারণ তাদের স্নায়ুতন্ত্র বা সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম তখনো পুরোপুরি বিকশিত হয়নি বয়স বাড়ার সাথে সাথে এটি নিজে নিজে ঠিক হয়ে যায়।
প্রতিকার :
(১) ঘুমের সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলা।
(২)স্ক্রিন টাইম কমানো
(৩) ক্যাফেইন বর্জন
(৪)অ্যালকোহল বর্জন
(৫)যদি দেখেন রোগী প্রতি রাতে একটি নির্দিষ্ট সময়েই হাটা শুরু করে তবে সেই সময়ের ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগে তাকে আলোতে জাগিয়ে দিন
(৬)তাকে ৫ মিনিট জেগে থাকতে বলুন এবং তারপর আবার ঘুমাতে যেতে দিন এই পদ্ধতিটি ঘুমের চক্রকে পুনঃ নির্ধারণ করতে সহায়তা করে
কখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন :
(১)সপ্তাহে একাধিকবার ঘুমের মধ্যে হাঁটলে
(২)হাটার কারনে নিজের বা পরিবার অন্য কারো আহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে
(৩)প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরে এই সমস্যা নতুন করে শুরু হলে
(৪)যদি এর পিছনে স্লিপ এপনিয়া বা অন্য কোন শারীরিক রোগ দায়ী থাকলে
সোর্স : গুগল, উইকিপিডিয়া।
লেখক :জান্নাতুল ফেরদৌস
প্রাণিবিদ্যা বিভাগ
সেশন:২০২৩-২০২৪
27/07/2026
আমাদের পাঠ্যবইগুলো হয় একে বারে রস কষ হীন তাই এইসব বই কোন উৎসুকতা জাগাতে পারে না কিন্তু আপনি যদি আপনার ২য় বর্ষের স্তন্যপায়ীদের শর্ট নোটস এর টাইগার এবং ১ম বর্ষের প্রাণীবিজ্ঞান পরিচিত এর প্রাণী সংরক্ষণ, গবেষণা এইসব আসলে কীভাবে কাজ করে জানতে চান আপনাকে পড়তে হবে গবেষণা পত্র এবং তদ্বীয় সম্পর্কিত বই সমূহ। আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই বই পড়ে না তাই সবার মাঝে বই পড়ার আনন্দ ছড়িয়ে দিতে এই Book Review
সুন্দরবনে বাঘের সন্ধানে বইয়ের লেখক মনিরুল খান হলো ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের পর স্বাধীন বাংলাদেশের বাঘ নিয়ে একাডেমীক ভাবে কাজ করা প্রথম বিজ্ঞানী। উনি বাংলাদেশের রয়েল বেঙ্গল টাইগার নিয়ে গবেষণা করে Cambridge University থেকে PHD ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এই বইটি হলো গবেষণার সময়কার কাজ কর্ম নিয়ে লিখা। এই বইয়ে উঠে এসেছে বেঙ্গল টাইগার কেন পৃথিবীতে একক বৈচিত্র্যময়। উঠে এসেছে কীভাবে এরা তাদের Life Circle পরিপূর্ণ করে অনার্স ২য় বর্ষের Animal Systematics and Nomenclature এ পড়া কোন একটা গবেষণার ব্যাপ্তিকাল বলতে আসলে কি বুঝায় এইটা না পড়লে জানা যেত না। কুমির কীভাবে হয়ে রয়েছে সুন্দরবনের ২য় ভয়ঙ্কর প্রাণী। সুন্দরবনের বাঘ কমে যাওয়ার পেছনে যে একধরনের ঘাস তা কী জানতেন আপনারা? এইখানে উঠে এসেছে তার বিবরণ।
রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের প্রতীক এর সম্পর্কে জানা আমাদের একধরণের কর্তব্য বটে।
সুন্দরবনের বাঘের সন্ধানে
– মনিরুল ইসলাম
রিভিও কারী: লাবিদ হোসেন
প্রাণিবিদ্যা বিভাগ
অনার্স ২য় বর্ষ (২৩-২৪)
25/07/2026
কোটাম্যান সিন্ড্রোম: যখন জীবিত মানুষ নিজেকে ভাবে 'লাশ'!
আপনি বেঁচে আছেন, শ্বাস নিচ্ছেন, কথা বলছেন—অথচ আপনার মন আপনাকে দৃঢ়ভাবে বলছে যে আপনি আসলে মারা গেছেন! আপনার শরীরের ভেতরের লিভার, হার্ট বা ফুসফুস পচে গেছে, কিংবা আপনার শরীরে কোনো রক্তই নেই। শুনতে কোনো হরর সিনেমার গল্প মনে হলেও, চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটি অত্যন্ত বাস্তব একটি মানসিক ব্যাধি, যার নাম কোটাম্যান সিন্ড্রোম (Cotard's Delusion) বা "ওয়াকিং কর্পস সিন্ড্রোম" (Walking Co**se Syndrome)।
🔴 ইতিহাসের প্রথম অদ্ভুত রোগী:
১৮৮০ সালে ফরাসি নিউরোলজিস্ট ড. জুলেস কোটার্ড প্রথম এই রোগটি আবিষ্কার করেন। তিনি ‘মাদমোয়াজেল এক্স’ নামক এক নারীর কেস স্টাডি লেখেন। সেই নারী দাবি করতেন যে তার কোনো মস্তিষ্ক বা পাকস্থলী নেই, তিনি কেবলই চামড়া আর হাড়ের একটা কাঠামো। সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, তিনি নিজেকে ‘অমর’ ভাবতেন এবং বিশ্বাস করতেন তার যেহেতু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেই, তাই খাওয়ারও প্রয়োজন নেই। শেষ পর্যন্ত খাবার না খেয়ে অনাহারেই তিনি মারা যান!
🔴 মস্তিষ্কের কোন ভুলের কারণে এমন হয়?
বিজ্ঞানীদের মতে, মস্তিষ্কের যে অংশটি মানুষের মুখ চেনা এবং তার সাথে আবেগীয় সংযোগ (Emotional Connection) তৈরি করে, সেটি ড্যামেজ বা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে এই বিভ্রম তৈরি হয়। রোগী যখন আয়নায় নিজেকে দেখে, তখন তার মস্তিষ্ক নিজের চেহারার সাথে কোনো আবেগ খুঁজে পায় না। ফলে মন ধরে নেয়—"আমি যেহেতু নিজেকে অনুভব করতে পারছি না, তার মানে আমি নিশ্চয়ই বেঁচে নেই।"
🔴 আক্রান্তদের বিচিত্র অবস্থা:
এই রোগে আক্রান্ত রোগীরা চরম এক শূন্যতায় ভোগেন। অনেকেই নিজেদের কবর দেওয়ার জন্য শ্মশান বা কবরস্থানে যাওয়ার জেদ ধরেন। তারা গোসল ও খাওয়া-দাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেন।
💡 চিকিৎসা:
কোটাম্যান সিন্ড্রোম অত্যন্ত বিরল হলেও এটি তীব্র ডিপ্রেশন বা মস্তিষ্কের আঘাতের কারণে হতে পারে। তবে সঠিক অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট ওষুধ এবং থেরাপির (ECT) মাধ্যমে এই ‘জীবন্ত লাশ’দের আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
লেখিকা:সানজিদা
সেশন: ২০২৪-২০২৫
🌐 তথ্যসূত্র (References):
1. Cotard, J. (1880). "Du délire hypochondriaque dans une forme grave de la mélancolie anxieuse." Annales Médico-Psychologiques.
1. Debruyne, H., et al. (2009). "Cotard's delusion: a review." Current Psychiatry Reports.
2. WebMD - What Is Walking Co**se Syndrome?
24/07/2026
জীবনের বিনিময়ে জীবনের সৃষ্টি__ (SEMELPARITY)
আমরা জানি পৃথিবীতে বাবা মায়ের ত্যাগের কোনো তুলনা হয় না। আমাদের বাবা মা যেমন বিভিন্ন বাধা প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আমাদের বড় করে তোলেন। ঠিক তেমনি প্রকৃতির দিকে তাকালেও দেখা যায় বাবা মায়েদের ত্যাগের মহিমা।আমাদের পৃথিবীতে এমন কিছু অসাধারণ প্রাণী আছে, যাদের জন্য নতুন প্রজন্মের আগমন মানেই নিজেদেরকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করা। বিজ্ঞানের ভাষায় এই চরম আত্মত্যাগকে বলা হয় 'সেমেলপ্যারিটি' (Semelparity) বা "আত্মঘাতী প্রজনন"। নিজের প্রজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং বংশগতির ধারা বজায় রাখতে এরা যে ত্যাগ স্বীকার করে তাকেই আত্মঘাতী প্রজনন বলে। এই আত্মঘাতী প্রজনন বিভিন্ন প্রাণীতে লক্ষ্য করা যায়। নিচে কয়েকটি প্রাণীর আত্মঘাতী প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পর্কে লেখা হলো:
➡️ প্যাসিফিক স্যামন (Oncorhynchus nerka) 🐟
সুবিশাল সমুদ্র ছেড়ে হাজার মাইল পথ সাঁতরে, নদী ও স্রোতের বিপরীতে লড়াই করে নিজের জন্মস্থানে ফিরে আসে স্যামন মাছ। দীর্ঘ এই যাত্রায় এরা কিচ্ছু খায় না। নদীর তলদেশে ডিম পাড়ার পরই হরমোনের তীব্র পরিবর্তন ও ক্লান্তিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে মা ও বাবা স্যামন। তাদের সেই মৃতদেহের পুষ্টি খেয়েই নদীর বুকে বেঁচে ওঠে তাদের সদ্যজাত সন্তানরা।
➡️ ল্যাবর্ডস গিরগিটি(Calumma labordi)🦎
আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্বের ভারত মহাসাগরের দ্বীপ মাদাগাস্কার-এ এদের বাস। এদের আয়ু মাত্র ৪-৫ মাস! মিলনের সময় পুরুষ গিরগিটি ও মিলনের পর মা গিরগিটি মাটির নিচে ডিম পেড়েই অনাহারে মারা যায়। প্রজনন শেষ হতে না হতেই গোটা অঞ্চলের সব প্রাপ্তবয়স্ক গিরগিটি একসাথে বিলুপ্ত হয়ে যায়! বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পৃথিবীতে এই গিরগিটির কোনো জীবিত সদস্য থাকে না—শুধু মাটির নিচের ডিমগুলোই সুপ্তবস্থায় বংশের শেষ আশা হিসেবে টিকে থাকে।
➡️ মেল অ্যানটেকাইনাস (Antechinus stuartii) 🐀
অস্ট্রেলিয়ার ইঁদুরজাতীয় এই মারসুপিয়াল(থলিযুক্ত) প্রাণীটির প্রজনন যাত্রা অত্যন্ত নাটকীয়। শীতকালে প্রজনন ঋতু এলে পুরুষ অ্যানটেকাইনাসরা খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে টানা ২-৩ সপ্তাহ দিনে প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত মিলনে লিপ্ত থাকে। অতিরিক্ত স্ট্রেসে শরীরে 'করটিসল' হরমোন অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে গিয়ে এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয়, পশম ঝরে পড়ে, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয় এবং তারা অন্ধ হয়ে যায়। প্রজনন শেষ হতেই অঞ্চলের ১০০% পুরুষ মারা যায়, আর গর্ভবতী স্ত্রী অ্যানটেকাইনাসেরা নতুন প্রজন্মের জন্ম দেয়।
➡️ প্রেয়িং ম্যানটিস বা ফড়িং(Mantis religiosa)🦗
মিলনের সময় বা পরপরই স্ত্রী ম্যানটিসটি পুরুষ ম্যানটিসের মাথা কামড়ে খাওয়া শুরু করে! নিজের দেহকে স্ত্রীর খাদ্য হিসেবে দিয়ে পুরুষটি মারা যায় , এতে করে স্ত্রী ম্যানটিসটি তার ডিমগুলোকে উর্বর রাখার মতো পর্যাপ্ত প্রোটিন পায়।
➡️ অক্টোপাস(Octopus vulgaris)🐙
একটি মা অক্টোপাস সমুদ্রের গভীরে ডিম পেড়ে একটানা সাড়ে ৪ বছর এক মুহূর্তের জন্যও ডিম ছেড়ে নড়ে না! এই দীর্ঘ সময়ে সে কোনো ধরনের শিকার ও করে না এবং এক ফোঁটা খাবারও খায় না, এক পর্যায়ে ক্ষুধার জ্বালায় নিজের বাহু চিবিয়ে খায়। সন্তানরা ডিম ফুটে বের হওয়ার ঠিক মুহূর্তটিতেই মা অক্টোপাসটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
➡️ ব্ল্যাক উইডো মাকড়সা (Latrodectus mactans)🕷️
মিলন শেষ হওয়ার পরপরই মা মাকড়সাটি পুরুষ মাকড়সাকে খেয়ে ফেলে! পুরুষ ব্ল্যাক উইডো এটি জেনেও নিজেকে স্বেচ্ছায় স্ত্রীর খাবারে পরিণত করে, যাতে গর্ভবতী মা মাকড়সাটি পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় এবং ডিমগুলো সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে।
➡️ ইউরোপীয় রিভার ল্যাম্প্রে (Lampetra fluviatilis)🪱
দেখতে সাপের মতো পরজীবী চোয়ালহীন মাছগুলো সমুদ্রের নোনা জল ছেড়ে নদীর মিষ্টি জলে হাজার মাইল সাঁতরে আসে শুধু প্রজননের জন্য। নদীতে ঢোকার পর এরা সম্পূর্ণ খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়, যার ফলে এদের পরিপাকতন্ত্র সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে যায়। নদীর তলদেশে মুখ দিয়ে পাথর সরিয়ে ডিম পাড়া ও নিষিক্ত করার পরপরই চরম অনাহার ও ক্লান্তিতে মা ও বাবা ল্যাম্প্রে একসাথে মারা যায়। নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে এরা নতুন প্রজন্মকে পৃথিবীতে টিকে থাকার সুযোগ করে দেয়।
এভাবেই বিভিন্ন প্রাণীর জন্ম এবং মৃত্যুর মাধ্যমে প্রকৃতিতে প্রাণী জীববৈচিত্রের ধারা অক্ষুন্ন থাকে।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, প্রকৃতির এই নির্মম নিয়মটি আপাতদৃষ্টিতে নিষ্ঠুর মনে হলেও, এটি আসলে জীবজগতের ভারসাম্য রক্ষার একটি অনন্য কৌশল। মা-বাবার এই চরম আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি, নিরাপত্তা এবং উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে।
Referance:
Book names & writers:
1.The Behavior and Ecology of Pacific Salmon and Trout --Thomas P. Quinn
2. A unique life history among tetrapods--Kristopher B. Karsten
3. Marsupial Biology-- Michael L. Augee & A. K. Lee
4.The Praying Mantids-- Frank R. Prete
4.Biology of Spiders--Rainer F. Foelix
Data collected from: Google, Wikipedia and so on
Writing by--
Name: Kazi Mahtim Shakib
Season: 2022-23
23/07/2026
প্রকৃতির ভয়ংকরতম খুনিরা যখন জাদুকরী চিকিৎসক!!!!!
প্রকৃতি এক অদ্ভুত রহস্যময় জায়গা। এখানে এমন কিছু প্রাণী রয়েছে, যাদের সামান্য কামড় বা সংস্পর্শ নিমেষেই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে। কিন্তু আপনি কি জানেন, বিজ্ঞানের এক আশ্চর্য নিয়মে এই ভয়ংকর প্রাণীদের বিষ বা নিসার্লেই লুকিয়ে আছে মানুষের জীবন বাঁচানোর জাদুকরী ওষুধ?
১)প্রাণিবিদ্যার রোমাঞ্চ ও রহস্য:
(i) সুরুকুকা বা বুশমাস্টার স্নেক (Lachesis muta): অ্যামাজন জঙ্গলের এই সবচেয়ে বড় বিষধর সাপের বিষ তীব্র 'হেমোটক্সিক'। এটি মানুষের রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা ধ্বংস করে মারাত্মক অভ্যন্তরীণ রক্তপাত ঘটিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
(ii)স্প্যানিশ ফ্লাই বা ব্লিস্টার বিটল: আত্মরক্ষার জন্য এই পোকা 'ক্যান্থারিডিন' নামক রাসায়নিক নিঃসরণ করে, যা ত্বকে লাগার সাথে সাথে বড় বড় ফোস্কা ও তীব্র জ্বালাপোড়া তৈরি করে।
প্রাণিবিজ্ঞানে এগুলো নিছক টিকে থাকার বা সার্ভাইভালের কৌশল। কিন্তু প্রশ্ন হলো—যে বিষ বা রস মানুষকে মেরে ফেলতে পারে বা পুড়িয়ে দিতে পারে, তা দিয়ে কি কারো প্রাণ বাঁচানো সম্ভব?????
~বিজ্ঞানের একটি অদ্ভুত নীতি রয়েছে— "বিষে বিষক্ষয়" (Like Cures Like)। অর্থাৎ, যে পদার্থ সুস্থ শরীরে যে রোগলক্ষণ তৈরি করতে পারে, তার অতি সূক্ষ্ম মাত্রা অসুস্থ শরীর থেকে ঠিক সেই রোগই সারিয়ে তুলতে পারে।
(২) বৈজ্ঞানিক রূপান্তর ও আসল রহস্য
বিজ্ঞানীরা ল্যাবরেটরিতে এই ভয়ংকর বিষগুলো সংগ্রহ করে বিশেষ ফার্মাকোলজিক্যাল প্রক্রিয়ায় যাকে বলা হয় শক্তিকরণ (protentisation) বারবার পাতলা করতে থাকেন। একসময় তরলে বিষের মূল উপাদানটি আর থাকে না, কেবল থেকে যায় তার নিরাময়কারী 'শক্তি' বা ইনফরমেশন।
আর এই জাদুকরী চিকিৎসাবিজ্ঞানের নাম হলো— হোমিওপ্যাথি।
(৩) প্রকৃতির বিষ থেকে জীবন রক্ষাকারী কিছু ওষুধ প্রকৃতির ভয়ংকর সব উপাদান থেকে তৈরি কয়েকটি অত্যন্ত কার্যকরী ওষুধের সঙ্গে পরিচিত হোন:
০ ল্যাকেসিস (Lachesis): অ্যামাজনের সেই ভয়ংকর বুশমাস্টার সাপের বিষ থেকে তৈরি। স্ট্রোক, রক্ত জমাট বাঁধা বা হার্ট অ্যাটাকের মতো মৃত্যুপথযাত্রী রোগীকে অলৌকিকভাবে বাঁচাতে এটি ব্যবহৃত হয়।
০ ক্যান্থারিস (Cantharis): ফোস্কা ফেলা সেই বিটলের নির্যাস থেকে তৈরি। পুড়ে যাওয়া ত্বকের তীব্র জ্বালাপোড়া বা প্রস্রাবের মারাত্মক ইনফেকশনে এটি জাদুর মতো কাজ করে।
০ ক্রোট্যালাস হারিডাস (Crotalus Horridus): র্যাটলস্নেকের এই বিষ সরাসরি রক্তের অনুচক্রিকা ধ্বংস করে রক্তপাত ঘটায়। হোমিওপ্যাথি অনুসারে, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, রক্তবমি বা শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধে এই ওষুধ জীবন বাঁচায়।
০ বুফো রানা (Bufo Rana): কুনোব্যাঙের চামড়ার বিষ স্নায়ুতন্ত্র অবশ করে খিঁচুনি তোলে। এর থেকে তৈরি ওষুধ মানুষের গভীর স্নায়বিক সমস্যা, মৃগী রোগ এবং ব্রেনের জটিল সমস্যায় অত্যন্ত কার্যকরী।
০ ফর্মিকা রুফা (Formica Rufa): লাল পিঁপড়ার 'ফরমিক অ্যাসিড' ত্বকে সুই ফোটার মতো ব্যথা ও জ্বালাপোড়া তোলে। এর নির্যাস গেঁটেবাত (Gout), আর্থ্রাইটিস এবং হাড়ের জয়েন্টের তীব্র ব্যথা নিরাময়ে সফলভাবে ব্যবহৃত হয়।
০ এপিস মেলিফিকা (Apis Mellifica):মৌমাছির বিষ থেকে তৈরি এই ওষুধ সারা শরীরে পানি আসা বা যেকোনো ধরনের ফুলে যাওয়ার সমস্যায় দারুণ কাজ করে।
প্রকৃতি যেমন একদিকে ভয়ংকর রূপ নিয়ে হাজির হয়, অন্যদিকে তার বুকেই লুকিয়ে রয়েছে সুদূর প্রসারীHealing বা নিরাময়ের অমূল্য চাবিকাঠি। ~
source - চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাস এবং হ্যানিম্যানের অর্গানন অব মেডিসিন (Organon of Medicine by Dr. Samuel Hahnemann),,,
Google,Wikipedia
লেখিকা:Nusrat jahan jui
session (22-23)
22/07/2026
অ্যামাজন মলি : একটি ব্যতিক্রমী মিঠা পানির মাছ
অ্যামাজন মলি হলো একটি ব্যতিক্রমী মিঠা পানির মাছের প্রজাতি, যার কোনো পুরুষ প্রজাতি নেই। এর বৈজ্ঞানিক নাম: Poecilia formosa। গ্রিক পুরাণের নারী যোদ্ধা "অ্যামাজন" দের নামানুসারে এদের নামকরণ করা হয়েছে। কারণ এদের পুরো প্রজাতিটি কেবল স্ত্রীলিঙ্গের হয়ে থাকে।
"অ্যামাজন মলি" উত্তর-পূর্ব মেক্সিকো এবং দক্ষিণ টেক্সাসের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাওয়া যায়। এরা বেশ ছোট আকৃতির মাছ। দৈর্ঘ্য সাধারণ ৫.৫ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। এদের দেহটি লম্বালম্বিভাবে চ্যাপ্টা এবং মাকু আকৃতির। এরা রুপালি বা ধূসর বর্ণের হয়। ওদের প্রধান খাদ্য জলাশয়ের পাথর, উদ্ভিদের গায়ে জমা থাকা শৈবাল এরা চেঁছে খায়।
এদের বৈশিষ্ট্য ও প্রজনন পদ্ধতি:
✏ পুরুষ ছাড়াই বংশবৃদ্ধি : এদের কোনো পুরুষ সঙ্গী বা সদস্য নেই। এরা কোনো প্রকার পুরুষ ছাড়াই একলাখ বছরেরও বেশি সময় ধরে টিকে আছে।
✏ ক্লোন (Clone) তৈরি : এই মাছগুলো হ্যাপলয়েড বা অযৌন পদ্ধতিতে হুবহু নিজেদের মতো দেখতে স্ত্রী ক্লোন বা বাচ্চা প্রসব করে।
✏ গাইনোজেনেসিস (Gynogenesis) : প্রজনন প্রক্রিয়ার জন্য এদের অন্যজাতি প্রজাতির পুরুষ মাছের প্রয়োজন হয়, তবে পুরুষ মাছের শুক্রাণু কেবল ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করার সিগন্যাল হিসেবে কাজ করে— এতে পুরুষ মাছের কোনো জিনগত বৈশিষ্ট্য বা DNA থাকে না।
✏ জিন মেরামত ক্ষমতা: বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, জিনগত-ত্রুটি এড়াতে তারা জিনের সুস্থ অংশ ব্যবহার করে নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ ঠিক করে নিতে পারে।
Scientific classification
Kingdom : Animalia
Phylum : Chordata
Class : Actinopterygii
Order : Cyprinodontiformes
Family : Poeciliidae
Genus : Poecilia
Species : Poecilia formosa
লেখিকা-জিরিন রহমান
সেশন:2023-2024