03/10/2020
Things You Might not Know
পর্বঃ০২
বিষয়ঃ গ্রেইট ফায়ার অভ লন্ডন
একটি সাধারণ ছুটির দিনের মতই শুরু হওয়ার কথা ছিল, সাধারণ ভাবেই সব চলছিলো কিছু ঘন্টা আগেও!
তবে লন্ডনবাসীদের এই করুণ পরিণতি কি আদো কারোর ভাবনায় এসেছিলো?
থমাস ভিন্সেন্ট আগুনের উগ্রতা দেখে মন্তব্য করেছিলেন, "God's terrible Voice for the City"
দিনটি ধর্মীয় ভাবে একটি গুরুত্বপুর্ণ ছিলো, ধর্মভীরু মানুষদের চোখে দিনটি সৃষ্টি কর্তার রাগের বহিঃপ্রকাশ রুপেই ছড়িয়ে পরলো, লন্ডনের গির্জায় গির্জায় সেইদিন কম্পনরত কন্ঠের সারমন(ধর্মীয় বয়ান) আর আগুনের উত্তপ্ততা আগে কেউ কখনোই দেখেনি।
লন্ডনবাসীরা তখনো দুশ্চিন্তায় যে আদো এই আগুন থামাতে পারবে কি! নাকি সব এই আগুনের উত্তপ্ততার কাছে হার মানবে!
এই নারকীয়তার মাঝেই লন্ডনবাসী ভয়ে চৌচির হয়ে থাকলো।
রবিবার রাত, ১৮ ঘন্টা পর, লন্ডনবাসী সব আশা ছেড়েদিলো, বুঝতে পারলো এই আগুন থামানো তাদের ক্ষমতার থেকে অনেক বাহিরে,
এবং সেই সময়েই তারা লন্ডন ত্যাগ করার পরামর্শে এলো।
হঠাৎ করেই বেড়ে গেল, মালবাহী গাড়ীর ভাড়া! মাত্র ৩ পাউন্ড থেকে দাম বেড়ে দাড়ালো ৩০ পাউন্ডে, সেই সময়ে এই ৩ পাউন্ডের খরচ বহন করাও ছিলো অনেকের জন্য কষ্ট সাধ্য ব্যাপার আর সেখানে এই দুর্যোগ মুহুর্তে মানবিকতার বিপরীত রুপ!
সবাই তাদের মুল্যবান দ্রব্য সামগ্রী কোন ভাবে লুকানোর জন্য দিগ্বিদিক ছুটাছুটি শুরু করলেন, সামুয়েল পিপস-ও তাদের সাথে যোগদিলেন, ঘরের সব মুল্যবান আসবাবপত্র রাখার জন্য আলাদা মালবাহী গাড়ীর ব্যাবস্থা হলো, যখন তিনি লন্ডনের পথে নামলেন, মানুষের ছুটাছুটি দেখে হয়েগেলেন হতভম্ব!
তিনি দেখলেন শহুরে মানুষ যত দ্রুত সম্বভ শহর ছাড়ছেন তা যত মুল্যের বিপরীতেই হোকনা কেন!
এতো ছুটাছুটির মাঝেও খুব অল্প সংখ্যক লোক আহত হলো, খুব চরম ভাবে কেউই তখনো শারিরীক ক্ষতির মধ্যে পরেনি, তবে তাও মানুষের চোখে মুখে ভয় আর শহর ছাড়ার এক প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হলো, তবে সেই প্রতিযোগিতায় সবাই পেতে চাইলো খরগোশের গতি তবে লন্ডনের সরু রাস্তার কাছে সবাই কচ্ছপ সাদৃশ গতিতেই আটকে রইলো!
আর্থিক ভাবে অস্চ্ছল মানুষদের আশা ছিলো সবচেয়ে চরমে, তারা তাদের ঘর ততক্ষণ পর্যন্ত ছাড়ছিলোনা, যতক্ষনে না তাদের ঘরের কোনো অংশ পুড়ে যায়!
অন্যদিকে মানুষের মস্তিস্কের বিচার বুদ্ধি করার ক্ষমতাও খুবি লোপ পেয়ে বসে ঐ অবস্থায়, খুব প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির জায়গায় তারা তাদের সাথে এমন সব বস্তু নিজেদের সাথে নিতে থাকেন(উদাহরন-স্বরুপঃবেশি প্রয়োজনীয় পানি না নিয়ে, নান্দনিক কোনো আসবাবপত্র নিয়ে শহর ত্যাগ করা) যার আসলেই ঐ অবস্থাতে কোন মুল্যনেই!
শহুরে কিছু মানুষ যেমন, স্যার উইলিয়াম ব্যাটেন একটি বিশাল গর্ত করেন যেটিতে তিনি তার ওয়াইন সংরক্ষন করলেন, অন্যদিকে সামুয়েল পিপস-ও অনুরুপ কাজ করলেন, তবে তিনি ওয়াইনের জায়গায় গচ্ছিত রাখলেন পার্মেশান চিজ!!!
প্রায় লক্ষাধিক মানুষ আগুন থেকে পালিয়ে, মোরফিল্ডস, ইজলিংটন এবং পার্লামেন্ট হিলস-এর উদ্দেশ্যে! খোলা আকাশের নিচে কেউ কেউ আশ্রয় নিলেন, কারো ভাগ্যে তাবু জুটেছিল, তবে বেশির ভাগ মানুষ-ই ছিলো খোলা আকাশের নিচে, অরক্ষিত!
আসলে কেউই কখনো তৈরী থাকেনা এমন অবস্থার! পানি আর স্যানিটাইজেশনের তুমুল সংকট দেখা দিল, বলে রাখাভালো লন্ডন মাত্রই একটা মহামারি কাটিয়ে উঠছিল, কিন্তু এর মাঝে আবার দুর্যোগ, দুর্ভোগ।
লন্ডনের অর্থনগরী লম্বার্ড স্ট্রিটের কাছেই ঘেঁষছিল সেই গ্রাসকারী আগুন, শহর কর্তাদের তখন মাথায় হাত, তৎক্ষণাৎ কিছু না করতে পারলে লন্ডন নগরীর ভবিষ্যৎ ধুলোয় মিশে যাবে, কারন সকল ব্যাংক এবং সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঐ নগরীতেই! আর বলে রাখা ভালো, ব্যাংক রিজার্ভে ছিলো সব গোল্ডকয়েন, যেগুলো এই উত্তপ্ততার কাছে নিমিষেই গলে যাবে, আর বয়ে নিয়ে যাবে লন্ডন শহরের অর্থনীতি; সেই সময় লম্বার্ড স্ট্রিট থেকে এই কয়েন গুলো আগুন আসার আগেই সরিয়ে ফেলার প্রয়োজনীয়তা বোধ করে নগর কর্তারা, আর তাইই হয়!
জীবন ঝুঁকিতে রেখেই ৭০০ বছরের ঐতিহাসিক সেই নগরীর ব্যাংকাররা বাঁচিয়ে দিলো লন্ডন নগরীর অর্থসামগ্রী, সাথে বাঁচালো রাজা দ্বিতীয় চার্লসকে! কারন, এই ব্যাংক গুলোই তখন চলমান সকল যুদ্ধে ঋণ দিত। সামগ্রিক অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি হিসেবে ছিলো, সেই লম্বার্ড স্ট্রিটের অলিগলি!
এরপরের দিন বিকেল ৩টায়, অর্থাৎ আগুনলাগার দ্বিতীয়দিনে, লম্বার্ড স্ট্রিট নারকীয় আগুনে তলিয়ে যায়!
আগুন গ্রাস করে নিল, পুরো নগরী, তলিয়ে গেল নিমিষেই!
মাত্র তিন চার দিনের মাথায় লন্ডন নগরীর একপাশ থেকে অন্যপাশ দেখা গেল, যা নগরায়নের জন্য মিশে গিয়েছিল! অর্থনৈতিক ্ভাবে তলিয়ে গেল পুরো শহর।
পর্বঃ০১ লিংক-
https://www.facebook.com/MaestrosMNT/posts/149472910187717?__tn__=K-R