03/12/2022
রাবেয়া ইসলাম আদর্শ বিদ্যালয়। ২০১৪ সালের J.S.C রেজাল্ট এর পর পুরো মেলান্দহতে সাড়া ফেলানো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তখন স্কুল হিসেবে ছিল একদম নতুন, ২০১২ সালে যার যাত্রা শুরু।প্রথম J.S.C রেজাল্ট এ শতভাগ পাস সহ সর্বাধিক A+। এর পরে বিদ্যালয়টিকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি ধারাবাহিক ভাবে রেজাল্টে সাফল্য। ২০১৭ স্কুলের প্রথম S.S.C রেজাল্ট হওয়ার পর মেলান্দহের সব স্কুল অপেক্ষা আবারো সেরা রেজাল্ট। ধারাবাহিক ভাবে ভালো রেজাল্টের পেছনের গল্পটি জানেন? এই সাফল্যের পেছনে যে মানুষটি সর্বোচ্চ শ্রম দিয়েছিলেন সেই মানুষটিকে চেনেন? তিনি ছিলেন কামরুল হাসান স্যার (সাবেক প্রধানশিক্ষক)। ১২ ঘন্টা স্কুলে কাটানো সময়ের মদ্ধে তিনি ৪ ঘন্টা অফিসে বসে থাকতেন কিনা সন্দেহ। প্রতিটা ক্লাস চলাকালীন তিনি বারান্দা দিয়ে হেটে হেটে শিক্ষার্থীদের, শিক্ষকদের খোজ রাখতেন। আদর, শাসন দিয়ে আগলে রাখতেন সবাইকে। J.S.C, S.S.C পরীক্ষার আগে প্রতিটি ব্যাচকে আবাশিকের ব্যাবস্থা করে পরাশুনা করার সুযোগ করে দিতেন। আর সেই সময়ে তিনি রাত ১২ টা পর্যন্ত স্কুলে থাকতেন। সন্ধ্যার পর মেলান্দহের সেরা শিক্ষকদের (যারা অন্য বিদ্যালয়ে চাকুরীরত) অনুরোধ করে নিয়ে আসতেন এবং ক্লাসের ব্যাবস্থা করে দিতেন শিক্ষার্থীদের। আপনার অবর্তমানে আপনার অবদান সবাই ভুলে গেলেও সাবেক শিক্ষার্থীরা যারা আপনাকে পেয়েছিল তারা কখনো ভুলবে না।
রসায়নের কঠিন বিক্রিয়া সহজ করে দেওয়ার পাশাপাশি জীবনের গতিপথ সহজ করে দেওয়া আরেক শিক্ষক ছিলেন আনোয়ার হোসাইন আরজু স্যার (সাবেক বিজ্ঞান শিক্ষক)। পড়া না শিখলে আপনার শাসন,পড়া না বুঝলে আপনার বুঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা শিক্ষার্থীরা কি ভুলে যাবে? আপনার অবদান কি ভুলার মতো?
ইংরেজিকে ভয় পাওয়া শিক্ষার্থীরাও আনন্দের সাথে ইংরেজি শিখতে শুরু করে যখন আপনি (নাজমুল হুদা লিটন, সাবেক ইংরেজি শিক্ষক) সহজ নিয়মে ইংরেজি পড়াতেন। সব সময় আদর দিয়েই পড়াতেন আর আমরাও তা আনন্দের সাথে গ্রহন করে নিতাম।
মুখলেসুর রাহমান স্যার (সাবেক ধর্ম শিক্ষক)শুধু ধর্ম ও নৈতিকতাই শেখাননি আপনার মোটিভেশন আমাদের জীবনকে কতটুকু উজ্জীবিত করেছিল আজ বুঝতে পারি।
বিদ্যালয় তথা আমাদের সাফল্যে অবদান রাখা বাংলার মামুন স্যার, অংকের রকিবুল স্যার, আবুল কালাম আজাদ স্যার, কামরুন্নাহার শিখা ম্যাডাম,হাসানুজ্জামান পলাশ স্যার, আপনারা সবাই এখন আমাদের মতো সাবেক।কোন কারনে বিদ্যালয়ে গেলে হয়তো আপনাদের দেখা পাবো না। আপনাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা আমৃত্যু থাকবে। আপনাদের ঋণ কখনোই শোধ হবার নয়। আমাদের জীবন সহজ করে দেওয়ার জন্য আমাদের সঠিক পথে পরিচালনা করানোর জন্য কৃতজ্ঞতা।🖤