28/11/2023
🥲😪আমরা সমালোচনা করতে খুব ভালোবাসি, তবে সমালোচনা খারাপ কিছু না কিন্তু গঠনমূলক আলোচনাকে স্বাগত জানাই।💓💓
★★এটা সত্য, আমরা প্রিয় প্রতিষ্ঠানকে সর্বদা ভালো অবস্থানে দেখতে চাই। সর্বদা ভালো হলে খারাপটা আমরা বুঝতে পারি না।
★★একটা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপের অনেকগুলো দিক থাকে, আসুন জেনে নেই, তারপর সমালোচনা করি। দেশের ৪২ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ এইচ.এস.সি পাস করেননি। তারপরও সমস্যা হচ্ছে না।
★★মোট কথা, যেকোন প্রতিষ্ঠান সার্বজনীন, সেখানে শিক্ষক,শিক্ষার্থী, কমিটি, অভিভাবক, সমাজের বিজ্ঞ ও নন্দিত সকলকে একসাথে দল মত নির্বিশেষে প্রতিষ্ঠানের কল্যানে সুপরামর্শ ও সহযোগীতা করতে হয়, তবেই নবগঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো তুলে আনা সম্ভব। একসময় এই ধরনের প্রতিষ্ঠানও একদিন বড় হবে, পূর্ণাঙ হবে, সুনাম ছড়িয়ে পড়বে।
✅বীজ ভালো হলে, ফল ভালো আসে। আপনি ১পয়েন্ট থেকে ভর্তি নেন, অথবা যারা কোনো জায়গায় চান্স পায়নি, সেসকল দুর্বল শিক্ষার্থী নিয়ে কি ফলই আশা করবেন। অন্যদিকে যেসকল প্রতিষ্ঠান পয়েন্ট বেঁধে দিয়ে ভালো শিক্ষার্থী ভর্তি করে, ফল তো অবশ্যই ভালো আসবেই।
✅শিক্ষকবৃন্দের দোষ দিবেন কেন, আপনার বিবেককে প্রশ্ন করুন? আপনার সন্তান অপেক্ষাকৃত দুর্বল, ক্লাসে উপস্থিত হতে চায়না, আপনার নিজের সচেতনতা নেই তাকে প্রতিদিন ক্লাসে পাঠানোর। প্রতিষ্ঠান থেকে কল দিলে অভিভাবক বলেন তার সন্তান ছোটখাটো চাকুরি করে, বা আত্মীয় বাড়িতে গিয়েছে, অথবা বাড়িতে কাজ আসতে পারবে না, এর দ্বায় কি আপনার না প্রতিষ্ঠানের?
✅শিক্ষার্থী শিক্ষকবৃন্দের সন্তানতুল্য, কখনো শিক্ষার্থীর ক্ষতি চায় না। শিক্ষার্থীদের ভুল ক্ষমা করে সর্বদা শিক্ষার্থীর ভালো কামনা করে, সঠিক দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে, সন্তান আপনার তাই তার সঠিক নজরদারি আপনাকেই সচেতন অভিভাবক হিসেবে করতে হবে।
✅এ ধরনের প্রতিষ্ঠান দুর্বল শিক্ষার্থী ভর্তি করে, তাদেরকে সঠিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে, এজন্য A+নিয়ে ভর্তি না হলেও এই প্রতিষ্ঠানেও ৭-৮টি A+নিয়ে বের হয়েছে।
✅ ৫, ৬, ৭, বা সকল বিষয়ে টেস্ট ও বার্ষিক পরীক্ষায় ফেল করে আবার তাদের জন্য যে সুপারিশের বন্যা দেখা যায়, সেটাই রিজাল্ট বিপর্যয়ের বড় কারন। এক মাঘে শীত যায় না, আগামী ব্যাচের শিক্ষার্থী জন্য কস্টকর হলেও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।
✅আভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় আপনার সন্তান সকল বিষয়ে ফেল করে, ক্লাসে আসে না, পড়ালেখায় মনোযোগ নেই, কোনো বই পুস্তক কিনতে রাজি না, বাড়িতে শুধু মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত, এ দ্বায় কি প্রতিষ্ঠানের না আপনার?
✅পরীক্ষার সময় আসলো হঠাৎ সবাই উপস্থিত, কোনো সিলেবাস জানে না, প্রশ্ন প্যাটার্ন জানে না, সে কিভাবে পরীক্ষায় পাস করবে?এ দ্বায় কি অভিভাবকবৃন্দ এড়িয়ে যেতে পারবেন?
✅কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতা ছাড়া কেউ শিক্ষক হতে পারে না, কোনো প্রতিষ্ঠানে অযোগ্য শিক্ষক থাকলে বাকি শিক্ষার্থী পাস করতো না, প্রতিষ্ঠানে A+আসতো না। একবছরের ফলাফলে কোন প্রতিষ্ঠান খারাপ হয়ে যায় না। অযোগ্য ব্যক্তিরাই অবাঞ্ছিত সমালোচনা করে।
✅বার্ষিক পরীক্ষা কিংবা টেস্ট পরীক্ষায় সকল বিষয়ে ফেল করলো, আপনি অভিভাবক নিজের সন্তানকে নিয়ে আসলেন, পারলে আরো বিজ্ঞ ও সম্মানিত ব্যক্তি নিয়ে সুপারিশ করে ফাইনাল পরীক্ষায় পাঠালেন, ফেল করার পর আপনি কি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কখনো অনুশোচনা করেছেন? আপনার মতো অনেক শিক্ষার্থী ফেল করে একসাথে কলেজের ফলাফল দুর্নামে পর্যবসিত করে।
✅আপনি কম স্টুডেন্ট ফাইনালে পাঠান কম ফেল করবে, আবার বেশি স্টুডেন্ট পাঠালে ফেল বেশি করবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা সুপারিশ করার সময় প্রতিষ্ঠানের কথা চিন্তা করি না।
✅শিক্ষকবৃন্দ সঠিকভাবে রিজাল্ট দেয়ার পর, আপনার ফেল সন্তানের দৌড়ঝাঁপের কারনে যদি কলেজ কমিটির মিটিং এর মাধ্যমে আবার সিদ্বান্ত নিয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থী ফাইনালে পাঠায়, ফলাফল বিপর্যয় তো অবশ্যই হবে, শিক্ষকবৃন্দ ঐ সময়ে শক্ত অবস্থানে থাকতে পারেন না। এর জন্য কি অভিভাবক হিসেবে আপনি নিজে দায়ী নন?
✅আপনি কি আপনার সন্তানের পড়ালেখার খবর কখনো নিয়েছেন? প্রতিষ্ঠানে কি কখনো যোগাযোগ করেছেন? আপনার সন্তানের চালচলন, পড়ালেখা,কলেজে উপস্থিতি কিছুই খবর নিয়েছেন? তাহলে তো আপনি নিজের দোষটাই ধরতে পারছেন না।
✅আপনি দেখবেন, যারাই ক্লাস ফাঁকি দেয়, যারাই আড্ডাবাজ, যারাই শিক্ষকদের সম্মান ও মূল্যায়ন করতে জানে না। তারাই পরবর্তীতে সমালোচনায় এগিয়ে আসে। কেন, সবসময় যে ভালো হবে, তার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। পিছন সবাই ভুলে যায়,এটাই বাস্তবসত্য।
✅সর্বশেষ কারন, আপনার সন্তানকে আপনি বিদেশমুখী করছেন, কিছুদিন টাইমপাস করার জন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠালেন, তারা পড়ালেখা তো করেই না,বরং পরিবেশটাই নস্ট করে তুলে,আপনাকে জানালে আপনি উল্টোভাবে কথাগুলো নিয়েছেন, এটার জন্য কি আপনি নিজে দায়ী নয়?
★সকলের দোয়া, আন্তরিক সহযোগীতার দ্বারাই একটা প্রতিষ্ঠানকে তাঁর গৌরবময় জায়গায় পৌচ্ছে নেয়া যায়। আপনি ব্যক্তিস্বার্থ না দেখে সার্বজনীন কল্যানে সুপরামর্শ দিবেন, এটাই কাম্য।।