11/01/2022
আজকে এসেছি প্রাচীন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার পাহাড়পুরে। এটা এককালে আমাদের একটা ইউনিভার্সিটি ছিল, পাল রাজারা দেড় হাজারের বেশি বছর আগে এই ইউনিভার্সিটি তৈরি করেছিল যেটাকে ডাকা হয় ‘বিহার’ নামে । এই বিহারের নাম ‘সোমপুর বিহার’।
আমার ভাবতে খুবই ভালো লাগছে যখন ইউরোপীয়রা কাঁচা মাংস খেতো তখন পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতাগুলোর একটা সভ্যতা গড়ে উঠে হরপ্পা মহেঞ্জদারোতে । এই যে বিহারটি দেখা যাচ্ছে, এই বিহারের ইটগুলি জানে কতোজন গ্র্যাজুয়েট ছাত্র এখানে তপস্যা করে গেছে দিনরাত ।
এই বিহারটি ইউনেস্কোর হিসেবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিহার, যেটার আয়তন নালন্দা মহাবিহারের চেয়েও বড় ।
বাংলায় ‘স্নাতক’ বলে যে শব্দটা আছে সেটা এসেছেও এইসব ছাত্রদের কল্যাণেই । গুরু যখন তার সমস্ত বিদ্যা ছাত্রকে শিখিয়ে দিতেন তখন ছাত্র অনুমতি পেতো গুরু যে দীঘিতে স্নান করে সেখানে স্নান করার । সেই ‘স্নান’ থেকেই বাংলায় এসেছে ‘স্নাতক’ শব্দটি ।
‘অনভ্যাসে বিদ্যা নাশ’ বলে একটা প্রবচন আছে। আমাদেরও তাই হয়েছে। একেরপর এক যুদ্ধ বিগ্রহ এইসব প্রাচীন ইউনিভার্সিটিগুলির ওপর দিয়েও গেছে । রাজা বদলে গেছে । অন্য রাজা এসে দখল করে নিয়েছে সেই রাজ্য।
ভেঙে ফেলেছে সব সেরা বিদ্যাপীঠগুলো । তাড়িয়ে দিয়েছে ছাত্রদের, শিক্ষকদের । একদিন আগাছার তলায় চাপা পড়েছে সব । আবার আধুনিক পৃথিবীর মানুষ মাটি খুঁড়ে বের করেছে সেসব ।
এই বিহারগুলি যদি টিকে থাকতো তাহলে আমরা হাভার্ড, অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজকে পাত্তা দিতাম না। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গর্বিত মালিক হতাম ।
ছবি: সাজেদুর রহমান সুমন ।
মূল লেখা লেখিকা জান্নাতুন নাঈম প্রীতি ।
১৪ই, আগস্ট, ২০১৭ খ্রি: ।