19/10/2025
মো: শামসুল হক 💥 টাঙ্গাইলের সমাজ ও রাজনীতির ইতিহাসে মো. শামসুল হক এমন এক নাম, যিনি সৎ, পরিশ্রমী ও আদর্শবান নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে ছিলেন দীর্ঘদিন।
১৯৪৫ সালে টাঙ্গাইলের সন্তোষ বালুচর এলাকায় জন্ম নেওয়া এই মানুষটি কৈশোর থেকেই সমাজের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন।
বিদ্যালয়ে থাকতেই নেতৃত্বের ঝলক দেখা যায়—১৯৬২ সালে তিনি জাহ্নবী উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হন। এরপর ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তিনি একের পর এক দায়িত্ব পালন করেন, অংশ নেন আন্তর্জাতিক ছাত্র সমাবেশেও।
মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার পক্ষে সংগঠিত হয়ে পড়েন, দেশের প্রতি তাঁর আনুগত্য তখনই দৃঢ় হয়ে ওঠে।
স্বাধীনতার পর শামসুল হক হয়ে ওঠেন টাঙ্গাইলের উন্নয়ন-প্রয়াসের অন্যতম কারিগর। শিক্ষা, ক্রীড়া, সমাজসেবা, রাজনীতি—প্রত্যেক অঙ্গনেই তাঁর অবদান ছড়িয়ে পড়ে। টাঙ্গাইল পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি যে সেবাধর্মী প্রশাসনের দৃষ্টান্ত রেখেছেন, তা আজও অনুকরণীয়।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বহু সংগঠন, ক্লাব ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—সব জায়গাতেই ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ ও মানবিক।
তিনি টাঙ্গাইল পৌরসভার চেয়ারম্যান (১৯৮৪-৮৮, ১৯৯৩-৯৯), টাঙ্গাইল বিএনপির শহর সভাপতি (১৯৭৯-২০০২), জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি (১৯৮৯-২০০৯) সহ অসংখ্য সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাঠাগার, ক্রীড়া সংস্থা ও সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনে তার নিরলস ভূমিকা টাঙ্গাইলবাসীর কাছে তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি মাহমুদা খানম ভাসানীর সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন। তিন পুত্র ও দুই কন্যার জনক মো. শামসুল হক ২০০৯ সালের ৫ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।
15/10/2025
ধোলাইখাল ও লোহারপুলের ইতিহাস ও নামকরণ ||
নামকরণ ও সূচনা
ঢাকার মুঘল রাজধানী জাহাঙ্গীরনগর প্রতিষ্ঠার সময় সুবাদার ইসলাম খানের নির্দেশে ১৬০৮–১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে যে খালটি খনন করা হয়, তার নাম থেকেই আশপাশের এলাকা “ধোলাইখাল” নামে পরিচিত হয়। এই খালটি শহরের প্রতিরক্ষা ও নৌ-যাতায়াত—দুই উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হতো। প্রাচীন নথিতে ধোলাইখালের আলাদা কোনো “পূর্বনাম” পাওয়া যায় না; মুঘল আমল থেকেই ‘ধোলাই খাল’ নামেই পরিচিত। খালটি ডেমরার দিকে বালু নদী থেকে বের হয়ে দক্ষিণ–পশ্চিমে শহর কেটে বুড়িগঙ্গায় মিলব্যারাকের কাছে গিয়ে মিশেছিল।
বিস্তারিত ধোলাইখালের ইতিহাস:----
ধোলাইখাল – হারিয়ে যাওয়া এক জলপথের ইতিহাস
পুরান ঢাকার বুকে একসময় প্রবাহিত হতো ঐতিহাসিক ধোলাইখাল। এটি মূলত বুড়িগঙ্গা নদী থেকে শুরু হয়ে শাখা খাল হিসেবে শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে উত্তর–পূর্ব দিকে শীতলক্ষ্যা নদীর সঙ্গে যুক্ত ছিল।
📌 মোগল আমল:
মোগল সুবাদার ইসলাম খান ঢাকাকে রাজধানী করার পর শহরের ভেতরে যোগাযোগ ও নৌপথ সহজ করার জন্য খাল খননের উদ্যোগ নেন। সেই সময় ধোলাইখাল খনন করা হয়। এ খাল দিয়ে নৌকায় করে পণ্য আনা–নেওয়া হতো, ফলে ঢাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল এটি।
অনেকের মতে---
“ধোলাইখাল” নামটি এসেছে এখানকার কাপড় ধোয়ার কাজ থেকে। পুরান ঢাকার কারিগররা এই খালের পানি ব্যবহার করতেন কাপড় ধোয়া, রং করা ও নানা শিল্পকর্মে। এজন্য একে বলা হতো “ধোলাইখাল”।
📌 ব্রিটিশ আমল:
ব্রিটিশ শাসনামলে ধোলাইখাল আরও গুরুত্ব পায়। তখন এটিকে ঘিরে গড়ে ওঠে গুদামঘর, বাজার এবং নানা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ঢাকার লোহারপুল বা সূত্রাপুর এলাকায় প্রবেশের অন্যতম নৌপথ ছিল এই খাল।
📌 পতন ও বিলুপ্তি:
কালের আবর্তে ধীরে ধীরে ধোলাইখাল ভরাট হতে শুরু করে। ১৯৭০-এর দশকে খালটির বড় অংশ ভরাট হতে শুরু করে,এবং ১৯৮০ এর দশকে খালটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যায়,এরপর ১৯৯৭ সালে এর উপর নির্মিত হয় বক্স-কালভার্ট। আজ ধোলাইখাল নেই, তবে স্থাননাম হিসেবে এখনও ঢাকার মানচিত্রে বেঁচে আছে।
ধোলাইখাল শুধু একটি খাল ছিল না—এটি ছিল পুরান ঢাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু এবং ঢাকার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
সূত্রাপুর ব্রিজ (লোহারপুল) – হারানো এক ইতিহাস
পুরান ঢাকার সুত্রাপুর এলাকায় ধোলাইখালের উপর একসময় দাঁড়িয়ে ছিল এক ঐতিহাসিক সেতু—লোহারপুল। কিন্তু স্থানীয় মানুষজন এই সেতুটিকে ডাকত “সূত্রাপুর ব্রিজ” নামে।
১৮৩২ সালে ঢাকার কালেক্টর মি. ওয়াল্টারের উদ্যোগে সেতুটি নির্মিত হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ধোলাইখাল পেরিয়ে সহজে নারায়ণগঞ্জ ও বন্দর এলাকায় যাতায়াত নিশ্চিত করা। সেতুটি ছিল লোহার তৈরি ঝুলন্ত কাঠামো—তখনকার ঢাকায় একেবারেই ব্যতিক্রমী।
সূত্রাপুরের গুরুত্ব
সূত্রাপুর পুরান ঢাকার এক প্রাচীন জনপদ। মোগল আমলে এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য ও আবাসন গড়ে ওঠে। ধোলাইখালের তীরবর্তী এই এলাকা যোগাযোগের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই সেতুটি স্থাপনের পর থেকেই স্থানীয়রা একে বলত “সূত্রাপুর ব্রিজ”।
পুনর্নির্মাণ ও প্রতিস্থাপন:---
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লোহার পুলটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর
লোহার পুলটি ভেঙে ফেলা হয় এবং এর স্থানে নতুন করে আরেকটি লোহার পুল তৈরি করা হয়।
১৯৯০–এর দশকে ধোলাইখাল ভরাট করে বক্স-কালভার্টে রূপান্তরিত করা হলে এই সেতুর অস্তিত্বও হারিয়ে যায়। আজ আর সেই সেতু নেই, তবে ইতিহাসে রয়ে গেছে “লোহারপুল” নামের পাশাপাশি তার আরেক নাম—সূত্রাপুর ব্রিজ।
ধোলাইখালের পথরেখা ও সেতু
খালের এক শাখা শহরের কেন্দ্র দিয়ে গিয়ে শাহবাগ–কাওরান বাজারের কাছে আম্বর ব্রিজ পার হতো (খাজা আম্বরের নামে)।
পুরান ঢাকার দিকে ফরাশগঞ্জ–গান্ডারিয়া অংশে খালের ওপর নির্মিত হয় ঢাকার একমাত্র ঝুলন্ত লোহার সেতু—লোহারপুল/ধোলাই ব্রিজ। এটি ছিল নারায়ণগঞ্জ–ঢাকা যাতায়াত সহজ করার এক বড় পদক্ষেপ।
পূর্বাংশে নারিন্দা সেতু (হায়াত ব্যাপারীর সেতু)—শহরের পূর্বভাগকে মূল শহরের সঙ্গে যুক্ত করা এক প্রাচীন সেতু—ধোলাইখালের ধারেই ছিল।
লোহারপুল সেতুর সম্পূর্ণ ইতিহাস (সংক্ষেপে টাইমলাইন)
নির্মাণ শুরু: ১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দ (ইংল্যান্ড থেকে লোহার সামগ্রী এনে কাজ শুরু) ।
সমাপ্তি/উদ্বোধন: ১৮৩২—ঢাকার কালেক্টর মিস্টার ওয়াল্টার একটি এক-স্প্যানের ঝুলন্ত (hanging) লোহার সেতু নির্মাণ করেন। উদ্বোধনের দিন হাতি চালিয়ে সেতুর শক্তি পরীক্ষা করার কাহিনি প্রচলিত।
টোল আরোপ: ১৮৬৭–১৮৭২ সময়ে খালপথে প্রবেশকারী বড় নৌযানসহ চলাচলে টোল ধার্য হয়; পরে ১৮৭২ সালে টোল আদায়ের দায়িত্ব পৌরসভার হাতে যায়।
পরিণতি (ভাঙা/নতুনভাবে রূপান্তর): ১৯৯০ দশকে খালের বড় অংশ বক্স-কালভার্টে রূপ নিলে লোহারপুলও উঠে গিয়ে জায়গাটি পাকা সড়ক ও কালভার্টে রূপান্তরিত হয়—আজ সেখানে আর ঝুলন্ত সেতু নেই।
ধর্ম–সংস্কৃতি ও জনজীবন
ধোলাইখাল ছিল নৌকাবাইচ, সাঁতার ও উৎসবের প্রাণকেন্দ্র। রোকনপুরের পাঁচ ভাই ঘাটসহ নানা ঘাটে মেলা বসত, আর হিন্দু সম্প্রদায় পূজা শেষে দেবমূর্তির বিসর্জন দিত এই খালেই।
আশেপাশের উল্লেখযোগ্য প্রাচীন স্থাপনা (ধোলাইখাল ঘিরে পুরান ঢাকায়)
বড় কাটরা (১৬৪৪–১৬৪৬)—শাহ সুজার সময়কার কারভাঁসারাই; চৌক বাজার–বুড়িগঙ্গার ধারে।
ছোট কাটরা (১৬৬৩–১৬৭১)—শায়েস্তা খাঁর আমলের কারভাঁসারাই; বড় কাটরা থেকে পূর্বে।
আহসান মঞ্জিল (নির্মাণ ১৮৫৯–১৮৭২; নবাবদের প্রাসাদ)—বুড়িগঙ্গার তীরে কুমারটুলিতে; আজ জাদুঘর।
লালবাগ কেল্লা (শুরু ১৬৭৮)—মুঘল দূর্গনির্মাণের অপূর্ণ নিদর্শন।
হোসেনি দালান (১৭শ শতক)—শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া কেন্দ্র।
আর্মেনিয়ান চার্চ (১৭৮১)—আরমানিটোলা; ইউরোপীয় আর্মেনীয় বণিকদের স্মারক।
বিনত বিবির মসজিদ (১৪৫৬–৫৭)—ঢাকার প্রাচীনতম টিকে থাকা মুসলিম স্থাপনা; নারিন্দায় হায়াত ব্যাপারীর সেতুর পাশে।
বাহাদুর শাহ পার্ক (সাবেক ভিক্টোরিয়া পার্ক, ১৯শ শতক)—স্বাধীনতা–বিপ্লবের স্মৃতি-বহনকারী উন্মুক্ত চত্বর।
ধোলাইখালের বর্তমান চেহারা
আজকের ধোলাইখাল এলাকায় (উত্তরে টিপু সুলতান রোড, দক্ষিণে ভিক্টোরিয়া পার্ক, পূর্বে নারিন্দা, পশ্চিমে ইংলিশ রোড—খুব ছোট্ট এক ব্লক) পাঁচ হাজারেরও বেশি দোকান ও অসংখ্য কারখানা–ওয়ার্কশপ। প্রধান বাণিজ্য এখন গাড়ির যন্ত্রাংশ, স্যানিটারি ফিটিংস, ইলেকট্রনিকস ইত্যাদি—অর্থাৎ জলপথ থেমে গেলেও বাণিজ্যের স্পন্দন থামেনি।
ছবিতে দেখা ‘লোহারপুল’ আজ নেই; কিন্তু ধোলাইখাল আমাদের নগর স্মৃতির অমলিন জলরেখা—ঢাকার জন্ম, বিকাশ আর হারিয়ে যাওয়া জলপথের গল্প একসঙ্গে ধরে রেখেছে।
________________________________
লেখা-মোঃনাঈম ভুইয়া ||
এডমিন-ঢাকার গণপরিবহন ||
_______________________
#ধোলাইখাল #লোহারপুল #সূত্রাপুর #পুরানঢাকা
#ঢাকারইতিহাস #ঢাকারঐতিহ্য
#পুরানঢাকারজীবন #ঢাকারসংস্কৃতি
#ঢাকারগনপরিবহন #নাঈম
05/10/2025
.... .... 'To whom it may Concern'.... ....
27/09/2025
বখতিয়ার খলজি নালন্দা ধ্বংস করেনি, বখতিয়ার আসার পর নালন্দাসহ এরকম হাজার-হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনি এমনিই হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছিলো। বখতিয়ার খলজি নালন্দায় পা-ই ফেলেনি তবুও শুধু শুধু নালন্দা অঞ্চলের নাম বদলে বখতিয়ারপুর হয়ে গেছে।
বখতিয়ার খলজিসহ মুসলিম শাসকেরা খুবই শিক্ষানুরাগী ছিলো কিন্তু কোনো এক রহস্যময় কারণে মুসলমান শাসকদের পরবর্তী ছয়শত বছরের শাসনে এই অঞ্চলে একটা সিঙ্গল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেনি৷ "
বুদ্ধিস্টরা মিয়ানমারে হাজারবছর নিরবিচ্ছিন্ন শাসন করেছে কিন্তু তারাও নালন্দা কিংবা জগদ্দল বিহারের মতো একটা সিঙ্গল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেনি। কারণ এইরকম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা বৈরাগ্যবাদী একমুখী আইডিওলোজির অনুসারী বুদ্ধিস্টদের সামর্থ্যের বাইরে ছিলো। তারা মিয়ানমারে লাখো স্তুপ বানিয়েছে কারণ একমাত্র এই কাজটিই তারা জানতো।
#নালন্দাসহ হাজার-হাজার যতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভারতবর্ষে ছিলো সবই ছিলো হিন্দু শৈব-বৈষ্ণব রাজাদের প্রতিষ্ঠিত বহুত্ববাদী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান । নালন্দা নিয়ে আলোচনায় সুকৌশলে নালন্দার প্রতিষ্ঠাতা বৈষ্ণব হিন্দু সম্রাট কুমারগুপ্তের কথা আড়াল করা হয়। নালন্দায় খননকার্য চালানো আর্কিওলজিস্টদের লিস্ট দেখলে শুধুমাত্র কম্যুনিস্ট, প্যানইসলামিস্ট এবং কলোনিস্ট আইডিওলোগদেরই পাবেন যারা জেনে-বুঝেই এইসব হিন্দু প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বুদ্ধিস্ট বলে ডাহামিথ্যে ন্যারেটিভস তৈরী করেছে।
৬০০ বছরের শাসনে মুসলমানগণ একটা সিঙ্গল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়তে না পারলেও পূর্বের শৈব এবং বৈষ্ণব রাজারা যে শত-শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলো সেগুলো মুসলমানগণ আসার একশোবছরের ভিতর সবগুলো হারিয়ে যায়। নিচে শুধুমাত্র বাংলাদেশ ভূখণ্ডের কয়েকটির নাম দিলাম যেগুলোর ধ্বংসস্তূপ এখনো টিকে আছে।
১) সোমপুর মহাবিহার
২) ভবদেব বিহার, কুমিল্লা। যেটি হিন্দু বৈষ্ণব দেব রাজবংশ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।
৩) জগদ্দল মহাবিহার যেটির সর্বশেষ আচার্য্য শাক্যশ্রীভদ্র ১২০৪ সালে মুসলমানদের হাত থেকে বাঁচতে তিব্বতে পলায়ন করেন। মুসলমানগণ ১২০৭ সালে এটি পরিপূর্ণরূপে ধ্বংস করে।
৪) হলুদ বিহার
৫) মহাস্থানগড়
৬) বসু বিহার
৭) সীতাকোট বিহার
৮) সিলেট চন্দ্রপুর বিহার৷ চন্দ্রবংশীয় দ্বিতীয় রাজা শ্রীচন্দ্র আনুমানিক ৯৩০- ৯৭৫ খ্রি. দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা শাসন করেন। তাঁর শাসনকালের পঞ্চম বর্ষে (আনু. ৯৩৫ খ্রি.) তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য তিনটি দানপত্রে ৪০০ পাটক (প্রতি পাটক ৫০ একর হিসেবে প্রায় ২০,০০০ একর) ভূমি মহাদেব, বিষ্ণু এবং বুদ্ধের নামে দান করেছিলেন। ১৯৫৮ সালে বর্তমান মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পশ্চিমভাগ গ্রামে শ্রীচন্দ্রের একটি তাম্রশাসন আবিষ্কৃত হয়। উল্লেখ্য যে সম্পূর্ণ আবাসিক এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা চারটি মঠ ছিলো।
৯) বিক্রমপুর বিহার, মহাজ্ঞানী নাস্তিকপণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর প্রতিষ্ঠিত।
প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে এই সবগুলো প্রতিষ্ঠানের একটা মিল পাওয়া গেছে সেটি হল এইসবগুলো 1200 থেকে 1300 সালের মধ্যেই ধ্বংস হয়েছে আর ঠিক এই সময়টা হলো ইসলামী শাসনকালের শুরু।
এরমধ্যে বখতিয়ার কর্তৃক ওদন্তপুরী এবং নালন্দার ধ্বংসের বর্ণনা তখনকার মুসলিম এবং বুদ্ধিস্ট দুই তরফেই লিখা হয়েছে। মিনহাজ ই সিরাজ নালন্দার অদূরে থাকা ফ্যাকাল্টি ওদন্তপুরী ধ্বংসে অংশ নেওয়া সৈনিকের নিজ মুখের বর্ণনা শুনে লিখেছেন।
বখতিয়ার খলজি নালন্দার ছাত্র-শিক্ষকদের কচুকাটা করে চলে যাওয়ার পর আশপাশে বেঁচে যাওয়া গুটিকয় ছাত্র-শিক্ষক মিলে ৯০ বছর বয়স্ক আচার্য রাহুল শ্রীভদ্রের অধীনে আবার সেই ধ্বংসস্তূপে জড়ো হয়ে নতুন করে পাঠদান চালু করার চেষ্টা করেন। এই ছাত্রদের মধ্যে সদ্য তিব্বত থেকে মিথিলা হয়ে আসা ধর্মস্বামীও ছিলেন।
নতুন করে পাঠদানের খবর জানতে পেরে খলজি আবার তার সেনাদল পাঠায় বেঁচে যাওয়া ছাত্র-শিক্ষকদের জবাই করার জন্য।।
ধর্মস্বামী তার রচিত জীবনী গ্রন্থে বলেন- উপায়ান্তর না দেখে তুরাক্ষস/তুরাস্ক (স্থানীয়রা তুর্কী সেনাদলকে তাই বলতো।) সেনাদল আসার পূর্বেই উনারা নালন্দা চিরতরে ত্যাগ করে তিব্বতের উদ্দেশ্য রওয়ানা দেন। বৃদ্ধ রাহুল শ্রীভদ্র বয়সের ভারে ন্যুব্জ হওয়ায় তার পক্ষে তিব্বত পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব ছিলোনা তাই তিনি তার প্রিয় নালন্দাতেই তুরাক্ষস (তুর্কী) বাহিনীর হাতে আত্মহুতী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ধর্মস্বামীও তার গুরু শ্রীভদ্রকে না নিয়ে স্থান ত্যাগ করবেননা বলে জেদ ধরায় শেষতক শ্রীভদ্র তার সাথে যেতে রাজি হোন।
তিব্বত পৌঁছে ধর্মস্বামী তার জীবনীগ্রন্থ লিখেন যেখানে তুর্কী সেনাদল কর্তৃক নালন্দা, বিক্রমশীলা, অদন্তপুরীসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধ্বংসলীলা লিপিবদ্ধ করেন।
Reference:
Biography Of Dharmasvamin Vol II Dr. A. S. Altekar
Buddhist Monks and Monasteries of India
A History of Ancient and Early Medieval India: From the Stone Age to the 12th Century
Rise and Fall of the Imperial Guptas
Sacred Visions: Early Paintings from Central Tibet
Al-Hind: The Slavic Kings and the Islamic conquest, 11th-13th centuries
History of Muslim rule in Tirhut, 1206-1765, A.D.
Vasudeva Sharana Agrawala (1969). The deeds of Harsha: being a cultural study of Bāṇa's Harshacharita. Prithivi Prakashan. p118
Abraham Eraly (2011). The First Spring: The Golden Age of India. Penguin Books India.