23/11/2019
লেখাটি Tanmoy Tuhin এর । খুব সুন্দর একটা পোষ্ট করেছে । সবাই মনোযোগ সহকারে লেখাটি পরার অনুরোধ রইল ।
লেখার সুবিধার্থে সবাইকে তুমি বলে সম্বোধন করছি। (এইজন্য সবার কাছে করজোড়ে ক্ষমা চাচ্ছি।)
আজ এই লেখাটি তোমাকে দিয়ে পড়িয়ে স্কুল জীবনের বারান্দায় নিয়ে যাবার কথা ভাবছি। ভাবছি কি করে তোমাকে পিটি ক্লাসের কথা মনে করিয়ে দেয়া যায়। পিটি ক্লাস করতে অনেক কষ্ট হতো, তাইনা? তোমার কি মনে হয় না, এখানেই তোমার জীবনের প্রথম চেতনা শুরু হয়েছিলো। এখান থেকে তুমি জেনেছিলে কিভাবে সোনার বাংলায় সুর তুলতে হয়। কিভাবে হাত দিয়ে কদম ফুল তৈরি করতে হয়। এখান থেকেই শিখেছো,,, শপথ নিয়ে কিভাবে নিজেকে তৈরী করতে হয়, কিভাবে নিজেকে গড়ে তুলতে হয়। এখান থেকেই সর্বপ্রথম আমাদের ডিসিপ্লিনের শুরু হয়েছিলো।
এত কষ্টের আর দাঁত খিঁটানো সময় পার করে যখন ব্রজো স্যারের বাঁশির আওয়াজে এক ছুটে, ছুটে যেতাম আমার ক্লাসে। তুমিও হয়তো যেতে তোমার ক্লাসে। কতইনা শান্তি লাগতো, ক্লাসের সেই হাই বেঞ্চে বসে বন্ধুদের সাথে গল্পের আড্ডায় মেতে থাকতে। তোমার কি মনে আছে সেই মিনাল কান্তি স্যারের কথা। যে স্যারের পিঠে থাপ্পর দেয়াই ছিলো পরম আদর। মনে আছে সেই সাদেক স্যারের ইংরেজি পড়ানো আর ডিস্ট্রিবিউশন উচ্চারণের কথা। তোমাদের কি বাকি অন্যদের কথা মনে আছে, যাদের কথা লিখা হলো না। যারা সবাই-ই আমাদের আদর্শ।
আমার কিন্তু সবই মনে আছে। মনে আছে দক্ষিণ চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কথা। আমার মনে আছে ওই চার চালা টিনের ঘরের কথা। আমার মনে আছে মাতৃছায়া দেয়া বট গাছের কথা। মনে আছে স্কুল পালিয়ে ক্রিকেট খেলার কথা। ফুটবল মাঠে নেমে স্যারদের দৌড়ানি খাওয়ার কথা। মনে আছে স্কুল পালিয়ে পদ্মা নদীতে ঝাঁপাঝাঁপি করার করা। আর পদ্মার চরে দৌড়াদৌড়ি করার কথা। আরো কত কিছু যে আছে সেটা এই লেখায় বলে শেষ করাই যাবেনা।
আজ আমরা হাতে পায়ে অনেক বড় হয়েছি। আজ আমরা বড় বড় কথা বলতে শিখেছি। আজ আমরা আমাদের ওয়ালেট, ভ্যানিটি, ডেভিড আর ক্রেডিট কার্ডের ওজন বাড়াতে দৌড়ে চলেছি। অথচ এই স্কুলকে আমাদের অনেক কিছু দেয়ার আছে, সেটা ভুলে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। ভুলে থাকতে চাই সেই তিল তিল করে গড়ে দেয়া শ্রদ্ধেয় আর প্রাণপ্রিয় শিক্ষকদের কথা। ভুলে যেতে বসেছি সেই পুরনো স্কুলটির কথা...
এখান থেকে আমরা শুধু ভুঁরিভুঁরি নিয়েই গেলাম।
আসো,,, আজ আমাদের সময় এসেছে এই স্কুলকে কিছু দেয়ার। এই স্কুলকে সবার সামনে তুলে ধরার। প্রাণের স্কুলটি এক_দুই করে পঞ্চাশটি জয়ন্তী পার করতে চলেছে। আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে সুবর্ণ জয়ন্তী নামের একটা অনুষ্ঠান। এটা আমাদের প্রাক্তন ছাত্রদের জন্য অনেক বড় একটি ভাগ্যের ব্যাপার, আমাদের অহংকার। এই উৎসবটি আমাদের এক জনমের ভাগ্য।
জীবন কখনোই অনেক বড় নয়। আর এই ছোট্ট জীবনে ভালো সময় এর থেকে খারাপ সময় অনেক বেশি থাকে। তবুও নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়, মেনে যেতে হয়।
আসো, আমরা যারা এখনো দক্ষিণ চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের "সুবর্ণ জয়ন্তী" উপলক্ষে যে রেজিস্ট্রেশন চলছে। সেখানে ধার্যকৃত অল্প কিছু চাঁদার মাধ্যমে নিজেদের নাম লিখিয়ে ফেলি।
আর এই চাঁদা কে শুধু অর্থের দৃষ্টিতে না দেখে, আমাদের কাছে স্কুলটির প্রাপ্য হিসেবে ধরে নেই। ধরে নেই স্কুলটিকে সবার কাছে ফুটিয়ে তোলার জন্য আমাদের ছোট্ট প্রয়াস।
আমি আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানা-ভাবে, নানা-কাজে অর্থ ব্যয় করে থাকি। যদি সম্ভব হয়, তাহলে স্কুলের এই অনুষ্ঠানে তোমাদের অর্থের একটি অংশ শেয়ার করে ম্যাগাজিনে নিজের নামটি লিখিয়ে নাও।
পরিশেষে একটা কথা বলে যাই, ভালো ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয় মানুষকে সম্মানি করে। আর এই সম্মানই মধ্যবিত্তের সবচেয়ে বড় ধন। আমি তোমাকে এনশিওরিটি দিচ্ছি, স্কুলের নামে 1 টাকা 5 টাকা, 500-1000 টাকা খরচ করলে তোমার অর্থভাণ্ডার কমবে না। স্কুল তোমাকে অনেক সম্মান দিয়েছে আর দিতেই থাকবে। তার আগে তুমি তাকে সম্মানের জায়গায় দাঁড় করাও।
ভালো কাজের সাথে থাকো, ভালোকে সাপোর্ট করো... ধন্যবাদ সবাইকে।
পুনশ্চঃ ১-৫০তম ব্যাচের সকল বড় ও ছোট ভাই-বোন এবং বন্ধ-বান্ধবদের এই সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগদান করে অনুষ্ঠান টিকে সাফল্য মন্ডিত করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।