10/10/2017
ভয়ঙ্কর গেমের কথা শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে
দিন।
ব্লু হোয়েল গেম:
বর্তমানযুগ অনলাইনের। বিশ্বের
উন্নত দেশ থেকে শুরু করে
প্রায় প্রতিটি দেশে ডিজিটালের
জোয়ার বইছে। আর তথ্য
প্রযুক্তির এই যুগে
যন্ত্রনির্ভর হয়ে পড়ছে
মানুষ। আর বর্তমান প্রজন্ম
মেতে আছে তাদের স্মার্টফোন
আর ভিডিও গেমে। তবে এ গেম
প্রযুক্তিও আধুনিক হয়েছে।
সাধারণ ভিডিও গেমের বদলে
জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠেছে
অনলাইন গেম। সারাবিশ্বের যে
কোনো প্রান্তের মানুষের
সঙ্গে এখানে প্রতিযোগীতা
করা যায়। এ কারণে বর্তমান
প্রজন্ম নির্দিষ্ট গণ্ডির
মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ছেন। এক
সময় তাদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে
হতাশা। আর তারপরই এই
অনলাইন গেমের মাধ্যমেই
ঘটছে মর্মান্তিক ঘটনা।
অবাক করার মত বিষয় হলেও
এটাই সত্যি যে, গেম খেলতে
খেলতে এক সময় আত্মহত্যা
করতেও হৃদয় কাঁপছে না তাদের।
বর্তমান বিশ্বের আতঙ্ক এক
অনলাইন গেম নিয়ে। তার নাম
'ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম'।
যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের মত
দেশগুলোতে এর বিপক্ষে স্কুল
কলেজে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তরুণ-তরুণীদের এ গেম খেলা
থেকে বিরত রাখার জন্য
রীতিমত চিন্তিত হয়ে পড়েছেন
সেদেশের বিশেষজ্ঞরা।
ব্লু হোয়েল গেম কী?
অনলাইনে একটি কমিউনিটি
তৈরি করে চলে এ
প্রতিযোগীতা। এতে সর্বমোট
৫০টি ধাপ রয়েছে। আর
ধাপগুলো খেলার জন্য ঐ
কমিউনিটির অ্যাডমিন বা
পরিচালক খেলতে ইচ্ছুক
ব্যক্তিকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ
দিবে। আর প্রতিযোগী সে
চ্যালেঞ্জ পূরণ করে তার ছবি
আপলোড করবে।
শুরুতে মোটামুটি সহজ এবং
কিছুটা চ্যালেঞ্জিং কাজ দেয়া
হয়। যেমন: মধ্যরাতে ভূতের
সিনেমা দেখা। খুব সকালে ছাদের
কিনারা দিয়ে হাঁটা এবং ব্লেড
দিয়ে হাতে তিমির ছবি আঁকা।
তবে ধাপ বাড়ার সাথে সাথে
কঠিন ও মারাত্মক সব
চ্যালেঞ্জ দেয় পরিচালক।
যেগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ এবং
এ খেলার সর্বশেষ ধাপ হলো
আত্মহত্যা করা। অর্থাত্ গেম
শেষ করতে হলে প্রতিযোগীকে
আত্মহত্যা করতে হবে।
কেন যুবক-যুবতীরা আকৃষ্ট
হচ্ছে:শুরুতে তুলনামূলক সহজ এবং
সাহস আছে কি না এমন
চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ায় তা
যুবক-যুবতীদের কাছে আকৃষ্ট
হয়। তবে একবার এ খেলায় ঢুকে
পড়লে তা থেকে বের হয়ে আসা
প্রায় অসম্ভব। খেলার মাঝপথে বাদ দিতে চাইলে
প্রতিযোগীকে ব্লাকমেইল করা হয়। এমনকি তার
আপনজনদের ক্ষতি করার হুমকিও দেয়া হয়।
আর একবার মোবাইলে এই
অ্যাপটি ব্যবহারের পর তা
আর ডিলিট করা যায় না।
কোথায় জন্ম:এই খেলার জন্ম রাশিয়ায়।জন্মদাত
া ২২ বছরের তরুণ ফিলিপ বুদেকিন। ২০১৩ সালে
রাশিয়ায় প্রথম সূত্রপাত।
২০১৫ সালে প্রথম
আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়।
তবে এহেন গর্হিত কাজের জন্য
নিজেকে অপরাধী না বলে বরং
সমাজ সংস্কারক বলে নিজেকে
অভিহীত করে বুদেকিন। সে
জানায়, এই চ্যালেঞ্জের যারা
শিকার তারা এ সমাজে বেঁচে
থাকার যোগ্য নয়।
এ গেম নিয়ে রীতিমত অবাক
রাশিয়া পুলিশ। তদন্তের পর
তারা জানায় অন্তত ১৬ জন
কিশোরী এ গেমের কারণে
আত্মহত্যা করেছে। এমনকি
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায়
১৩০ জনের আত্মহত্যার
জন্য এ গেম দায়ী।
গেম কিভাবে তরুণ-তরুণীদের
আত্মঘাতী করছে সে বিষয়ে
চিন্তিত মনোরোগ
বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে
ব্রিটেন-আমেরিকায় এ গেম
জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। যার ফলে
সে দেশগুলো তাদের স্কুল-কলেজ
সমুহে এ গেমের বিরুদ্ধে
ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে।
তবে এ গেমের মূল অ্যাডমিন
বুদেকিন আটক থাকলেও থেমে
নেই তাদের কার্যক্রম। যার
ফলে এ গেমের প্রভাব
বিরাজমান। সম্প্রতি ভারতে এ
গেমের ফলে আত্মহত্যার ঘটনা
ঘটেছে।