12/04/2016
হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাঃ প্রিয়তম স্বামী মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সা:) কে. জিজ্ঞেস করলেন, ওগো নবী, আপনার জীবনের সবচাইতে কষ্টের মুহুর্ত কোনটি? যদি বলতেন,তাহলে আমি আপনার কষ্টকে স্ত্রী হিসেবে ভাগাভাগি করে নিতাম। রাসূলুল্লাহ (সা:) চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বললেন, ওগো আয়েশা,তুমি আমাকে এমন কথা মনে করিয়ে আহত কর না।তায়েফের কথা মনে পড়লে আমি আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না। রাসূল সেদিন আল্লাহর দীনের দাওয়াত দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কাফেররা আমার নবীকে চিনতে পারে নি। তারা পাথর নিক্ষেপ করে তাঁর সারা শরীর রক্তাক্ত করেছে। নবীর সারা শরীর থেকে রক্ত ঝরতে ঝরতে এমন অবস্থা হয়েছে যে পায়ের তলায় জুতার সাথে রক্ত জমাট বেধে গিয়েছে। নবীর মাটিতে পড়ে গিয়েছেন। কিন্তু বেঈমান কাফের যুবকেরা তাকে ধরে দাড় করিয়ে আবার পাথর মেরেছে। আহ ! কত কষ্টই না পেয়েছিলেন তিনি। এমনই কঠিন মুহুর্তে হযরত জিব্রাইল আঃএসে নবীজিকে বললেন, হুজুর আমি সেই জিব্রাইল যে ইহুদীদের ওপর তুর পাহাড়কে তুলে ধরে ছিলো তাদেরকে পিষে মারার জন্য। আপনি আদেশ করুন। নবীজি বললেন, না, না জিব্রাইল, আমি তায়েফের অধিবাসীদেরকে কোন অভিশাপ দিব না। কারন,আমি নবী অভিশাপ দিলে, তাদের এ দুনিয়ায় বেঁচে থাকা কষ্টকর হবে। আমি দোয়া করে দিলাম, তারা সুখে থাকুক, শান্তিতে থাকুক। হয়ত তাদের মাঝে কেউ একদিন কালেমা পড়ে মুসলমান হতে পারে। আমি অভিশাপ দেয়ার জন্য প্রেরিত হই নি, রহমত হিসেবে প্রেরিতহয়েছি। আমার রক্ত সেদিন স্বার্থক হবে যে দিন লোকেরা কালেমা পড়ে মুসলমান হবে। দীনের জন্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কত কষ্ট করেছেন। আজ পৃথিবীর নানা প্রান্তে বিভিন্ন ভাবে ইসলাম ও মুসলমানকে হেয় করা হচ্ছে। নবীজিকে নিয়ে ব্যঙ্গ চিত্র প্রকাশ করছে। কিন্তু আমরা অভাগা উম্মত কিছুই করতে পারছি না। •√• হে আল্লাহ আমাদেরকে আপনি মাফ করে দিন,আমিন।