13/04/2026
মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে ২০২৭ সালের প্রথম ভাগে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশন 'হ্যাভেন-১' (Haven-1)। ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক স্টার্টআপ কোম্পানি ভাস্ট স্পেস (Vast Space) এবং এর প্রতিষ্ঠাতা বিলিয়নেয়ার জেড ম্যাকক্যালেব (Jed McCaleb) এই প্রকল্পের মূল কারিগর।
এর বিশেষত্ব হলো, এটি কোনো সরকারি সংস্থা বা আন্তর্জাতিক জোটের অর্থায়নে নয়, বরং সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিনিয়োগে তৈরি হচ্ছে। যেখানে জেড ম্যাকক্যালেব নিজেই এই প্রজেক্টে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূলধন নিশ্চিত করেছেন, যা বেসরকারি মহাকাশ পরিকাঠামো নির্মাণে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই ব্যক্তিগত মালিকানার ফলে স্টেশনের ডিজাইন, নির্মাণ এবং পরিচালনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে এই বেসরকারি কোম্পানির হাতেই থাকছে।
ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে হ্যাভেন-১ 'স্পেস-অ্যাজ-এ-সার্ভিস' (Space-as-a-Service) মডেল অনুসরণ করবে। আগে যেখানে দেশগুলো বিলিয়ন ডলার খরচ করে নিজেদের স্টেশন বানাত, এখন তারা ভাস্ট স্পেস থেকে নির্দিষ্ট ফি বা 'ভাড়া' প্রদানের মাধ্যমে ল্যাবরেটরি বা থাকার জায়গা ব্যবহার করতে পারবে। এটি মহাকাশ গবেষণার খরচ নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনবে এবং ছোট দেশ বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য গবেষণার দুয়ার খুলে দেবে। প্রযুক্তিগতভাবে, এই স্টেশনটি ভবিষ্যতে 'স্পিন-গ্রাভিটি' বা ঘূর্ণন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কৃত্রিম মহাকর্ষ তৈরির প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া, জিরো-গ্রাভিটি পরিবেশে উন্নত মানের সেমিকন্ডাক্টর তৈরি বা জীবন রক্ষাকারী ওষুধের প্রোটিন ক্রিস্টালাইজেশনের মতো বাণিজ্যিক কাজগুলো এখানে সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে। ২০৩০ সালে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (ISS) অবসরে যাওয়ার পর, এই ধরনের বাণিজ্যিক স্টেশনগুলোই হয়ে উঠবে পৃথিবীর কক্ষপথে মানুষের বসবাস ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির মূল কেন্দ্র।