15/07/2026
২০০২ সালের ৩ জুন দক্ষিণ কোরিয়ার উলসান শহরে বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল পরাশক্তি ব্রাজিল এবং তুরস্ক। ম্যাচটি চরম উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। খেলায় ব্রাজিল ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল এবং ম্যাচটি প্রায় শেষের দিকে (ইনজুরি টাইমে) পৌঁছায়।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে ব্রাজিল একটি কর্নার কিক পায়। ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড রিভালদো কর্নার নেওয়ার জন্য পতাকার পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন।
সময় নষ্ট করার জন্য রিভালদো বলটি হাতে নিচ্ছিলেন না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তুরস্কের ডিফেন্ডার হাকান উনসাল দূর থেকে বলটি লাথি মেরে রিভালদোর দিকে ছুড়ে দেন।
বলটি সরাসরি এসে রিভালদোর পায়ে বা হাঁটুতে লাগে। কিন্তু রিভালদো সাথে সাথে দুই হাত দিয়ে নিজের মুখ চেপে ধরে এমনভাবে মাঠে লুটিয়ে পড়েন, যেন বলটি সরাসরি তার মুখে লেগেছে এবং তিনি মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন।
রিভালদোর এই অভিনয় দেখে রেফারি কিম ইয়ং-জু বিভ্রান্ত হন।
তিনি মনে করেন হাকান উনসাল ইচ্ছাকৃতভাবে রিভালদোর মুখে বল মেরে আঘাত করেছেন।
এর ফলে রেফারি হাকান উনসালকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে লাল কার্ড (Red Card) দিয়ে বের করে দেন।
ম্যাচটিতে ব্রাজিল শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয়ী হয়।ফিফার তদন্ত ও শাস্তিম্যাচ শেষ হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে রিভালদোর এই নাটকীয় অভিনয়ের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
ভিডিও ফুটেজে পরিষ্কার দেখা যায় যে, বলটি তার মুখে লাগেনি।ভিডিও রিভিউ করার পর ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি রিভালদোকে দোষী সাব্যস্ত করে।ফিফা তাকে ১১,৫০০ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করে (১০,০০০ ফ্রাঁ জরিমানা এবং ১,৫০০ ফ্রাঁ মামলার খরচ)।
তবে ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই দাবি করেছিলেন যে, রিভালদোকে অন্তত এক বা দুটি ম্যাচ নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল, যা ফিফা করেনি।
রিভালদো পরবর্তীতে তার এই আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেননি।
তিনি গণমাধ্যমে বলেছিলেন, "আমি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়, তাই ম্যাচ জেতার জন্য এবং সময় পার করার জন্য ওটা করেছিলাম। বলটি আমার গায়ে লেগেছিল, মুখে নয়। কিন্তু ওভাবে বল ছুড়ে মারাটা উনসালের অন্যায় ছিল, তাই আমি সুযোগটি লুফে নিয়েছিলাম।"ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারে এই ঘটনাটি একটি বড় "কলঙ্ক" বা বিতর্ক হিসেবে আজীবন রয়ে গেছে।
মানে কি বুঝলেন ব্রাজিলের জার্সিতে কলঙ্কের দাগ নেই 🤔
#ব্রাজিলেরকলঙ্ক