01/09/2024
#আগামী_জন্য_নিজেকে_গড়বে_যেভাবে_____
চতুর্থ বিপ্লবের পর খুব দ্রুতই বিশ্ব মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পঞ্চম বিপ্লবের। প্রতিযোগিতার এই বিশে^ নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখতে এখন আর ক্লাসরুমভিত্তিক পড়াশোনা ও দক্ষতাকে যথেষ্ট মনে করছেন না গবেষকরা। এ সময় প্রয়োজন বাড়তি দক্ষতা, যা অর্জন করতে হবে শিক্ষাজীবনেই এবং ক্লাসরুমের বাইরে। পরিবর্তিত আগামীর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু দক্ষতা ও তা অর্জনের উপায় নিয়ে লিখেছেন আনোয়ার হোসেন
চারপাশের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনার, সঠিক প্রস্তুতির। পরিবর্তিত আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রযুক্তিগত জ্ঞানের সঙ্গে প্রয়োজন সফট স্কিল। এ দুই ধরনের দক্ষতার সমন্বয়ে গঠিত মানবশক্তিই পঞ্চম বিপ্লবের জন্য উপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রযুক্তি দক্ষতা ও সফট স্কিলে পারঙ্গম হতে এখন থেকে মনোযোগ দিতে হবে কয়েকটি বিষয়ে।
🛑সফট স্কিল
অপরের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষমতা : যোগাযোগের দক্ষতা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যোগ হয়েছে ভিন্নমাত্রা। ইমেইল, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং, সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদি ভার্চুয়াল যোগাযোগমাধ্যম যুক্ত হয়েছে। নতুন যুগের এসব তথ্য যোগাযোগ মাধ্যমে যোগাযোগ দক্ষতা অর্জন করা জরুরি। কিন্তু যোগাযোগ দক্ষতা বলতে শুধু এগুলো ব্যবহারের দক্ষতা বোঝায় না। বরং নিজের বক্তব্যকে অন্যের নিকট সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় অন্যের কাছে উপস্থাপন এবং একই সঙ্গে অন্যের বক্তব্য বুঝতে পারার দক্ষতাকেও বোঝায়। যোগাযোগের দক্ষতা একজন ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস বাড়ায় ও তার আশপাশে থাকা অন্যদেরও অনুপ্রেরণা জোগায়।
⛰️দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা :
একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে অনেকে কাজ করে থাকেন। প্রত্যেকের ভূমিকা নির্দিষ্ট এবং সবার কাজের সমন্বয়েই প্রতিষ্ঠানটি লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলে। তাই একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অর্থ হলো একটি দলের সঙ্গে কাজ করা। দলের সদস্য হয়ে কাজ করার কিছু সাধারণ নিয়ম আছে, যা সবাইকে মেনে চলতে হয়। এগুলো দলভেদে বিভিন্ন হয়ে থাকে। ব্যক্তি তার বুদ্ধি ও যোগাযোগ দক্ষতা দ্বারা দ্রুত বুঝে নিয়ে কাজ করে। যিনি এটি যত দ্রুত করতে পারেন তার মধ্যে দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা তত বেশি। এটি খুব প্রয়োজনীয় একটি দক্ষতা।
খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রবণতা : অনেক সময়ই পরিকল্পনা মতো কাজ হয় না। তখন পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনার রদবদল করে কাজ এগিয়ে নিতে হয়। এই কাজটি তারাই ভালো পারেন যারা দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। কর্মক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। ভবিষ্যতের উপযুক্ত মানবসম্পদ হিসেবে নিজেকে যোগ্যতম হিসেবে গড়ে তুলতে নিজের মধ্যে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করুন। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন খুবই ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ। কারণ যে ব্যক্তির দক্ষতা যত বেশি সে ব্যক্তির প্রতিকূল পরিস্থিতিতে খাপখাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তত বেশি। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিও পরিবর্তিত পরিবেশে খাপখাইয়ে নিতে সাহায্য করে। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন একজন ব্যক্তি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মুষড়ে না পড়ে তার ভেতর থেকেও সম্ভাবনার খোঁজ করে এবং তা কাজে লাগায়। এটিই খাপ খাইয়ে নেওয়ার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত।
সমস্যা সমাধানের চেষ্টা : কাজের প্রতি পদে পদে নতুন নতুন পরিস্থিতি আবির্ভূত হয়। ব্যক্তির প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে তা সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হবে নাকি নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। নতুন পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে পারলে তা সম্ভাবনা এবং কাজে না লাগাতে পারলে সেটা সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়। তাই সমস্যায় বিমূঢ় না হয়ে সমাধানের চেষ্টা যারা করে এবং যেকোনো সমস্যার যারা সৃজনশীল সমাধান দানে দক্ষ তারাই আগামীতে শ্রেষ্ঠ স্থানগুলো অধিকার করবে। এই দক্ষতা ক্রমাগত অনুশীলনে রপ্ত হয়। তাই ব্যক্তিজীবনেও এর অনুশীলন জারি রাখতে হবে।
🛑প্রযুক্তিগত দক্ষতা
শিখুন একাধিক নতুন ভাষা : ২০১০ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৮ শতাংশ আমেরিকান মাতৃভাষা ছাড়া অন্যান্য ভাষা জানেন। আমাদের দেশে এই সংখ্যা আরও কম। তাই নতুন এক বা একাধিক ভাষা শিখলে অন্য প্রতিযোগীদের থেকে নিজেকে এগিয়ে রাখতে পারবে সহজেই। তাছাড়া বর্তমানে আউটসোর্সিংয়ের ক্ষেত্র বিস্তৃত হয়েছে। তাই দ্বিতীয় একটি ভাষা শিখে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা যেমন বেড়েছে, তেমনি নিজেই আউটসোর্সিং করে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগও রয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, কোথায় শিখবে? এর সমাধানও খুব সহজ। প্রযুক্তির সহায়তায় সারা বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। বিভিন্ন ধরনের অনলাইন কোর্স রয়েছে। যেগুলোর মাধ্যমে নিজের দখলে আনা সম্ভব এক বা একাধিক ভাষা। তবে এ ক্ষেত্রে নতুন ভাষা হিসেবে কোনো ভাষা শিখবে তা সতর্কতার সঙ্গে নির্বাচন করতে হবে। যে ভাষা পেশাজীবনে উন্নতিতে সহায়ক সে ভাষা শেখাই শ্রেয়।
🔳বিজনেস ও মার্কেটিংয়ে দক্ষতা অর্জন :
বিজনেস ও মার্কেটিংয়ে জড়িত আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে। এগুলোর সরল ও মূল বিষয়গুলো আয়ত্ত করার চেষ্টা করো। লাভ-ক্ষতি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ব্র্যান্ডিং ইত্যাদির অনুশীলন করতে পারো এখন থেকেই। এটি ব্যক্তিজীবনের অংশ করে তুলতে পারলে পেশাজীবনে তার প্রয়োগ হবে স্বতঃস্ফূর্ত। বাণিজ্যিক চিন্তাভাবনাকে মজবুত ও সঠিক আকার দিতে সাহায্য নিতে পারো অনলাইন বিজনেস কোর্সগুলোর।
🔳শেখো কোডিং : বিল গেটস এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভবিষ্যতের ভাষা হবে প্রোগ্রামের ভাষা। যারা কোডিং করতে পারবে তারাই নেতৃত্ব দেবে। তাই এখন থেকে কোডিং শেখো, কোডিংয়ের একাধিক ভাষা শেখো। ভবিষ্যতের সময় হবে তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। কোনো একটি সাধারণ সফটওয়্যারকে কাজের প্রয়োজনে নিজেকেই পরিবর্তিত করে নিতে হবে। আর এর জন্য প্রয়োজন হবে প্রোগ্রামিংয়ে দক্ষতা। তাই প্রোগ্রামিং শিখতে ব্যয় করা সময়টি হতে পারে সময়ের উত্তম বিনিয়োগ। প্রোগ্রামিং শেখার নানা ধরনের অনলাইন সাইট রয়েছে, যেখানে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে পারবে।
🔳ডেটা সায়েন্স ; ডেটা সায়েন্স একটি নতুন ক্ষেত্র। যার ব্যবহার ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে। ডেটা সায়েন্সের বাজারে নিজের জায়গা তৈরির জন্য আজই প্রস্তুতি নিতে শুরু করো। অনলাইন সাইট বা ইউনিভার্সিটির প্রফেশনাল কোর্সগুলোতে অংশগ্রহণ গ্রহণ করতে পারো।
Writer :আনোয়ার হোসেন
Touhid Sir