19/05/2026
জিলহজের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত:
# এই দিনগুলোর আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“এমন কোনো দিন নেই, যেদিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে জিলহজের এই দশ দিনের আমলের চেয়ে বেশি প্রিয়।”
সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, “আল্লাহর পথে জিহাদও নয়?”
তিনি বললেন: “জিহাদও নয়, তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া যে জীবন ও সম্পদ নিয়ে বের হয়ে আর কিছু নিয়েই ফিরে আসেনি।”
সহিহ আল-বুখারি, হাদিস নং ৯৬৯
সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং ২৪৩৮
# আল্লাহ এই ১০ দিনের কসম করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“শপথ ফজরের, এবং দশ রাতের।”
সূরা আল-ফজর: ১-২
অনেক মুফাসসিরের মতে এখানে “দশ রাত” বলতে জিলহজের প্রথম ১০ দিন বোঝানো হয়েছে।
# আরাফার দিনের রোজার ফজিলত
রাসূল (সা.) বলেছেন:
“আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, এটি আগের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়।”
রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৬২ (এটি হজে না থাকা মুসলমানদের জন্য প্রযোজ্য)
কুরবানির গুরুত্ব:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“আদম সন্তানের কোনো আমল কুরবানির দিনের রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় নয়।”
রেফারেন্স: জামে তিরমিজি, হাদিস নং ১৪৯৩।
(হাদিসটি হাসান হিসেবে গ্রহণযোগ্য)
# তাকবির পাঠের আমল:
সাহাবায়ে কেরাম জিলহজের প্রথম ১০ দিনে বেশি বেশি তাকবির পাঠ করতেন।
রেফারেন্স: সহিহ আল-বুখারি (তালিক আকারে উল্লেখিত)
তাকবির: “Allahu Akbar, Allahu Akbar, La ilaha illallahu Wallahu Akbar, Allahu Akbar wa lillahil hamd.”
বাংলা:
“আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।”
# নখ ও চুল না কাটার নির্দেশ।
রাসূল (সা.) বলেছেন:
“তোমাদের কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা করলে জিলহজের চাঁদ উঠার পর যেন সে তার চুল ও নখ থেকে কিছু না কাটে, যতক্ষণ না কুরবানি সম্পন্ন করে।”
রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৯৭৭।
এই ১০ দিনে করণীয়:
= বেশি বেশি নামাজ
= নফল রোজা, বিশেষ করে ৯ জিলহজ।
= কুরআন তিলাওয়াত
= তাকবির, তাহলিল, তাহমিদ
= দোয়া ও ইস্তিগফার
= কুরবানি
= দান-সদকা
আল্লাহ আমাদের সবাইকে জিলহজের ফজিলতপূর্ণ দিনগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।