কণ্ঠকানন

কণ্ঠকানন “কণ্ঠকানন আবৃত্তি সংসদ”
শ্রীপুরের প্রথম ও এক মাত্র আবৃত্তি সংগঠন
শ্রীপুর,মাগুরা

17/08/2026

যদি রাজদণ্ড দাও
------ অসীম সাহা।

যদি রাজদণ্ড দাও-আমি মাথা পেতে নেবো।

ক্ষমার অযোগ্য যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে,
আর সেই ভুলের জন্যে যদি বদলে যায় ভৌগোলিক সীমা,
যদি আত্মজের নিক্ষিপ্ত তির শূন্যতায় উড়ে গিয়ে শক্তিশেল হয়ে বেঁধে তোমার শরীরে-
তুমি তবে কোন্ দণ্ড দেবে?
যদি রাজদণ্ড দাও-আমি মাথা পেতে নেবো।

পিতা, একদিন তুমি ছিলে স্বপ্নের ভেতরে,
তোমার স্বপ্নের মধ্যে আমি খুঁজে পেয়েছিলাম
আমার অখণ্ড নীলাকাশ;
কিন্তু তুমি তো জানো পিতা, স্বচ্ছ সুন্দর সেই নীলাকাশকে ঢেকে দেয়
যে শ্রাবণের ঘন কালো মেঘ
আর তার পেছনে লুকিয়ে থাকে যে বজ্রের হুংকার
উদ্ধত আক্রোশে গর্জে উঠে পৃথিবীকে ভস্মীভূত করে,
আমি সেই গর্জনের অগ্নি থেকে জেগে ওঠা বিভ্রান্ত বালক কিছুতেই বুঝতে পারিনি
আমি তোমাকে আঘাত করে
আমারই অস্তিত্বের মূলে আঘাত করেছি।

তার জন্যে আমাকে এখন যে শাস্তি দেবে দাও-
আমি মাথা পেতে নেবো।
যদি রাজদণ্ড দাও-যদি নির্বাসন দিয়ে দাও
আফ্রিকার দুর্গম গহন অরণ্যে
আমি মেনে নেবো, এ-আমার আত্মঘাতী বিনাশের যোগ্য পুরস্কার।
পিতা, যদি জানতাম, আমারই ভুলের জন্যে
এতো রক্ত, এতো ক্লেদ জমা হবে পিতৃভূমিতে,
যদি জানতাম, নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে তোমারই বুকের রক্তে রঞ্জিত হয়ে যাবে মানচিত্র আমার,
যদি জানতাম, মধ্যরাতে তোমারই ছায়ারা
এসে তোমাকেই বধ করবে নির্মম দু’হাতে;
যদি জানতাম, তোমার নিথর দেহ রক্তাপ্লুত পড়ে থাকবে
উপবাসী সিঁড়ির ওপরে;

যদি জানতাম, তোমার বক্ষ থেকে সিঁড়ি বেয়ে
নেমে যাবে সাত কোটি রক্তের ধারা-
তা হলে এই হাতের প্রতিটি আঙুল দিয়ে
আমি শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাখতাম আমার উদ্ভ্রান্ত আত্মাকে,
আমি আমার চোখে বিঁধিয়ে দিতাম
অভ্রভেদী শিমুলের কাঁটা।
আমার বক্ষবিদীর্ণ আর্তচিৎকারে যদি তোমার ঘুম ভাঙতো তুমি দেখতে পেতে,
করজোড়ে তোমারই পায়ের কাছে
পড়ে আছে নতজানু তোমার সন্তান।
তুমি কী করে তাকে ক্ষমাহীন দুই হাতে ফেরাতে তখনি?

আমি জানি, পাহাড়ের অন্তরালে বয়ে যাওয়া
স্বচ্ছতর ঝর্নাধারার মতো
তোমার হৃদয় ছিলো শান্ত স্নিগ্ধ নদী,
তোমার হৃদয় ছিলো বাউলের একতারা, ক্লান্ত ভাটিয়ালি।

পিতা, তুমি কি জানতে, তোমার হৃদয় থেকে উৎসারিত
এই জল একদিন সবকিছু ভুলে গিয়ে
তোমাকেই উগড়ে দেবে বঙ্গোপসাগরে?
তুমিহীন এই মাটি আর্তনাদ করে উঠবে
মধুমতি নদীটির তীরে?
যদি জানতে, যদি তুমি জানতে
পিতৃত্বের এই দায় তোমাকেই একদিন রক্তমূল্যে শোধ দিতে হবে;
তখনো কি তুমি এই স্বদেশের মাটি ফুঁড়ে জেগে উঠে
পরাধীন মানুষের মুক্তিমন্ত্র হতে? Parenting

পিতা, এইখানে তুমি আজ নেই-তোমার ছায়ারা পড়ে আছে।
খুব ভোরে আকাশ বিদীর্ণ করে যে রক্তিম সূর্য ওঠে পুবের আকাশে
সবুজ প্রকৃতির মধ্যে তার গাঢ় রং মিশে গিয়ে
যে আশ্চর্য আভা ছড়িয়ে যায় দিগন্তে-দিগন্তে,
তার মধ্যে তোমাকে আমি দেখতে পাই।
আমার প্রতিমুহূর্তের নিশ্বাসের মধ্যে
তুমি চিরকালের বাতাস হয়ে ঢুকে যাও।

আমার সবটুকু অস্তিত্বের মধ্যে তোমার মৃত্যুহীন উপস্থিতি আমাকেই তুমি করে তোলে:
তার মানে তুমি ছাড়া আমার কোনো অস্তিত্বই নেই।
তবু তোমার উপস্থিতিহীন অস্তিত্বের ভয়ে শঙ্কিত
একদল শিকারি তোমার ছায়ার ওপরে অন্ধকারের প্রলেপ লাগিয়ে দিতে চায়;
একদিন তুমি যাদেরকে হৃদয়ের উষ্ণ আলিঙ্গনে বেঁধে নিয়েছিলে,
তারাই তোমার অস্তিত্বের অহংকারের ওপরে
লেপ্টে দিতে চায় পনেরোর কালো অন্ধকার
তুমিহীন তোমার অস্তিত্ব এসে ভর করে বঙ্গভূমিতে!

মানুষই তো ভুল করে পিতা
আমার এই দেহখানি সে-ভুলেরই দাস।
যদি পারো ক্ষমা কোরো অধম সন্তানে।

আর যারা তোমারই রক্তের দামে কেনা এই স্বদেশের
মাটিকেই বদলে দিতে চায়,
লাল ও সবুজের মানচিত্রে আঁকতে চায় কলঙ্কতিলক,
তোমার ক্ষমার হাত একদিন যদি ঐ জলে-স্থলে অন্তরিক্ষে ছুটে চলে যায়
সেইদিন আমাকেও নির্বাসন দিও-
এ-পৃথিবী পার করে ফেলে দিও অন্য কোনো গহন অরণ্যে।
যদি রাজদণ্ড দাও-যদি ফাঁসিকাষ্ঠে স্তব্ধ হয় এ-দেহ আমার সব আমি মাথা পেতে নেবো;
শুধু আমি কিছুতেই মানবো না
আমার বুকের ‘পরে চেপে থাকা আগস্টের সম্মিলিত ঘাতক আঁধার।

17/03/2026

বঙ্গবন্ধু
---অন্নদাশঙ্কর রায়

যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা
গৌরী যমুনা বহমান,
ততদিন রবে কীর্তি তোমার
শেখ মুজিবুর রহমান।

দিকে দিকে আজ অশ্রু গঙ্গা
রক্তগঙ্গা বহমান,
নাই নাই ভয় হবে হবে জয়
জয় মুজিবুর রহমান।

11/03/2026

যদি বাসোই
--- তসলিমা নাসরিন

তুমি যদি ভালোই বাসো আমাকে,
ভালোই যদি বাসো,
তবে বলছো না কেন যে ভালো বাসো!
কেন সব্বাইকে জানিয়ে দিচ্ছ না যে ভালোবাসো!
আমার কানের কাছেই যত তোমার দুঃসাহস!
যদি ভালোবাসো, ওই জুঁইফুলটি কেন জানে না
যে ভালোবাসো!
ফুলটির দিকে এত যে চেয়ে রইলাম, আমাকে
একবারও তো বললো না যে ভালোবাসো!
এ কীরকম ভালোবাসা গো!
কেবল আমার সামনেই নাচো!
এরকম তো দুয়োর বন্ধ করে চুপি চুপি
তুমি যে কারও সামনেই নাচতে পারো।
আমি আর বিশ্বাস করছি না, যতই বলো।

আগে আমাকে পাখিরা বলুক,
গাছেরা গাছের পাতারা ফুলেরা বলুক,
আকাশ বলুক, মেঘ বৃষ্টি বলুক, রোদ বলুক
চাঁদের আলো বলুক, নক্ষত্ররা বলুক,
পাড়া পড়শি বলুক, হাট বাজারের লোক বলুক, পুকুরঘাট বলুক, পুকুরের জল বলুক যে
তুমি ভালোবাসো আমাকে!
শুনতে শুনতে যখন আর তিষ্ঠোতে না পারবো
তখন তোমাকে ওই চৌরাস্তায় তুলে একশ
লোককে দেখিয়ে চুমু খাবো, যা হয় হবে।

ভালোবাসা কি গোপন করার জিনিস!
দেখিয়ে দেখিয়েই তো
শুনিয়ে শুনিয়েই তো ভালোবাসতে হয়।
ভালোবাসা নিয়ে আমরা জাঁকালো উৎসব করবো,
ধেই ধেই নাচবো, নাচাবো
সুখবর বুঝি আমরা চারদিকে
ঢোল বাজিয়ে জানিয়ে দিই না!
জুইঁফুলটি যেদিন বলবে যে তুমি আমাকে
ভালোবাসো, সেদিনই কিন্তু তোমাকে বলবো যে
তোমাকেও বাসি, তার আগে একটুও নয়।

01/03/2026

তোমার কথাই শুধু
--- শক্তি চট্টোপাধ্যায়

তোমার কথাই শুধু ঘুরে ফিরে আসে এই মুখে
এখনো কি তোমার চিবুকে
আছে সেই তিল
সেকালে পোশাকে ঝিলমিল
তুমি যেতে গোলাপবাগানে
কথা হতো সবই কানে কানে
এখন সকলি এলোমেলো
দোতলার করিডোরে শ্বাসরুদ্ধ কে যে করে বেলো !

মাঝে মাঝে সহসা হাতছানি
যে ডাকে অস্পষ্টভাবে, তাকে আমি স্পষ্টভাবে জানি।
যাবো নাকি?
দুই পা বাড়ালে পাবো তোমাদের প্রতিভাত ফাঁকি কাগজের ফুল গেঁথে আশা করা পরাধীন টবে
সে কি সহ্য হবে
কাগজের ফুল গেঁথে আশা করা পরাধীন টবে
স্বভাবজ বন
বরং স্টেশন থেকে ফিরে এসো তুমিও এখন
কী পাবে বিদেশে—রাজধানী ?
তুমি যত জেনেছিলে, আমি তাকে স্পষ্ট করে জানি।
আমাদের মাঝে ছিলো সেতু
তুমি পার হওনি যেহেতু
চেয়েছিলে নাকি
যোগাযোগহারা থাক হৃদয়ের অসংখ্য জোনাকি ?
তুমি বোঝো সব
তোমার প্রতিই আছে আমার বিখ্যাত অনুভব
আজো আমি জানি
রাজত্ব তেমন নয়, যেমন বিখ্যাত রাজধানী !

28/02/2026

অহংকার
---- হেলাল হাফিজ

বুকের সীমান্ত বন্ধ তুমিই করেছো
খুলে রেখেছিলাম অর্গল,
আমার যুগল চোখে ছিলো মানবিক খেলা
তুমি শুধু দেখেছো অনল।

তুমি এসেছিলে কাছে, দূরেও গিয়েছো যেচে
ফ্রিজ শটে স্থির হয়ে আছি,
তুমি দিয়েছিলে কথা, অপারগতার ব্যথা
সব কিছু বুকে নিয়ে বাঁচি।

উথাল পাথাল করে সব কিছু ছুঁয়ে যাই
কোনো কিছু ছোঁয় না আমাকে,
তোলপাড় নিজে তুলে নিদারুণ খেলাচ্ছলে
দিয়ে যাই বিজয় তোমাকে।

28/02/2026

আকাশ দেখার অধিকার।
--------সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

এক ফোঁটা অন্ধকার দিয়ে তুমি কপালে একটা টিপ পরে নিলে
আজকাল তো কালো টিপ আর চালু নেই
কেন না কালো লিপস্টিক হয় না বোধহয়
দুই বাহুমূলে লাগিয়ে নিলে ধূপের ধোঁওয়া
এখন ধূপ তো ঠাকুর ঘরের বাইরে আর দেখি না
ঠাকুর ঘরগুলোও মিলিয়ে যাচ্ছে রান্নাঘরের সঙ্গে
রাস্তায় কাঁচুমাচু ছেলেরা ধূপ বিক্রি করতে এসে ভিখিরি হয়ে যায়
এক আঁজলা বৃষ্টির জলে কুলকুচো করে নিলে তুমি
বৃষ্টির জলে কত পলিউশান তোমার মনে পড়ল না
খোঁপায় গুঁজে নিলে গুঞ্জাফুলের মালা
আঁচল খুলে বুকে মেখে নিলে মেঘ ভাঙা জ্যোৎস্না
নাভিতে প্রতিফলিত চাঁদের টুকরো
তম্বুরার মতন দুই নিতম্বে কামিনী ফুলের ঘ্রাণ
যোনিপথে ওঁং ধ্বনি
পায়ের পাতায় রক্ত চন্দনের আভা
আঃ কতগুলো যুগ কেটে গেল, এখনো তোমার যোগ্য হয়ে
উঠতে পারলাম না আমি
আজ আবার এসেছ পরিহাসের অপূর্ব উন্মাদনায়
আমার চোখ ঠেকবে মাটিতে
যেন আমার আকাশ দেখার অধিকার নেই আর নেই!

28/02/2026

তুমি ফিরবে
--- সমরেশ মজুমদার

তুমি ফিরবে কোন একদিন
হয়তো নীলিমায় হারানো কোন এক নিষ্প্রভ
বেলায়।
নতুবা কোন এক নবীন হেমন্তে,
এক নতুন দিনের নির্মল খোলা হাওয়ায়।
অথবা কোন এক শ্রাবণের দিনে
অহরহ ঝরা ঘন কাল মেঘ বৃষ্টির
মুহু মুহু নির্ঝর খেলায়।
তুমি ফিরবে কোন এক রাতে
পূর্ণিমার ভরা জোছনায়।
তুমি ফিরবে জানি বহুদিন পরে
হয়তো বা হাজার বছর পরে।
কোন এক নিঃস্ব হৃদয়ে,
লক্ষ্য প্রাণের ভিড়ে, তুমি ফিরবে।
বহুরুপে সেই প্রাণে, অনেক নবীনের ভিড়ে,
তোমার আমার গড়া ভালবাসার নীড়ে।

27/02/2026

কষ্ট হয়
---- মহাদেব সাহা

তুমি বোঝো না, আমার কষ্ট হয়, আজ তোমার ক্লাস
কাল পরীক্ষা, পরশু গানের স্কুল
এই যে সারাদিন আজ বৃষ্টি, তোমাদের রেনিডে হয় না, তোমার গানের মাস্টারের সর্দিজ্বর হয় না কখনো,
কী আশ্চর্য, একদিনও পরীক্ষা বাতিল হয় না তোমাদের?
সবকিছুর জন্য সময় হয়, শুধু আমার জন্য বছরের
পর বছর এক মুহূর্ত সময় হয় না. তোমার
পাবলিক লাইব্রেরির মোড়ে, কনকর্ডের সিঁড়িতে,
শিল্পকলার বারান্দায়
এক মিনিটও দাঁড়াতে পারো না তুমি,
যখনই দেখি তুমি শুধু দৌড়াচ্ছো, নদীর স্রোতও কখনো
কখনো থেমে থাকে
তোমার ছোটা থামে না,
আজ পরীক্ষা, কাল নোট করা, পরের দিন লাইব্রেরি,
তার পর দিন বাড়িতে অতিথি
তুমি এতো কাজ নিয়ে ব্যস্ত, এই অবুঝ গোলাপ ফুলটা
সে কথা বুঝলো না,
বলো এই গোলাপ ফুলটিকে আমি কী বলি?
ছয় মাসে যখনই তোমাকে কফি হাউসের দিকে
একবার আসতে বলি
তুমি মাথা দুলিয়ে বলো, কাল পরীক্ষা,
আজ একটু পরেই বাইরে থেকে ফোনে
একটা জরুরি কল আসবে
কবে তোমার এইসব নোট, টিউটোরিয়াল, মোবাইল বোটানিকাল গার্ডেনের ঝোপের মধ্যে ফেলে দেবে?
তুমি বোঝো না, হাতের এই গোলাপ ফুলটির দিকে
তাকিয়ে আমার কী কষ্ট হয়'।

26/02/2026

তাহারেই পড়ে মনে
-----সুফিয়া কামাল

“হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়,
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”
কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-
“দখিন দুয়ার গেছে খুলি?
বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?
দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?”
“এখনো দেখনি তুমি?” কহিলাম “কেন কবি আজ
এমন উন্মনা তুমি? কোথা তব নব পুষ্পসাজ?”
কহিল সে সুদূরে চাহিয়া-
“অলখের পাথার বাহিয়া
তরী তার এসেছে কি? বেজেছে কি আগমনী গান?
ডেকেছে কি সে আমারে? -শুনি নাই,রাখিনি সন্ধান।”

কহিলাম “ওগো কবি, রচিয়া লহ না আজও গীতি,
বসন্ত-বন্দনা তব কণ্ঠে শুনি-এ মোর মিনতি।”
কহিল সে মৃদু মধুস্বরে-
“নাই হ’ল, না হোক এবারে-
আমার গাহিতে গান! বসন্তরে আনিতে ধরিয়া-
রহেনি,সে ভুলেনি তো, এসেছে তো ফাল্গুন স্মরিয়া।”

কহিলাম “ওগো কবি, অভিমান করেছ কি তাই?
যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই।”
কহিল সে পরম হেলায়-
“বৃথা কেন? ফাগুন বেলায়
ফুল কি ফোটে নি শাখে? পুষ্পারতি লভে নি কি ঋতুর রাজন?
মাধবী কুঁড়ির বুকে গন্ধ নাহি? করে নি সে অর্ঘ্য বিরচন?”

“হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?”
কহিলাম “উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?”
কহিল সে কাছে সরি আসি-
“কুহেলী উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী-
গিয়াছে চলিয়া ধীরে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে
রিক্ত হস্তে। তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোন মতে।”

26/02/2026

ভালোবাসার সংজ্ঞা
----- রফিক আজাদ

ভালোবাসা মানে দুজনের পাগলামি,
পরস্পরকে হৃদয়ের কাছে টানা;

ভালোবাসা মানে জীবনের ঝুঁকি নেয়া,
বিরহ-বালুতে খালিপায়ে হাঁটাহাঁটি;

ভালোবাসা মানে একে অপরের প্রতি
খুব করে ঝুঁকে থাকা;

ভালোবাসা মানে ব্যাপক বৃষ্টি, বৃষ্টির একটানা
ভিতরে-বাহিরে দুজনের হেঁটে যাওয়া;

ভালোবাসা মানে ঠাণ্ডা কফির পেয়ালা সামনে
অবিরল কথা বলা;

ভালোবাসা মানে শেষ হয়ে-যাওয়া কথার পরেও
মুখোমুখি বসে থাকা।

Address

Sreepur
Magura

Telephone

01521105632

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when কণ্ঠকানন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to কণ্ঠকানন:

Shortcuts

Share