14/03/2026
পৃথিবীর মতো চাঁদের ঘন বায়ুমণ্ডল নেই। তাই মহাকাশ থেকে আসা বস্তুগুলোকে তার পৃষ্ঠে পৌঁছানোর আগে থামানোর মতো কোনো প্রাকৃতিক ঢালও নেই।
পৃথিবীতে যখন উল্কাখণ্ড (Meteoroids) বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন বাতাসের সাথে ঘর্ষণের কারণে সেগুলো সাধারণত পুড়ে যায়। এজন্যই আমরা রাতের আকাশে অনেক সময় উল্কাপাত বা shooting star দেখতে পাই। এই মহাকাশের অনেক পাথরই মাটিতে পৌঁছাতে পারে না।
কিন্তু চাঁদের প্রায় কোনো বায়ুমণ্ডলই নেই। ফলে উল্কাখণ্ড বা ছোট গ্রহাণুগুলো সরাসরি চাঁদের পৃষ্ঠের দিকে এগিয়ে যেতে পারে এবং পুড়ে যায় না। এগুলো চাঁদের গায়ে আঘাত করলে ধুলো ও পাথর চারদিকে ছিটকে পড়ে এবং তৈরি হয় বড় বড় গর্ত বা ক্রেটার।
কোটি কোটি বছর ধরে এমন হাজার হাজার আঘাত চাঁদের পৃষ্ঠকে বদলে দিয়েছে। এর ফলেই চাঁদের গায়ে অসংখ্য ক্রেটার তৈরি হয়েছে, যেগুলো আমরা পৃথিবী থেকেও টেলিস্কোপ দিয়ে দেখতে পাই।
আরেকটি কারণ হলো—চাঁদে বাতাস, বৃষ্টি বা পানি নেই, যা এসব গর্ত মুছে ফেলতে পারে। তাই এই আঘাতের চিহ্নগুলো লক্ষ লক্ষ এমনকি কোটি কোটি বছর ধরে অক্ষত থেকে যায়।
এই কারণেই চাঁদকে আমাদের সৌরজগতের মহাকাশ সংঘর্ষের একটি প্রাকৃতিক ইতিহাসের রেকর্ড বলা যায়।