Nokkhotro - নক্ষত্র

Nokkhotro - নক্ষত্র আমরা বলি তারার গল্প, সময়ের গল্প, মহাবিশ্বের গল্প!
জানার আলোয় আলোকিত হও — নক্ষত্রের সাথে!

'Nokkhotro' is one of the signature content platforms under the Knowledge Enhancement Programme of Youthpreneur Network fully based on astronomy & space science in Bangla.

14/03/2026

পৃথিবীর মতো চাঁদের ঘন বায়ুমণ্ডল নেই। তাই মহাকাশ থেকে আসা বস্তুগুলোকে তার পৃষ্ঠে পৌঁছানোর আগে থামানোর মতো কোনো প্রাকৃতিক ঢালও নেই।

পৃথিবীতে যখন উল্কাখণ্ড (Meteoroids) বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন বাতাসের সাথে ঘর্ষণের কারণে সেগুলো সাধারণত পুড়ে যায়। এজন্যই আমরা রাতের আকাশে অনেক সময় উল্কাপাত বা shooting star দেখতে পাই। এই মহাকাশের অনেক পাথরই মাটিতে পৌঁছাতে পারে না।

কিন্তু চাঁদের প্রায় কোনো বায়ুমণ্ডলই নেই। ফলে উল্কাখণ্ড বা ছোট গ্রহাণুগুলো সরাসরি চাঁদের পৃষ্ঠের দিকে এগিয়ে যেতে পারে এবং পুড়ে যায় না। এগুলো চাঁদের গায়ে আঘাত করলে ধুলো ও পাথর চারদিকে ছিটকে পড়ে এবং তৈরি হয় বড় বড় গর্ত বা ক্রেটার।

কোটি কোটি বছর ধরে এমন হাজার হাজার আঘাত চাঁদের পৃষ্ঠকে বদলে দিয়েছে। এর ফলেই চাঁদের গায়ে অসংখ্য ক্রেটার তৈরি হয়েছে, যেগুলো আমরা পৃথিবী থেকেও টেলিস্কোপ দিয়ে দেখতে পাই।

আরেকটি কারণ হলো—চাঁদে বাতাস, বৃষ্টি বা পানি নেই, যা এসব গর্ত মুছে ফেলতে পারে। তাই এই আঘাতের চিহ্নগুলো লক্ষ লক্ষ এমনকি কোটি কোটি বছর ধরে অক্ষত থেকে যায়।

এই কারণেই চাঁদকে আমাদের সৌরজগতের মহাকাশ সংঘর্ষের একটি প্রাকৃতিক ইতিহাসের রেকর্ড বলা যায়।

পৃথিবী নাকি নতুন চাঁদ পেয়েছে! রাতে আকাশের দিকে তাকালে আমরা একটি চাঁদই দেখি। কিন্তু পৃথিবীর প্রাকৃতিক চাঁদের সঙ্গে আরও এক...
27/10/2025

পৃথিবী নাকি নতুন চাঁদ পেয়েছে!

রাতে আকাশের দিকে তাকালে আমরা একটি চাঁদই দেখি। কিন্তু পৃথিবীর প্রাকৃতিক চাঁদের সঙ্গে আরও একটি চাঁদ যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ‘২০২৫ পিএন৭’ নামের নতুন চাঁদটি মূলত ১৯ মিটার ব্যাসের একটি ছোট গ্রহাণু। আকারে ছোট হলেও গ্রহাণুটি ২০৮৩ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর কক্ষপথের কাছাকাছি অবস্থান করবে। আর তাই বিজ্ঞানীরা গ্রহাণুটিকে কোয়াসি-মুন বা আংশিক চাঁদ বলছেন।

এবারের আকাশে আসছে এক মহাজাগতিক সৌন্দর্য!📅 অক্টোবর ৭, দেখা যাবে বছরের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও নিকটবর্তী পূর্ণচাঁদ — 𝗛𝗮𝗿𝘃𝗲𝘀𝘁 𝗦𝘂𝗽𝗲...
06/10/2025

এবারের আকাশে আসছে এক মহাজাগতিক সৌন্দর্য!
📅 অক্টোবর ৭, দেখা যাবে বছরের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও নিকটবর্তী পূর্ণচাঁদ — 𝗛𝗮𝗿𝘃𝗲𝘀𝘁 𝗦𝘂𝗽𝗲𝗿𝗺𝗼𝗼𝗻 2025!

এই রাতে চাঁদটি সাধারণের চেয়ে প্রায় ১৪% বড় এবং ৩০% বেশি উজ্জ্বল দেখাবে।
এমন দৃশ্য খুব ঘন ঘন দেখা যায় না — তাই চোখ রাখুন পশ্চিম আকাশে সূর্যাস্তের পরপরই।

বাংলাদেশের যেকোনো স্থান থেকেই দেখা যাবে এই অপূর্ব দৃশ্য, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে!

ক্যামেরা বা দূরবীন নিয়ে তৈরি থাকুন — কারণ এই রাতটা হতে পারে আপনার জীবনের অন্যতম জোছনাময় স্মৃতি।


#নক্ষত্র

আপনার নাম যাচ্ছে চাঁদে!ভাবুন তো—চাঁদকে ঘিরে ঘুরছে নাসার মহাকাশযান Orion ।  জানেন ভেতরে কী আছে? শুধু স্যাটেলাইট নয়, আপনার...
29/09/2025

আপনার নাম যাচ্ছে চাঁদে!

ভাবুন তো—চাঁদকে ঘিরে ঘুরছে নাসার মহাকাশযান Orion । জানেন ভেতরে কী আছে? শুধু স্যাটেলাইট নয়, আপনার নামও থাকতে পারে!

🔗 রেজিস্ট্রেশন করুন এখানে: https://www3.nasa.gov/send-your-name-with-artemis/

মাত্র কয়েক সেকেন্ডের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন, কোনো খরচ নেই—আর তাতেই পেরিয়ে যাবেন ইতিহাসে।
অন্যরা গ্যালারিতে বসে দেখবে, আর আপনার নাম ভেসে বেড়াবে মহাশূন্যে!

শেষ তারিখ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬
উৎক্ষেপণ (প্রত্যাশিত): এপ্রিল ২০২৬

আসুন, এবার একসাথে বলি—
“চাঁদে আমার নাম, এ আমার গৌরব!”

তাহলে, আর অপেক্ষা কেন? আজই রেজিস্ট্রেশন করুন আর নিজের নামকে পাঠিয়ে দিন নক্ষত্রলোকে যাত্রার সঙ্গী বানাতে।





#নক্ষত্র

🌕 পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ২০২৫ : আজ রাতেই আকাশে বিরল দৃশ্যআজ ৭ সেপ্টেম্বর রাত থেকে বাংলাদেশসহ এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা ও অস্...
07/09/2025

🌕 পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ২০২৫ : আজ রাতেই আকাশে বিরল দৃশ্য

আজ ৭ সেপ্টেম্বর রাত থেকে বাংলাদেশসহ এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া জুড়ে দৃশ্যমান হবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। দীর্ঘ ৮২ মিনিট স্থায়ী এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ জ্যোতির্বিদ্যা প্রেমীদের জন্য এক মহামূল্যবান সুযোগ। আকাশ পরিষ্কার থাকলে সারা দেশের মানুষ এই দুর্লভ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। এভাবে সুস্পষ্ট পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ বাংলাদেশ থেকে পরবর্তীবার দেখা যাবে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর।

🔹 বাংলাদেশে সময়সূচী:

চন্দ্রগ্রহণ শুরু: রাত ৯:২৮

আংশিকগ্রাস শুরু: রাত ১০:২৭

পূর্ণগ্রাস শুরু: রাত ১১:৩০

সর্বোচ্চ পূর্ণগ্রাস: রাত ১২:১১

পূর্ণগ্রাস সমাপ্তি: রাত ১২:৫২

আংশিকগ্রাস সমাপ্তি: রাত ১:৫৫

চন্দ্রগ্রহণ সমাপ্তি: রাত ২:৫৫

🔹 বিশ্বের অন্যান্য স্থানে পূর্ণগ্রাস শুরুর সময় (স্থানীয় সময় অনুযায়ী):

পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লি: রাত ১১:০০

কাঠমাণ্ডু: রাত ১১:১৫

ওমান: রাত ৯:৩০

সৌদি আরব, মিশর ও মস্কো: রাত ৮:৩০

লন্ডন: সন্ধ্যা ৭:৩৩ (সর্বোচ্চ পূর্ণগ্রাস)

স্পেন: রাত ৮:৪৬ (সর্বোচ্চ পূর্ণগ্রাস)

মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া: রাত ১:৩০

জাপান: রাত ২:৩০

অস্ট্রেলিয়া: রাত ৩:০০

নিউজিল্যান্ড: ভোর ৫:৩০

উল্লেখ্য, আংশিকগ্রাস পূর্ণগ্রাসের প্রায় এক ঘণ্টা আগে থেকেই শুরু হবে। সুতরাং নির্দিষ্ট এলাকার স্থানীয় সময় অনুযায়ী আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

✨ আশা করি, সবার জন্য আকাশ পরিষ্কার থাকবে এবং আমরা সবাই মিলেই এই মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে পারব।

বৃহস্পতির রেড স্পট: এক অবিশ্বাস্য ঝড়ের রহস্যবৃহস্পতি গ্রহ তার বিশাল আকৃতির জন্য পরিচিত, তবে এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট...
04/02/2025

বৃহস্পতির রেড স্পট: এক অবিশ্বাস্য ঝড়ের রহস্য

বৃহস্পতি গ্রহ তার বিশাল আকৃতির জন্য পরিচিত, তবে এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো গ্রেট রেড স্পট (Great Red Spot)। এটি পৃথিবীর চেয়ে বড় একটি মহাজাগতিক ঝড়, যা শত শত বছর ধরে বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলে সক্রিয় রয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এটি সৌরজগতের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এবং বিশালতর ঝড়গুলোর মধ্যে একটি।

কীভাবে তৈরি হলো এই ঝড়?
গ্রেট রেড স্পট মূলত এক বিশাল উচ্চচাপযুক্ত ঘূর্ণিঝড় (anticyclone), যা বৃহস্পতির ঘন বায়ুমণ্ডলের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতির গ্যাসীয় পৃষ্ঠের নিচে শক্ত মাটির অভাব এবং গ্রহটির দ্রুত ঘূর্ণন এই ঝড়কে দীর্ঘস্থায়ী করেছে। পৃথিবীতে হারিকেন বা টাইফুন কয়েকদিন বা সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যায়, কিন্তু বৃহস্পতির এই ঝড় কমপক্ষে ৩৫০ বছর ধরে টিকে আছে!

ঝড়ের আকৃতি এবং বৈশিষ্ট্য
এই রেড স্পটটির ব্যাস প্রায় ১৬,৩৫০ কিলোমিটার, যা আমাদের পুরো পৃথিবীর চেয়েও বড়। এটি এতই বিশাল যে এর ভেতরে দুই থেকে তিনটি পৃথিবী সহজেই ফিট হয়ে যেতে পারে। ঝড়ের বাতাসের গতি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৪৩০-৬৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা পৃথিবীর যেকোনো হারিকেনের তুলনায় বহুগুণ বেশি শক্তিশালী।

রহস্যময় লাল রঙের কারণ
বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত নন কেন এই ঝড়টি লাল রঙের। একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলে থাকা আমোনিয়া, সালফার, এবং ফসফরাস যৌগ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির (UV rays) প্রভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে এই লালচে রঙ তৈরি করে। তবে এর রঙ সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে দেখা গেছে, যা এটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

ঝড় কি ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে?
বিগত কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা পর্যবেক্ষণ করেছেন যে গ্রেট রেড স্পট ছোট হয়ে আসছে। ১৮০০ সালের দিকে এটি প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটার প্রশস্ত ছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি মাত্র ১৬,০০০ কিলোমিটার। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, এই ঝড় একসময় সম্পূর্ণ মিলিয়ে যেতে পারে। তবে এটি ঠিক কখন এবং কেন শেষ হবে, তা বিজ্ঞানীদের কাছে এখনও অজানা।

ভবিষ্যতে কী হতে পারে?
বৃহস্পতির রেড স্পট তার আকৃতি ও শক্তি পরিবর্তন করলেও এটি এখনও সৌরজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়গুলোর মধ্যে একটি। এটি যদি মিলিয়েও যায়, তবে বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলে নতুন ঝড় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যাবে।

গ্রেট রেড স্পট আমাদের সৌরজগতের গ্যাসীয় দৈত্যদের বায়ুমণ্ডলের গতিবিদ্যা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ জানালা। এটি শুধু একটি মহাজাগতিক ঝড়ই নয়, বরং মহাবিশ্বের বৈচিত্র্য এবং সৌন্দর্যের এক অনন্য নিদর্শন।

অন্য গ্রহে উদ্ভিদের সম্ভাবনা: বিজ্ঞান কী বলে?পৃথিবীর বাইরে কোনো গ্রহে উদ্ভিদের অস্তিত্ব এখনো প্রমাণিত হয়নি। তবে বিজ্ঞান...
06/12/2024

অন্য গ্রহে উদ্ভিদের সম্ভাবনা: বিজ্ঞান কী বলে?

পৃথিবীর বাইরে কোনো গ্রহে উদ্ভিদের অস্তিত্ব এখনো প্রমাণিত হয়নি। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, উদ্ভিদ বা প্রাণের মতো জটিল জীবনের বিকাশের জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হতে হবে। উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য তরল পানি, শক্তির উৎস, এবং একটি স্থিতিশীল পরিবেশ অপরিহার্য। এই শর্তগুলো পূরণ করতে সক্ষম গ্রহ বা উপগ্রহকেই জীবনের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

উদ্ভিদের জন্য তরল পানির উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, মঙ্গল গ্রহ এবং বৃহস্পতির চাঁদ ইউরোপায় বরফের নিচে তরল পানির সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ভিদের আরেকটি প্রয়োজনীয় উপাদান হলো আলো। পৃথিবীর উদ্ভিদগুলো সূর্যের আলো ব্যবহার করে ফটোসিন্থেসিস প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে। তবে পৃথিবীতে পানির নিচে কিছু উদ্ভিদ আলো ছাড়াও বিকশিত হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, অন্য কোনো গ্রহে বিকল্প শক্তির উৎস থাকলে তেমন উদ্ভিদের অস্তিত্ব সম্ভব হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন গ্রহ এবং উপগ্রহের বায়ুমণ্ডল এবং পৃষ্ঠে জীবনের সম্ভাব্য চিহ্ন খুঁজছেন। উদাহরণস্বরূপ, অক্সিজেন, মিথেন, বা ক্লোরোফিলের মতো রাসায়নিক উপাদান উদ্ভিদের উপস্থিতি নির্দেশ করতে পারে। ভবিষ্যতের বিভিন্ন মহাকাশ মিশন, যেমন মঙ্গলে প্রেরিত রোভার এবং বৃহস্পতির চাঁদ ইউরোপা পর্যবেক্ষণ, এই বিষয়ে নতুন তথ্য দিতে পারে।

অন্য গ্রহে উদ্ভিদের সন্ধান এখনো রহস্যের অন্তরালে। তবে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী, একদিন আমরা সৌরজগতে বা অন্য কোনো জায়গায় উদ্ভিদের মতো জীবনের সন্ধান পাব। এটি মহাবিশ্বের প্রতি আমাদের বোঝাপড়াকে এক নতুন দিগন্তে পৌঁছে দেবে।

ইউরোপা: সৌরজগতের লুকানো সমুদ্রের সম্ভাব্য আবাসস্থলবৃহস্পতির চাঁদ ইউরোপা সৌরজগতের অন্যতম রহস্যময় উপগ্রহ। এর পৃষ্ঠ বরফে আ...
04/12/2024

ইউরোপা: সৌরজগতের লুকানো সমুদ্রের সম্ভাব্য আবাসস্থল

বৃহস্পতির চাঁদ ইউরোপা সৌরজগতের অন্যতম রহস্যময় উপগ্রহ। এর পৃষ্ঠ বরফে আবৃত, যা গ্লাসের মতো মসৃণ এবং উজ্জ্বল। বিজ্ঞানীদের মতে, এই বরফের নিচে লুকিয়ে আছে একটি বিশাল তরল পানির সমুদ্র। এই সমুদ্রের গভীরতা পৃথিবীর সমস্ত মহাসাগরের মিলিত গভীরতার চেয়েও বেশি হতে পারে।

ইউরোপার পৃষ্ঠে বরফের স্তর প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার পুরু। এর নিচে একটি তরল সমুদ্র থাকতে পারে, যার গভীরতা ৬০-১৫০ কিলোমিটার। এই তরল সমুদ্রের প্রধান কারণ হলো বৃহস্পতির তীব্র মাধ্যাকর্ষণ শক্তি, যা ইউরোপার ভেতরে জোয়ারের মতো টান সৃষ্টি করে। এই প্রক্রিয়ায় প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, যা বরফের নিচে পানি তরল রাখে।

এই সমুদ্রের পানিতে হাইড্রোথার্মাল ভেন্টস বা রাসায়নিক শক্তির উৎস থাকতে পারে, যা পৃথিবীর গভীর সমুদ্রে মাইক্রোবিয়াল জীবনকে টিকিয়ে রাখার মতো পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। যদিও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না, ইউরোপা প্রাণের সন্ধানের জন্য বিজ্ঞানীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় জায়গা।

নাসার ইউরোপা ক্লিপার মিশন আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ইউরোপায় পাঠানো হবে। এই মিশন ইউরোপার পৃষ্ঠ এবং বরফের নিচের সমুদ্র সম্পর্কে আরও বিশদ তথ্য দেবে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই মিশন আমাদের সৌরজগতে প্রাণের সন্ধানের পথে একটি বড় পদক্ষেপ হবে।

চাঁদে শব্দের অনুপস্থিতি: একটি নিঃশব্দ পৃথিবীর উপগ্রহচাঁদে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। বায়ুমণ্ডল না থাকার অর্থ হলো, শব্দের তরঙ্...
02/12/2024

চাঁদে শব্দের অনুপস্থিতি: একটি নিঃশব্দ পৃথিবীর উপগ্রহ

চাঁদে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। বায়ুমণ্ডল না থাকার অর্থ হলো, শব্দের তরঙ্গগুলো ছড়িয়ে পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় মাধ্যমের অভাব। পৃথিবীতে শব্দ বায়ুর মাধ্যমে ছড়ায়, কিন্তু চাঁদে সেই বায়ু নেই। ফলে, আপনি যদি চাঁদে দাঁড়িয়ে কথা বলেন বা চিৎকার করেন, সেটি শোনা সম্ভব নয়।

এছাড়াও, বায়ুমণ্ডল না থাকার কারণে চাঁদে কোনো বায়ু প্রবাহ, ঝড়, কিংবা আকাশে মেঘ দেখা যায় না। চাঁদের আকাশ সর্বদা কালো থাকে, এমনকি দিনের বেলাতেও। কারণ, আলো বিচ্ছুরিত হওয়ার জন্য কোনো বায়ু কণা নেই।

তবে, চাঁদে শব্দ শোনা একেবারে অসম্ভব নয়। যদি কোনো কম্পন বা ধাক্কা সরাসরি চাঁদের পৃষ্ঠে ঘটে এবং আপনি সেই পৃষ্ঠের সঙ্গে সংযুক্ত থাকেন, তবে সেই কম্পন আপনি অনুভব করতে পারবেন। এটি যান্ত্রিক তরঙ্গের মাধ্যমে সম্ভব হয়, কিন্তু শব্দের মতো বায়ুতে ছড়ানো তরঙ্গ সম্ভব নয়।

ব্ল্যাক হোল মহাবিশ্বের এমন এক বস্তু, যার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এতটাই প্রবল যে, সেখানে কোনো কিছুই—এমনকি আলোও—পালাতে পারে না। ...
30/11/2024

ব্ল্যাক হোল মহাবিশ্বের এমন এক বস্তু, যার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এতটাই প্রবল যে, সেখানে কোনো কিছুই—এমনকি আলোও—পালাতে পারে না। এটি এমন এক অঞ্চল তৈরি করে, যাকে ইভেন্ট হরাইজন বলা হয়। একবার কোনো বস্তু ইভেন্ট হরাইজন অতিক্রম করলে সেটি আর কখনোই বের হতে পারে না। এজন্য ব্ল্যাক হোল সম্পূর্ণ কালো এবং সরাসরি দৃশ্যমান নয়। তবে এর প্রভাব আশেপাশের বস্তু এবং বিকিরণের মাধ্যমে ধরা পড়ে।

ব্ল্যাক হোল সাধারণত বড় তারার সুপারনোভা বিস্ফোরণের পরে তার কেন্দ্রের সংকোচনের মাধ্যমে তৈরি হয়। এটি একটি অতি ক্ষুদ্র এবং অত্যন্ত ঘন বস্তু, যার কেন্দ্রস্থলকে সিঙ্গুলারিটি বলা হয়। এখানে ঘনত্ব অসীম এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এতটাই শক্তিশালী যে, স্থান ও সময় বিকৃত হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, এই কেন্দ্রে পদার্থবিজ্ঞানের প্রচলিত তত্ত্ব আর প্রযোজ্য নয়।

ব্ল্যাক হোল বিভিন্ন আকারের হতে পারে, যেমন স্টেলার ব্ল্যাক হোল, সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল এবং মধ্যম ভরের ব্ল্যাক হোল। সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল সাধারণত গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থাকে। আমাদের মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে 'স্যাজিটারিয়াস এ' নামে একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল রয়েছে।

ব্ল্যাক হোলের মাধ্যাকর্ষণ সময়ের গতিকেও প্রভাবিত করে। ইভেন্ট হরাইজনের কাছাকাছি সময় ধীর গতিতে চলে, যা আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ব্ল্যাক হোল আমাদের মহাবিশ্বের গঠন, উৎপত্তি এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একদিকে ভয়ংকর, অন্যদিকে মহাকাশ বিজ্ঞানের অন্যতম বিস্ময়কর অধ্যায়।

নিউট্রন স্টার: এক চামচে এক বিলিয়ন টনের রহস্যনিউট্রন স্টার হলো মহাবিশ্বের অন্যতম অদ্ভুত এবং চরম ঘন বস্তু। এটি তখন গঠিত হ...
28/11/2024

নিউট্রন স্টার: এক চামচে এক বিলিয়ন টনের রহস্য

নিউট্রন স্টার হলো মহাবিশ্বের অন্যতম অদ্ভুত এবং চরম ঘন বস্তু। এটি তখন গঠিত হয় যখন একটি বিশাল তারার জীবনের শেষ পর্যায়ে সুপারনোভা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এর বাইরের স্তর ছিটকে যায় এবং তার কেন্দ্র সংকুচিত হয়ে পড়ে। এই সংকোচনের ফলে তার ভরের প্রায় সমস্ত অংশ একটি ছোট এবং অত্যন্ত ঘন কেন্দ্রে কেন্দ্রীভূত হয়। নিউট্রন স্টারের এই প্রক্রিয়া পদার্থবিজ্ঞানের সাধারণ নিয়মকেও চ্যালেঞ্জ করে।

নিউট্রন স্টারের ঘনত্ব এতটাই বেশি যে এটি কল্পনারও বাইরে। এটি এত সংকুচিত পদার্থ নিয়ে গঠিত যে তার এক চামচ পরিমাণ বস্তু পৃথিবীতে আনলে তার ওজন হবে প্রায় ১ বিলিয়ন টন, যা প্রায় ১০০ কোটি টনের সমান! তুলনা করলে দেখা যাবে, এটি একসঙ্গে হাজার হাজার মাউন্ট এভারেস্টের সমান ভারী। এমন চরম ঘনত্বের কারণ হলো তার ভরের সম্পূর্ণ অংশ নিউট্রনে রূপান্তরিত হওয়া, যা তারার কেন্দ্রে প্রচণ্ড মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে ঘটে।

নিউট্রন স্টারের ব্যাস সাধারণত ১০ থেকে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে হয়, তবে এত ছোট আকৃতির মধ্যেও এর ভর সূর্যের থেকেও বেশি হতে পারে। এটি মূলত নিউট্রন দিয়ে তৈরি, যা একটি সাধারণ পরমাণুর নিউক্লিয়াসের গঠনের অন্যতম উপাদান। নিউট্রন স্টারের মাধ্যাকর্ষণ বল এত শক্তিশালী যে এটি আশেপাশের স্থান-কালকে (space-time) বাঁকিয়ে দিতে পারে। এর দ্রুত ঘূর্ণনও বিস্ময়কর। কিছু নিউট্রন স্টার প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজারবার ঘূর্ণায়মান হয়। এমন দ্রুত ঘূর্ণায়মান নিউট্রন স্টারগুলোকে পলসার (Pulsar) বলা হয়।

নিউট্রন স্টার শুধু মহাবিশ্বের বিস্ময়কর এক সৃষ্টি নয়, এটি আমাদের পদার্থবিজ্ঞানের মূল ধারণাগুলোকে নতুন করে বোঝার সুযোগ করে দেয়। মহাবিশ্বের এমন একটি ভারী এবং রহস্যময় বস্তু আমাদের মহাজাগতিক জ্ঞানের গভীরতর সীমাকে অন্বেষণ করার জানালা খুলে দেয়।

Address

'Khandaker Bari' House No 297 (1st Floor), Abdul Latif Sarder Lane, Boro Moghbazar
Maghbazar
1217

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nokkhotro - নক্ষত্র posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Nokkhotro - নক্ষত্র:

Shortcuts

Share