মা দিবসআরবি: الجنة تحت أقدام الأمهاتউচ্চারণ: আল জান্নাতু তাহতা আকদামিল উম্মাহাত।বাংলা অনুবাদ: "মায়ের পায়ের নিচেই সন্তানের জান্নাত।"
اَلْمَدْرَسَةُ الدِّيْنِيَّةُ
بیشک اللّٰہ بہترین خالق ہے۔
নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্তম সৃষ্টিকর্তা۔
04/05/2026
বাইবেলের লুক অধ্যায়ে ঈসা আলাইহিস সালামের একটি ঘটনা আছে। এখন পড়লাম। ঘটনাটা মর্মস্পর্শী ও অত্যন্ত শিক্ষণীয়।
একবার ঈসা আলাইহিস সালাম এক শামউন নামের এক ইহুদি আলেমের বাড়িতে নিমন্ত্রণে গেলেন। তিনি শামউনের বাড়িতে দাওয়াতে এসেছেন শুনে অত্যন্ত পাপিষ্ট এক নারী, সে ছুটে আসলো। এরপর সে ঈসা আলাইহিস সালামের পায়ের কাছে বসে অশ্রু দিয়ে তাঁর পা ধুয়ে দিল, চুল দিয়ে তাঁর পা মুছিয়ে দিল, পায়ে চুমু দিল। এরপর বহুমূল্য আতর তাঁর পায়ে ঢেলে দিল। শামাউন ইহুদি এ ঘটনা চুপচাপ দেখছিল। ‘এই মানুষটা নবী হলে তো এই মহিলার দুর্নাম জানার কথা!’ শামউন মনে মনে ভাবলো।
তখন ঈসা আলাইহিস সালাম শামউনের দিকে তাকালেন। বললেন, আচ্ছা। তোমাকে কিছু বলব।’ সে বলল, "হ্যাঁ, শিক্ষক, বলুন।"
তিনি বললেন, এক লোকের কাছে দুজন লোক ঋণী ছিল। একজন পাঁচশ দিনার ঋণী এবং অন্যজন পঞ্চাশ দিনার ঋণী। যখন তারা ঋণ পরিশোধ করতে পারল না, তখন ঋণদাতা তাদের ঋণ মাফ করে দিল। তুমি কী মনে করো, কোন ব্যক্তি ঋণদাতার প্রতি বেশি কৃতজ্ঞ হবে এবং তাকে ভালোবাসবে?" শামউন বলল, ‘আমি মনে করি যে ব্যক্তি বেশি ঋণী ছিল, সে ঋণদাতার প্রতি বেশি কৃতজ্ঞ এবং বেশি ভালোবাসবে।"
ঈসা আলাইহিস সালাম বললেন, "হ্যাঁ, তুমি ঠিক বলেছ।"
এরপর তিনি মহিলার দিকে তাকিয়ে শামউনকে বললেন, "তুমি দেখেছ কি, এই মহিলাটি কী করেছে? আমি তোমার বাড়িতে অতিথি হিসেবে এসেছি, কিন্তু তুমি আমাকে আমার পা ধোয়ার জন্য পানিও দিলে না। কিন্তু এই মহিলাটি তার অশ্রু দিয়ে আমার পা ধুয়ে এবং তার চুল দিয়ে মুছে দিয়েছে। তুমি আমাকে একটা চুম্বনও দিতে পারোনি, কিন্তু সে আমার পায়ে বারবার চুম্বন করেছে। তুমি সম্মান জানিয়ে আমার মাথায় তেল মাখাওনি , কিন্তু সে আমার পায়ে মূল্যবান তেল মেখেছে। তাই আমি তোমাকে জানাই, তার অনেক পাপ মাফ করা হয়েছে, এবং তার ভালোবাসা প্রমাণিত হয়েছে। যে কম মাফ পায়, সে কম ভালোবাসে।"
এরপর ঈসা আলাইহিস সালাম সেই নারীকে ক্ষমালাভের সুসংবাদ দিলেন। সম্ভবত তাঁর নাম ছিল মেরি মাগদালেন।
শায়খ হাবিব উমর বিন হাফিজ বলেছেন, যদি কোনো পাপীকে দেখো, তাকে বিদ্রুপ করো না। উদ্ধত মানুষদের চেয়ে একজন পাপী আল্লাহর বেশি নিকটবর্তী।
একথার বাস্তবতা মারাত্মক। অনেকে ইবাদত-বন্দেগী করে আত্মগর্বে ভোগে কিন্তু বুঝতে পারে না। যেমন একজন বেনামাজীকে দেখলেই তার মনে হয়, এটা আমার চেয়ে কত্ত খারাপ। বেনামাজীর অহঙ্কার করার কিছু নেই, কিন্তু এই নামাজী অহঙ্কারে ফেরাউন হয়ে বসে আছে। একজন সুফি বলেছিলেন, আমি কোনো কোনো লোককে দেখি টাখনুর উপরে কাপড় পড়ে, কিন্তু মনে ফেরাউনের অহঙ্কার।
পাপজনিত হীনম্মন্যতা, নিজেকে পাপী হিসেবে বিবেচনা করা নিজেকে অন্যদের তুলনায় শ্রেষ্ঠ বিবেচনা করা থেকে বহুগুণে উত্তম। কারণ আত্মগর্ব আমাদেরকে দাসত্বের সীমারেখা থেকে ছুঁড়ে ফেলে ফেরাউন ও নিমরোদে পরিণত করতে পারে।
বান্দাদের নিয়ে আল্লাহ তায়ালা গায়রাহ বা আত্মসমর্যাদা অনুভব করেন। পাপী বান্দাদের নিয়েও করেন। একবার একজন বুযুর্গর সামনে নিয়ে তার এক বদকার প্রতিবেশীর লাশ যাচ্ছিলো। তিনি উঠে দাঁড়ালেন না। মনে মনে ভাবলেন একটা আপদ গেছে। সেরাতে ঐ লোককে তিনি স্বপ্নে দেখলেন অত্যন্ত চমৎকার অবস্থায়। লোকটি বলল, আপনার জন্যই আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আসলে আমি যখন মারা গেলাম, জাহান্নামী ছিলাম, যখন গোসল করানো হলো, তখনও জাহান্নামী ছিলাম। কিন্তু যখন আমার লাশ আপনার সামনে দিয়ে গেলো আর আপনি দাঁড়ালেন না, তখন [আমাকে আপনি তাচ্ছিল্য করেছেন বলে] আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
আবু উসমান আল গাসসাল বলেছেন, একবার আামি একটা লাশ গোসল দিতে গেলাম। শুনলাম সেটা আগুন আগুন বলছে। ভয় পেয়ে বাইরে এসে সবাইকে এ ঘটনা বলে দিলাম। এরপর সবাই যখন আসলো, শুনলো লাশটি বলছে নিয়ামত.... নিয়ামত। সেরাতে ঐ লোকটিকে স্বপ্নে দেখলাম। সে বলল, আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। কারণ তুমি সবার কাছে আমার দুরবস্থার কথা বলে দিয়ে আমাকে লাঞ্ছিত করেছিলে। আল্লাহ জানিয়েছেন, আমাকে দুবার তিনি লাঞ্ছিত করবেন না। এজন্য ক্ষমা করে দিয়েছেন।
এমন ঘটনা অনেক আছে। আল্লাহর রহমতের শেষ নেই। অপরকে তাচ্ছিল্য করে নিজের কপাল পোড়ানোর তাই মানেই হয় না। আবু নওয়াস- যার পাপের ফিরিস্তি লিখতে গেলে ফজর হয়ে যাবে- এমন মানুষ ইন্তিকালের আগে যে তাওবা করেছেন, যেভাবে কাকুতিমিনতি করেছেন; সত্যিই বিস্ময়কর। নিতান্ত পাপীর হৃদয়ও তাঁর শেষ মরণ-সংগীত শুনলে কেঁপে উঠবে। তিনি লিখেছিলেন,
يَا رَبِّ إِنْ عَظُمَتْ ذُنُوبِي كَثْرَةً فَلَقَدْ عَلِمْتُ بِأَنَّ عَفْوَكَ أَعْظَمُ
إِنْ كَانَ لَا يَرْجُوكَ إِلَّا مُحْسِنٌ فَمَنِ الَّذِي يَدْعُو وَيَرْجُو الْمُجْرِمُ
أَدْعُوكَ رَبِّ كَمَا أَمَرْتَ تَضَرُّعًا فَإِذَا رَدَدْتَ يَدِي فَمَنْ ذَا يَرْحَمُ
مَا لِي إِلَيْكَ وَسِيلَةٌ إِلَّا الرَّجَا وَجَمِيلُ عَفْوِكَ ثُمَّ أَنَّي مُسْلِمُ
‘প্রভূ হে! পাপ হয়েছে খুব বেশি। যদিও জানি-
তোমার ক্ষমা আরও মহান।
যদি শুধু ভালো মানুষই প্রত্যাশা করে তোমাকে-
পাপী তবে কার আশা করবে, কার কাছে করবে প্রার্থনা?
প্রভূ! তোমাকে ডাকছি মিনতিভরে যেভাবে বলেছো ডাকতে;
হাতটি যদি ফিরিয়ে দেও, তবে আর কে দয়া করবে আমাকে?
তোমার কাছে আমার অসীলা শুধু-
প্রত্যাশা, অসীম ক্ষমা আর আমার ইসলাম।’
বি.দ্র. আগের বছরের লেখা। আজ একজন আলেমের ব্কতব্য দেখলাম- বারবার সবাইকে লানত দিচ্ছেন। আল্লাহ তায়ালা মহান ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়। নিজর মন মতো না হলেই যে যাকে তাকে লানতযোগ্য বলে দেই, এটা আল্লাহর উপর একটা অপবাদ। এজন্য আবার লেখাটা দিলাম। সংকীর্ণতা থেকে বের হয়ে আসেন ভাইয়েরা। ফতোয়াবাজি বাদ দেন। আপন চরকায় তেল দেন। আপনার কবরে আপনার মসলক, ফেরকা, ফতোয়ার কিতাবাদি, ওয়াজের পোস্টার, চোঙ্গাওয়ালা মাইক- কিছুই যাবে না।
দুনিয়ার রাজত্ব ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু ইলমের রাজত্ব চিরস্থায়ী।
16/04/2026
আপনার ছবির কিতাবটি হলো "ইলামুল মুওয়াক্কিয়ীন আন রাব্বিল আলামীন" (إعلام الموقعين عن رب العالمين) । এটি প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার এবং ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (রহ.) কর্তৃক রচিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।
কিতাবটি সম্পর্কে কিছু মূল তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
বিষয়বস্তু: এটি মূলত উসুলে ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্রের মূলনীতি) এবং ফতোয়া প্রদানের নিয়মাবলী সংক্রান্ত একটি আকর গ্রন্থ। এতে শরীয়তের বিধানগুলোর কারণ, তাৎপর্য এবং সালাফদের (পূর্বসূরিদের) ইজতিহাদ ও ফতোয়া প্রদানের পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
রচয়িতা: হাফেজ ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (রহ.), যিনি ছিলেন ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-এর বিশিষ্ট ছাত্র।
প্রকাশনী: আপনার ছবিতে কিতাবটি বৈরুতের প্রসিদ্ধ প্রকাশনী দার ইবনে হাযম (Dar Ibn Hazm) থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
গুরুত্ব: ইসলামি আইনশাস্ত্রের শিক্ষার্থী এবং ফতোয়া প্রদানকারীদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য রেফারেন্স গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Madaripur
Madaripur