16/08/2017
উত্তরবঙ্গে হঠাৎ বন্যার পরিস্থিতি চরম অবনতি।উত্তরবঙ্গের
আট জেলার প্রায় ৪০লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়েছে
রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁ ও নীলফামারীর এ জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো বন্যায় প্লাবিত হয়ে দিশেহারা প্রায় ৪০ লাখ মানুষ।
লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বিপদ সীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, ফ্লাড বাইপাস তলিয়ে লোকালয়ে পানি, নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে রেড অ্যালার্ট জারি, লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যাবার নির্দেশ।
গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৫৯ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি ৫৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নীলফামারীর তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যার পানিতে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সারা দেশের সঙ্গে পঞ্চগড়ের রেল যোগাযোগ বন্ধ।
জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
একদিকে মুষলধারে বৃষ্টি অন্যদিকে ভারতের দৌমহনী থেকে ধেয়ে আসছে পানি, ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা
তিস্তার উজানে ভারতের দৌমহনী থেকে পানি ধেয়ে আসছে বাংলাদেশের দিকে। তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থায় তিস্তার উজানে ভারতের অংশে ভারতীয় সেচ মন্ত্রণালয় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।
পাশাপাশি তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে বিশেষ সতর্কতা সঙ্কেত জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তিস্তা অববাহিকার সব ইউপি চেয়ারম্যানের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে তিস্তায় বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিস্তার উজানে ভারতে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় সব ইউপি চেয়ারম্যানের মোবাইল ফোনে নদীতে বসবাসরতদের সরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিস্তায় বসবাসরতদের বাঁধসহ উঁচু স্থানে আশ্রয় নেয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
একদিকে মুষলধারে বৃষ্টি অন্যদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছে তিস্তার পাড়ের বন্যাদুর্গত এলাকার লোকজন। উজানের ঢলের পানি ঘোলা, বিভিন্ন গাছের পাতা ও কচুরিপানা থাকার কারণে এলাকাবাসীর ধারণা উজানে বন্যার পানি আসছে।
তিস্তা নদীর উজানে বসবাস করা পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন ও পূর্ব খড়িবাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। সেই তিস্তা উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত বিভিন্ন গ্রামে মাইকিং করে রেড অ্যালার্ট সম্পর্কে বলা হয়েছে। পূর্ব খড়িবাড়ি গ্রামের মিরাজ উদ্দিন বলেন, পানির স্রোতের অবস্থা দেখে বুঝা যায় আশপাশের গ্রামগুলো সব ডুবে যাবে। সেই সঙ্গে বড় ধরনের বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পাউবো অফিসে সূত্রে জানা যায়, তিস্তার টানা কয়েকদিনে বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তায় বন্যা দেখা দিয়েছে। তিস্তার ব্যারেজের ৬০ কিলোমিটার উজানে ভারত গজলডোবা বাঁধটি ১৯৯৮ সালে নির্মাণ করেন। গজলডোবা বাঁধটির ৫৪টি গেটের মাধ্যমে উজানে বন্যা হলে সকল গেট খুলে দিলে ধেয়ে আসছে বন্যার পানি ও বাংলাদেশের অংশে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে এলাকায় বন্যা দেখা দেয়।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে কিসামত চরের আবুল কালাম জানান, দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে তিস্তার পানি। বিকেল থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি থেকে মনে হচ্ছে বড় ধরনের বন্যা দেখা দেবে। ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি শনিবার সকাল ৬টা থেকে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০) ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নদীর শোঁ শোঁ শব্দ আর গর্জন তিস্তা অববাহিকা কাঁপিয়ে তুলেছে। অপরদিকে বুড়ি তিস্তা নদীটি ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই এলাকায় বাঁধ ভেঙে গেছে। এছাড়া তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্পের জলঢাকাস্থ দুন্দিবাড়ির অদূরে দিনাজপুর প্রধান সেচ ক্যানেলের ডানতীরের বাঁধ দুইটির বিভিন্ন স্থানে বিধ্বস্ত হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও'য়ে প্লাবিত নদীপাড়ের মানুষেরা পানি বন্দি।
ভারতের বাধ খুলে দেওয়ায় পঞ্চগড়ের মহানন্দ হয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের টাংগন নদীর বিপদ সীমার উপর দিয়ে বয়ে চলা পানির কারণে বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত নদীপাড়ের মানুষেরা পানি বন্দি হওয়ায় যে যার মতো বাড়ী ঘড় ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে জন্য পৌরসভার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত অসাহায় মানুষেরা শিল্পকলা,কলেজ, স্কুল মাদ্রাসার বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে অনবরত বৃষ্টির কারণে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অত্র এলাকার দরিদ্র মানুষেরা । তারা সরকারের কাছে সহায়তার আশা করছেন অনাকাঙ্ক্ষিত বন্যার কারণে অনাহারে দিন পার করছে।
অত্র এলাকার যারা বৃত্তবান,সামাজিক সংগঠন,বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা এগিয়ে এসে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মানবিক আবেদন করেছেন বানভাসি মানুষেরা আপনার একটু সহায়তায় এদের অন্তত্য দুই বেলা কিছু খেয়ে জীবন ধারণ করতে পারবে। ধারণা করা হচ্ছে আগামী আরো দুই তিন দিন বৈরি আবওহাওয়া চলবে।
(collected)