17/05/2026
বড় বড় ডিগ্রী গলায় ঝুলে সোনার মালার মতো,
তবু চরিত্রহীন মানুষ থাকে অন্তরে ক্ষত।
সম্মানের আসন কখনো কাগজে লেখা নয়,
মানুষের ভালোবাসাই আসল পরিচয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে যত সনদের সারি,
মিথ্যা বললে মানুষ তখন দূরে সরে ভারী।
জ্ঞানের আলো জ্বালতে হলে মনটাও চাই পবিত্র,
কেবল ডিগ্রী নয়, দরকার মানবতার চরিত্র।
ডাক্তার যদি নিষ্ঠুর হয় রোগী কাঁদে রাতে,
ইঞ্জিনিয়ার প্রতারণা করলে ভাঙন ধরে পথে।
শিক্ষক যদি মিথ্যা শেখায়, জাতি হবে অন্ধ,
চরিত্র ছাড়া বিদ্যা তবে মরুভূমির গন্ধ।
বইয়ের পাতায় নাম লিখে বড় হওয়া সহজ,
মানুষের হৃদয় জিতে নেওয়া অনেক বেশি কঠিন রোজ।
অহংকারের পাহাড় গড়ে লাভটা কোথায় ভাই?
বিনয় ছাড়া সম্মান কখনো টেকে না যে তাই।
সোনার কলম হাতে নিয়ে যদি হৃদয় কালো হয়,
সেই মানুষকে দেখলে সবার মনে ভয়।
চরিত্র হলো আয়নার মতো স্বচ্ছ এক আলো,
যার ভিতরে মিথ্যা থাকলে সবকিছু হয় কালো।
বড় চাকরি, বড় গাড়ি, বড় বড় বাড়ি,
চরিত্রহীন হলে তবু জীবন থাকে ভারী।
মানুষ মরেও বেঁচে থাকে কর্মের ইতিহাসে,
ডিগ্রী শুধু পড়ে থাকে পুরনো আলমারির পাশে।
সততা যার সঙ্গী হয় সে-ই সত্যিকার ধনী,
সম্মান তার পিছনে হাঁটে, থাকে চিরদিনই।
চরিত্র যদি সুন্দর হয় মুখের দরকার কী?
ভালো মানুষ চিনে নিতে দেরি করে না কেউই।
সমাজ আজ শিক্ষিত অনেক, তবু কেন ভয়?
কারণ অনেক ডিগ্রীধারী মানুষ নিষ্ঠুর হয়।
মানবতা যদি হারিয়ে যায় শিক্ষারই ভিড়ে,
সেই শিক্ষা সমাজটাকে অন্ধকারে ঘিরে।
বাবা-মায়ের চোখের জল ডিগ্রী মুছতে পারে না,
সন্তানের খারাপ চরিত্র লুকিয়ে রাখা যায় না।
সুন্দর কথা মুখে বললেই ভালো মানুষ নয়,
কাজে যার সত্য থাকে সম্মান তারই হয়।
ধর্ম শেখায় সৎ হতে, মানুষ হতে ভালো,
ডিগ্রীর অহংকারে কেন মনটা করলে কালো?
কাগজভরা সার্টিফিকেট দেয় না শান্তি মনে,
অন্যায়ের বোঝা থাকলে ঘুম আসে না ক্ষণে।
বড় নেতা, বড় অফিসার, বড় বড় নাম,
চরিত্রহীন হলে মুছে যায় সব সম্মান।
ইতিহাসে যাদের দেখি মানুষের হৃদয় জিতে,
তারা জিতেছে ভালোবাসা সত্যের পথ দিয়ে।
নদী যেমন শব্দ করে না গভীর হলে বেশি,
সত্যিকারের জ্ঞানী মানুষ নম্রতায় থাকে মেশি।
অহংকারের আগুন মানুষ পুড়িয়ে দেয় ধীরে,
চরিত্রবান মানুষ থাকে ফুলের মতো ঘিরে।
একদিন সব ডিগ্রী হবে পুরনো কাগজখানি,
চরিত্রের সুবাস কিন্তু থাকবে চিরকাল জানি।
সম্মান কেনা যায় না কোনো টাকার বিনিময়ে,
তা অর্জন করতে হয় ভালো ব্যবহারে।
সৎ মানুষের হাসিমুখে শান্তি খুঁজে পাই,
ডিগ্রিধারী মিথ্যাবাদীকে মানুষ মানে নাই।
চরিত্র হলো বৃক্ষ যেন ফল দেয় নীরবে,
অসৎ মানুষ ঝড়ের মতো ভাঙে চারিদিকে।
পৃথিবী আজ জ্ঞানী ভরা, তবু মানবতা কম,
কারণ অনেক শিক্ষিত মানুষ ভুলে গেছে ধর্ম।
ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, দয়া—এগুলো বড় শক্তি,
চরিত্র ছাড়া মানুষ শুধু হাঁটতে থাকা মূর্তি।
বড় ডিগ্রী পেলেই যদি মানুষ হওয়া যেত,
পৃথিবীতে অন্যায়ের আর ছায়া থাকত না এত।
সম্মান আসে নরম কথায়, মমতার আচরণে,
হৃদয়হীন জ্ঞানী থাকে একা নিজের গর্বে।
রাতের আকাশ যত বড়, চাঁদ ছাড়া ফাঁকা,
চরিত্রহীন শিক্ষিত মানুষ তেমনি নিরাশা ঢাকা।
সততার পথে হাঁটতে কষ্ট অনেক বেশি,
তবু সেই পথেই মানুষ বাঁচে আনন্দে হেসে।
মানুষকে ছোট করলে বড় হওয়া যায় না,
ডিগ্রীর অহংকারে সুখ পাওয়া যায় না।
চরিত্র হলো মাটির মতো সহ্যশক্তির নাম,
ঝড় এলেও ধরে রাখে জীবনেরই মান।
স্কুল-কলেজ শেখায় শুধু বইয়ের ভাষা কিছু,
চরিত্র শেখায় জীবন কেমন হবে পিছু পিছু।
যে মানুষ প্রতিশ্রুতি রাখে, সে-ই বড় জন,
ডিগ্রীর চেয়ে মূল্যবান তার মানবিক মন।
মসজিদ-মন্দির বলে সবাই মানুষ হও আগে,
জ্ঞান যদি অহংকার বাড়ায় তবে সে জ্ঞান ফাঁকে।
ভালো কাজের আলো থাকে শত বছর পরে,
ডিগ্রী থাকে ধুলো হয়ে সময়েরই ঘরে।
ক্ষমা করতে জানে যে জন সে-ই মহৎ প্রাণ,
নিষ্ঠুর শিক্ষিত মানুষের থাকে না সম্মান।
পৃথিবী মনে রাখে না কেবল উপাধি,
মনে রাখে মানুষের ভালোবাসার নদী।
চরিত্রবান দরিদ্র মানুষ অনেক বড় হয়,
অসৎ ধনীকে মানুষ অন্তরে ঘৃণা কয়।
সত্য কথা বলার সাহস বিরল আজকাল,
তাই তো ভালো মানুষ পাওয়া হয়েছে দুর্লভ কাল।
ডিগ্রী যদি হৃদয় থেকে মানবতা কেড়ে নেয়,
সেই শিক্ষা সমাজটাকে অন্ধকারেই ঠেলে দেয়।
সুন্দর মন ছাড়া জীবন মরুভূমির ধূলি,
চরিত্রবান মানুষ যেন ফুলে ভরা কুঁড়ি।
সম্মান পেতে হলে আগে মানুষ হতে শিখো,
অন্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে সত্য কথাটি লিখো।
বড় বড় ডিগ্রী একদিন মাটিতে মিশে যাবে,
ভালো চরিত্রের সুবাস যুগ যুগ ধরে রবে।
তাই বলি বন্ধু শুনো, জ্ঞানকে করো পবিত্র,
হৃদয়ের ভিতর গড়ে তোলো সুন্দর এক চরিত্র।
সম্মানের মুকুট পরে সেই মানুষই শেষে,
যার চরিত্র আলোর মতো জ্বলে মানুষের দেশে।