22/01/2023
ছোটবেলায় অনেকেই কবি কাজী কাদের নেওয়াজের ‘শিক্ষকের মর্যাদা’ কবিতাটি পড়েছেন। দিল্লির বাদশা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, একজন শিক্ষককে কীভাবে মর্যাদা দিতে হয়, সম্মান করতে হয়। অতীতে শিক্ষককে পীরের মতো মর্যাদা দেওয়া হতো। কিন্তু এখন? শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হাতে অনেক শিক্ষককে নিগৃহীত হতে শোনা যায়। লাঞ্ছিতও হতে দেখা যায়। কেন এ অবস্থা? শিক্ষকের প্রতি এভাবে শ্রদ্ধাবোধ উঠে যাওয়ার হেতু কী? সময় হয়েছে এর কারণ উদঘাটনের। আমি নির্দিষ্টভাবে কাউকে দোষ দিচ্ছি না। আমাদের বর্তমান সমাজ ব্যবস্থাই এজন্য দায়ী। এ সমাজের কারও না কারও ঘরেই শিক্ষকদের জন্ম হয়েছে। অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কতিপয় শিক্ষক লেখাপড়া করে হয়তো শিক্ষকতার চাকরি নিয়েছেন; কিন্তু ‘শিক্ষকতা’র সুমহান আদর্শকে ধারণ করতে পারেননি। তারা ধরে নিয়েছেন, অন্য আর দশটি পেশার মতো শিক্ষকতাও নিছক একটি পেশা। এ পেশার উদ্দেশ্য হচ্ছে, টাকা রোজগার করা এবং সমাজে দাপিয়ে বেড়ানো। এদিকে কিছু মানুষ এক-দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো শিক্ষক সমাজ তুলে গালি দেন, তির্যক মন্তব্য করেন। শিক্ষকদের প্রতি এহেন আচরণ করে প্রকারান্তরে তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করছেন। একটা গল্প বলি। জাঁদরেল এক জেলা প্রশাসক। তার দুটি বাচ্চাকে পড়ান স্থানীয় মক্তবের জনৈক শিক্ষক। শিক্ষক প্রতিদিন বিকালে জেলা প্রশাসকের বাসভবনে আসেন এবং সন্ধ্যার সময় ফিরে যান। আশ্চর্য ব্যাপার, এ আসা-যাওয়ার সময় একটি দিনও জেলা প্রশাসককে আগে সালাম দিতে পারেননি ওই শিক্ষক। তার মনে ভীষণ লজ্জা। একদিন শরম ভেঙে তিনি এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের কাছে কৈফিয়ত চেয়ে বসলেন। জেলা প্রশাসক হেসে উত্তর দিলেন, ‘আমার স্বার্থেই আপনাকে আগে সালাম দিই। কারণ প্রতিদিন আমি শত শত সালাম পাই। এসব আমার সন্তানরা দেখে এবং ভাবে, তাদের বাবা কতই না বড়! এখন যদি আমি আপনাকে আগে সালাম দিই, তবে তারা ধরে নেবে আপনি আমার চেয়েও বড়। আমার চেয়েও মর্যাদাবান। ফলে তারা আপনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। আপনার নির্দেশ মানবে। শেষ পর্যন্ত এটা আমার জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে। আমার সন্তানরাই আলোকিত হবে।’ বুদ্ধিমানের জন্য অল্প কথাই যথেষ্ট। শিক্ষকরা মর্যাদাবান। তাদের সম্মান করতে হবে আমাদের স্বার্থেই।
Copied.