08/11/2025
যে দেশের বিচারালয়ে ন্যায়-নীতি অপেক্ষা অবৈধ অর্থের লেনদেনকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়, সে দেশে রাস্তায়-রাস্তায় মানুষের ক্ষত বিক্ষত লাশ পড়ে থাকা বিচিত্র কিছু নয়। একটি রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব তার সার্বভৌম সীমানায় বসবাসকারী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে দৃঢ় করবে। দেশের অভ্যন্তরীন শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন তৈরি করবে। রাষ্ট্রের নাগরিকরা আইনের প্রতি যেন শ্রদ্ধাশীল থাকে, আইন মেনে চলে, তার জন্য বিধান থাকবে। কেউ আইন অমান্য করলে তাকে শাস্তির আওতায় এনে বিচারকার্য পরিচালনা করা হবে। আর এই বিচার কার্য পরিচালনা করবে বিচারকগণ। তারা হবেন ন্যায়ের প্রতীক।
কিন্তু বাস্তবে আমরা কী দেখছি, ন্যায় প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নিয়ে অন্যায়কারীর সাথে আঁতাত করে, তার অবৈধ আয়ে ভাগ বসিয়ে অপরাধীর অপরাধের শাস্তি না দিয়ে তাকে বেকসুর খালাস করছেন। বিনিময়ে সে নিজের অপরাধের শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা থেকে আরো বেশি অপরাধ করার উৎসাহ পায়। সে জানে আইনের জাল ছিন্ন করার অপকৌশল। সে বুঝতে পারে দৃশ্যমান আইন ও বিচারের যে কর্মতৎপরতা, তা কেবল দুর্বল লোককে শাস্তি দেওয়ার জন্য। যার কারণে ছোট ছোট ভুল করে অনেক বড় অপরাধের শাস্তি ভোগ করছে কেউ কেউ। আবার বড় বড় অপরাধ করেও কেউ কেউ শাস্তির পরিবর্তে পুরস্কৃত হচ্ছে।
দুর্নীতি একটি দেশকে কতভাবে গ্রাস করতে পারে তা আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর দিকে তাকালে নিত্য নতুন কলাকৌশল দেখা যায়। আপনি একটা বিশেষ রাজনৈতিক দলের সমর্থক, আপনি একটা অপরাধ করলেন, আইন অনুযায়ী আপনার শাস্তি হওয়ায় কথা থাকলেও এখানে যা বিবেচিত হয় তা হলো আপনি সরকারি দলের পক্ষে না বিপক্ষ দলের সমর্থক!! সরকার দলের সমর্থক হলে হয়তো আপনাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে না, হলেও বিশেষ তদবিরে আপনার দ্বারা সংঘটিত মারাত্মক অপরাধকে ছোট্ট একটা ভুলে নামিয়ে আনা হবে। যে ভুলটাকেও হাসি দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে বিচারক আপনাকে সসম্মানে খালাস করে দিবেন। আবার ঠিক এর উল্টো চিত্র ঘটবে, যদি আপনি সরকার দলের বিরোধী পক্ষের সমর্থক হন।
এতো কী হয়? সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের প্রতি অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়, আইন শৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি বিদ শ্রদ্ধাশীল হয়ে পড়ে। দেশের আইনী কাঠামো ভেঙে পড়ে। অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং রাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপদ জীবন যাপন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। যাদের সামর্থ্য থাকে তারা মাতৃভূমি ছেড়ে নিজের অনাগত ভবিষ্যত প্রজন্মের উন্নতি জীবন যাপনের জন্য ভিন্ন দেশে পাড়ি জমায়। দেশের অর্থ ও মেধা পাচার হয়। ফলে দেশ পরিচালনায় বিঘ্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। যোগ্য নেতৃত্বের সংকটে অযোগ্য দুর্নীতি পরায়ণ ব্যক্তি রাষ্ট্র পরিচালনা ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে জায়গা করে নিয়ে দেশকে অধতপনের দিকে ঠেলে দেয়। ফলে দুর্বিষহ করুণ পরিণতি নেমে আসে সমগ্র জাতির উপর।
#দুর্নীতি #বিচার #আইন #শাসন #শাস্তি #সন্ত্রাস #মেধা
26/10/2025
https://www.facebook.com/share/p/1DdcRT7qBn/
"মিহরাব" মুসলমানদের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ ইবাদতখানা মসজিদের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। কেবলার দিক নির্ণয় করতে মসজিদে মিহরাব তৈরি করা হয়। মসজিদের ইমাম সাহেব যে স্থানে দাঁড়িয়ে মুসল্লীদের নামাজ পড়ান, পাশেই থাকে 'মিম্বর' যে স্থানে দাঁড়িয়ে ইমাম/খতিব সাহেব খোতবা পাঠ করেন। মুসল্লিদের ইসলামের ইমান আকিদা নিয়ে, বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নিয়ে আলোকপাত করেন। মসজিদের ইমাম সাহেবের জন নির্ধারিত এই জায়গাটা সম্মানের ও গৌরবের। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই মিহরাব ও মিম্বর কে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে যা ইচ্ছে তাই ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অন্যতম জায়গা দখল করে নিয়েছে ইসলামের রাজনীতির আদর্শ পরিপন্থী গণতন্ত্র চর্চা করা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। মুসলিম পরিবারের সন্তান হিসেবে ছোটবেলা থেকে যে বিষয়টি জেনে বুঝে এসেছি, মসজিদ পবিত্রতম স্থান। এখানে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহ তায়ালার ইবাদত বন্দেগি করে। আল্লাহর দরবারে সিজদাহ্ করে সমবেতভাবে। ধর্মীয় বুজুর্গ গণ মুসলমানদের ইমান আকিদা নিয়ে নসিহত করে সাধারণ মুসল্লীদের কাছে। এটা শুধু ইবাদতখানাই নয় ইসলামের কৃষ্টি কালচার শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রও বটে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষ ধর্ম সম্পর্কে খুব কম জ্ঞান রাখি। আমার ধর্মীয় বিশ্বাস অনুপাতে আমাকে কিভাবে জীবন যাপন করতে হবে সেই শিক্ষা লাভ করতে আমরা দ্বীনের জিম্মাদার, মুরব্বি-ই-দ্বীন, ইমাম ও খতিব সাহেবদের কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করে থাকে।
কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা কী দেখতে পাই, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের উপস্থিতি ও লম্বা বয়ান। কিছু কিছু রাজনৈতিক দল তো মসজিদকে নিজেদের রাজনৈতিক দলের অফিস করে নিয়েছে। মিহরাব এর সামনে ব্যানার লাগিয়ে মসজিদ থেকে মিহরাবকে আড়াল করে দিচ্ছে। তাদের রাজনৈতিক চর্চায় কিছুটা ধর্মীয় লেবাস লাগিয়ে নিয়েছে, যেন সাধারণ মুসল্লীদের কাছে তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে এবং প্রতিপক্ষকে ধর্মের দোহাই দিয়ে বোকা বানিয়ে রাখা যায়। প্রতিপক্ষ বিষয়টি বুঝে উঠলেও যাতে ইমোশনাল গেম খেলায় হেরে যায়, তার জন্য মসজিদে চলমান রাজনৈতিক দলের মিটিংয়ে থাকে অতিরিক্ত প্রটেকশন।
রাজনীতি হলো বুদ্ধির কৌশল। এখানে তো কৌশল অবলম্বন করতেই হবে। তবে আপনি যে অনুভূতি আর আবেগকে নাড়িয়ে গনতান্ত্রিক রাজনীতি করছেন, সেই গণতান্ত্রিক রাজনীতি কী ইসলাম সমর্থিত? রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে, খোলাফায়ে রাশেদিনদের যুগে, এমন কি বিভিন্ন রাজ বংশের খেলাফত আমলে এই ওয়েস্টার্ন গনতন্ত্র কী মুসলমানরা চর্চা করেছে? আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার পথে এই গনতন্ত্র কী সহায়ক? ইসলামের শাসন ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে চলমান গণতন্ত্রের কোন সম্পর্ক না থাকলেও আমাদের দেশের এক শ্রেণির রাজনৈতিক নেতারা আছেন গনতন্ত্রের আদলে ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টায়। ইসলাম সম্পর্কে আপনাদের জ্ঞান গরিমা নিয়ে আমরা আতংকিত! ইসলাম কোন সমিতির নাম নয়, যে আপনি কিছু নিয়ম নীতির পরিবর্তন করে নতুন করে সাজিয়ে দিবেন। ইসলাম হচ্ছে একমাত্র ধর্ম যা মহান রবের "মনোনীত দ্বীন ব্যবস্থা"। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাঁর মনোনীত ধর্ম ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্য রাসূল প্রেরণ করেছেন, কুরআন দান করেছেন। কুরআনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ নিয়ে আমরা যেন পরস্পর ভুল বুঝাবুঝি না করে তার জন্য রাসূলের অনুসরণ করতে বলেছেন। এরপরও যদি কেউ ভিন্ন কিছু বলে বা করে তার ব্যাপারে আল্লাহর বিধানই যথেষ্ট।
25/10/2025
Send a message to learn more