Zannatul Ferdous

Zannatul Ferdous

Share

You are welcome to the Official FB Page of "Zannatul Ferdous".
-Tech Enthusiast & Consistent Learner-
-- M. A.

in English (Comilla University)
-- Bachelor of Laws (National University)

13/08/2026

নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুলের জাতির সাথে প্রতারণা!

গণমাধ্যমগুলো সোৎসাহে খবর করেছে, সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এসএসসিতে এবারও তাক লাগানো ফল করেছে নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস। এবার প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৮২ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ জিপিএ–৫ পেয়েছে সবাই।

আজ সোমবার সকাল ১০টায় ফলাফল প্রকাশের পরপরই নেচেগেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থী ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। তাদের পাশাপাশি আনন্দে মাতেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। অভিভাবকেরা নিয়ে আসেন মিষ্টির প্যাকেট। এ সময় একজন অন্যজনকে জড়িয়ে উল্লাসে মাততে দেখা যায়।

এটা কিভাবে সম্ভব? ওই স্কুলের সবাই কি ভিনগ্রহ থেকে এসেছে? ওদের সবাইকে তিনবেলা অধিকতর পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো হয়? ওরা সবাই জেনেটিক্যালি মেরিটরিয়াস? তাদের শিক্ষাপদ্ধতি কি ম্যাজিক্যাল কিছু?

না এর কোনো কিছুই না। ওই স্কুলের যে শিক্ষার্থী টেস্ট পরীক্ষা কিংবা এর আগের অপরাপর পরীক্ষায় জিপিএ -৫ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে না -তাদেরকে নাছিমা কাদিরের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় বসতেই দেয়া হয় না। এটি নির্মম এক ছাঁটাই প্রক্রিয়া। এর নাম আর যাইহোক বৈষম্যহীন সুষম শিক্ষাব্যবস্থা নয়।

আপনাকে তখন ক্রেডিট দেব -যখন আপনি একজন বি গ্রেডের স্টুডেন্টকে আপনাদের যুগোপযোগী আধুনিক শিখন পদ্ধতি দিয়ে আরো উন্নততর গ্রেডে নিয়ে আসতে পারবেন। আমরা আরো খুশি হতাম যদি শুনতাম -আচার ব্যবহার, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নিষ্ঠা, বিনয়, অধ্যবসায়, কর্তব্যপরায়ণতা, সততা, মহানুভবতা এবং দেশপ্রেমে দেশের অপরাপর বিদ্যায়তনের গোল্ডেন এ প্লাস গ্রেডের তুলনায় নাছিমা কাদিরের বি গ্রেডের স্টুডেন্ট অধিকতর যোগ্য।

বুঝাই যাচ্ছে আপনি বিপুলসংখ্যক স্টুডেন্ট ও তাদের অভিভাবকদের ঠকিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিটবাজির নেশায় মেতেছেন। যেটি আমাদের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য অতি অবশ্যই সুখকর কিছু নয়।

শিক্ষামন্ত্রণালয়ের উচিত হবে তাদের কাছে জবাবদিহি চাওয়া। এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকরাও এর ভিতরকার অভিসন্ধি খুঁজে বের করতে পারে। হয় তারা ক্যাডেট কলেজের স্টাইলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারিত সংখ্যক স্টুডেন্ট ভর্তি করে তাদের সবাইকে মানুষ করুক -আদারওয়াইজ এসএসসির আগে টেস্ট পরীক্ষায় যারা অ্যালাউ হবে -সবাইকে ওই স্কুলের অধীনে পরীক্ষায় বসবার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিষ্ঠানটিতে ২০২৫ সালেও একই ড্রামা মঞ্চস্থ হয়েছিল। ৩২০ জন পরীক্ষায় বসে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল। দেশজুড়ে বাহ্বা কুড়িয়েছিল। কিন্তু এর পেছনে যে জিপিএ ফাইভের দ্বিগুণসংখ্যক স্টুডেন্টকে -নির্মম নিষ্ঠুরতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় ছেঁটে ফেলে দেয়া হয়েছিল সেই খবর কেউ রাখেনি।

বিবিধ অন্যায্য কারিকুরির মধ্য দিয়ে বানানো মেধাবী শিক্ষার্থীর চেয়ে এই জাতিরাষ্ট্রের জন্য অধিকতর দরকার ভালো মানুষ। মেধা গড়পরতা থাকুক -ভালো মানুষ যারা গড়তে পারবেন আমরা অকুণ্ঠ চিত্তে তাদেরকেই সাধুবাদ জানাব। সেটি যদি থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লার স্ত্রীর নামে প্রতিষ্ঠিত নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস হয় -তারাও অভিবাদন পাবে।🪶

©ফারদিন ফেরদৌস
১২ আগস্ট ২০২৬

04/08/2026

এডভোকেট তাজুল ইসলাম জীবনে কখনও আইনজীবী হতে চাননি। জামালপুর জিলা স্কুলের ছাত্র ছিলেন। ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট। ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার; এ দুইয়ের যেকোনো একটাই হতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য তাঁকে টেনে নিয়ে গেল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। অনার্স শেষ করতে করতেও ভাবেননি–তিনি শেষ পর্যন্ত ওকালতিই করবেন। অন্য কিছু একটা করবেন বলে ভেবেছিলেন।
কিন্তু একটা পর্যায়ে গিয়ে স্থির হলেন–তিনি ওকালতি করবেন এবং হাইকোর্ট ডিভিশনে ওকালতি করবেন। ঢাকা জজ কোর্টে একদিন ঢু মারতে গিয়েছিলেন এবং সেখানকার পরিবেশ তাঁকে বলল–এটা তাঁর জায়গা নয়। যেই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিলেন–ওকালতি করবেন, এরপর আর অন্য কিছুর দিকেই তাকালেন না। দৃষ্টি একটা খুব স্থির জায়গায় নিবদ্ধ হলো। কোনো চাকরির পরীক্ষাও দিলেন না তিনি এরপর।

কিন্তু ওকালতি জীবনের শুরুতে এক ভয়াবহ সংগ্রাম অপেক্ষা করছিল তাঁর জন্য। দেওয়ানগঞ্জ থেকে বাবা জানিয়ে দিলেন–'যেহেতু তুমি আইনজীবী হয়ে গেছো, এখন থেকে নিজের খরচ নিজে চালাও।' এদিকে এডভোকেট তাজুল কোনো সিনিয়র পাচ্ছেন না। উত্তরা থেকে পুরান ঢাকা পর্যন্ত অসংখ্য উকিলের চেম্বারে গেলেন–কেউ তাঁকে জুনিয়র হিসেবে নিতে চায় না। তাঁর ধারণা হলো যে, চেহারা খুব ইমপ্রেসিভ নয় বলেই হয়তো এমন হচ্ছে। এহেন আশাহীন অবস্থাতেও বিকল্প প্রফেশনে যাওয়ার চিন্তা করলেন না তিনি। ঝিম ধরে লেগে থাকলেন।

শেষমেশ একজন বললেন, 'আচ্ছা থাকেন আমার সাথে।' সেই সময় তাঁর আর্থিক অবস্থা এমন বেগতিক যে, প্রায় দিনই লাঞ্চ করার টাকা থাকতো না। অনাহারে থাকতে হতো। এদিকে সিনিয়র আবার মামলার ফাইলে তেমন হাতই দিতে দেন না। শিখবেন কী! সেই তাজুল ইসলাম আজকে বাংলাদেশের লিজেন্ডারি আইনজীবীদের একজন। যাঁর একদিন লাঞ্চ করার টাকা ছিল না, তিনি চাইলে এখন প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষকে লাঞ্চ করাতে সক্ষম। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়–আপাত নৈরাশ্যে গন্তব্য বদলে ফেলতে হয় না। দাঁতে দাঁত চেপে কোনো একটা কাজে লেগে থাকলে সাফল্য অবশ্যম্ভাবী।

'জীবন দেখে জীবন শিখি'/ লাবিব আহসান

02/08/2026

দেশে পিএইচডি করতে চান? কিছু কথা মনে রাখুন

দেশে পিএইচডি করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে—পিএইচডির মূল্য শুধু ডিগ্রিতে নয়; মূল্য হলো আপনি গবেষণার মাধ্যমে নতুন কী জ্ঞান সৃষ্টি করলেন, সেই জ্ঞানকে কতটা গ্রহণযোগ্যভাবে প্রকাশ করতে পারলেন এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা-পরিমণ্ডলে আপনার কাজ কতটা জায়গা করে নিতে পারল।

তাই দেশে যারা পিএইচডি করতে চান, তাদের জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি।

প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয় বা বিভাগ বেছে নেওয়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিন গবেষণা-তত্ত্বাবধায়ক বা সুপারভাইজার নির্বাচনে।
আপনার সুপারভাইজার কে—এটি আপনার পিএইচডির মানের ওপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। এমন একজন গবেষক খুঁজুন যিনি আপনার বিষয় সম্পর্কে সত্যিকার অর্থে বিশেষজ্ঞ, নিয়মিত গবেষণা করেন এবং মানসম্মত, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নালে প্রকাশনা রয়েছে। শুধু পদবি, প্রশাসনিক অবস্থান বা পরিচিতির ভিত্তিতে সুপারভাইজার নির্বাচন করবেন না। তাঁর সাম্প্রতিক গবেষণা, প্রকাশনার মান, গবেষণার ক্ষেত্র এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণার ইতিহাস দেখুন।

দ্বিতীয়ত, এমন একটি গবেষণা-সমস্যা বা টপিক নির্বাচন করুন যেখানে নতুন জ্ঞান সৃষ্টির সুযোগ আছে।
পিএইচডি মানে আগে যা বলা হয়েছে সেটি আবার নতুনভাবে লেখা নয়। পিএইচডির মূল উদ্দেশ্য হলো বিদ্যমান জ্ঞানভাণ্ডারে নতুন কিছু যোগ করা—নতুন ব্যাখ্যা, নতুন তথ্য, নতুন পদ্ধতি, নতুন প্রমাণ, নতুন তত্ত্ব বা বিদ্যমান কোনো সমস্যার নতুন সমাধান।

তাই শুধু এমন একটি বিষয় বেছে নেবেন না যেটি সহজে করা যায়। বরং ভাবুন—
“আমার গবেষণা শেষ হওয়ার পর পৃথিবী বা অন্তত আমার গবেষণার ক্ষেত্রটি আমার গবেষণা থেকে নতুন কী জানতে পারবে?”

তৃতীয়ত, আপনার পিএইচডি থেকে গবেষণাপত্র প্রকাশের চেষ্টা করুন।
পিএইচডি থিসিস লিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে জমা দিয়েই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। আপনার গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বা ফলাফলকে গবেষণাপত্রে রূপান্তর করে ভালো মানের জার্নালে প্রকাশ করার চেষ্টা করুন। সব গবেষণা যে অবশ্যই শীর্ষ জার্নালে প্রকাশিত হবে, তা নয়; কিন্তু মানসম্মত peer-reviewed journal-এ প্রকাশের লক্ষ্য থাকা উচিত।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার:

দেশে পিএইচডি করা মানেই আপনার ডিগ্রির মূল্য কম—এমন ধারণা সঠিক নয়।
আপনি বাংলাদেশে পিএইচডি করেও যদি একটি শক্তিশালী গবেষণা করেন, ভালো ডেটা ব্যবহার করেন, যথাযথ গবেষণা-পদ্ধতি অনুসরণ করেন এবং আপনার পিএইচডির কাজ থেকে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে পারেন, তাহলে আপনার গবেষণার গ্রহণযোগ্যতা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

শেষ পর্যন্ত একজন গবেষকের পরিচয় শুধু তিনি কোথা থেকে পিএইচডি করেছেন তা দিয়ে নির্ধারিত হয় না; বরং তিনি কী গবেষণা করেছেন, কী নতুন জ্ঞান তৈরি করেছেন এবং সেই গবেষণা অন্য গবেষকরা কতটা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করছেন—সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

চতুর্থত, গতানুগতিক সাহিত্য পর্যালোচনা বা বর্ণনামূলক গবেষণার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখবেন না।
শুধু বিভিন্ন বই, প্রতিবেদন বা আগের গবেষণার সারসংক্ষেপ দিয়ে একটি দীর্ঘ থিসিস তৈরি করা তুলনামূলকভাবে সহজ। কিন্তু পিএইচডির প্রকৃত শক্তি হলো তথ্য-উপাত্ত, প্রমাণ এবং শক্তিশালী গবেষণা-পদ্ধতির মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা।

সম্ভব হলে survey data, administrative data, secondary datasets, interviews, experiments, field data বা অন্য কোনো উপযুক্ত empirical evidence ব্যবহার করুন। অবশ্যই সব গবেষণায় একই পদ্ধতি প্রযোজ্য নয়; বিষয়ভেদে qualitative, quantitative বা mixed-methods গবেষণা হতে পারে। কিন্তু আপনার গবেষণায় সুস্পষ্ট গবেষণা প্রশ্ন, উপযুক্ত পদ্ধতি এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকা জরুরি।

পঞ্চমত, coursework এবং thesis লেখার সময় সততা ও নিষ্ঠা বজায় রাখুন।
পিএইচডির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন শুধু ডিগ্রি নয়; একজন গবেষক হিসেবে আপনার একাডেমিক সততা। plagiarism, fabricated data, manipulated results, অন্যের কাজ নিজের নামে ব্যবহার করা বা shortcut নেওয়ার কোনো জায়গা গবেষণায় থাকা উচিত নয়।

কেউ না জানলেও আপনি জানবেন—আপনার গবেষণার প্রতিটি তথ্য, প্রতিটি বিশ্লেষণ এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত কতটা সত্য ও নির্ভরযোগ্য। একজন গবেষকের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো তার credibility। একবার সেটি নষ্ট হলে অনেক প্রকাশনা বা অনেক ডিগ্রিও তা সহজে ফিরিয়ে আনতে পারে না।

আরেকটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু “ডক্টর” বলা হবে, সামাজিক সম্মান বাড়বে, নামের আগে “Dr.” লেখা যাবে—এই কারণে পিএইচডি করবেন না।

পিএইচডি একটি দীর্ঘ, কঠিন এবং অনেক সময় মানসিকভাবে ক্লান্তিকর গবেষণা-যাত্রা। এখানে বছরের পর বছর পড়তে হবে, ব্যর্থ হতে হবে, methodology শিখতে হবে, data নিয়ে কাজ করতে হবে, reviewer-এর সমালোচনা শুনতে হবে, manuscript revise করতে হবে এবং নিজের ধারণাকে বারবার প্রশ্ন করতে হবে।

শুধু সামাজিক মর্যাদার জন্য এ যাত্রায় নামলে একসময় হতাশ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

পিএইচডি করুন গবেষক হওয়ার জন্য।
পিএইচডি করুন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য।
পিএইচডি করুন নতুন কিছু জানার এবং নতুন জ্ঞান তৈরির জন্য।
পিএইচডি করুন আপনার গবেষণার মাধ্যমে সমাজ, রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান বা জ্ঞান-বিজ্ঞানের কোনো একটি সমস্যার বোঝাপড়াকে আরও উন্নত করার জন্য।

আর সবশেষে একটি কথা—

দেশে পিএইচডি করছেন বলে নিজেকে ছোট ভাববেন না। আবার দেশে পিএইচডি করছি বলে গবেষণার মানের ব্যাপারে ছাড়ও দেবেন না।

আপনার লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন গবেষণা করা, যেটি ভালো গবেষণা হিসেবে বিবেচিত হবে—আপনি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী কিংবা বিশ্বের অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন, সেটি দ্বিতীয় বিষয়।

ভালো গবেষণার কোনো ভৌগোলিক সীমান্ত নেই।

তাই দেশে পিএইচডি করতে আগ্রহী সবাইকে আমার পরামর্শ:

ভালো গবেষক/সুপারভাইজার বেছে নিন।
ভালো গবেষণা-প্রশ্ন বেছে নিন।
শক্তিশালী তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করুন।
সঠিক গবেষণা-পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
একাডেমিক সততা বজায় রাখুন।
এবং আপনার গবেষণাকে ভালো জার্নালে প্রকাশ করার চেষ্টা করুন।

তাহলেই আপনার পিএইচডি শুধু একটি ডিগ্রি হবে না—এটি আপনার একজন গবেষক হিসেবে পরিচয়ের ভিত্তি হয়ে উঠবে।

01/08/2026

এমন কামব্যাক সত্যিই খুব কম মানুষের জীবনে দেখা যায়!

ছোটবেলা থেকেই মোহাম্মদ ইমানুলহক মেধাবী ছিলেন, কিন্তু প্রচলিত অর্থে পড়াশোনা কখনোই তার ভালো লাগত না। বাবার চাকরির কারণে বিদেশে বড় হওয়ায় নিয়মিত ভালো স্কুলে পড়ার সুযোগ পাননি। বাসায় মায়ের কাছেই পড়াশোনা করতেন, আর পরীক্ষা দিয়ে মোটামুটি ভালো ফল করতেন। তবে সবসময় একজন সহপাঠী তার চেয়ে ভালো ফল করায় আশপাশের মানুষের তুলনা ও চাপ তার শৈশবকে কঠিন করে তোলে। সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল তিনি নিজে এসব নিয়ে খুব একটা ভাবতেন না, কিন্তু সমাজ তাকে ভাবতে বাধ্য করেছিল।

গণিত ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় বিষয়। কাজিনের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গণিত নিয়ে প্রতিযোগিতা করতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তাকে বলা হতে থাকে গণিত নয়, অন্য বিষয়ে মনোযোগ দাও। একসময় এমন অবস্থায় পৌঁছান যে, প্রিয় বিষয়টিই তার কাছে বিরক্তিকর হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশে ফিরে এসে তিনি আরেক বাস্তবতার মুখোমুখি হন। বাংলা ঠিকমতো পারেন না, আগের মতো গণিতেও নেই সেই আত্মবিশ্বাস। নতুন স্কুল, নতুন পরিবেশ, বন্ধু কম, পড়াশোনায় অনাগ্রহ সব মিলিয়ে ফলাফল আরও খারাপ হতে থাকে। শিক্ষক, আত্মীয়স্বজন সব জায়গা থেকেই শুনতে হতো, ডাক্তারের ছেলের এমন রেজাল্ট হয় কীভাবে?

শেষ পর্যন্ত SSC তে GPA 3.69 নিয়ে পাশ করেন। এরপর শুরু হয় জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়। নিজের ফলাফল লুকিয়ে রাখতে গিয়ে একের পর এক মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়েছিল। শুরু হয় মিথ্যার জীবন। বিশ্বাস করেন এটা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কষ্টদায়ক অধ্যায়। এই এক মিথ্যার জন্য তাকে অনেক গুলো মিথ্যা বলতে হয়েছিল। চট্টগ্রাম কলেজে চান্স না পেলেও বলেছিলেন চট্টগ্রাম কলেজে আছেন। অথচ ছিলেন বি.এফ. শাহীন কলেজে। ওখানে টিকতে না পেরে ট্রান্সফার হন ওমরগণি এমইএস কলেজে। এখানে পড়ালেখা হত না, সারা বছরই কলেজ বন্ধ থাকত। যেহেতু জীবন মিথ্যায় ভরা ছিল সেহেতু লজ্জা জনক পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য কোন বিয়ে, পার্টি বা জনসমাগম এড়িয়ে চলতেন।

এরপর আসে আরও বড় ধাক্কা। HSC পরীক্ষায় ফেল। দুই বছরের পরিবর্তে চার বছরে HSC শেষ করতে হয়। কিন্তু এই সময়েই তার জীবনে আসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। তার বাবা সবকিছু জেনে যান। শাস্তি নয়, তিনি ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিলেন। সেই মুহূর্তেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন জীবনে আর কোনো কিছু লুকাবেন না, আর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দেবেন।

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামে IIUC প্রথমে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পেলেও সিট সংকুলনে পরে ভর্তি নিতে রাজি হয় । এরপর শুরু হয় সম্পূর্ণ নতুন এক অধ্যায়। প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করতেন, নিয়মিত ক্লাস নোট তৈরি করতেন, নিজের ওপর কঠোর শৃঙ্খলা আরোপ করেছিলেন। ফলাফলও আসে অবিশ্বাস্যভাবে।

টানা ৮টি সেমিস্টারেই ফাস্ট, প্রতিটি সেমিস্টারে স্কলারশিপ, সিজিপিএ ৩.৯০, থার্ড ইয়ারেই ২টি পাবলিকেশন। স্নাতক শেষ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুযোগও আসে। এরপর দক্ষিণ কোরিয়ায় ফুল ফান্ডেড পিএইচডি এর সুযোগ পান। কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে সেই সুযোগ ছেড়ে দেশে ফিরে আসতে হয়। জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল এটি।

এরপর শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার দীর্ঘ সংগ্রাম। একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন, ফান্ডিং ছাড়া এডমিশন, ভিসা রিজেক্ট, ডেফিসিট সবকিছুই তার পথকে আরও কঠিন করে তোলে। অনেকেই হয়তো এখানেই থেমে যেতেন, কিন্তু তিনি থামেননি।

তার কথা অনুযায়ী ৮ বছরে ১১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন, ১৫৫৩ জন প্রফেসরকে ইমেইল, ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রিজেকশন, ভিসা রিজেক্ট।
অবশেষে বহু বছরের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের Texas A&M University-এ Fully Funded PhD-এর অফার পান এবং নিজের স্বপ্নের পথে নতুন যাত্রা শুরু করেন।

লেগে থাকুন। হয়তো আপনার গল্পটাও একদিন হাজারো মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।

29/07/2026

আইনের ছাত্রদের একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস মাথায় রাখা উচিত সেইটা হলো গ্র‍্যাজুয়েসন শেষ হওয়ার সাথে সাথেই প্রোভিশনাল সার্টিফিকেট তুলে আপনি বার কাউন্সিলে ইন্টিমেশন জমা দিয়ে দিবেন। যদি আপনার লক্ষ্য থাকে কোর্টে প্র‍্যাক্টিস করা এলএলএমকে আপনি পরে বেছে নিন মানে মাস্টার্সকে।

আপনাকে বুঝতে হবে কোন পথটা কঠিন এবং কোন পথটা সহজ। এলএলএম আপনি টেনে টুনেও পাশ করতে পারবেন। কিন্তু বার কাউন্সিল এক্সামে আপনাকে একদম দুনিয়ার সব কাজ বাদ রেখে এক বছর টানা পড়তে হবে এবং এরপরেও ধরে নিবেন দুইবার এক্সাম দিতে হতে পারে। মানে টানা এক বছর দিন রাত পড়লে আপনি একবারে বা দুইবারেই সনদ পেয়ে যাবেন। কারন দিনদিন প্রশ্নের মান ভালো হচ্ছে।

যদি প্র‍্যাক্টিস করার ইচ্ছায় থাকে লক্ষ্য ই যেন থাকে আগে সনদ পাওয়া। সনদ পেয়ে গেলে আপনাকে মাস্টার্স করতে তো কেউ থামাবে না। দেখেন হাই কোর্টে এক্সাম দেওয়ার জন্য আপনাকে দুই বছর আগে লোয়ার কোর্টে প্র‍্যাক্টিস করতে হবে। সেই এক বছর মাস্টার্স করে ফেললেন আর পরের এক বছর দিন রাত হাই কোর্টের এক্সামের পড়াশোনা শুরু করলেন।

এই আইন পেশায় ভুল প্ল্যানিং টাইম নস্ট করে দেয়। যাদের ধৈর্য ধরে দিন রাত পড়াশোনা করার সাহস নেই তাদের জন্য এইটা একটু কঠিন হয়ে যাবে। মনে রাখবেন খুব পড়াশোনা। গ্র‍্যাজুয়েসন আর মাস্টার্সে (এল,এল,এম) যা পড়াশোনা এগুলা হলো দুধভাত। আসল পড়াশোনা শুরুই হয় সনদ পাওয়ার আগ পর্যন্ত। এলএলবি গ্র‍্যাজুয়েসন হলো ওয়ার্ম আর্প। মনে রাখবেন আসল যুদ্ধটা শুরুই হয় এলএলবি শেষ হওয়ার সাথে সাথে। বার কাউন্সিলের ৩ ধাপ পরিক্ষার প্রস্তুতির মাধ্যমে।

তারপরে সনদ পাওয়ার পরেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। নয়ত ক্যারিয়ার আগাবে না। মামলা পরিচালনায় ভুল করবেন। জাজ রা আপনার কথা শুনবে না। আমি দেখেছি যে আইনজীবীরা ভালো সাবমিশন দেয় জাজ রা তাদের কথা খুব মনযোগ দিয়ে শুনে। মক্কেল রা ভালো রেমেডি পায়। তাই পড়াশোনা আসলে শুরুই হয় এক্সামের প্রস্তুতির মাধ্যমে। এবং এর কোন শেষ নেই। চলতেই থাকে। তাই রাম সাম যদু মদু চিন্তা করে ল' ব্যাকগ্রাউন্ডে আসার সুযোগ নেই। তাই ফিউচার প্ল্যান করে আগাতে হবে এবং এতে পড়াশোনার কোন বিকল্প নেই।

28/07/2026

ল এর স্টুডেন্ট যারা তাদের বলবো আমি স্টুডেন্ট যখন ছিলাম আমাদের কিছু অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর এবং লেকচারার বার বার বলতেন আপনারা ইংলিশে মাস্টার হয়ে যান। শিক্ষানবীশ জীবনে এসে বুঝি যে আইন পেশার অন্যতম বড় অস্ত্র হলো ইংলিশ। কারণ, হাই কোর্ট ডিভিসন এবং সুপ্রীম কোর্ট অব বাংলাদেশের আইনজীবী হতে আপনাকে ইংলিশে দক্ষ হতেই হবে। এই দুই জায়গায় হলো লাখে আর কোটির খেলা। একশো কোটি টাকার জমির মামলা, দেড়শো কোটি টাকার জমির মামলা। আবার করপোরেট সেক্টর। বিভিন্ন মাল্টি ন্যাশনাল কম্পানির লিগ্যাল অ্যাডভাইজার। যেসব কম্পানির খেলায় হয় অন্যদেশের কম্পানির সাথে চুক্তি করে।

ইংলিশে যদি মাস্টার হওয়া যায় তাহলে আইন পেশায় টাকার ছড়াছড়ি শুরু হওয়া সম্ভব। যাই হোক এই শিক্ষানবীশে আফসোস করি যে আগেই যদি শিখে ফেলতাম ইংলিশটা আরো ভাল করে। এখন সনদের পড়া পড়ি আর দিন রাত ইংলিশ নিয়ে পড়ে থাকি। আপনারা যারা স্টুডেন্ট এই ভুলটা করবেন না। আইনপেশায় ইংলিশ একটা বিশাল বড় অস্ত্র। লাখ টাকার প্লেয়ার হতে চাইলে ইংলিশের দরকার নেই। কোটিতে খেলতে চাইলে একটা বড় কেইস পেলেই জীবন শাইন।
.,........Mosabber Hossain Muid

27/07/2026

অফিস পলিটিক্স: ৩টি অভিজ্ঞতা, কিছু পরামর্শ
বাদল সৈয়দ

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন পড়াতাম। সে সূত্রে সে আমার ছাত্র। ভালো একটি কর্পোরেট চাকরি করত। প্রতিষ্ঠানটির আঞ্চলিক প্রধানও হয়েছিল।

হঠাৎ একদিন তার মেসেজ পেলাম। সে লিখেছে- ‘স্যার, অফিস পলিটিক্সের শিকার হয়ে আমার চাকরি চলে গেছে। এখন ছোটখাট ব্যবসা করার চেষ্টা করছি। আমার জন্য দোয়া করবেন।‘

প্রায় প্রত্যেক চাকরিজীবীকে অফিস পলিটিক্সের শিকার হতে হয়। তাই ভাবলাম এ ব্যাপারে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু লিখি।

অফিস পলিটিক্স অনেক ধরনের হতে পারে। প্রথমে দুটো সত্য ঘটনা বলি।

১ ) আমার চাকরিজীবনের প্রথম দিকের ঘটনা। একজন কমিশনার একটি ভুল করলে তাঁকে সচিব মহোদয় ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য ঢাকায় ডেকে পাঠালেন। কমিশনার সাহেব অবলীলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য বললেন, ‘স্যার, সিদ্ধান্তটি আমার নয়, আমার এক অতি উৎসাহী ডেপুটি কমিশনারের। আমি সেটা আপনার কাছে অনুমোদনের জন্য ফরোয়ার্ড করেছি মাত্র।'

সে হতভাগ্য ডেপুটি কমিশনার ছিল আমার এক ব্যাচমেট। কাজটিতে তার কোনো ভূমিকাই ছিল না। কমিশনারের স্টাফ অফিসার হিসেবে তার অন্যতম দায়িত্ব ছিল আঞ্চলিক অফিসের চিঠিপত্র হেড অফিসে পাঠানো। সে শুধু সেটাই করেছিল।

কমিশনার সাহেবের কথা শুনে সচিব মহোদয় বললেন- 'তুমি যদি তোমার ছোকরা ডেপুটি কমিশনারের কথায় চলো, তাহলে তো সবার আগে তোমাকে স্যাক করা উচিত।‘

সে সচিবের নাম ছিল, আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী।

চাকরিজীবনে এ রকম বলির পাঁঠা হওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকের হয়। কিন্তু মুয়ীদ চৌধুরী স্যারের মতো সুবিবেচক সর্বোচ্চ বস সবার ভাগ্যে জোটে না।

(সে সময় সেখানে উপস্থিত ঢাকার একজন কমিশনার পরে আমাদের ঘটনাটি জানিয়েছিলেন)

২ ) আমার এক তরুণ আত্মীয় খুব নামকরা মাল্টিন্যাশনালে মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টে কাজ করে। সে একবার তার বসের সাথে চমৎকার একটি আইডিয়া শেয়ার করল। বস খুব নির্লিপ্ত ভাব করলেন। তাঁর আচরণ দেখে আমার আত্মীয় ব্যাপারটি নিয়ে আর এগোলো না। ভাবল, আইডিয়াটি কাজের না। কিন্তু পরের টিম মিটিংয়ে সে খুব বিস্ময়ের সাথে দেখল, বস তার আইডিয়াটিকে নিজের আইডিয়া বলে প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে উপস্থাপন করছেন!

অফিস পলিটিক্সের দুটো উদাহরণ দিলাম। এছাড়াও এ পলিটিক্স আরো অনেক রকম হতে পারে।
যেমন-

ক) বসের কানভারি করা হয়।

খ) ইচ্ছে করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা হয় বা সরবরাহ করা হয় না।যাতে সহকর্মী ঠিকভাবে কাজটি করতে না পারেন।

গ) মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে সুনাম নষ্ট করা হয়।

ঘ) অনেক সময় অফিসে কয়েকটি গ্রুপ থাকে, তারা একে অপরের বিরুদ্ধে লেগে থাকে।

ঙ) ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, ইমেইল থেকে দূরে রাখা হয়, যাতে সহকর্মী অফিসিয়াল ব্যাপারে আপ টু ডেট না থাকেন।

কীভাবে মোকাবেলা করবেন?

১) নিজস্ব আইডিয়া একান্তে শেয়ার না করে মিটিংয়ে উপস্থাপন করুন।

২) কোনো কাজের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য না পেলে তা জানানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সহকর্মীকে মেইল করুন এবং তার রেকর্ড রাখুন। প্রয়োজনে ব্যাপারটি বসকেও জানিয়ে রাখুন।

৩) মিথ্যা গুজব ছড়ালে তা যদি গুরুতর না হয় নির্লিপ্ত থাকুন। এটাই হলো বদনামকারীদের মুখে সবচেয়ে কঠিন চপেটাঘাত। তবে তা যদি খুব ক্ষতিকর হয় তবে সে ব্যাপারে নিজেই বসের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সত্যতা যাচাই করার অনুরোধ জানান। এতে আপনার সৎ সাহস প্রমাণিত হবে।

৪) অফিস গ্রুপিংয়ে কোনো পক্ষই অবলম্বন করবেন না।

৫) কেউ জানাবে, তার জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই অফিসের ব্যাপারে আপ টু ডেট থাকুন।

৬) মাথা ঠাণ্ডা রাখুন। অফিস পলিটিক্সে মাথা গরম করলে হেরে যাবেন। ঠাণ্ডা মাথার পায়ের নিচে পৃথিবী গড়াগড়ি দেয়, আর গরম মাথার মানুষ মাটিতে গড়াগড়ি খায়।

৭) সহকর্মীদের সাথে ব্যক্তিগত দুর্বলতা শেয়ার করবেন না। তা পরে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে। ( খুব বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত হলে ব্যতিক্রম হতে পারে )

৮) আপনার রিপোর্টিং অথরিটিই আপনার ইমিডিয়েট বস। তাঁর মাধ্যমেই টপ ম্যানেজমেন্ট আপনার মূল্যায়ন করবেন। তাই তাঁর সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখুন। তাঁকে কাজের অগ্রগতি ও ব্যর্থতা নিজেই জানান। তা হলে তাঁর কান ভারী করা সহজ হবে না।

৯) সবার সাথে সৌজন্য বজায় রাখুন। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ শুভাকাঙ্ক্ষী সিনিয়র কারো পরামর্শ নিন।

১০ ) নিজ ব্যক্তিত্ব ধরে রাখুন। কারণ, সমুদ্রের ঢেউ যেমন শক্তভাবে বাঁধাই করা তীরে বাড়ি খেয়ে সমুদ্রেই ফিরে যায়, ঠিক তেমনি ব্যক্তিত্বের উচ্চতার সাথে ধাক্কা খেয়ে চক্রান্তও ফিরে যায়।

অফিস এক ধরনের দাবার বোর্ড। আপনি না চাইলেও এখানে কেউ কেউ আপনার বিরুদ্ধে চাল দিতে পারে। সেটা ঠেকাতে হলে আপনাকেও পাল্টা চাল দিতে হবে।

তবে মনে রাখবেন-
'One careless move can cost the king.'

'একটা ভুল চাল আপনার রাজাকে রাজ্যহারা করবে।'

আরেকটি কথা, দয়া করে অফিস পলিটিক্সের প্রথম চাল আপনি দেবেন না। শুধু প্রয়োজনে আত্মরক্ষায় পাল্টা চাল দেবেন।

অফিস পলিটিক্সের প্রথম চাল দেয় নোংরা লোকেরা।

27/07/2026

এই পোষ্ট টা শুধুমাত্র আইনজীবীদের জন্য। শুধুমাত্র বিজ্ঞ আইনজীবীগনই কমেন্ট করবেন। অনুগ্রহপূর্বক আইনজীবী ব্যাতীত অন্য কেউ কমেন্ট করবেন না। আপনারা শুধু আইনের প্রশ্ন ও উত্তর দেখতে থাকুন।

----------- এডভোকেট জি এম মর্তুজা

প্রসঙ্গঃ সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম।

প্রশ্ন- সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম কি আসলেই অপরাধী? অপরাধী হয়ে থাকলে কি কি অপরাধ করেছেন?
উত্তরঃ আইনগত ভাবে এবং ধর্মীয় ভাবে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম কোন অপরাধ করেন নি। তার বিরুদ্ধে কোন অপরাধ প্রমান করা যাবেনা। কিন্তু কেন?

আইনের যুক্তিঃ
১। গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার ২য় স্ত্রী মারিয়ামের নিকাহ্ নামা বৈধ। আপনি কোভাবেই প্রমান করতে পারবেননা যে, নিকাহ নামা অবৈধ। আপনি বলতে পারেন যে, নিকাহ নামা পরে সম্পাদন করা হয়েছে। তা ঠিক আছে। কিন্তু নিকাহ নামা বিয়ের অনেক পরেও সম্পাদন করা যায়। আবার নিকাহ নামায় বিয়ের প্রস্তাবের তারিখ এবং বিবাহ রেজিষ্ট্রির তারিখ আলাদাও হতে পারে। যেমন- আমি বিয়ের প্রস্তাব দিলাম এবং আলহামদুলিল্লাহ্ কবুল বলে বিয়ে করলাম আজকে, কিন্তু নিকাহ নামায় রেজিষ্ট্রি করলাম ৫ বছর পরে। এটা আইন এবং ধর্মীয় উভয় ক্ষেত্রে বৈধ। নিকাহনামা বিয়ের শর্ত নয়। নিকাহনামা বিয়ের প্রমান বহন করে মাত্র। আমাদের পূর্ব পূরুষেরা নিকাহনামা ছাড়াই বিয়ে করতেন।

২। সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে কি বৈধ?

উত্তর- হ্যা, বিয়ে বৈধ। কারন, ১ম স্ত্রী, ২য় স্ত্রী, শশুর ইত্যাদি কেউ অভিযোগ করেনি বিয়ের বিরুদ্ধে। যেহেতু কাবিন নামা আছে, সেহেতু, তারা ব্যাতীত অন্য কেউ বিয়ে অবৈধ দাবী করলে আইনী এবং ধর্মীয়ভাবে তা অগ্রহনযোগ্য। তাছাড়া তারা স্বামী, স্ত্রী উভয়েই প্রাপ্তবয়স্ক।

৩। এমপি বুড়া বয়সে এত অল্প বয়সের একটা মেয়েকে বিয়ে করে কাজটা কি ঠিক করলো? উত্তর-বিবাহের ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য আইনীভাবে এবং ধর্মীয়ভাবে গ্রহনযোগ্য। বয়সের পার্থক্য বিবাহের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাড়ায় না। উদাহরন হিসেবে আমি বলতে পারি,

ক) শেখ মুজিবরের বিয়ের সময় ফজিলাতুন্নেছার বয়স ছিল ৯ বছর।

খ) হুমায়ুন আহাম্মেদ যখন তার মেয়ের বান্ধবী শাওনকে বিয়ে করে, তখন হুমায়ন আহাম্মেদ ছিল আনুমানিক ৫০+ এবং মেহের আফরোজ শাওনের বয়স ছিল আনুমানিক ২১ বছর।

গ) রবীন্দ্রনাথের বিয়ের সময় স্ত্রীর বয়স ছিল ৬ বছর।

ঘ) রাম যখন সীতাকে বিয়ে করে তখন সীতার বয়স ছিল ৯ বছর।

চ) বিশ্বনবী যখন ১ম বিয়ে করেন তখন বিশ্বনবীর বয়স ছিল ২৫ বছর এবং বিশ্বনবীর স্ত্রীর বয়স ছিল ৪০ বছর। এছাড়াও বিশ্বনবীর বয়স যখন ৫০ বছর তখন বিশ্বনবী এক সাহাবীর ৯ বছরের মেয়েকে বিয়ে করেন আলহামদুলিল্লাহ। সুতরাং বয়সের পার্থক্য বিবাহে বাধা হয়ে দাড়ায় না। এই দিক দিয়ে এমপির কোন অপরাধ হয়নি।

৪। এমপি নারী নিয়ে হোটেলে গেল কেন? উত্তর- এমপি তার স্ত্রীকে নিয়ে পৃথিবীর যে কোন জায়গায় যেতে পারে। আইনীভাবে এবং ধর্মীয় ভাবে কোন বাধা নাই।

৫। তাহলে, এমপি তার বউকে নিয়ে হস্টি নস্টি করলো কেন? উত্তর- হলো- স্বামী স্ত্রীর মেলামেশাকে হস্টি নস্টি বলা হয় না। এটাকে ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ বলে। এমপি জনসম্মুখে তার বউকে চুমু দেয়নি। এমপি তার ভিডিও নিজে ভাইরাল করেনি। এমপির স্ত্রী ভিডিও ভাইরাল করেনি। যারা ভাইরাল করেছে তারা বিষয়টিকে জনসম্মুখে এনে ফৌজদারী অপরাধ করেছে। তারাই আইনীভাবে এবং ধর্মীয়ভাবে অপরাধ করে এমপি দম্পতির সম্মান হানি করেছে।

৬। এমপি পাপ কাজ করে ধরা খেয়েছে?
উত্তর- এমপি তার বউয়ের সাথে চুমু খেয়েছে। এটা যদি অপরাধ হয়, তাহলে আমরা সবাই অপরাধী। এমপি তার স্ত্রীকে নিয়ে যেখানে খুশী যেতে পারবে। তাতে আপনি আমি বলার অধিকার রাখিনা। হোটেলে গিয়ে এমপি কোন অপরাধ করেনি। বউকে নিয়ে হোটেলে যাওয়া অপরাধ, এই মর্মে আইনে কোথাও বলা নেই। বরং অপরাধ করেছে তারা, যারা স্বামী স্ত্রীর রুমে অবৈধভাবে ডুকে ভিডিও ধারন করে ছড়িয়ে দিয়েছে।

৭। এমপির একাধিক মেয়ের সাথে কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে? এখন আপনি কি বলবেন? উত্তর হলো- এমপির সবগুলো ভিডিওতে একজন মাত্র মেয়ে ছিল। আর সেটি হলো তার ২য় স্ত্রী মারিয়াম।

৮। হোটেল রুমে ডিজিএফআইএর প্রশ্নের মুখে এমপি বলেনি কেন তারা স্বামী স্ত্রী? এবং কেন বলেছিলো, আমাকে ক্ষমা করে দেন? উত্তর- কোন হোটেল রুমে বা আপনার নীজ বাড়িতে যখন একদল ডিজিএফআই এর লোকেরা আপনাকে একের পর এক প্রশ্ন করে যাবে, তখন সাভাবিকভাবেই আপনার মুখ দিয়ে উল্টা পাল্টা কথা বেরুবে। এমপি ভয় পেয়ে গিয়েছিল। এমপিকে হুমকি স্বরুপ প্রশ্ন করাতে ভয়ে এই কথা বলেছিল। তাই বলে এমপির বিয়ে অবৈধ প্রমান করতে পারবেন না। বরং যারা এমপির হোটেল রুমে অবৈধভাবে ঢুকে ভিডিও ধারন করে ছড়িয়ে দিয়েছে, তারাই ফৌজদারী অপরাধ করেছে।

৯। এমপি এতদিন বিয়ে করলোনা কেন? এবং কাবিন নামাটি ঘটনার পরে করলো কেন? উত্তর- কাবিননামা করা বিবাহের শর্ত নয়। কাবিননামা হলো বিবাহের প্রমান। আমাদের পূর্ব পুরুষেরা যখন বিয়ে করতো, তখন কাবিন নামাই ছিলনা। আপনি বিয়ে করার কয়েক বছর পরেও কাবিননামা করতে পারেন। এমপিও ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক পূর্বে বিয়ে করেছিল এবং কাবিননামা পরে সম্পাদন করেছে। এমপির ২য় স্ত্রীর বয়স ১৮ বছর পূর্ন হওয়ার পরেই কাবিন নামা সম্পাদন হয়েছে। তাছাড়া এমপি হলেন তার শশুরের আপন খালু। বিষয়টি সবাই জানতেন এবং সকলের জানামতেই তাদের বিয়ে হয়েছে। তাতে আপনার আমার কিছু করার নেই বা বলার নেই।

১০। তাহলে জামায়াত থেকে তাকে নৈতিক স্খলনের দায়ে বহিস্কার করা হলো কেন? উত্তর- জামায়াতের সংবিধানে এমপিকে নিয়ে নৈতিক স্খলন জনিত কোন কারন থাকতে পারে, সেজন্য বহিস্কার করা হতে পারে। যেমন, ২য় বিয়ে করতে হলে জামায়াতের সংগঠনকে অবশ্যই জানিয়ে, অনুমতি নিয়ে ২য় বিয়ে করতে হবে। হয়তো এমপি ২য় বিয়ে করার আগে সংগঠনের অনুমতি না নিয়ে নৈতিক স্খলন জনিত অপরাধ করেছেন। হয়তো তাই সংগঠন থেকে এমপিকে বহিস্কার করা হয়েছে।

১১। এমপি এতো কিছু করলো অথচ আপনার কাছে কোন কিছুই অপরাধ মনে হলো না?
উত্তর- আমার কাছে কোন অপরাধ মনে হয়নি। কারন, তারা ছিল স্বামী-স্ত্রী। তারা যা করেছে তা স্বামী-স্ত্রীর ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ থেকে করেছে। কারো সামনে গিয়ে কিছু করেনি। বরং, যারা অবৈধভাবে রুমে ঢুকে ভিডিও ধারন করে, সিসি ক্যামেরা খুজে খুজে ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে কলুসিত করেছে, তারাই ধর্মীয়ভাবে এবং ফৌজদারী আইনে অপরাধ করেছে।

১২। তাহলে এখন কি হবে?
উত্তর- এমপি বা তার স্ত্রী যদি মামলা করে তাহলে অনেকে শাস্তির আওতায় আসবে, ক্ষতিপূরন পাবে এমপি গাজী নজরুল এবং তার স্ত্রী মারিয়াম।
----------- এডভোকেট জি এম মর্তুজা

27/07/2026

নরমালি সুইসাইড করা লোকজনের প্রতি কোনো sympathy/empathy কাজ করে না আমার।কিন্তু গতকাল আমার ডিপার্টমেন্টের(বুয়েট মেকানিক্যাল) ইমিডিয়েট জুনিয়র সুইসাইড করলো, এই ঘটনা আমি নিজে ফিল করতে পারতেছি। যদিও ওর সাথে সরাসরি পরিচয় ছিল না কিন্তু সে কোন ধরনের মেন্টাল সিচুয়েশনের মধ্যে দিয়ে গেছে এটা ফিল করতে পারতেছি।
BUET কে অনেকে Land of Living বলে কিন্তু আমার কাছে এটা Land of Depressed Souls।বেশিরভাগ ছেলেপেলের চোখেমুখে হতাশা খেয়াল করলেই বুঝা যায়।ফাস্ট ইয়ারের ছেলেদের চোখেমুখে যে আনন্দ থাকে তা বেশিদিন স্থায়ী হয় না।
এই ছেলেটা ব্যাচের সাথে বের হতে পারেনি।খুব বেশি বাকি ছিল এমনও না। ১/২ টার্ম আরেকটু ধৈর্য ধরলেই হয়তো হয়ে যেত।বুয়েটে যারা একবার পিছিয়ে পড়ে তাদের জন্য বুয়েট লিটারেলি একটা জাহান্নাম।একটা পরীক্ষা না দিতে পারলে / ল্যাগ খাইলে সেটা আবার এক্সাম দিলে ৪ এর মধ্যে ৩ এর বেশি পাওয়ার অপশন নাই।
এই ছেলেটা ব্যাচের সাথে থিসিসও নিতে পারেনি।থিসিস নেওয়ার জন্য মিনিমাম ক্রেডিট বেশ কিছু ডিপার্টমেন্টে কয়েক ক্রেডিট কম থাকলেও কন্সিডার করে কিন্তু মেকানিক্যালে ০.২৫ ক্রেডিট কম থাকলেও দেয়নি এমনও শুনেছি।ব্যাচের সাথে থিসিস না পেলে না বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পার্টনার ছাড়া একা থিসিস করতে হয়।কোনো স্যার ল্যাগারদের প্রতি কোনো সিম্প্যাথী দেখায় না। পদে পদে অপদস্ত হওয়ার সব বন্দোবস্ত বুয়েট করে রাখছে।
মেন্টালি স্ট্রং না থাকলে এই ফেইজ পার করে পাশ করে বের হওয়া বেশ কঠিন।জুনিয়রদের সাথে ক্লাস করতে যাদের হয় তারা কি রকম মেন্টাল কন্ডিশনের মধ্যে দিয়ে যায় তা সরাসরি এক্সপেরিয়েন্স না থাকলেও ফিল করতে পারি।এই সিচুয়েশনে যারা পড়ে তাদের সেল্ফ কনফিডেন্স পুরো ধ্বংস হয়ে যায়।এমন না যে তারা স্টুডেন্ট হিসেবে খারাপ কিন্ত নিজের প্রতি কনফিডেন্স ধ্বংস হয়ে গেলে সেই মানুষের বেঁচে থাকা খুব কষ্টকর হয়ে যায়।বুয়েটে চান্স পাওয়া প্রায় সবার উপরই পরিবারের এক্সপেকটেশন অনেক হাই থাকে।ফলে এই সিচুয়েশনে পরিবারের কারো সাথেও সে নিজের দুঃখ-কষ্ট শেয়ার করতে পারে না।
এই সিচুয়েশনে ফেস করা স্টুডেন্টের সংখ্যা টেন পার্সেন্টও হবে না হয়তো। বুয়েটের টিচাররা সবাই ডিপার্টমেন্টের টপার ছিল।তাই তারাও এই ক্যাটাগরির স্টুডেন্টদের সাফারিংস ফিল করতে পারে না।আল্টিমেটলি যখন বন্ধুবান্ধবরা হল থেকে বের হয়ে যায় সবাই, ফ্যামিলির সামনে দেওয়ার মত কোনো সদুত্তর থাকে না, টিচারদের থেকেও কোনো মেন্টাল সাপোর্ট পাওয়া যায় না তখন যারা একটু ইন্ট্রোভার্ট তাদের দুনিয়া একদম সংকীর্ণ হয়ে আসে। বুয়েটে যারা আসে তাদের প্রায় সবারই জীবনে কখনো ফেইলুর হ্যান্ডেল করার এক্সপেরিয়েন্স থাকে না।ইন্টার পর্যন্ত সব কাপায় এসে বুয়েটে ভর্তি হয়ে যখন পিছায়ে যায় তখন যেই সাইকোলজিক্যাল ট্রমার লুপে একবার আটকে যায়, তার জন্য সেখান থেকে নিস্তার পাওয়া বেশ দূরূহ।
ছেলেটা প্র্যাকটিসিং না এমনও না, সে সুইসাইড করার আফটার ইফেক্ট ভালোভাবেই জানতো কিন্তু এত রাজ্যের হতাশায় হয়তো নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেনি।
সুইসাইড করা কাপুরুষের কাজ।জীবনে পিছায় পড়লে আবার লড়াই করে ঘুড়ে দাঁড়ানোর হিম্মত রাখতে হবে।জুনিয়রদের প্রতি অনুরোধ কারোর যদি এমন চিন্তাভাবনা মাথায় আসে ক্লোজ সিনিয়রদের সাথে একটু বসিস।গল্প করিস দেখবি হালকা হয়ে যাবি।আমাকেও নক দিতে পারিস যেকোনো সময়।বুয়েটে গিয়ে একসাথে চা খেতে খেতে গল্প করে আসবো।হয়তো কিছু সুপরামর্শও দিতে পারবো।

- শেখ আসিফ আহমেদ

24/07/2026

বাংলাদেশে এক টুকরো চীন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট
==== ====
চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াসের নাম আমরা প্রায় সকলেই জানি। তবে তাঁরই নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট সম্পর্কে আমরা কজনই বা জানি। বিশ্ব দরবারে চীনা ভাষা ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার লক্ষ্যে ২০০৪ সালে প্রথম দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট যাত্রা শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে এশিয়া, আমেরিকা, ইউরোপ থেকে শুরু করে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে অসংখ্য কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট গড়ে ওঠে।
বর্তমানে বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট রয়েছে এবং শান্তা-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিতে একটি কনফুসিয়াস ক্লাসরুম রয়েছে। অবাক করার বিষয় হলো, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঁচশোর মতো কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এবং নয় শতাধিক কনফুসিয়াস ক্লাসরুম চলমান আছে। কেবল আমেরিকাতেই কনফুসিয়াস ইন্সটিটিউটের সংখ্যা একশ’র কাছাকাছি।
চীন-বাংলাদেশের মধ্যকার ভাষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও ঐতিহ্য বিনিময় সহায়ক হিসেবে ২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশ-চীন সরকারের যৌথ উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের ছয় তলায় এ ইন্সটিটিউটের যাত্রা শুরু। ২০১৬ সালে চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিন ফিং এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং চীনের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ সহযোগিতায় পরিচালিত হয়।
বিগত বছরগুলোতে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট। এখানে দেখা মিলবে মনোমুগ্ধকর এক টুকরো চীনের, যেখানে সাড়ি সাড়ি লাল রঙয়ের লণ্ঠন দিয়ে সজ্জিত আছে করিডর।
এ ইনস্টিটিউট নিয়ে শিক্ষার্থীদেরও কৌতূহলের শেষ নাই। প্রথম দেখায় যে কেউ চমকে উঠে। এত রঙ্গিন, এত চমৎকার ইন্সটিটিউটে কী পড়ানো হয় এখানে? এত বিদেশী মানুষজনই বা আসে কোথা থেকে? তাদের ভাষা তো কিছুই বুঝি না, খালি চেং-চুং বলে। এ ভাষা মানুষ শিখে কী করে? আবার অনেকে প্রশ্ন করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের সঙ্গে এর পার্থক্য কী? মজার বিষয় হলো, কনফুসিয়াস ইন্সটিটিউটের লাল রঙ্গে সজ্জিত করিডরে প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী আসে। কেউ আসে ভাইভা পরীক্ষা শেষে সুন্দর একটা ছবি তুলতে, আবার কেউ কেউ আসে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে চেং-চুং বলা চীনাদের সঙ্গে কথা বলতে।
এবার কনফুসিয়াস ইন্সটিটিউটের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যাক।
বাংলাদেশে চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি প্রসারের অন্যতম এক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে চলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট। এখানে দক্ষতার সঙ্গে চীনা ভাষা শেখানো হয়। চীনা ভাষা শেখার ধাপ এইচএসকে (ঐঝক) প্রথম থেকে পঞ্চম পর্যন্ত শেখার ব্যবস্থা রয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে এ যাবৎ সাত হাজারের বেশি শিক্ষার্থী চীনা ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছে এবং বর্তমানে ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী এ ভাষা শিখছে।
এখানে শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য অনলাইন এবং অফলাইনে ক্লাসের ব্যবস্থা আছে। বাংলাদেশে তিনটি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট থেকে প্রতি সেমিস্টারে বারো শতাধিক শিক্ষার্থী চীনা ভাষা শিখে থাকে। এ সংখ্যা থেকে বাংলাদেশে তৃতীয় ভাষা হিসেবে চীনা ভাষার জনপ্রিয়তা কিছুটা হলেও আঁচ করা সম্ভব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটে একজন চীনা পরিচালক, তেরোজন চীনা শিক্ষক এবং দুজন বাংলাদেশী শিক্ষক কর্মরত আছেন। এ প্রতিষ্ঠানের ভাষা শিক্ষার পরিধি দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ এবং এর বাইরে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে চীনা ভাষার কোর্স প্রদান করে থাকে। যার মধ্যে অন্যতম হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগ, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ, সংগঠন কৌশল এবং নেতৃত্ব বিভাগ, ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড গবেষণা কেন্দ্র এবং উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
এ ইনস্টিটিউটটি দু’দেশের মধ্যকার ভাষা ও সংস্কৃতির সেতুবন্ধ দৃঢ় করার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এখানে শুধু চীনা ভাষাই যে শেখা যায় তা নয়, চীনাদের জন্য রয়েছে বাংলা ভাষা শেখার সুযোগ। বাংলাদেশী শিক্ষক চীনা ভাষা শেখানোর পাশাপাশি পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত চীনা প্রকৌশলীদের বাংলা ভাষা শেখান। এছাড়াও বিভিন্ন চীনা কোম্পানি এবং উদ্যোক্তাদের জন্য রয়েছে বাংলা ভাষা শেখার কোর্স।
ভাষা শেখার অন্যতম উপলক্ষ হলো সে দেশের সংস্কৃতিকে জানা। ভাষা শেখার মাধ্যমে পরিচয় ঘটে ঐ ভাষার সংস্কৃতির সঙ্গে। কনফুসিয়াস ইন্সটিটিউটে শিক্ষার্থীরা ভাষা শেখার পাশাপাশি সংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়। এখানে মার্শাল আর্ট থেকে শুরু করে ক্যালিগ্রাফি, চা সংস্কৃতি, লিখন পদ্ধতি হানজি, পেপার কাটিং, চিত্রাঙ্কনের কোর্স রয়েছে। যে কোনো শিক্ষার্থী বিনামূল্যে এ কোর্সগুলোয় অংশ নিতে পারে।
কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট প্রতিবছর চীনের বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের আয়োজন করে, যেখানে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে উৎসবগুলো উদ্যাপন করেন। প্রতিবছর চীনের বসন্ত উৎসব বা নববর্ষ, লণ্ঠন উৎসব, ড্রাগন নৌকা উৎসব, মধ্য শারদীয় উৎসবের আয়োজন করে। এসব উৎসবে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ধরনের নাচ, গান, ঐতিহ্যবাহী নাটক, পাখা নাচ, ড্রাগন নাচ, সিংহ নাচ, খেলাধুলা যেমন থৌ হো, থি চিয়েন জি, মাস্ক অঙ্কনের আয়োজন করে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মজাদার ঐতিহ্যবাহী খাবার বিশেষ করে ড্রাগন নৌকা উৎসবে চুংজি, মধ্য শারদীয় উৎসবে মুন কেক, বসন্ত উৎসবে চিয়াওজি থাকে। এছাড়াও তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হানফু পরার সুযোগ থাকে।
কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট চীনা ভাষা সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন ক্যাম্পের আয়োজন করে। চীনা ভাষা প্রতিযোগিতার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো- চীনা ভাষা সেতু, চীনা লাংসং, ক্যালিগ্রাফি, গান, ভিডিও, চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা ইত্যাদি। এ প্রতিযোগিতায় ভালো ফলকারী শিক্ষার্থীরা চীনে বৃত্তি থেকে শুরু করে গ্রীষ্মকালীন এবং শীতকালীন ক্যাম্পে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকে। গতবছর চীনা ভাষা সেতু প্রতিযোগিতার দুজন বিজয়ী চীন ভ্রমণের সুযোগ পেয়ে সম্প্রতি চীন থেকে ঘুরে এসেছে।
কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট থেকে চীনা ভাষা শিখে প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষার্থী চীনে পাড়ি জমায় উচ্চশিক্ষার জন্য। চীনের বিভিন্ন বৃত্তি যেমন : কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট চীনা ভাষা শিক্ষক বৃত্তি, চীন সরকারের বৃত্তি, প্রাদেশিক বৃত্তি, বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তিতে আবেদন করার সুযোগ পায়। এক্ষেত্রে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট সরাসরি সুপারিশের পাশাপাশি বিভিন্ন বৃত্তিতে আবেদনের ক্ষেত্রে সুপারিশ পত্র দিয়ে থাকে।
কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশী চীনা শিক্ষকদের চীনা ভাষাজ্ঞান ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধি করার লক্ষ্যে চীনা ভাষার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে। এ বছরের জুন মাসে বাংলাদেশের পনেরো জন শিক্ষক বেজিংয়ে চীনা ভাষার প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করবে। এছাড়া ভাষা শিক্ষা উপকরণ, গবেষণার দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানটি।
কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট চীনা ভাষা শেখানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চীনা ভাষার দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার আয়োজন করে থাকে। বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড চাইনিজ সেন্টার চীনা ভাষায় দক্ষতা পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চীনে উচ্চশিক্ষা কিংবা বৃত্তির আবেদনের ক্ষেত্রে এ সকল পরীক্ষার সনদপত্র থাকলে অনেক সহজে বৃত্তি পাওয়া যায়। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কনফুসিয়াস ইন্সটিটিউটে চীনা ভাষায় দক্ষতা পরীক্ষা এক থেকে ছয় পর্যন্ত দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতি দুই মাস পরপর এ পরীক্ষা নিয়ে থাকে।
এ ইনস্টিটিউট চীনা ভাষা শিক্ষাদান, দু’দেশের সংস্কৃতি বিনিময় সম্পর্কিত অসংখ্য সেমিনারের আয়োজন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিবছর নভেম্বরে বাংলাদেশে চীনা ভাষা শিক্ষা বিষয়ক সেমিনার, চীনের সাংস্কৃতিক বিষয়ক ফোরাম, চীনে দারিদ্র্য বিমোচনের অভিজ্ঞতা বিষয়ক সেমিনার, চীন-বাংলাদেশ লোকসংগীত বিনিময় সভা, বেল্ট অ্যান্ড রোড সেমিনার ইত্যাদি বিষয়ক ফোরামের আয়োজন করে।
এসব ফোরাম এবং সেমিনার দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বিনিময় মাধ্যমকে আরো প্রসারিত করে তুলে। এছাড়াও চীন-বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, শিক্ষকের জন্য দু’দেশে গবেষণা ও ফোরামে অংশগ্রহণের আয়োজন করে। অদূর ভবিষ্যতে দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরো বেশি ত্বরান্বিত হবে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করা যায়।

Want your school to be the top-listed School/college in Lalmonirhat?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Lalmonirhat
5500