13/05/2024
এস,এস,সি-২০২৪ ইং
#ফলাফল_পর্যালোচনা
এসএসসি-২০২৪ ইং পরীক্ষায় অত্র বিদ্যালয় থেকে ১০২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৭৭ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয় এবং বাকি ২৫ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়।যা শতাংশ হিসেবে ৭৫.৪৯।উক্ত ফলাফলে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরিচালনা পরিষদ এবং অভিভাবক মন্ডলী সবাই ব্যথিত।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে গেলে অনেকগুলো বিষয় উঠে আসবে। যেমন শিক্ষকদের দায়,অভিভাবকদের দায়,শিক্ষার্থীদের দায়,পরিচালনা পরিষদের দায়।আসুন আমরা কারণ গুলো বিশ্লেষণ করে দেখি-
#শিক্ষকদের_দায়-সবচেয়ে জনপ্রিয় দায় হচ্ছে সম্ভবত শিক্ষকদের...!!! সমালোচকরা সবাই শিক্ষকদের সকল দোষ দিয়ে নিষ্কৃতি পেতে চান।আমরা ও এই দায় পুরোপুরি এড়াতে চাই না।আপনারা হয়তো জানেন না বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১৫ জন শিক্ষকের স্থলে মাত্র ০৯ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন...!!বিজ্ঞান, ICT সহ ০৬ জন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষকের কোটা শূন্য। সরকারের নিয়োগ জটিলতার দায় কে নিবে..!!! মাত্র ০৯ জন শিক্ষক নিয়ে সত্যিই কি ১৫ জন শিক্ষকের সকল দায়-দায়িত্ব পালন সম্ভব....!!তবু অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার মাধ্যমে মাত্র ৯জন শিক্ষক নিয়ে আমরা পাঠদান করে যাচ্ছি।
আপনারা যারা হায়! হায়! গেল! গেল! রব উঠাচ্ছেন....!আপনারা কি শুধুমাত্র ২০২৪ইং সালের ফলাফল বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন....!!নিকট অতীতের ফলাফল কি একবার ও বিশ্লেষণ করেছেন.....!!!আপনাদের জ্ঞাতার্থে বিগত ৫ বছরের ফলাফল দিচ্ছি,একটু বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিন-
২০২০-৯৮.১২% A+-01,
২০২১ -৯৫.৩১%, A+-07,
২০২২-৯০.০৭%, A+-09,
২০২৩-৯৫.০৮%,A+-07
২০২৪-৭৫.৪৯%,A+-00
কিছু কিছু অভিভাবক তারা শিক্ষকদের উপর সকল অভিযোগের তীর নিক্ষেপ করে নিজেদের মুক্ত করতে চাইছেন।একটু চিন্তা করে দেখেছেন আপনার বাচ্চাটা দিনের ২৪ ঘন্টার ভিতরে ৬ ঘন্টা বিদ্যালয়ে থাকে।বাকি ১৮ ঘন্টা আপনাদের দায়িত্বে থাকে। যেসব বাচ্চা বাবা মায়ের কথা শুনে, রাতের ১০/১১ টা পর্যন্ত পড়াশুনা করে, আড্ডাবাজি করে না, তারা তো কখনো ই খুব ভালো না হোক ফেল করতে পারে না।
বিগত ব্যাচের বেশ কিছু শিক্ষার্থী স্থানীয় রাজনীতির সাথে জড়িত হয়েছিল। যা উক্ত ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। এছাড়া দোকানে/বাজারে আড্ডাবাজিসহ বিভিন্নরকম শৃঙ্খলাভঙ্গের সাথে জড়িত ছিল।তাদের বিভিন্নরকম লঘুদন্ডে দন্ডিত করলে ও তারা সুকৌশলে পুন:পুনঃ বিপদগামী হয়েছে। যা সামগ্রিক ভাবে ফলাফল প্রকাশে ফুটে উঠেছে।
বিগত শিক্ষাবান্ধব কমিটির নেতৃত্বে বিদ্যালয় ২০২২,২০২৩ ইং এ বিদ্যালয় ভালো ফলাফল করলে ও ২০২৪ সালে বিপর্যয় ঘটেছে। উনারা শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত কারণ গুলোতে আরো কঠোর হস্তে দমন করলে হয়তো বা আরো ভালো ফলাফল পাওয়া যেত।
শিক্ষক,শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কমিটি কিছুটা সমন্বয়হীন ছিল।শিক্ষার্থীরা তাদের বিষয় ভিত্তিক সমস্যা নিয়ে শিক্ষকদের সাথে অন্যান্য ব্যাচের তুলনায় খুবই নগন্য পরিমাণে পর্যালোচনা করেছে,এছাড়া অভিভাবকগণ অনুরূপভাবে বাচ্চাদের আচরণিক বা পড়াশোনা কেন্দ্রিক সমস্যা সমাধানে শিক্ষকদের স্বরনাপন্ন হোন নাই বললেই চলে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে ফলাফল কেন্দ্রিক অনলাইন, অফলাইনে যত আলোচনা, সমালোচনা সেখানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক,শিক্ষার্থী, শিক্ষার্থীর অভিভাবক, কমিটি এদের মতামত নেই বা নেওয়ার প্রয়োজন ও মনে হলো না...!!!শিক্ষার্থীর ফলাফলের সাথে যারা সরাসরি জড়িত তাদের মতামত ছাড়াই ৪র্থ/৫ম পক্ষ শিক্ষকদের ঘায়েল করে যাচ্ছে...!!!এ ধরনের একটা জনগুরুত্বপূর্ণ পোস্ট কিভাবে ভ্যরিফাইড হয় ...!! যেখানে নিয়ামক দুই পক্ষের মতামত ছাড়াই ৩য় পক্ষ মতামত দিয়ে যাচ্ছে....
সামগ্রিক ভাবে বলা যায় শিক্ষক স্বল্পতা, শৃংঙ্খলাভঙ্গ,ছাত্ররাজনীতি,অভিভাবকদের উদাসীনতা,শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, কমিটি সমন্বয়হীনতা উক্ত ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।
আমরা আশাকরি আগামীতে অত্র বিদ্যালয় উল্লেখিত কারণ সমূহের যথাযথ সমাধান পূর্বক অতীতের ন্যায় ভালো ফলাফল করে বিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করবে।