মানব জীবনে সভ্যতার মাপকাঠি গুলোর মধ্যে প্রধান পরিমাপক হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষা শব্দটি এই গ্রহের সর্বজন স্বীকৃত অপরিহার্য উপাদান। আমাদের দেশের শিক্ষা হচ্ছে সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। প্রতিযোগীতামূলক বিশ্বে যদিও আমরা শিক্ষার মান, গুন ও সংখ্যার বিচারে পিছিয়ে আছি তবুও শিক্ষার প্রসারত বৃদ্ধিতে আমাদের দেশের আলোকিত মানুষ ও গুণীজনদের উত্তোরত্তর ভূমিকা কোন অংশে পিছিয়ে নেই। অনেকটা জোর দিয়ে বলা যায় সমাজের এই
গুণীজন ও বিদ্যা উৎসাহি ব্যক্তিবর্গই মূলত শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিভিন্ন চেষ্টা উদ্যোগের মাধ্যমে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। কাজির দীঘিরপাড় সমাজ কল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়টি অনুরূপ ভাবে সমাজসেবী কিছু দেশ প্রেমিক ও বিদ্যুৎসাহী ব্যক্তিবর্গের সহযোগীতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অত্র এলাকার প্রাচীন বাজার কাজির দিঘীপাড়ের নামানুসারে বিদ্যালয়টির নাম করণ করা হয়েছে। মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল করীম চৌধুরীর উদ্যোগে সাড়া দিয়ে তৎসময়ের উদ্দিপ্তময় কিছু সবুজ প্রাণ মানুষ এগিয়ে আসেন ও বিদ্যায়লটি প্রতিষ্ঠা করেন। এদের মধ্যে এডভোকেট মরহুম মোজাপ্পর আহম্মদ চৌধুরী, মরহুম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মরহুম তোফায়েল আহম্মদ ভূঁইয়া, মরহুম বসারত হোসেন পাটোয়ারী, মরহুম মজীবুল হক পাটোয়ারী, হাজী নুরুল ইসলাম (মনু ড্রাইভার), মোহাম্মদ আলী মিয়া প্রমূখ ব্যক্তিবর্গ বিশেষ ভূমিকা রাখেন।প্রতিষ্ঠাকালীন ছাত্রদের মধ্যে মরহুম রফিক উল্যা, তোফাজুল হোসেন, জাপর আহম্মদ চৌধুরী প্রমুখদের অক্লান্ত পরিশ্রম রয়েছে।
বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষক ছিলেন এ মনসুর আহম্মদ। সহকারী শিক্ষক ছিলেন কাজী জহিরুল হক, মো: আমির হোসেন, সন্তোষ রঞ্জন দেবনাথ, মমতাজ উদ্দিন পাটোয়ারী, নিতাই কিশোর রায় চৌধুরী ও বসারত হোসেন পাটোয়ারী প্রমূখ।প্রতিষ্ঠানটি ১.৫০ একর ভূমির উপর ১টি টিনের ঘর নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ইং সনে প্রথম এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে ভালো ফলাফল অর্জনসহ এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার পশ্চাৎপদতা দূর করে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ছয়শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী ও ১৫ জন শিক্ষক কর্মচারী রয়েছে। ইতোমধ্যে একটি লাইব্রেরী কক্ষ ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার দীনতা দূর করতে অত্র প্রতিষ্ঠানটিই এলাকার একমাত্র আশার আলো।