Ramgati B.B.K Pilot Model High School

Ramgati B.B.K Pilot Model High School

Share

Ramgati B B K Pilot High School, established in 1933, playing important role to spread the light of

10/07/2025

এ বছর রামগতি হাইস্কুল থেকে

জিপিএ ৫ পেয়েছে ১২ জন
পাসের হার ৭৬.৮৮%

রামগতি উপজেলায় সর্বোচ্চ ফলাফল।

অভিনন্দন রামগতি হাইস্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা এবং কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের।

28/07/2023

এসএসসিতে এ বছর রামগতি হাইস্কুল থেকে A+ পেয়েছে
১২ জন শিক্ষার্থী।
সবাইকে অভিনন্দন।

05/09/2022

আজ শিক্ষক দিবস।
সকল শিক্ষককে আন্তরিক শুভেচ্ছা।
Happy

11/06/2020

সাধারণ রোগের চিকিৎসা পেতে লক্ষ্মীপুর জেলার সরকারী হাসপাতাল সমূহের হটলাইন নাম্বার :

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল

01730324773
01712739378
01711339857
01823704521
01822120667
01853196135

কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
01730324856

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
01730324857

রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
01730324859

রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
01730324858

যে কোন পরামর্শের জন্য ফোন করুন সিভিল সার্জন অফিসের হটলাইনে

0381- 61336

এছাড়া জাতীয়ভাবে দুটি হটলাইন আছে

১৬২৬৩

৩৩৩

সাধারণ রোগের চিকিৎসা পেতে এসব হটলাইন নাম্বারে কল করে চিকিৎসা নিন।

09/01/2019

“পড়ালেখা” এই সমস্যা কমবেশি আমাদের সবারই। পড়তে বসে বইয়ের পাতার দিকে তাকালে হঠাৎ এমন অসহ্য লাগে পৃথিবীটাকে! মনে হয় সামনের সাদা দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা, ঐ যে একটা টিকটিকি দেয়ালে লেপ্টে আছে, ফ্যান ঘুরছে ঘটাং-ঘটাং, এগুলো দেখি বসে বসে, তবু পড়তে ইচ্ছা করে না!
একবার ভেবে দেখো, তোমার বাবা মায়ের চাকরি-বাকরি আছে, দিনের একটি বড় সময় তাদের প্রতিদিন কাটাতে হয় বাইরে কাজের মাঝে, মন না চাইলেও তাদের এ দায়িত্ব পালন করতে হয়। তোমার জন্যও কিন্তু পড়ালেখা একটা চাকরির মতোই! তোমার উপর এটাই দায়িত্ব- ভালভাবে পড়াশোনা করে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। তাই মন না চাইলেও দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা যাবে না। পড়ায় মনোযোগ বসাতে এখন থেকে যেন আর সমস্যা না হয়, সেজন্য বিজ্ঞানীরা অনেক গবেষণা করে সাতটি অব্যর্থ কৌশল বের করেছেন। দেখবে এবার পাল্টে যাবে সবকিছু, পড়ায় মনোযোগী হয়ে উঠবে অচিরেই!
১। পরীক্ষায় পাশ করার জন্য নয়, শেখার আনন্দে পড়ো
একটা নতুন টপিক পড়তে গিয়ে কতবার মনে হয়েছে- “এই জিনিস বাস্তব জীবনে কী কাজে আসবে আমার?”
কথা সত্যি, পাঠ্যবই গুলোয় কিছু জিনিস থাকে যেগুলো জীবনে খুব একটা প্রয়োজনে আসে না তেমন, কিন্তু তাই বলে একটা নতুন জিনিস শেখার সুযোগ হারাবে কেন?
ধরো তোমার ফুটবল দেখতে খুব ভালো লাগে, সারা রাত না ঘুমিয়ে ফুটবল দেখার চেয়ে আনন্দের কিছু আর হয় না তোমার জীবনে, খেলার যত খুঁটিনাটি নাড়িনক্ষত্র সব তোমার ঠোঁটস্থ। কেউ কিন্তু তোমাকে কখনো জোর করেনি এসব জানার জন্য, তুমি জেনেছো নিজের আগ্রহে, ভালোবাসায়।
ঘুরে আসুন: এসো, গড়ে তুলি দারুণ সব ‘অভ্যাস’!
অথচ বইয়ের একটা সহজ তথ্য তোমার কিছুতেই মনে থাকতে চায় না! কারণটা খুব সহজ, মানুষের মন অনিচ্ছায় কোন কাজ করতে চায় না। ঠিক যেই মুহূর্তে তোমার মনে হচ্ছে “ধুর! এখন বসে বসে এগুলি পড়তে হবে কালকে পরীক্ষার জন্য!” তখনই তোমার মন বিদ্রোহ করছে, একটা কণাও পড়তে ইচ্ছা করবে না। খেলা দেখতে তোমার বড় আনন্দ হয়, আগ্রহটা ভেতর থেকে আসে, তাই কোন ক্লাব কত গোল দিল ইত্যাদি খুঁটিনাটি তোমার মাথায় খুব সহজেই গেঁথে যায়। পড়ালেখার প্রতি এমন আগ্রহটা জাগিয়ে তুলো, দেখবে মনোযোগ আপনা থেকেই আসছে। পরীক্ষায় পাশ তো আপনাতেই হবে, পড়ালেখা যদি শেখার আনন্দে করো, এ জ্ঞান মনের মাঝে অক্ষয় থাকবে চিরদিন।
২। একটা লক্ষ্য ঠিক করো
“আজকে সারাদিন অঙ্ক করবো!” এটা বলা বেশ সোজা, এবং সারাদিন অঙ্ক বই হাতে নিয়ে ঘোরাঘুরি করে “বেশ পড়ালেখা হচ্ছে” একটা ভাবও আসে মনে, কিন্তু দিনের শেষে গিয়ে দেখা গেল কাজের কাজ আসলে কিছুই হয়নি!
“অঙ্ক করবো” এটা কি ভাল একটা লক্ষ্য হলো?
“বড় হয়ে কী হবে?”
– “বড় হবো!” এটা কি একটা উত্তর হলো? একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকতে হয়। যেমন ধরো ডাক্তার হবে। তাতেও আবার কতরকম বৈচিত্র্য। চোখের ডাক্তার, দাঁতের ডাক্তার, শল্যচিকিৎসক আরো কত কী!
সুতরাং “অঙ্ক করবো” না বলে “অমুক চ্যাপ্টারের অমুক অঙ্কগুলো করে সন্ধ্যার আগেই শেষ করবো” এমন একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করো। তাহলে দেখবে লক্ষ্যটা অনেক বেশি কাজে আসবে, এবং লক্ষ্যপূরণ না হওয়া পর্যন্ত তোমার চেয়ার থেকে উঠতেই ইচ্ছা করবে না! একটা জেদ চেপে যাবে মনে, এবং আরো বেশি করে মনোযোগ চলে আসবে ভেতর থেকে, একটা কঠিন লক্ষ্য তুমি ঠিক করেছিলে, এবং ঠিক ঠিক সেটা ছুঁয়েও ফেললে-এই আনন্দের কি কোন তুলনা হয়?
৩। মনঃসংযোগে বিঘ্ন ঘটে এমন জিনিসগুলো সরিয়ে ফেলো
হয়তো তোমার ফেসবুকে ভীষণ আসক্তি, প্রতি পাঁচ মিনিটে একবার টাইমলাইনে ঘুরে না আসলে তোমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে, মনে হয় “ইশ্! ফেসবুকটা না থাকলে কত্তো ভাল হতো!”
ফেসবুকের আগের যুগে কি মানুষ সময় নষ্ট করতো না?
তখন ফেসবুক ছিলো না, কিন্তু পাড়ার চায়ের দোকানে আড্ডা বসতো, ঘণ্টার পর ঘণ্টা খেজুরে আলাপ হতো। সময় অপচয় করার মত আনন্দ আর কিছুতে নেই, মানুষ সবসময়ই বিচিত্র সব উপায়ে মহানন্দে বিলিয়ে বেড়ায় সময়, তুমি আমি কেউ এর ব্যতিক্রম নই! টিভি যখন ছিল না তখন টিভি না দেখতে পারার দুঃখে কেউ মারা যায়নি, কিন্তু এখন মানুষকে টেনে তোলা যায় না টিভির সামনে থেকে! সবই আসলে ব্যবহারের উপর। সুতরাং প্রযুক্তিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে কী করা যায়?
পড়তে বসার সময় সবকিছু সরিয়ে ফেলো টেবিল থেকে। এই সময়টিতে কেবল দুটি সত্ত্বা- তুমি আর তোমার বইখাতা, আর কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই জগতে, যতক্ষণ না শেষ হচ্ছে পড়া, মনোযোগের গভীর অতলে ডুবে যাও তুমি। মোবাইল সামনে থাকলে “জাস্ট একবার দেখে আসি কোন নোটিফিকেশান আছে কিনা!” এই লোভ সংবরণ করা সত্যি অসম্ভব! বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ হচ্ছে, তুমি বই নিয়ে টিভির সামনে বসলে “জাস্ট স্কোরটা দেখবো খালি” ভেবে, দেখবে কখন যে বইখাতা ফেলে খেলায় বুঁদ হয়ে ডুবে গেছো টেরই পাবে না! সুতরাং পড়ার সময় মনোযোগ সরিয়ে ফেলার কোনরকম সুযোগ দেওয়াই যাবে না, এমন সব উপকরণ অবশ্যই সরিয়ে ফেলতে হবে সামনে থেকে!
৪। নিজেকে পুরষ্কৃত করো!
পুরষ্কার পেতে কার না ভাল লাগে! হয়তো তোমার চকলেট খেতে দারুণ পছন্দ, কিন্তু বেশি খেলে দাঁতে পোকা ধরবে, মোটা হয়ে যাবে ইত্যাদি সমস্যা, এক কাজ করতে পারো তো, বইয়ের যেই পাতা পর্যন্ত পড়বে ঠিক করেছ শেষ পাতায় একটা চকলেট গুঁজে রাখলে! কত কষ্ট করে পড়েছ এতকিছু, দাঁতের পোকার ভয় উপেক্ষা করে নিজেকে এটুকু পুরষ্কার দেওয়াটা যথার্থই বটে!
সবসময় পড়ার সাথে এমন প্রিয় জিনিসগুলো জড়িয়ে নাও, দেখবে পড়তে বসে আর খারাপ লাগছে না আগের মতো, বেশ মনোযোগ এসে পড়ছে! (সেটা হোক নাহয় প্রিয় জিনিসের লোভেই!) ভালো লাগার জিনিসের প্রতি মানুষের সহজাত আগ্রহ, “পড়ালেখা” শব্দটা শুনলেই যদি তোমার মাথায় “চকলেট” শব্দটা এসে পড়ে, তাহলে কি আর পড়ালেখা ভাল না লেগে পারে?!
৫। ছোট্ট ছোট্ট বিরতি
তোমার ক্লাসে সবসময়ই কিছু মানুষ থাকবে, যারা সারাদিন ঘোরাঘুরি করে পার করে দেয়, পড়ালেখার চিন্তা খুব কম, পড়ালেখা বাস্তবে করে তারচেয়েও কম, কিন্তু রাতদিন পড়েও দেখা যায় পরীক্ষায় তাদের চেয়ে কম নাম্বার পাচ্ছো তুমি!
ব্যাপারটা ভীষণ মন খারাপ করে দেয় নিশ্চয়ই? মন খারাপের কিছু নেই, একটা ছোট্ট ব্যাপার বদলে ফেললেই ঠিক হয়ে যাবে সব।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়া খুব কাজের কথা নয়। শুরুতেই বলেছি, তোমার লক্ষ্য হচ্ছে “শেখা”, বই সামনে নিয়ে মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে পড়া নয়! সুতরাং টানা অনেকক্ষণ না পড়ে চল্লিশ-পঞ্চাশ মিনিট পর পর একটা ছোট্ট বিরতি নাও। একসাথে অনেক কিছু মস্তিষ্কে ঠেসে দেওয়া হয়তো সম্ভব, কিন্তু এভাবে শেখা প্রায় অসম্ভব একটা কাজ! একটু বিরতি নিয়ে নিয়ে পড়ো, আনন্দের সাথে পড়ো, ক্লান্ত লাগলে একবার ঘুরে আসো, কিছু খাও, দুই মিনিট গল্প করো- সোজা কথা মনটাকে সতেজ রাখো, দেখবে কম সময় পড়েও অনেক দ্রুত মাথায় গেঁথে যাচ্ছে সব!
৬। কাউকে শেখাতে যাও
ইংরেজি আমরা সবাই অনেক পড়েছি, কিন্তু বলতে গেলেই কেমন আটকে যায় মুখে! পাঠ্যবই পড়তে পড়তে ঝালাপালা করে ফেলেছ হয়তো, তবু দেখা যায় পরীক্ষার হলে প্রশ্ন দেখে দাঁত কামড়ে ভাবতে হয় “এভাবে তো চিন্তা করিনি আগে!”
তাই কিছু পড়ার সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে সেটা আরেকজনকে শেখাতে যাওয়া। তখন নিজের ভুলগুলো চোখে পড়বে তোমার, মানুষটির নানা প্রশ্নের জবাব দিতে টপিকটি নিয়ে অনেক বিস্তারিত পড়াশোনা করতে হবে তোমাকে, পুরো বিষয়টি হাতের মুঠোয় না আসা পর্যন্ত নিস্তার নেই- নিজে না বুঝলে আরেকজনকে শেখাবে কিভাবে?
তাই এক কাজ করো, আজকে যে বিষয়টি পড়বে, বন্ধুকে জানিয়ে রাখবো কাল এ বিষয়টি বুঝাবে তাকে, দেখবে পরীক্ষার কথা দূরে থাক, তাকে বুঝানোর চিন্তাতেই তোমার পড়তে হচ্ছে অনেক মনোযোগ দিয়ে, ওঠার সুযোগই মিলছে না পড়ার টেবিল থেকে!
৭। একটি সুস্বাস্থ্যময় জীবন
সারা রাত জেগে পড়ালেখা করা কোন বিরাট কৃতিত্বের কথা নয়! মানুষের শরীর যন্ত্র না, নির্দিষ্ট পরিমাণ বিশ্রাম না দিলে শরীর খারাপ করবেই। দেখা যাবে সময় বাঁচাতে তুমি কম ঘুমালে, তারপর সারাদিন কাটলো ঢুলুঢুলু চোখে, কাজের কাজ হলো না কিছুই, অল্প কয়টি ঘন্টা বাঁচাতে গিয়ে পুরো দিনটিই নষ্ট করলে। তাই প্রতিরাতে ৭-৮ ঘন্টা ঘুম ভীষণ প্রয়োজন সুস্বাস্থ্যের জন্য।
ঘুরে আসুন: ইন্টারনেটে সময় ব্যয়, কমাবার কী উপায়?
অবসাদ কাটাতে, মনোযোগ ধরে রাখতে ব্যায়াম দারুণ কাজের একটি জিনিস। প্রতিদিন অল্প-স্বল্প ব্যায়াম করলে দেখবে বেশ সতেজ লাগছে শরীরটা, আগের মত পড়ার টেবিলে বসলেই ঘুমে মাথা ঢুলছে না!
খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারটিও মাথায় রেখো। বেশি বেশি ফাস্টফুড, তৈলাক্ত ভারি খাবারদাবার খেলে নিশ্চয়ই পড়তে বসে অখণ্ড মনোযোগে কাজ করার মত অবস্থা থাকবে না তোমার! তাই শাক-সবজি-মাছের পরিমাণটা বাড়াও খাওয়ার পাতে, শরীরও থাকবে সুস্থ, সজীব, পড়ালেখায় মনোযোগও আসবে আগের চেয়ে বেশি!

Collected from Dr. Dipu Moni

17/06/2017

ব্রিটিশরা চায়ের নেশা পেয়েছিল চীনাদের কাছ থেকে। এ এমন এক নেশা, ব্রিটিশদের রাজকোষ ফাঁকা হওয়ার জোগাড়। চীন রৌপ্যমুদ্রা ছাড়া অন্য কিছুর বিনিময়ে চা রপ্তানি করতে রাজি ছিল না। সাদা চোখে দেখলে--চীনারা বাক্স ভর্তি গাছের পাতার গুঁড়া দিচ্ছে, বিনিময়ে নিচ্ছে টনকে টন রূপা!
আমিই শুধু কিনব, তুমি কিছু কিনবা না, তা তো হবে না। আমার পকেটের টাকায় শুধু তোমার পকেট ভারী করব কেন? আমিও কিনি, তুমিও কেনো। তুমি যদি না কেনো, এমন সিস্টেম করব, কিনতে বাধ্য হবা।
ব্রিটিশদের মতো ধুরন্ধর ব্যবসায়িক বুদ্ধি আর কারও ছিল না। এই বুদ্ধি খাটিয়ে আয়তনে বাংলাদেশের চেয়ে ছোট একটা দেশ ইংল্যান্ড পৃথিবীর অর্ধেকটার মালিক হয়ে গিয়েছিল।
ব্রিটিশরা চীনাদের ধরিয়ে দিল আফিমের নেশা। এক ১৮৫৮ সালে চীনে সাড়ে ৪ হাজার টন আফিম রপ্তানি হয়েছিল, যা এখনকার হিসাবে সারা পৃথিবীতে ১০ বছর ধরে উৎপাদিত আফিমের সমান! এবার চীনের রাজকোষের রৌপ্যমুদ্রা জমতে থাকল ব্রিটেনে!
চা বনাম আফিমের নেশার এই বাণিজ্য চক্রটা বুঝলে পৃথিবীর এখনকার রাজনীতির হিসাবও সহজে বুঝতে পারবেন। বুঝতে পারবেন, ইসলাম, জঙ্গিবাদ এসব আসলে চোখের ঠুলি। পেছনে আছে কয়েক লাখ কোটি টাকার ব্যবসা!
৫ মিনিট লাগবে পুরোটা পড়তে। পড়বেন?
***
২০ শতকের মাঝামাঝিতে এটা স্পষ্ট হয়ে গেল, পৃথিবীর মূল জ্বালানি হবে তেল। আর এই তেলের প্রচুর পরিমাণ মজুদ আছে মধ্যপ্রাচ্যে। ব্রিটেন-আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুধু তেল কিনবে আর বিনিময়ে ঢালবে ডলারের পর ডলার? রাজকোষ ফাঁকা করবে শুধু শুধু?
আরবদের নেশা ধরিয়ে দাও। যুদ্ধের নেশা। যে নেশা আফিমের নেশার চেয়েও ভয়াবহ!
গত বছর গ্রিনপিসের একটি প্রতিবেদন (Data: How guns and oil dominate UK-Saudi Arabia relationship) বলছে, ২০১৫ সালে ব্রিটেন সৌদি আরবের কাছ থেকে ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডের তেল কিনেছে। ওই বছর অক্টোবর পর্যন্ত অস্ত্র বিক্রি করেছে ৮৭২ মিলিয়ন পাউন্ড! কী অদ্ভুত ভারসাম্য!
***
‌'মধ্যপ্রাচ্যের সংকট' এই শব্দ দুটি শুনে শুনে বড় হওয়া প্রজন্ম আমরা। আরও কিছু শব্দ শুনতাম বিটিভির খবরে: পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় আজও বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর...।
মধ্যপ্রাচ্যে এখনকার সংকটের সূচনা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষ থেকে। যার বীজটা রোপন করেছিল ব্রিটেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেন জেরুজালেম ও এর সংলগ্ন অঞ্চলটা তিনটা পক্ষকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল! আরবদের বলেছিল, ভাই, এ তো তোমাদেরই জায়গা। তুমিই পাবা।
ইহুদীদের বলেছিল, আরেহ, তোমাদের স্বপ্নের স্বদেশভূমি তো এখানেই হবে। অবশ্যই তুমি পাবা।
আর ফ্রান্সকে বলেছিল, দোস্ত ভাগাভাগিতে তোমাকে দিলাম সিরিয়া, আর আমি এই দিকটা রাখলাম, কেমন।
সবকিছু ঠিকমতো চূড়ান্ত হওয়ার আগেই ইউরোপ থেকে জাহাজে করে হাজার হাজার ইহুদী চলে আসতে থাকে এই অঞ্চলে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যা কয়েক লাখে পৌঁছায়। এই ইহুদিদের সঙ্গী ছিল ইউরোপে ভয়াবহ বিভীষিকার শিকার হওয়ার টাটকা স্মৃতি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিরা ৬০ লাখ ইহুদীকে মেরে ফেলেছিল।
নিজেদের স্বতন্ত্র আবাসভূমি, একটা দেশের স্বপ্ন; একটা নিরাপদ মানচিত্র তাদের টেনে এনেছিল ইসরায়েল নামের নতুন গঠিত এই রাষ্ট্রে।
সেখানে হাজার হাজার বছর ধরে আরব-ইহুদীরা সুখে-শান্তিতেই ছিল, পাশাপাশি। প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়া তখনই বাঁধে, যখন প্রতিবেশীর বাড়ির দেয়ালটা সরতে সরতে আপনার বাড়ির ভেতরে ঢুকতে থাকে। এই সহজ ব্যাপারটাই মধ্যপ্রাচ্যে জটিল আকার ধারণ করল।
নতুন ভিড় করা এই জনগোষ্ঠীর জন্য আরবদের বাধ্য করা হলো ছেড়ে দিতে। ফিলিস্তিনিদের ভিটেমাটি ছাড়া করা হলো। কোণঠাসা হতে হতে এখন তারা কেবল গাজা আর পশ্চিম তীরে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফিলিস্তিনিরা পাল্টা প্রতিরোধ হিসেবে শুরু করল গুপ্ত হামলা।
বিশ্বজুড়ে আজকের দুনিয়ার ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের পেছনে বড় ভূমিকা আছে এই অধ্যায়টির। যেটা কার্যত ছিল জমি-জমা নিয়ে বিরোধ, যার সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্কই নেই। যার প্রমাণ মিলবে এই তথ্যে, ফিলিস্তিনিদের সেই আন্দোলনে শুরুর দিকে ছিল জমি হারানোর অনেক খ্রিষ্টানও!
সেই লড়াইটা বদলাতে বদলাতে আজ রূপ নিল।
কে করল? কারা করল? রাশিয়াকে ঠেকাতে আল কায়েদা তৈরি করেছিল কারা? অন্যায় ইরাক যুদ্ধের ফসল হিসেবে আইএস জন্ম যে নিল, এর দায় কাদের?
যাদের মধ্যপ্রাচ্যে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র বিক্রি করতে হবে।
ভাই তেল কি শুধু কিনেই যাব, তুমি কিছু কিনবা না? তোমার তেল সম্পদ, তোমার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে। যাকে ভাই ভাবছ, সে-ই তো তোমার আসল শত্রু। মনে নাই, ৩০০ বছর আগে সে তোমার দাদার দাদার দাদার দাদার দাদার....দাদাকে খুন করছিল। ভুলে কেন যাচ্ছ, তুমি সুন্নি, আর ও শিয়া। তোমরা কীভাবে এক হও! ও কখনোই তোমার বন্ধু হবে না। কাল যে তোমার দেশ আর তেলখনিগুলো দখল করে নিবে না, তুমি নিশ্চিত?
ইয়ে শোনো, আমার কাছে ভালো ফাইটার জেট আছে, দারুণ সব স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, মিসাইল, লঞ্চার, হেলিকপ্টার, ড্রোন, ট্যাংক...। কিনবা নাকি? তোমার জন্য একেবারে স্পেশাল প্রাইসে দিব, হাজার হোক তুমি আমার বন্ধু। তোমার সাথে কি আর বিজনেস করব? হে হে হে...।
★★★
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা ও উদ্যোগের নামে যা কিছু আমরা শুনি, সব ভাঁওতাবাজি, ভন্ডামি। বরং বারবার উসকে দেওয়া হয় এই ক্ষত। অ্যান্ড্রু মারের হিস্ট্রি অব দ্য ওয়ার্ল্ড দেখার সময় এই পণ্ডিত মানুষটার একটা কথা আমাকে নাড়া দিয়েছিল। মার দেখিয়ে দিয়েছিলেন, পৃথিবী আসলে শান্তি চায় না, যুদ্ধ চায়। কারণ যুদ্ধই হচ্ছে আসল ব্যবসা। শান্তি জিনিসটা যে কেউ টাকা খরচ করে কিনতে চায় না!
সারা পৃথিবীতে যুদ্ধ বনাম শান্তি বনাম বাণিজ্যের এই যে অদ্ভুত এক চক্র; এ নিয়ে গবেষণায় সবচেয়ে বিখ্যাত সংস্থা হলো স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট। তাদের এক প্রতিবেদনের সূত্র ধরে ইউএসএ টুডে (10 companies profiting the most from war) দেখিয়েছিল, ২০১১ সালে পৃথিবীর বড় ১০০ অস্ত্র ব্যবসায়ী মিলে ৪১০ বিলিয়ন ডলারের (33050100000000 টাকা, হিসাব করে দেখেন কত) ব্যবসা করেছিল।
মাত্র ১০টি কোম্পানি পৃথিবীর অস্ত্র ব্যবসার ৫০ শতাংশ (২০৮ বিলিয়ন ডলার) নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে ৭টি কোম্পানি আমেরিকার (লকহিড মার্টিন, বোয়িং, জেনারেল ডায়নামিকস, রেথিওন ডায়নামিকস, নর্থ্রপ গ্রুমান, এলথ্রি কমিউনিকেশন, ইউনাইটেড টেকনোলজিস)। ব্রিটেনের বা ইউরোপের তিনটি (বিএই সিস্টেম, এয়ারবাস, ফিনমেকানিকা)।
এরা শুধু যুদ্ধের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে না, যুদ্ধও নিয়ন্ত্রণ করে। যুদ্ধ বাঁধায়। রাজনীতিবিদদের ব্যবহার করে। এই কোম্পানিগুলো ২০১০ সালে ১৬৬.৪ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে মার্কিন রাজনীতিবিদদের সঙ্গে লবিয়িং বা ডোনেশন নামের ঘুষের পেছনে।
***
আজকের এই চেহারা, ইরাক, সিরিয়া, আইসিল...সবকিছুর মূলে বুশ প্রশাসনের চাপিয়ে দেওয়া ইরাক যুদ্ধ। এখন যেটা পরিষ্কার হয়ে গেছে, আল কায়দার সঙ্গে সাদ্দাম হোসেনের কল্পিত যোগসূত্র তৈরি করে ইরাক দখল করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। এর পেছনেও তেল আর যুদ্ধের ব্যবসা।
কীভাবে?
ইরাক যুদ্ধের সবচেয়ে বড় আর্থিক লাভজনক প্রতিষ্ঠানের নাম হলিবার্টন। সে সময় ৪০ বিলিয়ন ডলারের কন্ট্রাক্ট পেয়েছিল তারা। জর্জ বুশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত এই হলিবার্টনের প্রধান নির্বাহী ছিলেন। ২০০১ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ায় সেই পদ ছাড়েন। যদিও সিএনএন পরে ফাঁস করে দেয়, চেনি ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ও বছরে দেড় লাখ ডলার হিসেবে পেতেন হলিবার্টনের কাছ থেকে!
এই চেনিই বুশ সিনিয়রের আমলে বলেছিলেন, ইরাক যুদ্ধে যাওয়া ঠিক হবে না। তার ফল হবে ভয়াবহ। মাঝখানে হলিবার্টনে চাকরি করলেন। ব্যস্‌, পাল্টে গেল তাঁর মত! চেনি আসলে কার স্বার্থ উদ্ধার করতে চেয়েছিলেন?
মিস্টার চেনি, লাখ লাখ নিরীহ মানুষের রক্ত হাতে মেখে সেই হাতে খাবার খান কী করে আপনি! লাখ লাখ ঘূমন্ত শিশুর ওপর রাতের আঁধারে নেমে আসে যে বোমা; সেই রাতে কী করে ঘুমান আপনি!
***
ট্রাম্প একই পথে হাঁটছেন। গত কিছুদিন ধরে যা ঘটছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় যুদ্ধের আলামতই পাচ্ছি।
মুসলিমদের গালিগালাজ করে ক্ষমতায় আসা ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম রাষ্ট্রীয় বিদেশ সফর ছিল মুসলিম দেশ সৌদি আরবেই। সেখানে মুসলিম দেশগুলোর সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধানে ওপর জোর দিয়ে বেশ গালভরা বক্তব্য দিয়েছেন। এরপর ১১০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি ধরিয়ে দিয়েছেন সৌদি আরবকে।
লকহিড মার্টিনের সঙ্গে সৌদি সরকারের এই চুক্তির দর-কষাকষি করেছেন ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার (সিএনএন: Trump signs Kushner-negotiated $100B Saudi arms deal)।
***
ইউরোপে অস্ত্র বিক্রি কমছে। আর হু হু করে অস্ত্র বিক্রি বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে, আমাদের এশিয়ায়। গার্ডিয়ান জানাচ্ছে, গত পাঁচ বছরে সৌদি আরবের অস্ত্র ক্রয় ২৭৫ শতাংশ বেড়েছে, ইউরোপীয় দেশগুলোতে কমেছে ৪১ শতাংশ। আর ২০১৫ সালের ১৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের একটি খবরের শিরোনাম: Sale of U.S. Arms Fuels the Wars of Arab States।
***
পৃথিবীতে শান্তি থাকলে অস্ত্র বিক্রি হবে না। পৃথিবীকে অশান্ত করা তাই খুব জরুরি। আরও অনেক হিসাব-নিকাশ আছে। আছে অনেক গুটি চালাচালি। অন্যের যুদ্ধে দূর থেকে কলকাঠি নাড়া। যাকে বলে প্রক্সি ওয়ার। যে অঞ্চলে যে ভাইরাস ছড়িয়ে দিলে কাজ হবে, সেখানেই তা-ই করা হচ্ছে। এক সময় পৃথিবীকে উত্তপ্ত করা হয়েছিল জাতীয়তাবাদের বড়ি খাইয়ে। মধ্যপ্রাচ্যে এই ব্যবসায়িরাই কাজে লাগাচ্ছে ধর্মকে!
যে মানুষটা জিহাদের জন্য নিজের প্রাণ উৎসর্গ করছে, সে জানছেও না, দাবার ছকে সে আসলে সামনের সারির গুটি। যাকে প্রথম দফায় স্যাক্রিফাইস করাই দাবা খেলার ছক!
***
জানি না এই দৃশ্যপট কবে বদলাবে। জানি না এই পৃথিবীতে আদৌ শান্তি আসবে কি না। মনস্টার ইঙ্ক নামের একটা অ্যানিমেশন সিনেমা অদ্ভুত একটা ধারণার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল।
দৈত্যদের রাজ্যে মূল জ্বালানি হলো ভয়। বাচ্চাদের ভয় দেখালে যে এনার্জি তৈরি হয়, সেটা দিয়েই চলে দৈত্যদের কল-কারখানা; পুরো দেশ।
হঠাৎ একদিন জানা গেল, ভয় পেয়ে বাচ্চারা চিৎকার করে কাঁদলে যত বিদ্যুৎ তৈরি হয়, তার কয়েক শ গুণ বেশি বিদ্যুৎ তৈরি হয় বাচ্চারা খিলখিল করে হাসলে।
তখন থেকে মনস্টার ইঙ্ক নামের সেই কোম্পানিটি ভয়ের বদলে বাচ্চাদের হাসানোর প্রতিযোগিতায় নামল।
আমাদের পৃথিবীর বড় বড় মনস্টার ইঙ্করাও যদি কখনো বোঝে, অশান্তি নয়, শান্তিতেই তৈরি হয় সবচেয়ে বেশি এনার্জি...। এটুকুই শুধু আশা!
(Collected ) ...

03/06/2017

ইতিহাস যখন বলছে মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় আবিষ্কার আগুন, চাকা কিংবা কম্পিউটার। তখন আমি সত্যজিৎ বিশ্বাসের সাথে চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলছি - মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় আবিষ্কার আগুন নয়, চাকা নয় এমনকি কম্পিউটার ও নয়। মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় আবিষ্কার আত্মবিশ্বাস। যে আত্মবিশ্বাসে পাখির উড়া দেখে মানুষ বিমান আবিষ্কার করে, গাধা ছাত্র আইনস্টাইন হয়ে উঠে পৃথিবী বিখ্যাত বিজ্ঞানী, যাকে একসময় বস্তির ছেলে বলে পার্কে ঢুকতে দেয়া হয়নি ছেঁড়া পোশাকের কারণে, সেদিনের সেইবস্তির ছেলে এন্ড্রু কার্নেগী হয়ে উঠে শ্রেষ্ঠ ধনপতি। দেশের সেরা মেধাবীরা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বুয়েটে ভর্তির জন্য যুদ্ধে লিপ্ত, ঠিক তখনই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা ছেলেটি দেশ সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবীদের পেছনে ফেলে বিসিএস পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় শীর্ষস্থানে চলে যায়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করেও কেউ কেউ হয়ে উঠেন সম্মানিত জজ। এর পেছনে যে কারিশমা লুকিয়ে আছে তা হল আত্মবিশ্বাস। যে আত্মবিশ্বাস বলে - আমি পারবোই, ইয়েস! আমাকে পারতেই হবে।
:
জন্মের পর একটি শিশু যখন কাঁদে তখন হয়তো আপনি শুনতে পান ছেলেটি কাঁদছে "ওঁয়াউ ওয়াউ " বলে। কিন্তু আমি সত্যজিৎ শুনতে পাই সে আসলে বলছে "WOW "! কারণ জন্মের সাথে সাথেই সে ইতিহাসে বিজয়ীর খাতায় নাম লিখালো। কীভাবে? জন্মই আপনার আজন্ম সাফল্য! চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে, একটি শুক্রানু আর ডিম্বানুর মিলনের ফলেই শিশুর জন্ম হয়। মাতৃগর্ভে একটি ডিম্বানুকে নিষিক্ত করতে কোটি কোটি শুক্রানু প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। কিন্তু একটি ডিম্বানুকে নিষিক্ত করতে প্রয়োজন হয় শুধু একটি শুক্রানুর। সেই কোটি কোটি শুক্রানুকে পরাজিত করে যে নির্দিষ্ট শুক্রানুটি সফলভাবে ডিম্বানুকে নিষিক্ত করেছিল, তারই পরিপূর্ণ রুপ আমি,আপনি আমরা সবাই। যে আপনি পৃথিবীতে আসার আগেই মাতৃগর্ভে কোটি কোটি প্রাণকে পরাজিত করেছেন, আজ সেই বিজয়ী আপনি কেন পৃথিবীতে এসে পরাজয়ের ভয় পাচ্ছেন? জন্মের আগেই আপনি দেখিয়ে দিয়েছেন আপনার সফলতার অসীম ক্ষমতা। আপনি ব্যর্থ হতেই পারেন,কিন্তু হাল ছাড়বেন না। আগামীর সূর্য আপনারই জন্য।
:
এক সূর্যেই সবার সকাল হয়, এক আকাশের নিচেই সবার আশ্রয়; অথচ কেউ কেউ শুধু নোবেল পদকগুলো বানিয়েই যায়, আর কেউ কেউ বিশ্বজয় করে সে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়। আপনি কি নোবেল পদক নির্মাতা শ্রমিক হবেন, নাকি নোবেল পদকে ভূষিত বিজয়ী বীর হবেন -সে সিদ্ধান্ত আপনার।
:
আগুন নেভাতে কোন ধরনের পানি লাগে? মিনারেল ওয়াটার, ফুটন্ত পানি নাকি বৃষ্টি কিংবা পুকুরের পানি? ভাই, আগুন নেভাতে শুধু পানিই দরকার। সেটা পুকুরের পানি হোক কিংবা নর্দমার পানিই হোক। আপনার সফলতার জন্য ও আপনার অতীতের ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড, দামি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা নামি মানুষের সাথে সম্পর্ক লাগবে না। আপনার সফলতার জন্য শুধু আপনাকেই লাগবে। ইয়েস, শুধুই আপনাকে। আপনি চাইলেই আপনার ইতিহাস লেখা হবে নতুন করে। আপনিই হচ্ছেন আপনার ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ স্থপতি।
:
আপনি যখন স্বপ্ন দেখতে শুরু করবেন তখন হয়তো আপনার পাশের বন্ধুটি এসে বলবে -" ছেঁড়া কাথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখো না। " তখন আমার কাছে আসেন, আমি সত্যজিৎ আপনার সাথে হ্যান্ডশেক করে বলে দিব, যারা লাখ টাকার স্বপ্ন দেখেছেন তারা লাখপতি নয়, কোটিপতি নয়, শ্রেষ্ঠধনপতি হয়েছেন। তারা স্বপ্ন দেখার সময় ঐ ছেঁড়া কাঁথাটুকুও পাননি। শৈশবে স্কুলে ভর্তি হতে মাত্র ১২০ টাকার জন্য ভিক্ষা করেছিলেন যে ছেলেটি পরবর্তীতে তিনিই হয়েছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। কী অবিশ্বাস্য গল্প আতিউর রহমানের! যে একসময় ভিক্ষা করেছিল, পরে তার স্বাক্ষর ছাড়া টাকাই তৈরি হয়না। যে এন্ড্রু কার্নেগীকে বস্তির ছেলে বলে পার্কে ঢুকতে দেয়া হয়নি, সেই কি না কিনে নেল পার্কটি আর হয়ে গেল শ্রেষ্ঠ ধনপতি। বিশ্বাস করেন এমন কাহিনী যা গল্পকেও হার মানায়, এসব লিখতে গিয়ে আমারই গায়ের লোম সব দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।
:
গরু জন্মের সাথে সাথেই দৌঁড়াতে পারে, কিন্তু জন্মের পর একটি মানব শিশু হাঁটা তো দূরে থাক বসতে ও পারে না। বসতে গেলেই সে ব্যর্থ হয়, হাঁটতে গেলে ও সে ব্যর্থ হয়। অথচ বিধাতা মানুষকেই বলেছেন শ্রেষ্ঠ জীব, গরুকে নয়। যে মানব শিশুটি জন্মের পর হাঁটতেই পারেনা, পরবর্তীতে সে-ই হয়ে যায় ইতিহাস বিখ্যাত শ্রেষ্ঠ দৌঁড়বিদ। আমি সত্যজিৎ বিশ্বাস করি, মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব এখানেই! সে ব্যর্থ হতে হতেই শ্রেষ্ঠ হয়।
:
মনে রাখবেন - WINNERS aren't people who never fail, but people who never quit. যারা ব্যর্থ হয়ে হাল ছাড়েনি, তারাই চুড়ান্ত বিজয় দেখেছে। আজকের ব্যর্থতাই কালকের অনুপ্রেরণা। আপনার দুর্বলতায় আপনার প্রধান শক্তি। পাহাড়ের বাধা পেয়ে, আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে পানি আসে বলেই ঝর্নার দৃশ্য এত সুন্দর! NELSON MENDELA বলেছেন -" Don't judge me by my success, judge me by how many times i fell down & got back up again. "। ছন্দময় কবিতায় ও মাঝে মাঝে দাঁড়ি কমার বাধা আসে, দাঁড়ি কমা আসলেই আবৃত্তিশিল্পীকে একটু থামতে হয়। কেন এই থেমে যাওয়া? এর মানে কবিতা থেমে যাওয়া নয়, বিরামচিহ্নের এই বাধা আসে কবিতার ছন্দ আরো বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। আমি সত্যজিৎ বিশ্বাস করি, আপনার জীবনের বাধাগুলো ও আপনার সফলতার পথের কাটা নয়, বরং জীবনের সৌন্দর্য। সফল অনেকেই হয় কিন্তু বিখ্যাত সফল তারাই হয় যারা বাধা ডিঙাতে পেরেছে।

03/06/2017

১....
কোনো এক বুধবার।ছুটি নিয়েছিলাম।একটু বেলা করে উঠে আয়েশ করে চা খাচ্ছি আর পেপার পড়ে পড়ে পাতা উল্টাচ্ছি...
বিনোদন পেইজে এসে প্যান্ট-শার্ট পড়া এক লাস্যময়ী তরুণীর ছবি দেখে ধাক্কা খেলাম।সাধারণত এই অংশগুলো অ্যাভয়েড করি, সময় আছে, তাই ভিতরে কি আছে তা পড়া শুরু করলাম....
তরুণী নাকি হাল আমলের জনপ্রিয় নায়িকা, তরুণদের হৃদয়ের ঝড়।ছবির পাশে তার সাক্ষাতকার ছাপা হয়েছে। ইনিয়ে বিনিয়ে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, ছবির কারণে প্রায়ই তাকে দেশের বাইরে কাটাতে হয়, মেক্সিকান খাদ্য তার খুব পছন্দ।তার পছন্দের পোষাক -শার্ট ও প্যান্ট। তার ফ্যানদের উদ্দ্যেশ্যে তাকে কিছু বলতে বলা হলে তিনি উপদেশ দিলেন , 'দেশকে ভালোবাসুন'। বিনোদন পেইজের এহেন খবরে আমি তখন বেশ বিনোদিত......
২....
এবার কোন এক শুক্রবার।এদিনটায় সাধারণত মূল পেপারের সাথে একটি বর্ধিত অংশ থাকে। বর্ধিত অংশের শেষ পাতায় এসে দেখি বড় করে এক টাকলা'র ছবি, পোষাক-আসাকে, কানের বেঢপ দুলে ও চোখের দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রথম দেখায় মানসিক রোগী বলে মনে হলো....
ভিতরে পড়তে গিয়ে ভুল ভাঙলো।যাকে দেখে মানসিক রোগী বলে মনে করেছিলাম, উনি আসলে গিটারিস্ট....
উনার সম্পর্কে যেভাবে লিখেছে, তা পড়ে উনাকে আগে থেকে চিনতে না পারার কারণে নিজের মধ্যে ক্ষুদ্র অপরাধবোধ জেগে উঠলো....
পাগলা সাহেব, থুক্কু, গিটারিস্ট সাহেবের দৈনন্দিন জীবন কিভাবে কাটে তার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া।সকাল ১১ টায় ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে প্রতিদিন ৩০ মিনিট গিটারে টুংটাং করেন।মাথায় একেক দিন একেক কালারের গামছা বেধে বিকালে অভিজাত পাড়ায় হাটতে বের হন।তার হবি--বিভিন্ন রকম সুগন্ধি যোগাড় করা, এ ব্যাপারে ফ্রান্স তার বিশেষ পছন্দ.....
৩.....
লেখাপড়ার চেয়ে কঠিন কিছু নেই- এই কনসেপ্ট নিয়ে দিনকাল কাটাচ্ছিলাম...
৩-৪ বছর আগে হঠাৎ একদিন পেপারের ফ্রন্ট পেইজে দেখি হিমালয় পর্বতমালার ছবি, ইনসেটে সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে যিনি আরোহণ করেছেন -তার হাস্যজ্জল ছবি।ভিতরে পড়লাম।তার পর আরো কয়েকদিন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত লাইভ অনুষ্ঠান চললো।যিনি পর্বতশৃঙ্গ জয় করেছেন তার কথাবার্তা শুনলাম...
এবার আমার কনসেপ্ট ভাঙলো। আমি বুঝতে পারলাম--আমি আসলে বোকা,পর্বতশৃঙ্গ জয় করার কাছে লেখাপড়ার কষ্ট তুচ্ছ.....
৪......
আমার পছন্দের খেলা দাবা ও ক্রিকেট।ক্রিকেটাররা এদেশের মিডিয়ায় কতটুকু হাইলাইটেড তা আমার না বললেও চলবে। তবে ব্যক্তিগত পারফরমেন্সের কারণ ছাড়াও প্রায়ই তারা মিডিয়ায় আরেকটি কারণে আলোচিত হন।আবেগপ্রবণ বাঙালি জাতি এদেরকে প্রায়ই বরণ করে নেন ফ্ল্যাট, গাড়ী ও বাড়ির চাবি দিয়ে। Subcontinent বাদে এরকম আবেগের অযাচিত বহিপ্রকাশ অন্য কোথাও আছে বলে আমার মনে হয় না। ব্যাপারটি চিন্তিত হবার মতই.....
একটি সভ্যতা সামনে অগ্রসর হয় জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমে।আমাদের মিডিয়া যাদের নিয়ে লম্ফঝম্ফ করে তারা সভ্যতার অগ্রসরে কতটা ভূমিকা রাখে তা আমার জানা নেই। কিন্তু যারা নীরবে এই সভ্যতাকে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে- তাদের কিয়দংশের উদাহরণ দেই.....
#দ্বিতীয়_অংশঃ
●●প্রফেসর সৈয়দ আতিকুল হক স্যার।কিছুদিন আগে এই প্রতিযথশা চিকিৎসক Asia Pacific League of Associations for Rheumatology( APLAR) এর President নির্বাচিত হলেন।কোন পত্রিকা কি এটাকে লিড নিউজ করেছে।এটা যে কত বড় অর্জন তা কি সাধারণ জনগণ জানে? আমার ব্যক্তিগত মতামত বলি--কয়েকবার হিমালয় পর্বতশৃঙ্গ জয় করার চেয়েও আমার কাছে APLAR এর President হওয়াটা বেশী রোমাঞ্চকর.....
●●ভরহীন কণা- "ভাইল ফার্মিয়ন"।এটি আবিষ্কারে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির ড. জাহিদ স্যার।টাকলা গিটারিস্ট নিয়ে মিডিয়ার উন্মাদনা ভালোই চলে।ড. জাহিদ স্যারকে নিয়ে মিডিয়ায় উন্মাদনা চোখে পড়ে না কেন?
●●মেডিকেল সায়েন্সে আসার পর Mathematics এর টাচ তেমন নেই বলে আক্ষেপ ছিলো।নিউরোলজীর প্রফেসর কাজী দীন মোহাম্মদ স্যার, মেডিসিনের প্রফেসর আজিজুল কাহ্হার স্যার, কার্ডিওলজীর প্রফেসর আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী স্যাররা যখন Mathematics এর মত লজিক ব্যবহার করে একটার পর একটা রোগ ডায়াগনোসিস করে রোগীর জীবন বাঁচাতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন তখন আর আক্ষেপ থাকে না।জানতে চাই, মিডিয়া কি এদের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে কোন ফিচার রচনা করে?
●●ড. মাকসুদুল আলম স্যার।পেঁপে, রাবার, পাট এবং ছত্রাক এর জীনোমকে উনি ডিকোড করেছিলেন।জানতে মন চায়, বেঁচে থাকতে উনি কয়টি ফ্ল্যাট, গাড়ী, বাড়ি পেয়েছিলেন?
●●প্রফেসর এ.বি.এম আবদুল্লাহ স্যার। USA এর Library গুলো উনার লেখা বইগুলো তাদের সংগ্রহে রেখে নিজেদের ধন্য মনে করে।অতিকথনপ্রিয় নায়িকার চটুল কথাবার্তা পেপারে আসে, ডাঃ এ.বি.এম আবদুল্লাহ স্যারের দিনপঞ্জি বারংবার প্রথম সারির পেপারগুলোতে দেখি না কেন?
●●২০১৬ সালে বিশ্বে প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় ঘটনা--- " সবচেয়ে ক্ষুদ্র রোবট" আবিষ্কার, যে রোবটটি মানুষের রক্তনালীতে ঘুরে বেরাবে মানুষেরই কল্যাণে।নিউইয়র্ক টাইমসে পর্যন্ত এ খবর ছাপা হয়। এসব ঘটনার পেছনের লোক আমেরিকার ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাহের এ সাইফকে কি আমরা চিনি? অভিনেতা- অভিনেত্রীর ফালতু খবর বারংবার ছেপে এদের নাম আমাদের মস্তিষ্কে ঢোকানো হয়, এই জেনারেশনের মস্তিষ্কে তাহের এ সাইফের নাম ঢোকানো হয় না কেন?
●●প্রফেসর আবুল ফায়েজ স্যার, প্রফেসর রিদওয়ানুর রাহমান স্যারের রিসার্চ পেপারগুলো পাবলিশ হয় বিশ্ববিখ্যাত জার্নালগুলোতে। পর্দার পেছনে কাজ করা এই নায়কগুলোকে মিডিয়াতে হাইলাইট করা হয় না কেন?
●●'জুলাই ২০১২ সালে ভারতে বিদ্যুতের বিপর্যয় ঘটল। নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় ছাপা হলো একজন বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞের মত। হারিকেন স্যান্ডির কারণে আমেরিকার কোনো কোনো শহর যখন বিদ্যুৎবিহীন, এবিসি নিউজ তখন প্রকাশ করল একই বিশেষজ্ঞের বক্তব্য। যুক্তরাষ্ট্রের এই নামকরা বিদ্যুৎ প্রকৌশলীর অন্তত ১০০ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত বা প্রচারিত হয়েছে সিএনএন, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ মূলধারার গণমাধ্যমে'। প্রকৌশলী আরশাদ মনসুর স্যারের কথা বলছিলাম।কয়টা মেইন স্ট্রিম মিডিয়ায় এই খবর এসেছে?....
আমার লেখায় আমি স্পষ্টত মোটা দাগে দুইটি অংশের কথা বলেছি।দ্বিতীয় অংশে যাদের কথা বলা হয়েছে, তারা নীরবে নিভৃতে সভ্যতার উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন।তারা Fame- seeker নন।
#তবে_কেন_আমি_তাদ
েরকে_নিয়মিত_মিডিয়ায়_হাইলাইট_কর
তে_বলছি ?
কারণটা বলি.....
মিথ্যাকে বারবার বললে তা সত্যের মত শোনায়।মিডিয়া যেভাবে গৌণ টপিক নিয়ে উন্মাদ টাইপের প্রচারণা চালায়, তাতে New Generation মিসগাইডেড হয়।New Generation দেখছে যে এদেশে লেখাপড়া জানা জ্ঞানী লোকদের অবমূল্যায়ন করা হয়।কাজেই এখন তাদের স্বপ্নটা অন্যরকম-- লেখাপড়াটা কোন রকমে চুকিয়ে তারা এখন অভিনয়ের স্বপ্ন দেখে, আউলা চুলের বাউলা গায়ক হতে চায়, গিটারিস্ট-পিয়ানিস্ট হতে চায় কিংবা ক্রিকেটার....
এসব হোক, তাতে আমার আপত্তি নেই, কিন্তু প্রাইম ইস্যু যে জ্ঞানার্জন--তাত
ে ঘাটতি কেন? লেখাপড়ার মান আজ তাই নিম্নমুখী-দোষটা মিডিয়ার, তারা এই জেনারেশনকে ভুল বার্তা দিয়ে তাদেরকে ডাইভার্ট করছে। "Only two things are infinite- the universe and human stupidity and I am not sure about the former"....মিডি
য়া যাদেরকে প্রতিনিয়ত হাইলাইট করে তা দেখে আইনস্টাইনের এই কথাটা আমার প্রায়ই মনে হয়। এই ট্রেন্ড চলতে থাকলে আজ থেকে ৫০ বছর পর ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পদার্থবিদ, রসায়নবিদ, জীববিজ্ঞানী, ম্যাথম্যাটিশিয়ান, অর্থনীতিবিদের অভাবে এই দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে তা আমি নিশ্চিত.....
বাংলাদেশের এক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।দু'দিন আগে প্রেসক্লাবে এক সম্মেলনে তিনি কিছু কথা বলেন।তার নমুনা দেই-" বাংলাদেশে এখন আর জ্ঞানের চর্চা নেই। শিক্ষার বিস্ফোরণ হচ্ছে, জিপিএ-৫ পাচ্ছে, গোল্ডেন হচ্ছে। কিন্তু ভেতরে মান নেমে যাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের মতো সমাজে জ্ঞানের মানও নেমে যাচ্ছে....." জ্বি স্যার, এদেশে জ্ঞানের মান আরো নিচে নামবে।এদেশে মডেল হতে মিডিয়া উৎসাহিত করে, এদেশে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের তোয়াজ চলে, গায়ক-বাদক হতে প্রণোদনা দেয়া হয়, ক্রিকেটারদের গণসংবর্ধনার আয়োজন করে গাড়ী-বাড়ির ব্যবস্থা করা হয়, পর্বতশৃঙ্গ জয়কে মহিমান্বিত করা হয়--শুধু জ্ঞান চর্চাকে প্রণোদিত করা হয় না, এদেরকে রাখা হয় লাইম লাইটের বাইরে।ঝড়ের আগে ব্যারোমিটারে পারদের কাটা যেমন দ্রুত নামে, এদেশে তেমন ভাবে তাই জ্ঞানের কাটাও নামছে......
"জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ঠ, মুক্তি সেখানে অসম্ভব"। জ্ঞান আজ শৃঙ্খলিত, মুক্তি তাই অনেকটা কাল্পনিক। এরপরও প্রতিকূল এই পরিবেশে সভ্যতার চাকাকে যারা সচল রাখছে, প্রচার বিমুখ এই লোকগুলোর কর্মকান্ডে মুক্তবুদ্ধির মানুষ তাতে অবশ্যই অনুপ্রাণিত হয়।New Generation কে তাই মনে রাখতে হবে, " We must accept finite disappointment but never lose infinite hope..."
মেকী জিনিসের ভিড়ে আসল জিনিস খুঁজে পাওয়া কষ্টসাধ্য, কিন্তু অসম্ভব নয়।দ্বিতীয় অংশে বর্ণিত প্রায় Reward বিহীন এই অতিমানবগুলোর কর্মকান্ডগুলোই আমাদের আলোকবর্তিকা। তাদের কর্মযজ্ঞের বিশালতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়ঃ
Don't try to be the man of the day
Try to be the man of the truth
Try to be the man of the civilization...
#লেখকঃ ডা. জামান এলেক্স

03/06/2017

দেখতে দেখতে একমাস কেটে গেলো ৩৫
তম সিভিল সার্ভিসে জয়েন করলাম .....মনে হচ্ছে
এইতো সেদিন কাঁপাকাঁপা হাতে সাইন করলাম......বেকা
রত্বের অবসান হলো ....অামি বলার মতো একটা
পরিচয় পেলাম... বসার মতো একটা চেয়ার পেলাম...
পেলাম চিন্তাহীন রাত কাটানোর অধিকার !!

খুব মনে পড়ে বেকারত্বের দিনগুলোর কথা.....
প্রতি শুক্রবার যে স্রোত চাকরির পরীক্ষা দিতে
ঢাকায় যায় অামিও ছিলাম তার অংশ......!! যেদিন
দিনগুলোতে অামার পরীক্ষা থাকতো সেই
দিনগুলোতে মা রোজা রাখতেন....পরীক্ষা
শেষে মাকে যখন ফোন দিতাম তিনি জিজ্ঞেস
করতেন..... " পরীক্ষা কেমন হইছে বাবা....??
চাকরি হবে....??!! "...পরীক্ষা অামি ভালোই দিতাম
অথচ চাকরি হতো না.... চাকরিতো তাদের হয় যাদের
কোটা অাছে... যাদের লবিং অাছে... যাদের ঘুষ
দেওয়ার সামর্থ্য অাছে .... যাদের প্রশ্ন কেনার
ক্ষমতা অাছে !!

অনার্স লাইফে অনেক অানন্দ নিয়ে টিউশন
করলেও একটা পর্যায়ে এসে খুব অপমান
লাগতো.... অপমান লাগতো তখন যখন পাঁচ তালা
বেয়ে উঠে দেখতাম স্টুডেন্টের বাসায় তালা
ঝুলছে.. ! অপমান লাগতো তখন যখন বেতন
দেওয়ার সময় শুনিয়ে দিতেন.... " স্যার এই মাসে
অাপনি তিন দিন অাসেন নাই...এরকম করলেতো বাচ্চা
পিছিয়ে যাবে...অাপনাকেতো পুরা মাসের বেতন
দেওয়া হয়,,, তাই না??! " ঈদের সময় চাকরিজীবী
যখন বেতনের ডাবল বোনাস নিয়ে ঘরে ফিরতো
তখন ২৮ রমজানে টিউশনের বেতন সাথে
২০০-৩০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে বলতো.... " সুন্দর
থেকে একটা পাঞ্জাবী কিনে নিয়েন....!! "বাসায়
ফিরে ব্যাগ গোছানোর সময় নিজের অজান্তেই
চোখ ভিজে অাসতো .... অাচ্ছা ২০০-৩০০ টাকার
ভালো পাঞ্জাবী কোথায় পাওয়া যায়....???!!
ঈদে বাড়ি গেলে প্রতিবেশীরা শুভাকাঙ্ক্ষীর
ছদ্মবেশে কলিজায় অাঘাত দিতো ....অমুকের
ছেলে এই করছে তমুকের ছেলে সেই
করছে.....! অাত্মীয়রা অাকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে
দিতেন....বাবার কাঁধে অামি মস্ত বড় বোঝা..!অামি
নিজেকে লুকিয়ে রাখতাম... বাথরুমে ঢুকে কল
ছেড়ে কান্নার শব্দ লুকাতাম..... !!

গতকাল সিভিল সার্ভিসে অামার এক মাস পূর্ণ হলো...
অফিসের হেড ক্লার্ক ফোন দিয়ে জানালো
বেতন এবং বোনাস বিল পাশ হয়েছে.... টাকার
পরিমাণ নেহাত মন্দ নয় ! শুনছি এই ঈদে অামায়
গ্রামে সংবর্ধনা দেওয়া হবে....অথচ গত ঈদে এরাই
অামায় উপহাস করেছে !সাফল্যে তালি অার ব্যর্থতায়
গালি দেওয়ার সংস্কৃতি পাল্টাতে হবে...
একদিন না একদিন সবার চাকরি হবে......
Copied

Want your school to be the top-listed School/college in Lakshmipur?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


P/O:Ramgatir Hat; Thana/Upazilla:Ramgati
Lakshmipur
POSTCODE:3732

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 13:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00