10/03/2026
আলহামদুলিল্লাহ।
রব আমাদের প্রতিটি ভাল কাজকে কবুল করুন। মৃত্যুর পর সেগুলোকে সাদাকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করুন। আমিন
10/03/2026
আলহামদুলিল্লাহ।
01/01/2026
রোজার ঈদের পর পর আমার বাসায় ভাই, ভাবী, ইনকিলাবের সবার দাওয়াত ছিলো। বাসায় ঢুকেই ভাই সোজা চলে গেলো ডাইনিংয়ে, ফ্রিজ খুলে বলতেছিলো
আপা, ডাল ভাত তরকারী কি করছেন?
করছিলাম পোলাউ, রোস্ট, রেজালা। ডাল, ভাত, ভর্তা তো করি নাই। ভাই একটু আফসোস নিয়ে বললো, পোলাউ মাংস পেট ভইরে খাওয়া যায় না। এরপর ফ্রিজের বাটিগুলো খুলতে লাগলো। একটা বাটিতে লাউশাকের তরকারি ছিলো, আগের দিনের রান্না। ভাই সেইটাই মজা করে খাইলো ...
এমন ছিলো ভাইয়ের কাছে তার আপার বাসা যে ঢুকেই কোন ফর্মালিটি ছাড়াই ফ্রিজ খোলা যায়! ভাই এমনই মিশুক ছিলেন, সরল প্রাণবন্ত ছিলেন।
এরপর ডিনার করবে, টেবিলে খাবারের বাটি দেখে কি যেনো ভাবতেছিলো৷ আমি জিগ্যেস করছিলাম,
" ভাবীরে মিস করতেছেন?" ( ভাতিজা তখন অনেক ছোট, তাই ভাবী আসে নাই।)
ভাই সেই চিরচেনা হাসি দিয়া বললো, " এতো ভালো আয়োজন বউরে ছাড়া খাওয়া যায়?"
আমি বললাম, " আপনারা খান, আমি আগেই ভাবীর জন্য আলাদা রেখে দিছি।" (ব্যাক করার সময় বেশি রাত হয়ে যাওয়ায় ভাই আর খাবারগুলো নেয় নাই। তাড়াহুড়ো করে চলে গেছিলেন।)
ভাই খাইলেন, খাওয়ার পর বলছিলো, " আপা, আরেকদিন শুধু ডাল আলু ভর্তা করবেন আর সবজির তরকারি। "
ভাই, ভালো যেকোন কিছুতে ভাবীকে ইয়াদ করতেন।
ভাবীরে তো সাংসারিক কাজে সাহায্য করতেন। নিজে ঘর মোছা, কাপড় ধোয়া, থালাবাসন ধোয়া এসব তো ভাই করতেনই, কেয়ারিংও ছিলো। আরেকদিনের ঘটনা বলি,
ঈদে ভাবীর জন্য দুইটা থ্রিপিস গিফট দিছিলাম। জানি এসব বিপ্লবীরা বউ পরিবাররে শপিংয়ে নিয়ে যাবে! সেই ফুরসত তারা পায় না। অরিজিনাল পাকিস্তানি অরগ্যাঞ্জা। ভাই চেক করার পর ফোন করে বলতেছিলো,
"আপা, থ্রিপিসগুলা খুবই সুন্দর হইছে কিন্তু আমি তো তখন খুলে দেখি নাই, এখন দেখলাম যেইটা পাকিস্তানি সুন্দর বেশি আপনার ভাবী ওইটা পরতে পারবে না। তার স্কিনের সমস্যা হয় সুতি ছাড়া অন্য কিছু পরলে। আপনি মনে কষ্ট নিয়েন না, আপনার ভাবী তো এইটা পরতে পারবে না, শুধু শুধু নষ্ট হবে সুতির কিছু থাকলে এক্সচেইঞ্জ করে দেন।"
ভাইয়ের কথা শুনে ভাবতেছিলাম, সারাটা দিন দেশ আর মানুষের জন্য সংগ্রাম করা ভাই, বউয়ের কোন ফেব্রিক্সটায় সমস্যা হবে, তাও খেয়াল রাখছে!
ভাবীকে নিয়ে প্রায় সময় ভাই অনেক প্রশংসা করতেন। প্রায় সময় আফসোস করতেন যে, ভাবীকে যেই সময়টা দেয়ার কথা ছিলো দিতে পারে না, এসব নিয়ে ভাবীর অভিযোগ নাই, ভাবী আরো ভাইয়ের কাজে সাপোর্ট দেয় ...
আজকে ৩২ শে ডিসেম্বর, বিশটা দিন পার হয়ে গেছে, ভাবী ভাইকে দেখে না ... স্বামী হারানোর শোক অনেক, ভালো স্বামী হারানোর শোক আরো বেশি।
একটু ভালো খাবার খেলেও যেই স্বামী তার স্ত্রীকে ইয়াদ করতেন, ভার্সিটির ক্লাস, ইনকিলাব মঞ্চ, মিছিল, রাজপথ সামলে বাসায় যেয়ে আবার স্ত্রীর কাজে সাহায্যও করতেন, ক্লান্ত বলে এক্সকিউজ দেখাইতেন না ... স্ত্রীর কোন ফেব্রিক্সে সমস্যা এতোটুকু খেয়ালও যিনি রাখছেন, তার স্ত্রী স্বামী ভক্ত, স্বামীকে দেয়া ওয়াদা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে না তো কে করবে?
আপনারা যারা বলেন না, " আমরা সবাই ওসমান হাদী"
নাহ, আপনারা ওসমান হাদী হতে পারবেন না। ব্যক্তি জীবনে সৎ, কর্মঠ, পরিবারের কাছে দায়িত্ববান, কেয়ারিং পুরুষ না হলে কেউ ওসমান হাদী হইতে পারবে না।
আজকে ৩২ শে ডিসেম্বর, বিশটা দিন হয়ে গেলো ভাতিজা বাবাকে দেখে না, যার বাবা জুলাইয়ের শহীদ সন্তানদের বুকে নিয়ে কাঁদছে আজকে তার বাবা শহীদ!
আব্বাজানরে কে বুকে নিয়ে কাঁদে ???
ওর সামনে কেউ কাঁদতে পারে না, ভাবীও পারে না। ও কান্না করে ... বাপকে পায় না তো কান্নাই ওর বাবাকে খুজে বেড়ানোর ভাষা।
আজকে ৩২ শে ডিসেম্বর এই হত্যাকান্ডে জড়িত সকল আসামীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত, ভাইয়ের প্রতি ইনসাফ না করা পর্যন্ত আমাদের ডিসেম্বর শেষ হবে না।
আমাদের সময় আটকে গেছে ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টায় ...
#মারফিয়া
30/12/2025
আমাদের বীর শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি রাহি:।
বেশি বেশি সেয়ার করুন টিমলাইনে।
20/12/2025
বীর হাদী ভাইয়ের বিদায় বেলা।
যেই না মেট্রো বিজয় স্মরণী পৌঁছালো, প্রচন্ড তাকবিরে ফেটে পড়লো পুরো ট্রেইন। চলল মেট্রো স্টেশনেও।
মানুষ প্রচন্ড র্যাডিকালাইজড। ভারতের বিরুদ্ধে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। পুরো রাস্তা জুড়েই এ আলাপ।
কোটি কোটি মানুষ আজও ভারতীয় হিন্দুত্ববাদ ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। ঠিক গত বছর জুলাই-অগাস্টের মত।
কিছু শুয়োরের বাচ্চার জন্য জনতার এ শক্তিকে কাজে লাগানো যাবে না। এই শুয়োরের বাচ্চাদের কাছে জনতার সেন্টিমেন্ট, হাদির লাশের চেয়ে রাজনীতি বড়।
কিন্তু লা হাওলা ওয়া কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।
এ জনতা এ মাটিতেই থাকবে। ভারত কিংবা আওয়ামী লীগ, কিংবা আধিপত্যবাদীদের দোসররা এ মাটি কেড়ে নিতে হলে, আমাদের ঈমান কেড়ে নিতে হলে এদেরই মোকাবেলা করতে হবে।
ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে হাদির নাম ইতিহাসে লেখা থাকবে। বারবার হাদি ফিরে ফিরে আসবে।
সাথে লেখা থাকবে তাদের নামও, হাদির লাশকে নিয়ে যারা নোংরা রাজনীতি করেছে। হাদির লাশ দেশের মাটি ছোঁ্যার আগেই হাদিকে অসম্মানিত করেছে।
লিল্লাহি তাকবির, আল্লাহু আকবার
ইনকিলাব জিন্দাবাদ
©
19/12/2025
আল্লাহ কবুল করুন শহীদ হিসেবে হাদি ভাইকে।
আমিন
আমাদের ভাই উসমান হাদি আর নেই৷ ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন৷ আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন,শহীদ হিসেবে কবুল করুন, জান্নাত দান করুন।
10/12/2025
লাউড & ক্লিয়ার🔥
09/12/2025
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
04/12/2025
এটি ইয়েমেনের একটি মসজিদে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা। শায়খ আবু ইমাদ ঘটনাটি বর্ণনা করছিলেন এভাবে:
আমার এক বন্ধু বলল, 'গতকাল আমার পাশের গলির একজন মারা গেছেন। নাম আবু নাসের, বেশ বয়স্ক মানুষ ছিলেন। আল্লাহ ওনাকে জান্নাত নসিব করুন। তো, জানাজা আর দাফন শেষে খাটিয়াটা (মৃতদেহ বহনের খাট) যখন ফেরত আনা হলো, তখন বেশ রাত। এশার নামাজ শেষ, মসজিদও বন্ধ। তাই লোকেরা খাটিয়াটা মসজিদের দরজার বাইরের উঠোনে রেখে দিল, যাতে সকালে মুয়াজ্জিন বা খাদেম এসে সেটা জায়গামতো রেখে দেয়।
রাত তখন প্রায় সাড়ে ৩টা। এক লোক মসজিদে আসল। দেখল উঠোন খোলা কিন্তু মসজিদের মেইন দরজা তালাবদ্ধ। সে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল, কিন্তু কেউ খুলল না। ওদিকে হাড় কাঁপানো শীত। হঠাৎ তার নজর পড়ল ওই খাটিয়াটার দিকে। ওটার ওপর আবার একটা চাদর বিছানো ছিল। ব্যাস! সে আর দেরি না করে খাটিয়ার ঢাকনা সরাল, ভেতরে মোটা কাপড় পাতা ছিল, আরামসে ওটার ভেতরে ঢুকে শুয়ে পড়ল। আর সাথে সাথেই গভীর ঘুম!
আধঘণ্টা পর মসজিদের খাদেম এলেন দরজা খুলতে। তিনি খাটিয়াটা দেখে ভাবলেন, হয়তো ফজরের পর জানাজা হবে, তাই লাশসহ কেউ রেখে গেছে। মুসল্লিরা আসতে শুরু করল, কেউ অজু করতে গেল, কেউ সালাম বিনিময় করল। খাদেম আর কয়েকজন মিলে খাটিয়াটা ধরাধরি করে একেবারে মেহরাবের পাশে নিয়ে রেখে দিল। সবাই ভাবছে ভেতরে লাশ আছে, তাই কেউ আর ওটা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেনি। তাছাড়া ভোরের বেলা সবার চোখে তখনও ঘুমের রেশ।
ফজরের আজান হয়ে গেল। মসজিদে প্রায় ৫০ জনের মতো লোক। আমরা কাতার সোজা করে নামাজে দাঁড়ালাম। আমি ছিলাম একদম প্রথম কাতারে। দ্বিতীয় রাকাতেও সব ঠিক ছিল, হঠাৎ দেখলাম খাটিয়াটা নড়ছে! ভাবলাম, এ কী! চোখের ভুল নাকি? চোখ কচলে আবার তাকালাম। না! স্বপ্ন না! ইমাম সাহেবের ঠিক পেছনে রাখা খাটিয়াটা সবার চোখের সামনে সত্যিই নড়ছে! আমার তো ভয়ে কলিজা শুকিয়ে গেল, পুরো কাতারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল।
ঠিক তখনই খাটিয়ার ভেতর থেকে লোকটা ঘুম ভেঙে ঢাকনাটা সরাল। মাথা বের করে সোজা জিজ্ঞেস করল, 'ভাই, আপনারা কি নামাজ পড়ে ফেলেছেন?'
ওরে ভাই! এরপরের দৃশ্য আর কী বলব! আল্লাহর কসম, সেই দৃশ্য দেখার মতো ছিল। আমি জুতো ফুতোর কথা ভুলে জান নিয়ে দে দৌড়! এক দৌড়ে মনে হয় এক কিলোমিটার পার হয়ে গেছি, তাও খালি পায়ে! ওদিকে ইমাম সাহেব তো বেহুঁশ হয়ে ফ্লোরে পড়ে গেলেন। ভয়ে কেউ কেউ দেয়ালে গিয়ে মাথা ঠুকল। কেউ কেউ আমার মতো খালি পায়েই ভোঁ দৌড়। একজন তো ভয়ে অজুখানার হাউজেই পড়ে গেল। সোজা কথায়, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো মসজিদ ফাঁকা!
কিন্তু হাসির ব্যাপার হলো, ওই খাটিয়ার লোকটাও আমাদের সাথে সাথে দৌড়াতে শুরু করল! সে দৌড়াচ্ছে আর সবার পিছু পিছু চিৎকার করছে:
'ও ভাই! কী হয়েছে? কেয়ামত হয়ে গেল নাকি? আপনারা দৌড়াচ্ছেন কেন?'
আর পেছনের লোকজন যতবার দেখছে যে 'লাশ' তাদের পেছনে দৌড়াচ্ছে, তাদের দৌড়ানোর গতি তত বাড়ছে! বেচারা লোকটা তখনও চিল্লাচ্ছে, 'আমাকে ফজরের জন্য ডাক দিলেন না কেন? আল্লাহ আপনাদের বিচার করবেন!' আসলে সে বুঝতেই পারছিল না যে এই লঙ্কাকাণ্ডের মূল হোতা আসলে সে নিজেই!
(কালেকশিত)
02/12/2025
ফের বিয়ে করলেন আবু ত্বহা ও সাবিকুন নাহার