02/02/2026
টুমচর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষা সফর: একটি অবিস্মরণীয় দিন
গত [৩১/০১/২০২৬] টুমচর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় আমাদের জ্ঞানের দিগন্তকে প্রসারিত করতে ও ঐতিহাসিক চেতনা জাগ্রত করতে একটি শিক্ষামূলক সফরের আয়োজন করেছিল। আমাদের গন্তব্য ছিল [চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, কর্ণফুলী টানেল,পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ]। সকাল ৬: ৪২টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে আমরা ঢাকা এক্সপ্রেসের বাসে করে রওনা দিই।
যাত্রাপথ:
যাত্রাপথে আমাদের সহযাত্রী ছিলেন প্রধান শিক্ষক "কামাল উদ্দিন", সহকারি শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থী বৃন্দ । বাসে চলার পথে আমরা সমবেত কণ্ঠে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে, কৌতুক ও গল্পের মধ্যে দিয়ে সময় কাটাই। শিক্ষকরা আমাদের সফর সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেন।
প্রথম গন্তব্য: চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা।
সকাল ১০টার দিকে আমরা চিড়িয়াখানা পৌঁছাই। বিশাল এই চিড়িয়াখানা প্রবেশ করেই যেন আমরা প্রাণিজগতের আস্তানা চলে এসেছি আমরা এখানে নানা ধরনের বন্যপ্রাণী দেখতে পাই যার মধ্যে রয়েছে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার,মেরু বাঘ, সিংহ কালো ভাল্লুক, মায়া হরিন, চিত্রা হরিন, বানর, হনুমান গন্ধগকুল, জেব্রা, ঘোড়া, ক্যাঙ্গারু, জলহস্তী, কুমির, নানান প্রকারের পাখি এবং বিলুপ্তপ্রায় অনেক ধরনের প্রাণী ও সাপ দেখতে পাই । শিশুদের জন্য নানান খেলনার ব্যবস্থা আছে যা তারা সবাই উপভোগ করেন, আমরা নোটবুকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লিপিবদ্ধ করি।
দ্বিতীয় গন্তব্য: কর্ণফুলী টানেল।
দুপুরে হালকা নাশতা সেরে আমরা যাই বাংলাদেশের চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ও দীর্ঘতম সড়ক টানেল। এটি পতেঙ্গা ও আনোয়ারা অঞ্চলকে সংযুক্ত করে, যা ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তার ভিতরে ঢুকে আমরা বুঝতে পারি নাই যে আমরা পানির নিচে আছি। অসাধারণ একটা টানেল উপভোগ করে আমরা সবাই আনন্দিত।
মধ্যাহ্নভোজ ও আনন্দমুহূর্ত:
সী বিচের পাশে (পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত) 'বিসমিল্লাহ হোটেলে' আমরা মধ্যাহ্নভোজের বিরতি নেই। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তত্ত্বাবধানে সবাই মিলে হোটেলের খাবার ভাগাভাগি করে খাই ( খাবারের মানের কথা নাই বলি) {১০ এ ৫} চট্টগ্রামে খাবার বলে কথা । এরপর কিছুক্ষণ মুক্ত বাতাসে খেলাধুলা ও গল্প করার পাশাপাশি নিজের থেকে খাবারও ভাগাভাগি করে খেয়ে নি সাথে শিক্ষকরা ও আমাদেরকে খাবারের ভাগ দেয় ।
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত :
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের মতই কিছুটা অংশ। নানান ধরনের খাবার, ঘোড়া রাইড, অনেকগুলা জাহাজ দেখতে পাই। তখনই আকাশে উড়তে ছিল অনেকগুলো জেট বিমান সাথে যাত্রীবাহী বিমান । সমুদ্র যে বিশালতা না গেলে কেউই তা বুঝতোনা। শিক্ষার্থীরা সমুদ্রের পানি দেখেই পানিতে নিজেদের পা ভিজিয়ে নিল কিছু শিক্ষক, শিক্ষার্থী গোসল করে নিল। যেখান থেকে আমরা সূর্যাস্ত দেখতে পাই।
শিক্ষণীয় দিক:
এই সফরের মাধ্যমে আমরা শুধু বেড়াতে আসিনি, শিখেছি অনেক কিছু:
উপসংহার:
সন্ধ্যা ৭টায় আমরা ফিরে আসি আমাদের ঢাকা এক্সপ্রেসের । এই সফর আমাদের পাঠ্যবইয়ের সীমানা পেরিয়ে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা এমন একটি স্মরণীয় আয়োজনের জন্য। এই দিনটি আমাদের জীবনের একটি মূল্যবান অধ্যায় হয়ে থাকবে।
অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই সকল শিক্ষক শিক্ষিকাদের
সাথে আরো ধন্যবাদ জানাই, সাজ্জাদ আল মামুন মারুফ স্যার, আব্দুল মোতালেব ইমাম স্যারকে।
রচনাকারী:
শিক্ষার্থীবৃন্দ
টুমচর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়।