18/06/2026
প্রিয় স্যারকে আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন।
আমীন
১. আমরা যারা একবিংশ শতাব্দীর ১ম দশকের দিকে রহিমা বেগম একাডেমির স্টুডেন্ট ছিলাম তাদের জীবনে ঐ স্কুলের একজন শিক্ষকের প্রভাব ছিলো বর্ণনাতীত, হিউজ!! হি ইজ নান আদার দ্যান আমাদের শ্রদ্ধেয় নকিমউদ্দীন স্যার। গত রোজায় স্কুলের ইফতার মাহফিলেও স্যার কত সাবলীলভাবে স্মৃতি রোমন্থন করলেন। আমাদের আর্লি এইজে লেখাপড়ার পাশাপাশি চরিত্র গঠনে নকিমউদ্দীন স্যারের অবদান অনস্বীকার্য।
২. আমার মনে আছে, ২০০৫ সালের দিকে আমরা তখন ৫ম শ্রেণির স্টুডেন্ট। আমাদের মধ্যে অনেকেরই তখন ভিডিও গেমস খেলার বাজে অভ্যাস ছিলো। একদিন আমরা বয়েন মার্কেটের একটা দোকানে ভিডিও গেমস খেলতেছিলাম। হঠাৎ দেখি ছড়ি হাতে স্যার!! ঐদিন স্যারের মাইরের পর আমার ব্যাচের কেউ আর খেলা কন্টিনিউ করি নি। একজন স্কুল শিক্ষকের এরকম অভিভাবক সুলভ আচরন খুবই বিরল।
৩. আমার লাইফে দেখা নকিমউদ্দীন স্যারই একমাত্র শিক্ষক যার ছড়ির স্পর্শ ক্লাসের রেগুলার স্টুডেন্ট থেকে স্যারের প্রাইভেট ব্যাচের পোলাপান বেশি পেয়েছে। আমি ৫ম শ্রেণিতে শুধু স্যারের প্রাইভেট ব্যাচে পড়ি। এরপর থেকে ক্লাসে খুব বেশি মনোযোগ দেয়া লেগেছে শুধু স্যারের এই বিরল এবং স্রোতের বিপরীতে এই অসম্ভব সুন্দর জেসচারের জন্য।
৪. ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পরীক্ষার পরের দিনগুলো ফলাফলের অপেক্ষায় কেটে যাচ্ছিলো। এরকম কোনো একদিন সন্ধ্যায় স্যার বাসায় এসে বললেন আমি ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছি। তখন এরকম ইন্টারনেট-গুগলের দুনিয়া ছিলো না। পরে শুনেছিলাম স্যার অনেকের বাসাতেই তাদের রেজাল্ট পৌঁছে দিয়েছিলেন। আমরা হয়তো পরেরদিন সকালেই স্কুলে গেলে জানতে পারতাম! ছাত্রছাত্রীদের প্রতি তাঁর এরকম ছোট ছোট যত্নশীলতার অভাব পরে অনুভব করেছি।
৫. পিটি/প্যারেডের সময় লাল ফিতাওয়ালা বাঁশি হাতে মাঠ জুড়ে স্যারের বিচরণ কার না মনে না থাকার কথা! "দল, আরামেএএ দাঁড়া, সোজ্জা হও"!
৬. স্কুলের স্পোর্টসডের দিনগুলোতে ফজলু স্যার আর নকিমউদ্দীন স্যারের কথা আজীবন মনে থাকবে। ছোট গ্রুপে পড়ার জন্য পোলাপান যখন হাটু ভাজ করে দাড়াত তখনই স্যার যমের মত হাজির হয়ে যেত।
৭. আজ আমাদের সবার প্রিয় অভিভাবক আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। ইদের আগের দিনেও স্যারকে দেখেছি। মানতেই কষ্ট হচ্ছে। সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া থাকবে তিনি যেন স্যারকে পরম যত্নে আগলে রাখেন। আমিন।
সানসাইন'১৩