02/09/2026
মেধা পাচার!!!!!!!,,,
BUET থেকে Electrical Engineering পড়া একটা ছেলে যদি চার বছর পর ব্যাংকের চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেয়, আমরা এটাকে Brain Drain বলি না।
ঢাবি থেকে একজন Computer Science গ্রাজুয়েট যদি তিন বছর BCS-এর জন্য বাংলা ব্যাকরণ আর সাধারণ জ্ঞান মুখস্থ করে, এটাকেও Brain Drain বলি না।
একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যদি Research বাদ দিয়ে ফাইল, কমিটি, অনুমোদন আর দাপ্তরিক কাজে বেশি সময় দেন, এটাও Brain Drain না।
Brain Drain বলতে আমরা বুঝি, ছেলেটা Heathrow বিমানবন্দরে নামছে।
আমার মনে হয় সংজ্ঞাটাই ভুল।
ধরেন, বাংলাদেশ ৫০ লাখ টাকা খরচ করে একটা MRI machine কিনল।
তারপর সেই মেশিন দিয়ে হাসপাতালের attendance sheet প্রিন্ট করা শুরু করল।
মেশিন তো দেশেই আছে।
কিন্তু ৫০ লাখ টাকার মেশিন দিয়ে ৫ হাজার টাকার প্রিন্টারের কাজ করানো আর মেশিনটার ভ্যালু হারানো, অর্থনীতির হিসাবে খুব বেশি আলাদা না।
মানুষের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে।
একজন Engineer তৈরি করতে একটা দেশের প্রায় ২০-২২ বছর লাগে। পরিবার টাকা দেয়। সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তুকি দেয়। ভালো ভালো শিক্ষকরা সময় দেন। মানুষটা জীবনের সবচেয়ে শেখার বয়সটা খরচ করে একটা কঠিন স্কিল তৈরি করে।
তারপর তাকে এমন জায়গায় বসানো হলো, যেখানে সেই স্কিলের ১০ শতাংশও কাজে লাগে না।
মানুষটা বাংলাদেশেই আছে। মেধাটা আর কাজে নেই।
চার বছর Engineering পড়া মানুষটা আবার শিখছে অরণ্যে রোদন, অকাল কুষ্মাণ্ড, গড্ডলিকা প্রবাহ আর উভয় সংকট কাকে বলে।
Physics ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট পাওয়া মানুষটা মুখস্থ করছে ঝালকাঠি কোন বিভাগের, চুয়াডাঙ্গার আগের নাম কী, আর পঞ্চগড়ের কয়টা উপজেলা।
তারপর একদিন সে সরকারি পরীক্ষায় পাশ করে।
আমরা বলি, ছেলেটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
কিন্তু কেউ হিসাব করি না, যে মস্তিষ্কটাকে তৈরি করতে পরিবার এবং রাষ্ট্র ২০ বছর বিনিয়োগ করল, সেই মস্তিষ্কের আসলে কত শতাংশ এখন ব্যবহার হচ্ছে বা হবে।
Brain Drain-এর সবচেয়ে ভয়ংকর ভার্সন শুধু এটা না যে একজন Engineer জার্মানিতে চলে গেছে।
সে যদি সেখানে engineering করে, নতুন সিস্টেম বানায়, রিসার্চ করে, পেটেন্ট করে, তার brain অন্তত কাজ করছে। তার অর্জিত জ্ঞান অন্তত সঠিকভাবে কাজে লাগছে এবং দেশে বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে । দেশ তাকে ইনপুট দিলেও তার আউটপুট নেওয়া সক্ষমতা হারিয়েছে। ফলাফল হিসেবে তাকে বিদেশ যেতে বাধ্য হচ্ছে।
কিন্তু আমার কাছে মনে হয় এর চেয়েও অদ্ভুত হলো, এই Engineer বাংলাদেশেই আছে। Brain-ও বাংলাদেশেই আছে। শুধু Engineering-টাই নাই।
আমরা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে Brain Drain গুনি।
অথচ সবচেয়ে বড় leak হয় তার অনেক আগেই।
যেদিন একটা মেধাবী ছেলে বুঝে যায়, তার মেধার চেয়ে এই দেশে একটা নিরাপদ চাকরির দাম বেশি,
কোন বিষয়ে গবেষণার থেকে ঐ কবিতার গুরুত্ব বেশি,
মেধার চেয়ে চাটুকারদের গুরুত্ব বেশি,
সেদিনই ঐ ছাত্রের Brain Drain হয়ে গেছে।
হয়ত তার পাসপোর্টে তখনও একটাও ভিসা লাগেনি,
এমন বাস্তবতা চোখের সামনে ভাষার পরেও একদল চোখ থাকতেও অন্ধ ব্যক্তিগণ বলবে মেধা পাচার হচ্ছে।