যেদিন হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খৃষ্টান
জাতি গোত্র নাহি রবে।
এমন মানব সমাজ কবে গো সৃজন হবে।
লালন (১৭ অক্টোবর ১৭৭৪ – ১৭ অক্টোবর ১৮৯০) ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন বাঙালি; যিনি ফকির লালন, লালন সাঁই, লালন শাহ, মহাত্মা লালন ইত্যাদি নামেও পরিচিত। তিনি একাধারে একজন আধ্যাত্মিক ফকির সাধক, মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক এবং দার্শনিক। তিনি অসংখ্য গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়ক ছিলেন। লালনকে বাউল গানের অগ্রদূতদের অন্যতম একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং তার গান উনিশ শতকে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
লালন ছিলেন একজন মানবতাবাদী সাধক। যিনি ধর্ম, বর্ণ, গোত্রসহ সকল প্রকার জাতিগত বিভেদ থেকে সরে এসে মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছিলেন। অসাম্প্রদায়িক এই মনোভাব থেকেই তিনি তার গান রচনা করেছেন। তার গান ও দর্শন যুগে যুগে প্রভাবিত করেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ও অ্যালেন গিন্সবার্গের মতো বহু খ্যাতনামা কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, বুদ্ধিজীবীসহ অসংখ্য মানুষকে। তার গানগুলো যুগে যুগে বহু সঙ্গীতশিল্পীর কণ্ঠে লালনের এই গানসমূহ উচ্চারিত হয়েছে। গান্ধীরও ২৫ বছর আগে, ভারত উপমহাদেশে সর্বপ্রথম, তাকে ‘মহাত্মা’ উপাধি দেয়া হয়েছিল।
লালনের জীবন সম্পর্কে বিশদ কোনো বিবরণ পাওয়া যায় না। তার সবচেয়ে অবিকৃত তথ্যসূত্র তার নিজের রচিত ২৮৮টি গান। কিন্তু লালনের কোনো গানে তার জীবন সম্পর্কে কোনো তথ্য তিনি রেখে যাননি, তবে কয়েকটি গানে তিনি নিজেকে "লালন ফকির" হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। তার মৃত্যুর পনেরো দিন পর কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত হিতকরী পত্রিকার সম্পাদকীয় নিবন্ধে বলা হয়, “ইহার জীবনী লিখিবার কোন উপকরণ পাওয়া কঠিন। নিজে কিছু বলিতেন না। শিষ্যরা তাঁহার নিষেধক্রমে বা অজ্ঞতাবশত কিছুই বলিতে পারে না।"
লালনের জন্ম কোথায় তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। লালন নিজে কখনো তা প্রকাশ করেননি। কিছু সূত্রে পাওয়া যায় লালন ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশের) ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার হারিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কোনো কোনো লালন গবেষক মনে করেন, লালন কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার চাপড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত ভাড়ারা গ্রামে জন্মেছিলেন। এই মতের সাথেও অনেকে দ্বিমত পোষণ করেন। বাংলা ১৩৪৮ সালের আষাঢ় মাসে প্রকাশিত মাসিক মোহম্মদী পত্রিকায় এক প্রবন্ধে লালনের জন্ম যশোর জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে বলে উল্লেখ করা হয়। একসূত্র থেকে জানা যায়, তার পিতার নাম কাজী দরীবুল্লাহ্ দেওয়ান। পিতামহের নাম কাজী গোলাম কাদির ও মাতার নাম আমিনা খাতুন। কাজী তাদের বংশগত উপাধি। গবেষকদের ধারণা, লালন শাহের আরো দুই ভাই ছিলেন। আলম শাহ্ ও কলম শাহ্। আলম শাহ্ কলকাতা শ্রমিকের কাজ করেন। আরেক তথ্য থেকে জানা যায়, তারা চার ভাই: আলম শাহ্, কলম শাহ্, চলম শাহ্ ও লালন শাহ্। চলম শাহ নামে ভাই ছিল না বলে মনে করা হলেও মলম শাহ্ নামে আরেক ভাই ছিলেন। ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে আলম ও মলম মৃত্যুমুখে পতিত হন। লালন ফকির জীবকা জন্য হরিশপুরের দক্ষিণ পাড়ার ইনু কাজীর বাড়ি আশ্রয় নেন।
হিতকরী পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ নিবন্ধে বলা হয়েছে, লালন তরুণ বয়সে একবার তীর্থভ্রমণে বের হয়ে পথিমধ্যে গুটিবসন্ত রোগে আক্রান্ত হন। তখন তার সাথীরা তাকে মৃত ভেবে পরিত্যাগ করে যার যার গন্তব্যে চলে যায়। কালিগঙ্গা নদীতে ভেসে আসা মুমূর্ষু লালনকে উদ্ধার করেন মলম শাহ। মলম শাহ ও তার স্ত্রী মতিজান তাকে বাড়িতে নিয়ে সেবা-শুশ্রূষা দিয়ে সুস্থ করে তোলেন। এরপর লালন তার কাছে দীক্ষিত হন এবং কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়াতে স্ত্রী ও শিষ্যসহ বসবাস শুরু করেন। গুটিবসন্ত রোগে একটি চোখ হারান লালন। ছেউড়িয়াতে তিনি দার্শনিক গায়ক সিরাজ সাঁইয়ের সাক্ষাতে আসেন এবং তার দ্বারা প্রভাবিত হন।
এছাড়া লালন সংসারী ছিলেন বলে জানা যায়। তার সামান্য কিছু জমি ও ঘরবাড়ি ছিল। লালন অশ্বারোহণে দক্ষ ছিলেন এবং বৃদ্ধ বয়সে অশ্বারোহণের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে যেতেন।
লালনের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে গবেষকদের মাঝে যথেষ্ট মতভেদ রয়েছে, যা তার জীবদ্দশায়ও বিদ্যমান ছিল। তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত প্রবাসী পত্রিকার মহাত্মা লালন নিবন্ধে প্রথম লালন জীবনী রচয়িতা বসন্ত কুমার পাল বলেছেন, “সাঁইজি হিন্দু কি মুসলমান, এ কথা আমিও স্থির বলিতে অক্ষম।” বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় লালনের জীবদ্দশায় তাকে কোনো ধরনের ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন করতেও দেখা যায়নি। লালনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। নিজ সাধনাবলে তিনি হিন্দুধর্ম এবং ইসলামধর্ম উভয় শাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন। তার রচিত গানে এর পরিচয় পাওয়া যায়। প্রবাসী পত্রিকার নিবন্ধে বলা হয়, লালনের সকল ধর্মের লোকের সাথেই সুসম্পর্ক ছিল। মুসলমানদের সাথে তার সুসম্পর্কের কারণে অনেকে তাকে মুসলমান বলে মনে করতেন। আবার বৈষ্ণবধর্মের আলোচনা করতে দেখে হিন্দুরা তাকে বৈষ্ণব মনে করতেন। প্রকৃতপক্ষে লালন ছিলেন মানবতাবাদী এবং তিনি ধর্ম, জাত, কূল, বর্ণ, লিঙ্গ ইত্যাদি অনুসারে মানুষের ভেদাভেদ বিশ্বাস করতেন না।
বাংলা ১৩৪৮ সালের আষাঢ় মাসে প্রকাশিত মাসিক মোহম্মদী পত্রিকায় এক প্রবন্ধে লালনের জন্ম মুসলিম পরিবারে বলে উল্লেখ করা হয়। আবার ভিন্ন তথ্যসূত্রে তার জন্ম হিন্দু পরিবারে বলে উল্লেখ করা হয়।
লালনের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন,
“লালন ধার্মিক ছিলেন, কিন্তু কোনো বিশেষ ধর্মের রীতিনীতি পালনে আগ্রহী ছিলেন না। সব ধর্মের বন্ধন ছিন্ন করে মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছিলেন জীবনে ”
লালনের পরিচয় দিতে গিয়ে সুধীর চক্রবর্তী লিখেছেন,
কাঙাল হরিনাথ তাঁকে জানতেন, মীর মশাররফ চিনতেন, ঠাকুরদের হাউসবোটে যাতায়াত ছিল, লেখক জলধর সেন বা অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় তাঁকে সামনাসামনি দেখেছেন কতবার, গান শুনেছেন, তবু জানতে পারেননি লালনের জাতপরিচয়, বংশধারা বা ধর্ম।
একটি গানে লালনের প্রশ্ন:
এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে।
যেদিন হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান
জাতি গোত্র নাহি রবে।
কিছু লালন অনুসারী যেমন মন্টু শাহের মতে, তিনি হিন্দু বা মুসলমান কোনোটিই ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন ওহেদানিয়াত নামক একটি নতুন ধর্মীয় মতবাদের অনুসারী। ওহেদানিয়াতের মাঝে বৌদ্ধধর্ম এবং বৈষ্ণব ধর্মের সহজিয়া মতবাদ, সুফিবাদসহ আরও অনেক ধর্মীয় মতবাদ বিদ্যমান। লালনের অনেক অনুসারী লালনের গানসমূহকে এই আধ্যাত্মিক মতবাদের কালাম বলে অভিহিত করে থাকে।
লন্ডনে বাংলাদেশি ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড -
সেই সাথে ২০ হাজার ডলার অর্থদণ্ড।
অভিযোগ ইমামতি চলাকালীন সময়ে,জিন ছাড়ানোর কথা বলে,14 জন কিশোরীকে ধ/র্ষ/ণ করেছে এ ইমাম।
ডি এন এ টেস্টে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ায়,এই সিদ্ধান্ত নেয় লন্ডন আদালত।
এদেরকে আওলিয়া না মানলে আবার রেগে যায়!!!
17/05/2026
কে গরু খেল, কে শূকর খেল—সেটা না দেখে, বরং দেখা জরুরি কে খেতে পাচ্ছে না। খিদেরও কোনো ধর্ম নেই, কোনো সীমান্তও নেই।
13/04/2026
ভুয়া হাদিসের মুসলমান নামধারীরা বেহেশতের কথা বলে কিন্তু দুনিয়াকে দোজখ বানিয়ে ছাড়ে।
13/04/2026
ভুয়া হাদিসের মুসলমান নামধারীরা সুযোগ পেলেই আমাদের আক্রমণ করবে। ভিন্ন মতাবলম্বীদের আক্রমণ করাই তাদের ধর্ম, তাদের রাজনীতি। ঘৃণা ছাড়া মানুষকে কিছু দেওয়ার এদের সামর্থ্য নেই। এরা সফল হলে শেষ পরিণতি হবে ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ধ, যেটাকে তারা জিহাদ বলবে।
আমরা অহিংস, প্রেমের মরা।
তাই বলে এদের হাতে এভাবে মারা যাওয়া যাবে না। আমাদেরকে মেরে এরা শুধু মানুষই মারছে না, তারা সমাজে ভয় প্রতিষ্ঠা করছে। এই ভয়টাই তাদের পুঁজি, কিন্তু মানবসভ্যতার জন্য ক্যান্সার।
তাই আমাদের সংঘবদ্ধ হতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আত্মরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
18/03/2026
লেখা বা কনটেন্ট যা-ই হোক না কেন, জনপ্রিয় হতে হলে আপনাকে ঘৃণা ছড়াতে হবে কিংবা আক্রমণাত্মক হতে হবে। মানব সভ্যতার এই সময়টি যেন ঘৃণা, ক্ষোভ আর লোভকেই উদযাপন করছে। এমনকি কোনো দুঃখের কথা লিখতে গেলেও কাউকে না কাউকে দায়ী করতে হয়, আক্রমণ করতে হয়; তা না হলে সেটা ‘হিট’ হয় না।
ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, আন্তরিকতা আর ছোট ছোট সুখ-দুঃখ উদযাপনের দিনগুলো কি তবে শেষ হতে চলল?
11/03/2026
সরকার বাহাদুর,
দয়া করে সবচেয়ে আগে ছিনতাইকারী নিয়ন্ত্রণ করুন।
ইউনুস সরকারের এই অবদানটি থেকে আমাদের প্রথমে মুক্তি দিন।
10/03/2026
জাল হাদিস ব্যবসায়ীরা দ্বীনের নামে এক ভয়ংকর সংস্কৃতি তৈরি করছে, যার না আছে ইসলামের সঙ্গে সম্পর্ক, না সভ্যতার সঙ্গে। বে-ইলম, বে-দীন, বে-গায়রাত, বে-আদব এক হুজুম।
খোদা এদের ইলম ও আদব নসিব করুন।
07/03/2026
“তোমার ইমাম উপস্থিতিহীন, তোমার নামাজ আনন্দহীন
— এমন নামাজ থেকে সরে গিয়ে বাঁচো, এমন ইমাম থেকেও সরে গিয়ে বাঁচো।” - ইকবাল
01/03/2026
আমেরিকানরা চাচ্ছিল না। সালমান আর নেতানিয়াহুর তদবিরে হামলা হলো ইরানের উপর, মা-রা গেলেন খা-মেনি।
এটাই মুসলিম উম্মাহ ?
কয়েক সপ্তাহ ধরে পর্দার আড়ালে তৎপর লবিংয়ের পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও ইস-রায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানি-য়াহু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প-কে গতকাল ইরানের ওপর হা-মলা চালাতে রাজি করান। ওই হা-মলায় সর্বোচ্চ নেতা আ-য়াতুল্লাহ খা-মেনি নি-হত হন।
এই হাম-লার সময়ও তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দূতরা সক্রিয়ভাবে পার-মাণবিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন ছিল, অন্তত এক দশক পর্যন্ত আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে ইরানের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো হু-মকি নেই। ফলে এ হামলা দীর্ঘদিনের মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা থেকে এক বড় ধরনের বিচ্যুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
24/02/2026
হুজুররা বলে কোরান-হাদিস ১৪০০ বছর ধরে একই আছে, যার অর্থও একই আছে।
অথচ:
ছাপাখানা একসময় হারাম ছিলো—
পরে হালাল হইছে।
ইংরেজি পড়া একসময় হারাম ছিলো—
পরে হালাল হইছে।
মাইক ব্যবহার একসময় হারাম ছিলো—
পরে হালাল হইছে।
ছবি তোলা হারাম ছিলো—
পরে হালাল হইছে।
টিভি দেখা হারাম ছিলো—
পরে হালাল হইছে।
নাটক-সিনেমা হারাম ছিলো—
পরে হালাল হইছে।
নারী নেতৃত্ব হারাম ছিলো—
পরে হালাল হইছে।
শহীদ মিনারে ফুল দেয়া হারাম ছিলো—
সেটা মাত্র হালাল হইছে।
এখন ভাবতেছি—
আর কী কী “হারাম” আছে,
যেগুলো পরিস্থিতি বদলালেই খুব শীঘ্রই হালাল হইয়া যাবে?
Want your school to be the top-listed School/college in Kushtia?