28/03/2026
একা থাকুন, দল বেঁধে বিপদ ডেকে আনবেন না ⚠️
আমি শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি। সহজ কথায় বলতে গেলে, একটা নিরিবিলি জায়গায় “সরে পড়ছি”।
পরিকল্পনা হলো — জনবসতি কম এমন এলাকায় সস্তায় কিছু কৃষিজমি কিনে একপাশে ছোট একটা ঘর তুলব। বাকি জমিতে নিজের পরিবারের জন্য চাষাবাদ করব।
মসজিদ, বাজার বা প্রতিবেশীদের থেকে বেশ কিছুটা দূরে থাকতে চাই, যাতে নিরাপত্তার ঝুঁকি যতটা সম্ভব কম থাকে। সেখানে গিয়ে কাউকে বলব না যে, “দেশের অবস্থা খারাপ, তাই পালিয়ে এসেছি”। এতে লোকে আমাকে ধনী ভেবে টার্গেট করতে পারে। তাই সাধারণ, সাদামাটা জীবনযাপন করব — প্রয়োজনে একেবারে সাধারণ মানুষের মতোই।
অনেকেই এখন আখেরি জামানার হাদিস পড়ে ভাবছেন, ফিতনার সময় লোকালয় ছেড়ে দূরে চলে যাওয়া উচিত। হাদিসে বলা হয়েছে, মেষপাল নিয়ে জনবসতির বাইরে চলে যাওয়ার কথা। আমার মতো অনেকেই এখন এই চিন্তা করছেন। কারণ চারপাশে যা দেখছি, তাতে সতর্ক হওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ফিতনা মানে শুধু যুদ্ধ-বিগ্রহ নয়। বাজারের অস্থিরতা, খাদ্য সংকট, অর্থনৈতিক অব্যবস্থা — এসবও ফিতনার অংশ। এমন পরিস্থিতিতে শুধু টাকা থাকলেই বাঁচা যায় না। নিজে কিছু উৎপাদন করার সক্ষমতা থাকলে টিকে থাকা অনেক সহজ হয়।
অনেকে গ্রামে বা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন। কেউ কেউ দল বেঁধে কোথাও চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু এখানে একটা বড় সমস্যা আছে।
যদি আপনি ২০-৩০ জন মিলে একটা ফাঁকা জায়গায় গিয়ে নতুন করে মসজিদ, মন্দির বা কমিউনিটি তৈরি করেন, তাহলে সেটা আর “লোকালয়ের বাইরে” থাকা হলো না। বরং সেখানেই একটা নতুন জনবসতি তৈরি হয়ে যাবে। তাহলে শহরে যেখানে আছেন, সেখানেই থাকুন।
আরেকটা বাস্তবতা হলো — যদি কোনো যুদ্ধ বা সংঘাতের পরিস্থিতি হয়, তাহলে দূরের এই দলবদ্ধ জায়গাগুলো শত্রুর চোখে সহজ টার্গেট হয়ে উঠতে পারে। দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে এটা কোনো বড় ক্যাম্প। ফলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
কেউ কেউ আবার পাহাড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন। কিন্তু বাস্তবে সেটা খুব সহজ নয়। হুট করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গেলে শরীর ও মন কোনোটাই সহজে মানিয়ে নিতে পারবে না। ম্যালেরিয়া, বিষাক্ত পোকামাকড়, সাপ-বিছে — এসবের ঝুঁকি অনেক বেশি।
বিশেষ করে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি বা বান্দরবানের গভীর পাহাড়ি এলাকায় জমি কিনে সেটেল করার চিন্তা করলে সেটা হবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। পার্বত্য চট্টগ্রামের জমি-জমা সংক্রান্ত আইন খুবই কঠিন। সাধারণ সমতলের মানুষ সেখানে সহজে জমি কিনতে পারেন না। বিশেষ অনুমতি, হেডম্যানের সুপারিশ, জেলা প্রশাসকের অনাপত্তি — এসব লাগে। প্রক্রিয়া জটিল এবং সময়সাপেক্ষ।
এছাড়া ওই অঞ্চলে বিভিন্ন সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ আছে। তাদের চেকপোস্টে যানবাহন থেকে বড় অঙ্কের চাঁদা আদায় করা হয়। এটা সাধারণ চাঁদাবাজির চেয়ে অনেক বড় পর্যায়ের।
সব মিলিয়ে বলতে চাই — মাহদি আসবেন কবে, দাজ্জাল কখন বের হবেন — এসব নিয়ে শুধু আলোচনা না করে নিজের এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
আমি শহর ছেড়ে একটা শান্ত, প্রত্যন্ত গ্রাম বেছে নিচ্ছি। যেখানে হুটহাট ভূমিকম্প, শব্দদূষণ আর নগরের কোলাহল থেকে অনেকটা দূরে থাকা যাবে। যে জায়গায় মানুষজন আমাকে চেনে এবং আমিও চিনি, সেখানেই নিরাপত্তা বেশি।
#একা_থাকুন #ফিতনা_থেকে_বাঁচুন েড়ে #গ্রামে_ফিরুন #আখেরি_জামানা #সারভাইভাল_টিপস #নিরাপদ_আশ্রয়