09/02/2025
ইলমে ওহীর পাঠশালা
বয়স্ক, কর্মব্যস্ত এবং সর্ব সাধারণের জন্য একটি দ্বীনি মাদ্রাস।
09/02/2025
ফিতনার এই যামানায় আল্লাহ ওয়ালাদের সুহবাত ও সান্নিধ্য আমাদের জন্য অনেক বেশি জরুরী। এর দ্বারা দ্বীনের মৌলিক ফাহাম ও বুঝ হাসিল করা সহজ হয়। হক ও বাতিলের পার্থক্য নির্ণয় করা যায়। তাই আমরা হকপন্থি ওলামায়ে কেরামের সান্নিধ্যে বেশি সময় থাকার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
ঈমানের সাথে ইলম
মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা. বা.
হযরতওয়ালা বলেন, বর্তমানে মানুষ হাটে-বাজারে নিজের ঈমান নষ্ট করছে। ইলম না থাকার কারণে নিজের ঈমান হেফাজত করতে পারছে না। ঈমানের হেফাজতের জন্য ইলম দরকার। তাই ইলম শিখতে হবে।
মসজিদে প্রবেশ করার ও বাহিরে বের হওয়ার দু‘আ
মসজিদে প্রবেশ করার সময় পড়বে:
بِسْمِ اللهِ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلٰى رَسُوْلِ اللهِ اَللّٰهُمَّ افْتَحْ لِيْ اَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
অর্থঃ আল্লাহ তা‘আলার নামে শুরু করছি।আল্লাহ তা‘আলার রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দ্বার উন্মুক্ত করে দিন। (মুসলিম হাদীস নং-৭১৩/ মুসনাদে আহমাদ হাদীস নং-২৬৪৭৩, ২৬৪৭২/ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা হাদীস নং- ২৯৭৫৫/ ইবনে মাজাহ হাদীস নং- ৭৭১,মুসনাদে আহমাদ, ৬:২৮৩, হাদীস নং-২৬৪৫৯/মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৩৪৩১)
মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় পড়বে:
بِسْمِ اللهِ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلٰى رَسُوْلِ اللهِ اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَسْئَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ.
অর্থঃ আল্লাহ তা‘আলার নামে শুরু করছি।আল্লাহ তা‘আলার রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার করুণার দ্বার উন্মুক্ত করে দিন। (মুসলিম হাদীস নং-৭২৮/ মুসনাদে আহমাদ ৬:২৮৩, হাদীস নং-২৬৪৫৯/মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৩৪৩১, ২৯৭৫৫)
তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত
বুযুর্গানে দীন তাঁদের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেছেন, তিনটি এমন সুন্নাত আছে, যেগুলোর উপর আমল করতে পারলে অন্তরে নূর পয়দা হয় এবং এর দ্বারা অন্য সকল সুন্নাতের উপর আমল করা সহজ হয়ে যায় এবং অন্তরে সুন্নাতের প্রতি আমল করার স্পৃহা জাগ্রত হয়।
১. সহীহ-শুদ্ধ করে আগে আগে সালাম করা ও সর্বত্র সালামের ব্যাপক প্রসার করা। (মুসলিম শরীফ, হাদীস নং-৫৪/ তিরমিযী, হাদীস নং-২৬৯৯)
বি.দ্র. اَلسَّلامُ (আস্-সালামু) এর শুরুর হামযা এবং মীমের পেশ স্পষ্ট করে উচ্চারণ করতে হবে। সালামের উত্তর শুনিয়ে দেয়া ওয়াজিব। (আলমগিরী, ৫ : ৩২৬)
২. প্রত্যেক ভাল কাজে ও ভাল স্থানে ডান দিককে প্রাধান্য দেয়া। যথা : মসজিদে ও ঘরে প্রবেশকালে ডান পা আগে রাখা। পোশাক পরিধানের সময় ডান হাত ও ডান পা আগে প্রবেশ করানো এবং প্রত্যেক নিম্নমানের কাজে এবং নিম্নমানের স্থানে বাম দিককে প্রাধান্য দেয়া। যথা : মসজিদ বা ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বাম পা আগে রাখা, বাম হাতে নাক পরিষ্কার করা, পোশাক থেকে বাম হাত বা বাম পা আগে বের করা। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-১৬৮/ মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৫০৪৩) মুস্তাদরাক, হাদীস নং-৭৯১/ মুসলিম শরীফ, হাদীস নং-২০৯৭)
৩. বেশি বেশি আল্লাহ তা‘আলার যিকির করা। (সূরায়ে আহযাব, ৪১/ মুস্তাদরাক, হাদীস নং-১৮৩৯)। তাছাড়া
ক. উপরে ওঠার সময় আল্লাহু আকবার, নীচে নামার সময় সুবহানাল্লাহ, সমতল ভূমিতে চলার সময় লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ্ পড়তে থাকা। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-২৯৯৩/ তিরমিযী, হাদীস নং-৩৩৮৩)
খ.প্রতিদিন কুরআনে কারীম থেকে কিছু পরিমাণ তিলাওয়াত করা বা অন্যের তিলাওয়াত শ্রবণ করা। (মুসলিম, হাদীস নং-৭৯১/ বুখারী শরীফ, হাদীস নং-৫০৩৩)
গ.পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পর সুন্নাত থাকলে সুন্নাতের পরে নতুবা ফরযের পরে তিনবার ইস্তিগফার, একবার আয়াতুল কুরসী, একবার সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক্ব, সূরা নাস এবং তাসবীহে ফাতেমী অর্থাৎ ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ্, ৩৩ বার আল-হামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়া। (মুসলিম শরীফ, হাদীস নং-৫৯১/ ইমাম নাসায়ীর সুনানে কুবরা, হাদীস নং-৯৮৪৮/ তাবারানী কাবীর, হাদীস নং-৭৫৩২/ নাসায়ী শরীফ, হাদীস নং-১৩৩৬/ আবু দাউদ, হাদীস নং-১৫২৩/ মুসলিম শরীফ, হাদীস নং-৫৯৬)
ঘ.সকাল-বিকাল তিন তাসবীহ আদায় করা অর্থাৎ ১০০ বার কালিমায়ে সুওম-সুবহানাল্লাহি ওয়াল্ হামদুলিল্লাহি ওয়া লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, ১০০ বার ইস্তিগফার ও ১০০ বার কোন সহীহ দরূদ শরীফ পড়া। (মুসলিম শরীফ, হাদীস নং-২৬৯২, ২৬৯৫/ মুসলিম, হাদীস নং-২৭০২/ ইতহাফ, ৫ : ২৭৫)
ঙ.প্রত্যেক কাজে মাসনূন দু‘আ পড়া। (মুসলিম, হাদীস নং-৩৭৩/ তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং-৩৩৮৪)
এখন থেকে এখানে নতুন একটা সিরিজ লেখা শুরু করা হবে ইনশাআল্লাহ।
দাওয়াত ও দায়ীঃ পরিচয়, বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী।
ইলমে ওহীর পাঠশালা (বয়স্ক মাদ্রাসা)
এত দ্বারা ইলমে ওহীর পাঠশালা বয়স্ক মাদ্রাসার সকল তালিবুল ইলম ভাইদের জানানো যাচ্ছে যে, আগামী ৯ই সফর মুতাবেক ১৫ই আগস্ট রোজ বৃহস্পতিবার থেকে ১৪ই সফর মুতাবেক ২০ই আগস্ট রোজ মঙ্গলবার পর্যন্ত আমাদের মাদ্রাসার ১ম সাময়িক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। আর পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ১২ই আগস্ট রোজ সোমবার হতে তিনদিন মাদ্রাসার সকল সবক বন্ধ থাকবে। সকল সাথীকে মাদ্রাসায় এসে ভালো ভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বিশেষ ভাবে আদেশ করা হচ্ছে।
পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে—
১. ফরজে আইন (১ম বর্ষ)— ১০০ টাকা।
২. ফরজে আইন (২য় বর্ষ)— ১৫০ টাকা।
৩. মিজান (১ম বর্ষ)— ২০০ টাকা।
৪. নাহবেমীর (২য় বর্ষ)— ২০০ টাকা।
৫. হেদায়েতুন্নাহু (৩য় বর্ষ)— ২৫০ টাকা।
আদেশক্রমে
মাওঃ ওয়ালিউল্লাহ হাফিঃ
মুহতামিম
ইলমে ওহীর পাঠশালা (বয়স্ক মাদ্রাসা) এবং
মাওঃ সাইফুল ইসলাম হাফিঃ
শিক্ষা সচিব
ইলমে ওহীর পাঠশালা (বয়স্ক মাদ্রাসা)
ইলমে ওহীর পাঠশালা ( বয়স্ক মাদ্রাসা)
যে সকল তালিবুল ইলম ভাইয়েরা বাংলাদেশ নৈশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে তরজমুল কুরআন বিভাগে বোর্ড পরীক্ষা দিয়ে সারা বাংলাদেশে মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন। ভেড়ামারা উলামা পরিষদের পক্ষ থেকে তাদেরকে সংবর্ধনা, পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে এক ইসলাহী মজলিসের আয়োজন করা হয়েছে।
মজলিস শুরু হবে বাদ মাগরিব থেকেই ইনশাআল্লাহ।
তাই সকল তালিবুল ইলম ভাইদের মাগরিবের আগেই মাদ্রাসায় উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
আদেশক্রমে
মাওঃ ওয়ালিউল্লাহ হাফিঃ
মুহতামিম
ইলমে ওহীর পাঠশালা (বয়স্ক মাদ্রাসা)
যাতায়াতের ঠিকানাঃ ৩ নং ব্রীজ সংলগ্ন,পূর্ব ভেড়ামারা, ভেড়ামারা।
কুরবানী : ইতিহাস, গুরুত্ব ও শিক্ষা
মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহমান
কুরবানী ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান ও বিশেষ ইবাদত। হযরত আদম আলাইহিস সালামের যুগ থেকে তা চলে আসছে। তবে সব নবীর শরীয়তে এর পদ্ধতি এক ছিল না। ইসলামী শরীয়তে এর যে পদ্ধতি নির্দেশিত হয়েছে তার মূল সূত্র ‘মিল্লাতে ইবরাহীমী’তে বিদ্যমান ছিল। এজন্য কুরবানীকে ‘সুন্নাতে ইবরাহীমী’ বলা হয়।
হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের কুরবানীর কথা খোদ কুরআন মাজীদে উল্লেখিত হয়েছে এবং এর সঙ্গে জুড়ে রয়েছে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।
বহু দিন ধরে ইবরাহীম আ.-এর কোনো সন্তান হচ্ছে না। ধীরে ধীরে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর সন্তান জন্মের স্বাভাবিক বয়স পার হয়ে যায়। জীবনসন্ধ্যায় দাঁড়িয়েও তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে নেক সন্তান প্রার্থনা করেন-
رَبِّ هَبْ لِيْ مِنَ الصّٰلِحِيْنَ.
হে আমার রব! আমাকে নেক সন্তান দান করুন। -সূরা সাফফাত (৩৭) : ১০০
যত দিন যাচ্ছিল ইবরাহীম আ.-এর হৃদয়ে সন্তানের আকাঙ্ক্ষা ততই তীব্র হচ্ছিল এবং আল্লাহর কাছে ততই দুআ-কাতর হচ্ছিলেন। অবশেষে আল্লাহ তাঁর আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে একজন সহনশীল পুত্রসন্তান দান করেন। এই সন্তানের নাম রাখেন ইসমাঈল।
একজন অশীতিপর বৃদ্ধ লোক সন্তানের মুখ দেখলে কত আনন্দিত হবে, তা সহজেই অনুমেয়। ইবরাহীম আ. শুধু আনন্দিতই হননি; আল্লাহর শোকরে তাঁর হৃদয় ভরে যায়। তিনি শোকর আদায় করে বলেন-
الْحَمْدُ لِلهِ الَّذِيْ وَهَبَ لِيْ عَلَي الْكِبَرِ اِسْمٰعِيْلَ وَاِسْحٰقَ اِنَّ رَبِّيْ لَسَمِيْعُ الدُّعَآء.
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে বৃদ্ধ বয়সে ইসমাঈল ও ইসহাক দান করেছেন। নিশ্চয় আমার রব দুআ শ্রবণকারী। -সূরা ইবরাহীম (১৪) : ৩৯
ইবরাহীম আ. শামে বসবাস করতেন। একসময় আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ এল, পুত্র ইসমাঈল ও তাঁর মা হা-জারকে যেন মক্কায় রেখে যান। মক্কায় তখন জনবসতি ও জীবনোপকরণ কিছুই ছিল না। তার পরও আল্লাহর নির্দেশমতো তিনি তাঁদেরকে সুদূর মক্কায় রেখে যান।
ইসমাঈল আ. ধীরে ধীরে বেড়ে উঠতে শুরু করেন। তিনি যত বড় হচ্ছিলেন, তাঁর প্রতি পিতার ভালবাসা তত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। যখন তিনি ছোটাছুটি করার বয়সে উপনীত হন তখন ইবরাহীম আ. এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন। তিনি স্বপ্নে দেখেন, একমাত্র কলিজার টুকরোকে যবেহ করছেন।
এটা যদিও স্বপ্ন ছিল; কিন্তু নবীগণের স্বপ্ন ওহীর মতো হয়ে থাকে। তাই এ স্বপ্নের অর্থ এই ছিল যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে ইবরাহীম আ.-কে একমাত্র সন্তান ইসমাঈল আ.-কে যবেহ করার আদেশ করা হয়েছে।
ইসমাঈল আ. যদিও ইবরাহীম আ.-এর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও দুআর ফল; কিন্তু তাঁর কাছে আল্লাহর আদেশ ছিল সবার উপরে। তিনি খুশিমনে এ আদেশ পালন করতে রাজি হয়ে গেলেন। কেননা সন্তান আল্লাহ্ই দান করেছেন। এখন তিনিই তাকে যবেহ করার আদেশ করেছেন। তাঁর দেওয়া সম্পদ তাঁর জন্য কুরবান করতে দ্বিধা কীসের? বান্দার জন্য এটা বরং সৌভাগ্যের বিষয়।
ইবরাহীম আ. অতীতে আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক বড় বড় পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন এবং সবগুলোতে চূড়ান্ত সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। এই আদেশ পালনেও নিজের দিক থেকে তিনি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু এটা যেহেতু দুইজনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় ছিল, তাই অপরজনের অভিমত জানা বা অন্তত তাকে অবহিত করা উচিত। এতে সে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবে অথবা তার কোনো দ্বিধা থাকলে বুঝানো-সমঝানো যাবে।
ইবরাহীম আ. নিজ স্বপ্নের কথা সন্তানকে জানিয়ে তাঁর অভিমত জানতে চাইলেন-
يٰبُنَيَّ اِنِّيْۤ اَرٰي فِي الْمَنَامِ اَنِّيْۤ اَذْبَحُكَ فَانْظُرْ مَا ذَا تَرٰي.
হে আমার বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি, তোমাকে যবেহ করছি। তাই তুমি চিন্তা করে দেখ, তোমার অভিমত কী?
কিন্তু তিনি তো ছিলেন খলীলুল্লাহর পুত্র এবং ভাবী নবী। তিনি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলেন-
يٰۤاَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِيْۤ اِنْ شَآءَ اللهُ مِنَ الصّٰبِرِيْنَ.
হে আমার পিতা! আপনাকে যে আদেশ করা হয়েছে তা করে ফেলুন। আপনি আমাকে আল্লাহ চাহেন তো অবশ্যই ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবেন। -সূরা সাফফাত (৩৭) : ১০২
এটা ইসমাঈল আ.-এর গভীর জ্ঞান ও বিনয়ের পরিচায়ক। ইবরাহীম আ. তাঁর কাছে একথা বলেননি যে, আল্লাহ তোমাকে যবেহ করার আদেশ করেছেন; তিনি একটি স্বপ্নের কথা বলেছেন মাত্র। কিন্তু ইসমাঈল আ. বুঝে ফেলেছেন, এ স্বপ্ন মূলত আল্লাহর একটি আদেশ।
দ্বিতীয়ত, তিনি ‘ইনশাআল্লাহ’ বলে বিষয়টি আল্লাহর কাছে সমর্পণ করেছেন এবং ‘আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবেন’ বলে এ ইঙ্গিত করেছেন যে, এই ধৈর্য একা আমারই কৃতিত্ব নয়; বরং দুনিয়াতে আরো বহু ধৈর্যশীল আছেন। ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে তাদের মধ্যে পাবেন। এভাবে তিনি অহংকার ও আত্মমুগ্ধতার নাম-গন্ধটুকু পর্যন্ত খতম করে চূড়ান্ত বিনয়ের প্রকাশ করলেন।
যখন পিতা-পুত্র উভয়ে আল্লাহর আদেশ পালনের জন্য রাজি হয়ে গেলেন তখন এল আসল পর্ব। ইবরাহীম আ. পুত্রকে যবেহ করার জন্য কাত করে শোয়ালেন।
যবেহের ক্ষেত্রে যদিও সাধারণ নিয়ম হল চিত করে শোয়ানো; কিন্তু ইবরাহীম আ. ইসমাঈল আ.-কে কাত করে শোয়ানোর উদ্দেশ্য সম্ভবত এই ছিল যে, আল্লাহ তাআলার আদেশ পালন প্রসঙ্গে তাঁরা দুইজন নিজেদের পক্ষ থেকে তো এটাই ধরে নিয়েছিলেন যে, পিতা পুত্রকে কার্যত যবেহ করবেন। তাই ইবরাহীম আ. পুত্রকে কাত করে শোয়ালেন, যাতে ছুরি চালানোর সময় চেহারা নজরে না পড়ে, পাছে পুত্রবাৎসল্য উঠলে মন টলে যায়। এ থেকে অনুমেয়, এই আদেশ পালনের জন্য তাঁরা কত আন্তরিক ছিলেন।
আল্লাহ তাআলার আদেশ পালনের জন্য তাঁরা যেহেতু তাঁদের ইখতিয়ারাধীন সবকিছুই করে ফেলেছিলেন, তাই তাঁদের পরীক্ষা হয়ে গিয়েছিল। অনন্তর আল্লাহ তাআলা তাঁর কুদরতের এক কারিশমা দেখালেন। তিনি নিজ কুদরতে সেখানে একটি দুম্বা পাঠিয়ে দিলেন। ইবরাহীম আ. আল্লাহর নির্দেশে পুত্রের স্থলে সেটি যবেহ করলেন। ইসমাঈল আ. জীবিত ও নিরাপদ থাকলেন।
কুরআনের ভাষায়-
فَلَمَّاۤ اَسْلَمَا وَتَلَّهٗ لِلْجَبِيْنِ وَنَادَيْنٰهُ اَنْ يّٰۤاِبْرٰهِيْمُ قَدْ صَدَّقْتَ الرُّءْيَا اِنَّا كَذٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِيْنَ، اِنَّ هٰذَا لَهُوَ الْبَلٰٓؤُا الْمُبِيْنُ، وَفَدَيْنٰهُ بِذِبْحٍ عَظِيْمٍ.
অতঃপর যখন তারা উভয়ে আদেশ মান্য করল এবং পিতা পুত্রকে উপুড় করে শুইয়ে দিল। আর আমি তাকে ডাক দিয়ে বললাম, হে ইবরাহীম! তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখিয়েছ। আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। নিশ্চয় এটা ছিল স্পষ্ট পরীক্ষা। এবং আমি এক মহান কুরবানীর (পশুর) বিনিময়ে তাকে (ইসমাঈল) মুক্ত করলাম। -সূরা সাফফাত (৩৭) : ১০৩-১০৭
ইবরাহীম আ.-এর এই দুম্বা কুরবানী হল, ইসলামী শরীয়তে নির্দেশিত কুরবানীর পদ্ধতির মূল সূত্র। এখন (সামর্থ্যবান) মুসলমানদের কর্তব্য হলো (নির্ধারিত দিনে নির্দিষ্ট) পশু কুরবানী করা। এটা কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَ انْحَرْ.
সুতরাং আপনার প্রতিপালকের জন্য সালাত আদায় করুন এবং কুরবানী করুন। -সূরা কাওসার (১০৮) : ২
এ আয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এবং তাঁর মাধ্যমে গোটা উম্মতকে নামায ও কুরবানীর আদেশ করা হয়েছে।
আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা.-এর সূত্রে বর্ণিত এক দীর্ঘ হাদীসে এসেছে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে দ্বীন সম্পর্কে জানতে এসেছিল। ফিরে যাওয়ার সময় নবীজী তাকে ডেকে বললেন-
أُمِرْتُ بِيَوْمِ الْأَضْحَى، جَعَلَهُ اللهُ عِيدًا لِهَذِهِ الْأُمَّةِ.
আমাকে ‘ইয়াওমুল আযহার’ আদেশ করা হয়েছে। এ দিবসকে আল্লাহ এ উম্মতের জন্য ঈদ বানিয়েছেন। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৬৫৭৫; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৮৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৫৯১৪।
এ হাদীস থেকে জানা গেল, আল্লাহর পক্ষ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুরবানীর দিন কুরবানী করার জন্য বিশেষভাবে আদেশ করা হয়েছে।
মিখনাফ ইবনে সুলাইম রা. বলেন-
كُنّا وُقُوفًا مَعَ النّبِيِّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ بِعَرَفَاتٍ، فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: يَا أَيّهَا النّاسُ، عَلَى كُلِّ أَهْلِ بَيْتٍ فِي كُلِّ عَامٍ أُضْحِيّةٌ.
আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আরাফায় অবস্থান করছিলাম। তখন তাঁকে বলতে শুনেছি, হে লোকসকল! প্রত্যেক ঘরওয়ালার উপর প্রতি বছর কুরবানী আবশ্যক। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫১৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৮৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২৪৭৮৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৭৮৮৯।
ইমাম তিরমিযী রহ. বলেন-
هذا حديث حسن غريب.
তাছাড়া নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদানী-জীবনে প্রতি বছর কুরবানী করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন-
أَقَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ يُضَحِّي كُلَّ سَنَةٍ.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় দশ বছর ছিলেন। প্রতি বছরই কুরবানী করেছেন। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫০৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৪৯৫৫।
ইমাম তিরমিযী রাহ. বলেন-
هذا حديث حسن
উপরিউক্ত আয়াত ও হাদীসসমূহ থেকে বোঝা গেল, কুরবানী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান। সামর্থ্যবানদের জন্য কুরবানী করা আবশ্যক।
কুরবানীর মধ্যে অনেক শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। এখানে কয়েকটি শিক্ষা সংক্ষেপে উল্লেখ করা হল :
১. কুরবানীর গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা হলো, আল্লাহর প্রতি তাওহীদের বিশ্বাসকে দৃঢ়, পরিপূর্ণ ও নিখুঁত করা। কুরবানী আমাদের এ শিক্ষা দেয় যে, ইবাদতের উপযুক্ত একমাত্র আল্লাহ তাআলা। আল্লাহ ছাড়া আর কেউ, আর কোনো কিছু ইবাদতের উপযুক্ত নয়। সুতরাং ইবাদত একমাত্র আল্লাহর করব। আল্লাহ ছাড়া আর কারো, আর কোনো কিছুর ইবাদত করব না। কোথাও উপাসনাধর্মী কোনো কাজ গায়রুল্লাহর জন্য হলে আমি তাতে শরীক হব না।
আল্লাহ তাআলা নবীজীকে বলেন-
قُلْ اِنَّنِيْ هَدٰىنِيْ رَبِّيْۤ اِلٰي صِرَاطٍ مُّسْتَقِيْمٍ دِيْنًا قِيَمًا مِّلَّةَ اِبْرٰهِيْمَ حَنِيْفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ، قُلْ اِنَّ صَلَاتِيْ وَنُسُكِيْ وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِيْ لِلهِ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ، لَا شَرِيْكَ لَهٗ وَبِذٰلِكَ اُمِرْتُ وَاَنَا اَوَّلُ الْمُسْلِمِيْنَ.
আপনি বলে দিন, আমার প্রতিপালক আমাকে সরলপথ প্রদর্শন করেছেন, যা বিশুদ্ধ দ্বীন, ইবরাহীমের মিল্লাত, যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। আপনি বলুন, আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো শরীক নেই। এরই আদেশ করা হয়েছে আমাকে এবং আমিই প্রথম আনুগত্যকারী। -সূরা আনআম (৬) : ১৬১-৬৩
এ আয়াতগুলোতে নবীজীকে নিখুঁত ও পরিপূর্ণ তাওহীদের ঘোষণা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর পশু যবেহ করার সময় তাওহীদের এই ঘোষণা উচ্চারণ করতেন।
জাবির রা. থেকে বর্ণিত, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন দুটি দুম্বা জবাই করেছেন। তিনি যখন এগুলোকে কেবলামুখী করে শোয়ালেন তখন বললেন-
إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِيْ فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ، عَلى مِلَّةِ إِبْرَاهِيْمَ حَنِيْفًا، وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ، إِنَّ صَلَاتِيْ وَنُسُكِيْ وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِيْ لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ. لَا شَرِيْكَ لَهٗ، وَبِذلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ.
আমি আমার মুখ তাঁর অভিমুখী করলাম, যিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, ইবরাহীমের মিল্লাতের ওপর, যিনি একনিষ্ঠ ছিলেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো শরীক নেই। এরই আদেশ করা হয়েছে আমাকে এবং আমিই প্রথম আনুগত্যকারী। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৯৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৫০২২; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস ২৮৯৯।
২. কুরবানীর আরেকটি বড় শিক্ষা হল আল্লাহর সামনে আত্মসমর্পণ করা। তাঁর আদেশকে শিরোধার্য করা। তাঁর হুকুম-আহকাম পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। কুরবানীর ইতিহাসে আমরা দেখেছি, ইবরাহীম আ. আল্লাহর নির্দেশে বৃদ্ধ বয়সে প্রাপ্ত একমাত্র সন্তান ইসমাঈল আ.-কে যবেহ করার জন্য খুশিমনে রাজি হয়েছিলেন।
৩. কুরবানীর আরেকটি বড় শিক্ষা হল যে কোনো নেক কাজ একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করা। কুরবানীর এ শিক্ষা উপরিউক্ত আয়াত ও হাদীস থেকেই আমরা পাই। অন্যত্র তা আরো পরিষ্কারভাবে এসেছে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
لَنْ يَّنَالَ اللهَ لُحُوْمُهَا وَلَا دِمَآؤُهَا وَلٰكِنْ يَّنَالُهُ التَّقْوٰي مِنْكُمْ.
আল্লাহর কাছে সেগুলোর গোশত পৌঁছে না এবং সেগুলোর রক্তও না; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। -সূরা হজ্ব (২২) : ৩৭
হাঁ, কুরবানীর পশুর কিছুই তো আল্লাহর কাছে পৌঁছে না। গোশত আমরা খেয়ে নিই। রক্ত-ময়লা ফেলে দিই। তাহলে আল্লাহর কাছে কী পৌঁছে? তাঁর কাছে পৌঁছে অন্তরের নিয়ত। যদি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কুরবানী করা হয়, তাহলে এটাই তাঁর কাছে পৌঁছবে এবং তাঁর কাছে এর প্রতিদান পাওয়া যাবে। আর যদি নামধাম, লৌকিকতা ইত্যাদি উদ্দেশ্যে করা হয় তাহলে তাঁর কাছে কোনো প্রতিদান পাওয়া যাবে না।
মানব ইতিহাসের প্রথম কুরবানীর ঘটনায়ও এ বিষয়টি উল্লেখিত হয়েছে। যখন আদম আ.-এর দুই পুত্র কুরবানী পেশ করলেন তখন একজনের কুরবানী কবুল হল, অপরজনের কুরবানী কবুল হয়নি। এ অবস্থায় তার (যার কুরবানী কবুল হয়নি) উচিত ছিল সত্য মেনে নেওয়া, কিন্তু সে উল্টো ঈর্ষাকাতর হল এবং একপর্যায়ে অপর ভাইকে হত্যা করার জন্য উদ্যত হল। তখন ওই ভাই (যার কুরবানী কবুল হল) বললেন-
اِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللهُ مِنَ الْمُتَّقِيْنَ .
আল্লাহ তো মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন। -সূরা মায়েদা (৫) : ২৭
হাদীসেও এ বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
إِنَّ أَوَّلَ مَا نَبْدَأُ بِهِ فِي يَوْمِنَا هَذَا أَنْ نُصَلِّيَ، ثُمَّ نَرْجِعَ فَنَنْحَرَ، مَنْ فَعَلَهُ فَقَدْ أَصَابَ سُنَّتَنَا، وَمَنْ ذَبَحَ قَبْلُ، فَإِنَّمَا هُوَ لَحْمٌ قَدَّمَهُ لِأَهْلِهِ، لَيْسَ مِنَ النُّسُكِ فِي شَيْءٍ.
ঈদের দিন আমরা প্রথমে নামায আদায় করি। অতঃপর ফিরে এসে কুরবানী করি। যে ব্যক্তি এভাবে আদায় করবে, সে আমাদের নিয়ম মতো করল। আর যে নামাযের আগেই পশু জবাই করল সেটা তার পরিবারের জন্য গোশত হবে, কুরবানী হবে না। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৫৪৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৬১।
এ হাদীস থেকে বোঝা গেল, কুরবানী শরীয়তের বিধান মোতাবেক আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে করতে হবে। অন্যথায় তা কুরবানী হবে না; বরং নিছক গোশত খাওয়ার আয়োজন হবে।
৪. কুরবানীর আরেকটি শিক্ষা হল, কোনো কাজেই এমনকি যদি অনেক বড় কোনো নেক কাজেরও তাওফীক হয়ে যায়, তবু অহংকার না করা, আত্মমুগ্ধতার শিকার না হওয়া; বরং বিনয়ী হওয়া এবং অন্তরে এই অনুভূতি থাকা চাই যে, এটা একমাত্র আল্লাহর দয়াই আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে। অন্যথায় আমার পক্ষে তা সম্ভব ছিল না। কুরবানীর ইতিহাসে আমরা লক্ষ করেছি, ইবরাহীম আ. যখন ইসমাঈল আ.-এর কাছে নিজ স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করে তাঁর অভিমত জানতে চেয়েছিলেন তখন তিনি বলেছিলেন, ‘হে আমার পিতা! আপনাকে যে আদেশ করা হয়েছে তা করে ফেলুন। আপনি আমাকে আল্লাহ চাহেন তো অবশ্যই ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবেন।’
একবার নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি দুম্বা কুরবানী করেন- একটি নিজের পক্ষ থেকে, আরেকটি উম্মতের পক্ষ থেকে। দুম্বা দুটি জবাই করার সময় তিনি বলেন-
اَللّٰهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ.
হে আল্লাহ! এটা তোমার পক্ষ থেকেই এবং তোমার জন্যই। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৯৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৫০২২; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস ২৮৯৯
নবীজীর বিনয় দেখুন, দুটি দুম্বা কুরবানী করা সত্ত্বেও তিনি অহংকার করেননি; বরং এই অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন যে, এটা আল্লাহরই দান, তিনিই এর তাওফীক দান করেছেন।
৫. কুরবানীর আরেকটি শিক্ষা হল, সন্তানকে আল্লাহর অনুগত বানানোর চেষ্টা করা। কুরবানীর ইতিহাসে আমরা দেখেছি, ইবরাহীম আ. মনে মনে এমন সন্তানের কথাই ভাবতেন এবং আল্লাহর কাছেও এমন সন্তানই প্রার্থনা করতেন, যে আল্লাহর পূর্ণ অনুগত হবে, আল্লাহর জন্য জীবন দিতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। তিনি তা বাস্তবে প্রমাণ করেছেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সুন্দরভাবে কুরবানী করা এবং এর শিক্ষা দ্বারা আলোকিত হওয়ার তাওফীক দান করুন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Address
ভেড়ামারা
Kushtia
7040