13/09/2022
সহজ পদ্ধতিতে কারক নির্ণয়। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।
সংজ্ঞাঃ-বাক্যের মধ্যে ক্রিয়া পদের সাথে অন্যান্য পদের যে সম্পর্ক থাকে তাকে কারক বলে।
প্রকারভেদঃ- কারক ৬ প্রকার- ১. কর্তৃ কারক ২. কর্ম কারক ৩. করণ কারক ৪. সম্প্রদান কারক ৫. অপাদান কারক ৬. অধিকরন কারক
সহজ নিয়মে কারক মনে রাখার কৌশল
যে করে সে কর্তৃ হয়। যা করে তারে কর্ম কয়। দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক হলে করণ বলে ধরা হয়। সম্প্রদান কয় তারে যদি কেউ স্বর্ত দান করে। হতে, থেকে, চেয়ে থাকলে অপাদানে পরে। কোথায়, কখন প্রশ্ন চাবে অধিকরণ পাবে।
সহজ নিয়মে মাত্র একটি বাক্যে ৬ টি কারক শেখার কৌশল
উদাহরণ - রাজা রাজপ্রাসাদে নিজ হাতে ধনভান্ডার হতে গরীবদেরকে অর্থ দান করছেন।
কে দান করছেন = রাজা= কর্তৃ কারক
কি দান করছেন= অর্থ= কর্ম কারক
কিসের দ্বারা দান করছেন = নিজ হাতে= করন কারক
কাদেরকে দান করছেন = গরীবদের = সম্প্রদান কারক= এখানে স্বর্ত ত্যাগ করে দান করা হচ্ছে। অর্থাৎ দান করা অর্থ কখনও ফেরত নেয়া হবে না
কোথা হতে দান করছেন= ধনভান্ডার হতে= অপাদান কারক
কোন স্হান হতে দান করছেন= রাজ প্রাসাদ হতে= অধিকরন কারক
বিস্তারিত আলোচনা --
কর্তৃ কারক- যে ক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে কর্তা বা কর্তৃ কারক বলে।
চিনার উপায়-
ক্রিয়াকে কে বা কারা দিয়ে প্রশ্ন করে কর্তৃ কারক পাওয়া যায়। সচরাচর এই কারকে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি যুক্ত হয়।
উদাহরণ-
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে = এখানে বুলবুলিতে কতার্য় ৭মী বিভক্তি
সূর্য উঠিলে রাত্রির অন্ধকার দূর হয়= এখানে সূর্য কতার্য় শূন্য
তাহার এক সপ্তাহ জ্বর হয়েছে= এখানে তাহার কতার্য় শূন্য বিভক্তি
পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়= এখানে পাগলে কতার্য় ৭মী বিভক্তি
চোর ধরা হয়েছে = এখানে চোর কতার্য় শূন্য বিভক্তি
গরুতে গাড়ি টানে = এখানে গরুতে কতার্য় ৭মী বিভক্তি
দশে মিলে করি কাজ= এখানে দশে কতার্য় ৭মী বিভক্তি
বাঘে মহিষে লড়াই করছে= এখানে বাঘে মহিষে কতার্য় ৭মী বিভক্তি
গায়ে মানে না আপনি মোড়ল= এখানে গায়ে কতার্য় ৭মী বিভক্তি
সকলকে মরিতে হবে = এখানে সকলকে কতার্য় ৪র্থ বিভক্তি
পুলিশ কর্তৃক চোর ধরা হয়েছে = এখানে পুলিশ কর্তায় ৩য় বিভক্তি
শাহজাহান কর্তৃক তাজমহল নির্মীত হয়েছে =এখানে শাহজাহান কর্তায় ৩য় বিভক্তি
আমাকে যেতে হবে= এখানে আমাকে কর্তায় ২য় বিভক্তি
বিভক্তি নিয়ে নিম্নে আলোচনা করা হল
বিভক্তির সংজ্ঞা - বাক্যের মধ্যে একটি শব্দের সজ্ঞে অন্য শব্দের সম্পর্ক স্থাপনের জন্য যে সকল বর্ণ যুক্ত হয় তাদেরকে বিভক্তি বলে।
প্রথমা বিভক্তি= ০শূন্য, অ,এ,য়,তে
২য়া বিভক্তি= কে, রে, দিগেকে, দিগেরে,
৩য়া বিভক্তি= দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক
৪র্থ বিভক্তি = কে, রে, দিগেকে, দিগেরে
৫মী বিভক্তি = হতে, থেকে, চেয়ে
৬ষ্ঠী বিভক্তি= র, এর, দের, দিগের
৭মী বিভক্তি= এ,য়,তে
কর্ম কারক নিয়ে নিম্নে আলোচনা করা হলো।
কর্ম কারক- যাকে আশ্রয় করে কর্তা কাজ সম্পন্ন করে তাকে কর্ম কারক বলে।
কর্ম কারক চিনার উপায়- ক্রিয়াকে কি বা কাকে দিয়ে প্রশ্ন করলে কর্ম কারক পাওয়া যায়।
উদাহরণ-
গুরুজনে কর নতী = এখানে গুরুজনে কর্মে ৭মী বিভক্তি
পাপীকে ধীক = এখানে পাপীকে
কর্মে ২য় বিভক্তি
ডাক্তার ডাক = এখানে ডাক্তার কর্মে শূন্য বিভক্তি
রাখাল গরু চরায় = এখানে রাখাল কর্মে শূন্য বিভক্তি
ডাক্তারকে ডাক =এখানে ডাক্তারকে কর্মে ২য়া বিভক্তি
সমীতিতে চাঁদা দাও =এখানে সমীতিতে কর্মে ৭মী বিভক্তি
মা শিশুকে চাঁদ দেখাল =এখানে
চাঁদ কর্মে শূন্য বিভক্তি
অন্ধজনে দয়া কর =এখানে অন্ধজনে কর্মে ৭মী বিভক্তি
জিজ্ঞাসিব জনে জনে =এখানে জনে জনে কর্মে ৭মী বিভক্তি
করন কারক নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো।
যার সাহায্যে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে করন কারক বলে।
চিনার উপায়-
ক্রিয়াকে কি উপায়ে, কিসের দ্বারা দিয়ে প্রশ্ন করলে করন কারক পাওয়া যায়।
মনে রাখবেন
সকল প্রকার খেলা করন কারক।
টাকায় বাঘের দুধ মেলে = এখানে টাকায় করনে ৭মী
আলোয় আধার কাটে
= এখানে আলোয় করনে ৭মী