28/01/2023
হঠাৎ
~~~~
হঠাৎ! হঠাৎ বৃষ্টি! হঠাৎ বজ্রপাত! হঠাৎ ব্যথা!অতঃপর হাসপাতালে ভর্তি!
এরপর? হঠাৎ মৃত্যু! আরো হঠাৎ? হঠাৎ বিয়ে! হঠাৎ জন্ম! জীবনের সব কিছুই কি হঠাৎ?
আঙ্গুর আলী। বয়স ৩১। ৩০ বছর বয়স হতে তার বাবা আপেল মিয়া ছেলের জন্য কণে দেখছেন। না, মিলছে না। একটা না একটা সমস্যা আছেই।
ছয় মাস হল,'আম-জাত' মিয়ার মেয়েকে কণে হিসেবে ঠিক হল। কণের পিতার নাম এস এস সি র সনদ অনুসারে।স্কুলে পড়াকালীন রেজিষ্ট্রেশন করার দুই দিন পূর্বে নতুন এক টাইপিস্ট যোগদান করে। বাবার দেওয়া নাম ' আমজাদ' লিখতেই ভুল করে লিখে- ' আম- জাত' আনাড়ি টাইপিস্ট। ভুল করে একজন,সেই ভুল বয়ে বেড়ায় আর একজন।ভাগ্য ভাল আম-জাতের! বাবার দেওয়া নাম 'আমজাদ' এর 'জ' এর পরিবর্তে ভুল করে 'প' দেই নাই। কণের পিতার নামের এই ভুল -এখন প্রতিষ্ঠিত ভুল। প্রতিষ্ঠিত ভুল সংশোধন করতে নেই। এতে বিপত্তি আসে।সেই বিপত্তিও আসে হঠাৎ। ড্যান্সার আলী! সেই বিপত্তির শিকার।
বড় উৎসাহী ছাত্র এই ড্যান্সার আলী।সব শুদ্ধ করে বলতে চায়।
সে জানে- মোরগ ডিম পাড়ে না, ডিম পাড়ে মুরগি। ডিমের প্রয়োজনে দোকানে গিয়ে বলেঃ
'হাসীর ডিম আছে?'
দোকানীঃ কিসের ডিম?
ড্যান্সার আলীঃ হাসীর ডিম।
হঠাৎ দোকানীর কষাঘাত ড্যান্সার আলীর গালে। ঠোঁট বেয়ে রক্ত ঝরছে।লোকজন জড়ো হয়ে জিজ্ঞাসা করছে দোকানীকেঃহঠাৎ মারলেন কেন?
দোকানীঃসে হাসীর ডিম চায়।
লোকজনঃতুমি হাসীর ডিম চাইলে কেন?
ড্যান্সার আলীঃ 'মানুষ মোরগের ডিম চায় না,কারন মোরগ ডিম পাড়ে না,তেমনি হাসও ডিম পাড়ে না। তাই হাসীর ডিম চেয়েছি।'
লোকজন দোকানীকেঃ ও তো ঠিকই বলেছে, শুদ্ধ করে বলেছে।মারলেন কেন?
দোকানীঃ" সে কত বড় বে..আ .., বে..ক্ক.....আমার মেয়ে হাসীর ডিম চায়? আমার মেয়ে ডিম পাড়ে? "
আম- জাত মিয়ার মেয়ের সাথেই বিয়ে, সব ঠিক। আঙ্গুর আলীর মামা- ঠোঙ্গা মিয়া ,বিদেশ ফেরত,একই সাথে কাজ করত কণের পিতার সাথে।কথায় কথায় মেয়ের কথা আসে, প্রশংসা করতে গিয়ে বরের পিতা আপেল মিয়া কে বলেনঃ" মেয়ে তো খুব সুন্দরী, বেশ শান্ত,ভদ্র,নম্র,কিন্তু "
আপেল মিয়াঃ কিন্তু কি?
ঠোঙ্গা মিয়া আর কিছু বলে না।
অনেক পিড়াপিড়ি করলেও "কিন্ত" র পর কিছুই জানতে পারল না। আপেল মিয়ার হঠাৎ সিদ্ধান্ত, এ বিয়ে হবে না।বিয়েও ভাঙ্গে হঠাৎ। এক " কিন্তু" শব্দের কারনে বিয়ে ভাঙ্গে হঠাৎ।
আঙ্গুর আলী এখন ৩২ এ পা দিল।সব কিছু দেখে -শুনে এক বছর পর ঠিক হল তারিখ।বিয়ের দিন,বর যাত্রী সব হাজির কণের পিত্রালয়ে।কণের পিতার নির্দেশঃ" বিয়ে না হওয়া অবধি খাবার দিবে না। সবাই খাবার টেবিলে বসে,খাবারের অপেক্ষায়,প্রহর গুণছে - কখন বিয়ে হয়! বর আর কণে মুখোমুখি। বিয়ের জন্য কাজীর কথা শেষ না হতেই আঙ্গুর আলী বলে - "কবুল"।
এবার কণের কবুল বলার পালা। কাজী কণের উদ্দেশ্যে বলেঃ" বলুন কবুল",
কণের কোন উত্তর নেই।বরের কপালে চিন্তার ঘাম চিকচিক করছে। কণের প্রতি কাজীর ২য় বার প্রস্তাবঃ" বলুন কবুল"। কাজীর কথা শুনেই কণের উচ্চস্বরে কান্না।বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা বরকে ঘিরে ধরে।এ দিকে বর যাত্রীরা অপেক্ষায় - কখন বিয়ে হয়। কাদতে কাদতে কণে হঠাৎ বলে ফেলে- "কবুল"। বর খুশিতে নাচতে শুরু করে। এ নাচও হঠাৎ।
বিয়েও হঠাৎ।
সহকার্মীর দল বেধে অপর সহকর্মীর বাসায় বেড়াতে যাওয়া হঠাৎ, আত্মীয় সজনের,বন্ধ- বান্ধবের, সহকর্মীর মৃত্যুর সংবাদ হঠাৎ। নিজের অপারগতা ঢাকতে হঠাৎ।
জীবনের সব কিছুই হঠাৎ, হঠাৎ মঙ্গল, হঠাৎ অমঙ্গল।
জীবনের সব কাঙ্ক্ষিত হঠাৎকে লুফে নেয় সবাই।
কিন্তু সব অনাকাঙ্ক্ষিত হঠাৎকে কত জন পারে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি বানাতে?
সেই পারে, যে নিয়ম মাফিক জীবনযাপন করে।