08/07/2026
দাইয়্যুসের সংজ্ঞা ও পরিচয় (হাদিসের আলোকে)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাইয়্যুসের খুব স্পষ্ট পরিচয় এবং সংজ্ঞা দিয়েছেন।
আরবি হাদিস:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «...وَالدَّيُّوثُ الَّذِي يُقِرُّ فِي أَهْلِهِ الْخَبَثَ»
বাংলা অনুবাদ:
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "...এবং দাইয়্যুস হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবারে অশ্লীলতা বা অপকর্ম বহাল রাখে (তা দেখেও চুপ থাকে বা মেনে নেয়)।"
রেফারেন্স: মুসনাদে আহমাদ (হাদিস নং ৫৩৭২), সুনানে নাসায়ী (হাদিস নং ২৫৬২)। ইমাম আলবানী হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।
দাইয়্যুসের শাস্তি
ইসলামে দাইয়্যুসের শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ। পরকালে তার জন্য জান্নাত হারাম করা হয়েছে এবং কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না।
১. জান্নাত হারাম হওয়া
আরবি হাদিস:
عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «ثَلَاثَةٌ لَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ أَبَدًا: الدَّيُّوثُ، وَالرَّجِلَةُ مِنَ النِّسَاءِ، وَمُدْمِنُ الْخَمْرِ»
বাংলা অনুবাদ:
হযরত আম্মার বিন ইয়াসির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তিন শ্রেণীর লোক কখনো জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না— দাইয়্যুস, পুরুষের বেশধারী নারী এবং মদপানে অভ্যস্ত ব্যক্তি।"
রেফারেন্স: আল-মুজামুল কাবীর (তাবারানী), সহীহুল জামে (হাদিস নং ৩০৬২)।
২. আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়া
আরবি হাদিস:
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّه عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ثَلَاثَةٌ لَا يَنْظُرُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ: الْعَاقُّ لِوَالِدَيْهِ، وَالْمَرْأَةُ الْمُتَرَجِّلَةُ، وَالدَّيُّوثُ»
বাংলা অনুবাদ:
হযরত ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তিনজন লোকের দিকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না— পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী নারী এবং দাইয়্যুস।"
রেফারেন্স: সুনানে নাসায়ী (হাদিস নং ২৫৬১), মুসনাদে আহমাদ (হাদিস নং ৬১৮০)।
প্রাসঙ্গিক কুরআনের আয়াত
পবিত্র কুরআনে সরাসরি ‘দাইয়্যুস’ শব্দটি উল্লেখ না থাকলেও, পুরুষদেরকে তাদের পরিবারের অভিভাবক বানানো হয়েছে এবং পরিবারকে জাহান্নামের আগুন তথা পাপের কাজ থেকে রক্ষা করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১. পরিবারকে পাপ থেকে রক্ষা করার নির্দেশ:
আরবি আয়াত:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ
বাংলা অনুবাদ:
"হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো আগুন (জাহান্নাম) থেকে, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।"
রেফারেন্স: সূরা আত-তাহরীম, আয়াত: ০৬।
২. পুরুষের অভিভাবকত্ব ও দায়িত্ব:
আরবি আয়াত:
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ
বাংলা অনুবাদ:
"পুরুষেরা নারীদের ওপর অভিভাবক বা তত্ত্বাবধায়ক।"
রেফারেন্স: সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩৪।
সংক্ষেপে দাইয়্যুসের লক্ষণসমূহ
বাস্তব জীবনে একজন পুরুষ তখনই দাইয়্যুসের অন্তর্ভুক্ত হয় যখন সে নিচের বিষয়গুলো দেখেও চুপ থাকে:
নিজের স্ত্রী, কন্যা বা বোনকে পর্দাছাড়া বা বেপর্দা অবস্থায় পরপুরুষের সামনে যেতে দেওয়া বা বাইরে ঘোরাঘুরির অনুমতি দেওয়া।
পরিবারের কোনো নারী সদস্য পরপুরুষের সাথে অবৈধ প্রেমালাপ বা সম্পর্কে জড়াচ্ছে জেনেও শাসন না করা।
আধুনিকতা বা প্রগতির নামে পরিবারের নারীদের অশ্লীল পোশাক বা সংস্কৃতির অনুসারী হতে দেওয়া।
ইসলামে পুরুষকে পরিবারের রাখাল বা দায়িত্বশীল বলা হয়েছে। তাই নিজের পরিবারের নারীদের শালীনতা ও ঈমান রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলিম পুরুষের ধর্মীয় কর্তব্য। আল্লাহ আমাদেরকে কবুল করুন যেনো নিজের স্ত্রীকে রক্ষা করতে পারি। আমীন🤲😭
゚viralシ