14/09/2023
বই:: ''ভাঙা ও গড়া''
লেখক:: সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদী রহ.
ভারত বিভাগের পূর্বে, পূর্ব- পাঞ্জাবে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ৩ মাস পূর্বে ১৯৪৭ সালের ১০ ই মে পাঠান কোটের দারুল ইসলামে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় 'সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদূদী রহ.'' এর প্রদানকৃত বক্তৃতা, যা উর্দুতে ' বানাও আওর বিগার' নামে ও পরবর্তীতে বাংলায় 'ভাঙা ও গড়া' নামে প্রকাশিত হয়।।
সৃষ্টার সৃষ্টিকে ধ্বংসাত্মক কাজের মাধ্যমে না ভেঙে গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে গড়ার জন্য বইটিতে তিনি দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেন এবং গড়ার যোগ্যতা যার যত বেশি প্রকৃতির নিয়মে তার হাতেই যে কর্তৃত্ব আসে, আল্লাহর এই বিধান তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।।
দেশ, জাতি কিংবা রষ্ট্রের কর্তৃত্ব/ক্ষমতার ব্যপারে মাওলানা একটি বাগান, মালি ও এর মালিকের উদাহরণ টানেন। এখানে তিনি বলেন যে, ''একটি বাগান মালি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যদি মালি বাগানটির পরিচর্যা যথাযথ করে থাকে তবে সে মালির কাজে অর্থাৎ বাগানের কর্তৃত্বে বহাল থাকবে কিংবা যদি যথাযথ কাজ না করে বাগানের ধ্বংস ডেকে আনে তাহলে মালিক তার পরিবর্তে অন্য একজন যোগ্য ব্যক্তিকে বাগানের দায়িত্ব দিবেন।''
জাতি রাষ্ট্রের ব্যপারেও মাওলানা একই উদাহরণ টেনে বলেন, ''যদি মালি বংশানুক্রমে বাগানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত দায়িত্ব যথাযথ পালন করা হবে ততক্ষণই তাদের বংশ দায়িত্বে বহাল থাকবে। যদি তাদের মধ্যে আলস্য কিংবা বাগানকে নষ্ট/ধ্বংসাত্মক প্রবণতা এসে যায় তবে মালিক তাদের পরিবর্তে অন্য কাউকে মালি হিসেবে নিযুক্ত করবেন।''
মাওলানা বলেন' ঠিক এমনই মহান রব্বুল আলামীন পৃথিবীকে সৃষ্টি করে এর দায়িত্ব/কর্তৃত্ব ব্যক্তিদের দিয়ে থাকেন। যদি তারা যথাযথভাবে সৃষ্টিকে সাজানো/গড়ার কাজ করে, তবে তারাই দায়িত্বে বহাল থাকবে নতুবা তারা দায়িত্ব থেকে ছিটকে যাবে অর্থাৎ ঐ জাতির পতন হবে।'' অর্থাৎ ভাঙা ও গড়ার মাধ্যমেই একেকটি জাতি কিংবা ব্যক্তির যোগ্যতা নিরুপণ করে মহান রব্বুল আলামীন তার সৃষ্টিকে দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে থাকেন।।
সৃষ্টির ''ভাঙা ও গড়ার'' ব্যপারে মাওলানা মওদুদী ইতিহাসকে টেনে পর্যালোচনা করে এর যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। ভারতীয় উপমহাদেশে আর্যদের উত্থান পতন আবার মুসলিম ইতিহাস এবং শেষ ইংরেজ শাসনকে তুলে ধরে তিনি মালি,বাগান ও মালিকের রহস্যের উন্মোচন করেন।
মাওলানা তার বইয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের ইংরেজ পরবর্তী শাসনভার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। ইংরেজদের উত্থান ও অবশ্যম্ভাবী পতন এবং পরবর্তী শাসনের যোগ্য ব্যক্তিদের তিনি চিহ্নিত করতে চেয়েছেন। এই ব্যপারগুলো তুলে ধরার এক পর্যায়ে তিনি উপমহাদেশের ৯৫% জাতির অধ:পতনের ব্যপারে যথেষ্ঠ হতাশা প্রকাশ করেন । তবে ৫% যে সঠিক পথে আছে এই ব্যপারে তিনি আশার আলো দেখেন। আর এই ৫% যদি সংঘবদ্ধ হয় তবে নতুন এক নেতৃত্ব/জাতির উত্থান সম্ভব বলে তিনি ব্যক্ত করেন। যেসব কারণে ভাঙন সৃষ্টি হয় সেগুলো তিনি এড়িয়ে যেতে বলেছেন।
◑ মাওলানার মতে, মানবজীবনে ভাঙন সৃষ্টির কারণসমূহ::
১| আল্লাহকে ভয় না করা।
২| আল্লাহর বিধান মেনে না চলা।
৩| স্বার্থপরতা।
৪| জড়তা বা বিপথগামীতা।
◑ মাওলানার মতে, মানুষের জীবন সুন্দররুপে গড়ে তুলতে যেসব বিষয় দরকার::
১| আল্লাহ ভীতি।
২| আল্লাহর বিধান অনুযায়ী জীবন-যাপন।
৩| মানবতার ব্যবস্থা।
৪| সৎকাজ।
মাওলানা বলেন, ''এই চারটি বিষয়ের নাম হচ্ছে ''গড়া ও সংশোধন''। আরো বলেন, ''আমাদের মধ্যকার সৎলোকরা একটি সংগঠনের মাধ্যমে একত্রিত হয়ে সমস্ত অসৎ ও ধ্বংসাত্মক কাজ বন্ধের নেতৃত্ব দিবে এবং এর মধ্যেই রয়েছে কল্যাণ''।।