10/07/2025
এমাদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের রেজাল্টে ভরাডুবি: শিক্ষকেরা কি শিক্ষাদান ভুলে গেছেন?
*
যেখানে একটি বিদ্যালয়ের সাফল্য নির্ভর করে তার শিক্ষকদের নিষ্ঠা, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের উপর, সেখানে এমাদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল এক ভয়াবহ ও লজ্জাজনক ব্যর্থতার দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৭২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত হয়েছে ১৬৯ জন, আর পাস করেছে মাত্র ৯৩ জন—মানে পাশের হার ৫৫.০৩%! এটা কেবলমাত্র সংখ্যার নয়, পুরো একটি প্রজন্মের সম্ভাবনার মর্মান্তিক অপচয়।
প্রশ্ন হলো কেন এমন হচ্ছে?
এর জবাব দিতে গেলে প্রথমেই চোখে পড়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের গা-ছাড়া মনোভাব। যারা শিক্ষক হয়ে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু শিক্ষকতার কোনো দায়বদ্ধতা বা আদর্শ তাঁদের মধ্যে দেখা যায় না। একদিকে শিক্ষাদানের প্রতি চরম উদাসীনতা, অন্যদিকে নিজেদের মধ্যে রাজনীতি, গ্রুপিং ও দলাদলি—এ যেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, কোনো রাজনৈতিক ক্যাম্প। তারা শিক্ষার নামে করছে নগ্ন ক্ষমতার চর্চা, আর স্কুলকে বানিয়ে ফেলেছে টাকা কামানোর প্ল্যাটফর্ম।
প্রাইভেট পড়ানোর নামে ছাত্রদের শোষণ, নিয়োগ বানিজ্যে দুর্নীতি, স্কুল ফান্ডের টাকায় ব্যক্তিগত সুবিধা—সব মিলিয়ে শিক্ষক নামধারীরা বিদ্যালয়টিকে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। আর ফলাফল? একের পর এক ব্যর্থতা, হতাশা, ও ভবিষ্যৎহীন প্রজন্ম।
মানবিকে ৭৮ জন ফেল করেছে! জিপিএ ফাইভ পেয়েছো সবমিলিয়ে মাত্র একজন।
এই ব্যর্থতার দায় কে নেবে? প্রধান শিক্ষক? বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকরা? নাকি স্কুল কমিটির গা-জোয়ারি নেতারা?
না, কেউই মুখ খুলবে না। কারণ তারা সবাই জানে, তারা দায়ী। কিন্তু মুখ বন্ধ থাকবে, কারণ প্রশাসনও অনেক সময় এসব দুর্নীতির অংশীদার হয়ে পড়ে।
শিক্ষকদের বলবো আপনারা শিক্ষক হোন আগে। না পারলে চলে যান। স্কুলকে লুটের মাঠ না বানিয়ে সত্যিকার শিক্ষার জায়গা বানান। কারণ এই ব্যর্থতা শুধু সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়, এটা জাতির আত্মার ক্ষয়।
এই অবস্থায় অভিভাবকদের এবং সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ যারা পঙ্গু করছে, তাদের বিরুদ্ধে এখনই সোচ্চার হতে হবে। একটি বিদ্যালয় ধ্বংস হলে, একটি সমাজ ধ্বংস হয়।