05/04/2014
আমাদের প্রক্সি টিচাররা
১
তখন ক্লাস নাইনে পড়ি; নায়েব আলি স্যার ক্লাস নিচ্ছেন। উনি আবার ক্লাসেই আমাকে ভাগিনা বলে ডাকতো, ক্লাসে মামা ভাগিনা ভালই জমতো।
যাইহোক, একদিন তিনি আমাদের এইডস নিয়ে পড়াচ্ছেন। যেহেতু ক্লাস নাইনে উঠে গেছি! এইডস রোগ এর সম্পর্কে আমাদের ভালই ধারনা আছে! উনি যেহেতু টিচার; তাই উনার আরও ভাল জানার কথা। কি রকম ভাল জানে, তার নমুনা পাওয়া গেল একটু পরেই।
তিনি পড়াতে লাগলেন, “এইডস একটা মারাত্তক রোগ। একই পুকুরে গোসল করলে, একই থালা-বাসনে খাবার খেলে, একই বিছানায় শয়ন করলে, একই কাপড় পরিধান করলে, এমনকি হাঁচি কাশি মাধ্যমেও এইডস ছরিয়ে পড়ে। তোমরা টিভিতে দেখনা... নায়ক রিয়াজ, নায়িকা মৌসুমি... এইগুলা বলে। এটা মারাত্বক ছোঁয়াচে রোগ। UNIAIDS এর এক জরিপে, আমরা সবাই এইডস রোগের ঝুঁকিতে আছি। সো, সবাই সাবধান থাকবা।”
আমরা সবাই সাবধান হয়ে গেলাম; তবে এইডস রোগ থেকে নয়, নায়েব আলী স্যারের কাছ থেকে।
বিঃ দ্রঃ উনি ছিলেন কয়েকবার পরীক্ষা দিয়ে এস এস সি পাশ করা প্রাজ্ঞ এবং অভিজ্ঞ টিচার। এখনও দেখি, উনি অনেক জায়গায় বলে বেড়ায়, আমি লাইমপাশা হাইস্কুল এর প্রাক্তন শিক্ষক !!!
২
ক্লাস সেভেনে পড়ি। মৃগা থেকে একজন টিচার আসে, নাম- ওয়ারিশ স্যার। আমাদের অংক ক্লাস নেন। তিনি আবার বেতারাইজেশন এর জন্য যতটা বিখ্যাত অংকের জন্য এতটা নয়!আমি তেমন ভাল ছাত্র ছিলাম না :P তাই মাঝে মাঝে বেতে-পিঠে সংঘর্ষ হত। একদিন উনি আমাদের জ্যামিতির একটা উপপাদ্য মুখস্ত পড়া ধরছেন। আমি খুব ভাল করে মুখস্ত করে এসেছিলাম আগেরদিন :D সো কোন টেনশন নাই। হঠাত আমাকে দাড় করালেন...
স্যারঃ সাধারন নির্বচন থেকে বল।
আমি বিশেষ নির্বচন থেকে বলা শুরু করলাম। কারণ, উপপাদ্যের ডাক কে যে সাধারন নির্বচন বলে আমি জানতাম না; স্যারদের বলতেও শুনিনি।
- সাধারন নির্বচন থেকে বলতে বললাম না?
- সাধারন নির্বচন কি স্যার?
- জ্যামিতির ডাক।
- ওইটাতো শিখিনি স্যার...
- ক্যারে শিখস নাই???
এইকথা বলে, বেত হাতে তেড়ে আসলো। আমার একটু একটু মনে ছিল ডাকটা। তাই স্যার কে বললাম দেখি পারি কিনা? এবং ভাল ভাবেই বলে ফেললাম
- শিখছস... তে আগে মিছা কথা কইছিলি ক্যারে?
- আমি কোন কথা বললাম না।
- আমার সাথে, স্যারের সাথে মিছা কথা কইলি তুই!!!
আমার এখনও মনে আছে, সেদিন আমি আমার স্টুডেন্ট লাইফের সবচেয়ে ভয়াবহ মাইর খাইছিলাম সবার সামনেই কাঁদলাম :’( অনেক চেষ্টা করেও কান্না থামাতে পারিনি।
বিঃ দ্রঃ তিনিও ছিলেন সদ্য এস এস সি পাশ করা গণ্য, মান্য, জঘন্য টিচার।
৩
তখন কোন ক্লাসে পড়ি মনে পড়ছেনা। সামিউল স্যার নামে একজন লোক মৃগা থেকে আসলো আমাদের ক্লাস নিতে। উনিও অংক ক্লাস নেন। ব্ল্যাকবোর্ড এ অংক করানোর সময় প্রায়ই পেঁচাল লাগিয়ে দিত। কয়েকদিন যাবার পর মোটামোটি টিচার হিসাবে আমাদের কাছে ভালই গ্রহণযোগ্যতা পেল। আরও কয়েকদিন ক্লাস করানোর পর, হঠাৎ উনি আসা বন্ধ করে দিলেন!
হায়! হায়! স্যারের কি হল? স্যার আসছেনা কেন?
পরে জানতে পারলাম, স্যারের নাকি এস এস সি র রেজাল্ট দিছে! জয়সিদ্ধি স্কুলের ছাত্র তিনি। দুইটাতে ধরা খাইছে :o এর মধ্যে অংকও ছিল। স্যার নাকি খুব কষ্ট পাইছে :P স্যার কষ্ট পেয়েছিলেন! নাকি লজ্জা পেয়েছিলেন সেটা বুঝতে পারিনি; তবে আমরা কিঞ্চিৎ কষ্ট পেয়েছিলাম
৪
এতক্ষন যাদের কথা বলেছি, তাঁরা বিভিন্ন সময়ে আমাদের স্কুলে প্রক্সি টিচার হিসাবে ক্লাস করিয়েছেন। আমাদের স্কুলে রেজিস্টার্ড টিচার যতজন থাকার কথা, তারচেয়ে কম আছে। তাই উনাদের মত টিচাররা হেডস্যারের কাছে ক্লাস নেবার আবেদন করলে, স্যার অম্লান বদনে গ্রান্ট করে দেন।
হেডস্যারকে বলছি, “আপনি একটি বারের জন্য জাজ করে দেখেছেন? যাদেরকে আপনি ক্লাস করতে দেন, তারা আসলে টিচার হবার যোগ্য কিনা? তাদের জ্ঞানের পরিধি কতোটুকু? তারা আপনাদের কাছ থেকে পাওয়ার অব এটর্নি পেয়ে ছাত্রদের সাথে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করে যাচ্ছে কিনা?”
আপনি হয়তো ভাবেন, কিছু ক্লাসও করিয়ে নিলাম, টাকাও বেঁচে গেল!!!
“রথ ও দেখলাম কলা ও বেচলাম :P” সাগর কলা, চম্পা কলা আইট্টা কলা...
পরিস্থিতি হয়তো আপনাকে বাধ্য করেছে...
সাইমুন