08/08/2026
Education is progress” অর্থাৎ “শিক্ষাই প্রগতি”
এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে ২০০৬ সালের ১৬ জুলাই দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা জয়পুরহাটের সদর উপজেলায় শান্ত ও মনোরম পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত হয় নারী শিক্ষা সম্প্রসারণের অন্যতম পথিকৃৎ ও দেশের সর্বশেষ ক্যাডেট কলেজ: জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেলের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কলেজটি মেয়েদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক প্রতিষ্ঠান।
✅ ইতিহাস ও অবস্থান:
নারী শিক্ষার প্রসার ও উত্তরাঞ্চলে মানসম্মত আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে জয়পুরহাটে একটি গার্লস ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গৃহীত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালে একটি পরিত্যক্ত সিমেন্ট কারখানাকে ক্যাডেট কলেজে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ২০০৬ সালের ১৫ এপ্রিল সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ১০০ জন ক্যাডেট নিয়ে কলেজটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ১৬ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজটি উদ্বোধন করা হয়। কলেজটি জয়পুরহাট সদর উপজেলায় অবস্থিত। কলেজটির আয়তন ৫৭ একর (২৩০,০০০ বর্গমিটার )।
✅ নীতিবাক্য:
নীতিবাক্য: “Education is progress” অর্থাৎ “শিক্ষাই প্রগতি”।
✅ শিক্ষাব্যবস্থা:
এই কলেজে সপ্তম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) এর ইংরেজি সংস্করণ অনুসারে পাঠদান করা হয়।
✅ সুসজ্জিত ক্লাসরুম:
উন্নত স্মার্ট বোর্ডের মাধ্যমে ইন্টারেক্টিভ পাঠদান এবং মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা শিক্ষাকে আরও প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষার সংমিশ্রণ ক্যাডেটদের চিন্তাশক্তি, সমালোচনামূলক দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে।
✅ হাউজ:
এই কলেজে সুলতানা রাজিয়া হাউস, সিতারা হাউস ও তারামন হাউস নামে তিনটি সুসংগঠিত হাউজ ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্যাডেটদের মধ্যে সুশৃঙ্খল জীবনব্যবস্থা, মানসিক বিকাশ ও দলগত চর্চার মনোভাব গড়ে তোলা হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা ও ক্রীড়া কার্যক্রমে সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ক্যাডেটরা পারস্পরিক সহযোগিতা, আত্মবিশ্বাস ও দেশপ্রেমের শিক্ষা অর্জন করে, যা তাদেরকে শৃঙ্খলাপরায়ণ, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে।
✅ লাইব্রেরি:
ক্যাডেটদের চিন্তাশক্তি ও জ্ঞানের জগৎকে সমৃদ্ধ করতে এই কলেজে রয়েছে ১৩,৬৭৬ বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন জার্নাল ও ম্যাগাজিনের বিশাল এক সংগ্রহশালা। ২০১০ সালের ১০ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত এই লাইব্রেরিটিকে ২০১৯ সালে ডিজিটালাইজড করা হয়, যা ক্যাডেটদের অনুসন্ধিৎসু মনকে আরো বেশি উজ্জীবিত করে।
✅ কলেজ হাসপাতাল:
কলেজের বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ হাসপাতাল ক্যাডেটদের সক্ষমতা ও শারীরিক সুস্থতার নিশ্চিত করার এক নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র। ২০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক যন্ত্রপাতিসজ্জিত এই হাসপাতালে আর্মি মেডিকেল কোরের একজন মেডিকেল অফিসার সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসা প্রদান করেন। এখানে প্রতিটি ক্যাডেটের সুস্থতা নিশ্চিত করা হয়, যাতে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে পূর্ণ শক্তিতে পড়াশোনা, ক্রীড়া এবং নেতৃত্বের পথচলায় এগিয়ে যেতে পারে।
✅ কলেজ ক্যান্টিন:
জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজে রয়েছে ‘৫ পি.এম’ ক্যান্টিন, যা কেবল খাবারের জায়গা নয়— এটি ক্যাডেটদের আরাম, আনন্দ উপভোগের কেন্দ্র। প্রতিদিন খেলাধুলার পর এখানে আসা ক্যাডেটরা হালকা নাস্তা, আইসক্রিম কিনে খায়, আনন্দময় মুহূর্ত কাটায় এবং বন্ধুদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক ও উৎসাহ বৃদ্ধি করে। যা ক্যাডেটদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
✅ কলেজ অডিটোরিয়াম:
ক্যাডেটদের বহুমাত্রিক প্রতিভা বিকাশে সহশিক্ষা কার্যক্রমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর সেই চর্চার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হলো জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা অডিটোরিয়াম। এই অডিটোরিয়ামটি কলেজের সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। ৪০০-এর অধিক আসনবিশিষ্ট এই আধুনিক মিলনায়তনে নিয়মিত মঞ্চনাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও কলেজ অ্যাসেম্বলি অনুষ্ঠিত হয়। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাডেটদের সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বগুণ বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়।
✅ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা:
এছাড়াও ক্যাডেটদের একাডেমিক উৎকর্ষ সাধন এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য এই কলেজে কম্পিউটার ল্যাব, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ও বায়োলজি ল্যাব, ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব, সুইমিং পুল, বিভিন্ন প্লে-গ্রাউন্ডসহ নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।