05/02/2025
যত বয়স বাড়বে তত আপনি টের পাবেন একজন জীবনসঙ্গীর মাঝে আপনি এতদিন যা খুঁজে এসেছেন, সেসব রোমান্টিক মুভি, বইয়ের থেকে তৈরি হওয়া এক্সপেকটেশন।
সেগুলোর অনেকগুলোই আসলে জীবনে necessity না। আপনার জন্য ফুল আনা, সারপ্রাইজ দেয়া, হুট করে ইম্পালসিভ কিছু করে মাথা ঘুরিয়ে দেয়া অবশ্যই দারুণ ব্যাপার।
কিন্তু রাত তিনটায় আপনার জ্বরের কপালে হাত রেখে এক ছুটে গিয়ে জলপট্টি এনে দেয়া, জ্বর কমলো কিনা খেয়াল রাখা, ঘুমের মাঝেও ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখার ধারে কাছেও নেই ওসব 'রোমান্টিক' কাজকর্ম।
একটা সময়ে এসে আপনি টের পাবেন, ফিজিক্যাল বিউটি, ফিটনেস, সুস্থতা খুব fleeting! আজ থাকলেই আজীবন থাকবে সে গ্যারান্টি নেই। তখন চোখ মেলে পাশের মানুষটার উদ্বিগ্ন মুখ, তার কেয়ার অনেক বড় ব্লেসিং মনে হবে।
আমি একসময় বুঝতাম না। ভাবতাম কেউ ভালবাসলে ওভাবেই প্রকাশ করে। ফুল, চিঠি, অসংখ্যবার ভালোবাসার কথামালা দিয়ে। অথচ এখানেও অর্থনীতির need/ want ডেফিনিশন দিব্যি খাটে। আমরা যা চাই, তার অনেক কিছুই আসলে আমাদের প্রয়োজন না।
এখন আমি ভালোবাসা বলতে মায়া বুঝি। কেয়ার বুঝি। আমার কষ্ট হবে ভেবে নিজে স্যাক্রিফাইস করে যে মানুষটা, সে ফুল আনতে ভুলে গেলেই কি? তার কথায়, কোমল স্পর্শেই তো ফুল ফোটে রোজ।
কি করতাম আমি ওই ফুল দিয়ে যদি জ্বরের ঘোরে হাত বাড়ালে তাঁকে না পেতাম? যদি না জানতাম কাল বিছানায় পড়ে গেলে কেউ একজন আছে আমাকে দেখে রাখার?
আমি ইন্ডিপেন্ডেন্ট মানুষ। কেউ না থাকলেও দিব্যি সামলে নিতাম। নিয়েছিও এক সময়। এখন এই নির্ভরতাটুকু ভালো লাগে। মানুষ ভীষণ শক্ত প্রাণী। তবু পথ চলতে ক্লান্ত লাগলে 'ও পাশে আছে' ভাবনাটা খুব শান্তি দেয়। আমি পারলেও আমাকে সব একা করতে হবে না, জীবনের কঠিন পথে একা হাঁটতে হবেনা এই আশ্বাসটার নামই এখন আমার কাছে 'ভালোবাসা'।
Sincerely, Zana পেজ থেকে সংগৃহীত