জামিয়া রশীদিয়া দ:লতিবাবাদ কিশোরগঞ্জ

জামিয়া রশীদিয়া দ:লতিবাবাদ কিশোরগঞ্জ

Share

One of the most popular Qawmi Madrasah in Kishoreganj.

31/03/2026
31/03/2026

নতুন শিক্ষাবর্ষে তালিবে ইলমদের জন্য সাফল্যের মহাসড়ক

প্রিয় তালিবে ইলম, নতুন শিক্ষাবর্ষ তোমার জন্য একটি নতুন সুযোগ, নতুন স্বপ্ন আর জ্ঞানের আলোয় নিজেকে উদ্ভাসিত করার সময়। এখনই সময় নিজেকে গড়ার। তোমার আজকের মেহনতই হবে আগামীর উজ্জ্বল দীপ্তি। আসো, শুরুটা হোক পরিকল্পিত, প্রেরণায় ভরা।
প্রিয় তালিবে ইলম, মাদ্রাসার পবিত্র পরিবেশে ইলমে অহী অর্জনের এই পথে সফলতা পেতে হলে প্রয়োজন দু'আ, ইলমের মর্যাদা, নিয়তের বিশুদ্ধতা, সঠিক পরিকল্পনা, অধ্যবসায় আর আন্তরিক চেষ্টা।
আসো, জেনে নাও, কিভাবে শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই পড়াশোনাকে চমৎকার করে তুলতে পারো। করণীয় কি আর বর্জনীয় কি- তা হৃদয়ে ধারণ করো।
(১) পড়াশোনার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করো:
শিক্ষাবর্ষের শুরুতে নিজের জন্য একটি স্পষ্ট লক্ষ্য ঠিক করো। তুমি কী অর্জন করতে চাও? প্রতিটি কিতাবের পাঠে কতটুকু দক্ষতা অর্জন করতে চাও? এই লক্ষ্য তোমাকে পথ দেখাবে। লক্ষ্য অনুযায়ী বছরের প্রথম দিন থেকেই নেজামুল আওকাত ( নিয়মিত রুটিন) তৈরি করো।
(২) সঠিক পদ্ধতি:
ক. নতুন সুবহে সাদিকের আগেই জাগো! তাহাজ্জুদ পড়ে নাও। হযরাত মুসান্নিফীন বর্গের জন্য,আসাতেজায়ে কেরামের জন্য, নিজের ও অন্যান্যদের জন্য দু'আ করো। কিছু সময় মুখস্থ করো।
খ. প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর তিলাওয়াত করো। ১-২ ঘণ্টা কঠিন বিষয়গুলো অনুশীলন করার অভ্যাস করো। এ সময়টা মস্তিষ্ক ফ্রেশ থাকে, বুঝতেও সহজ হয় এবং সকালের সতেজ মনে জটিল বিষয়গুলো সহজে আয়ত্ত আসে।
গ. গ্রুপ স্টাডি : বাদ আসর:
ভালো বন্ধু মানেই ভালো পড়াশোনা। সৎ, মেধাবী বন্ধুদের সাথে গ্রুপ স্টাডি করো। প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু করো—একজন প্রশ্ন করবে, অন্যজন উত্তর দেবে। এতে একে অপরের ভুল ধরিয়ে দেওয়া ও নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে শেখা সম্ভব হবে। এতে নিজের দুর্বলতাও সহজেই ধরা পড়বে।
ঘ. রাত ৯-১০টা: দিনের পড়া রিভাইজ দাও।
যে সময় যে কাজে লাগবে, সে সময় সে কাজেই মন দাও।
(৩) নিয়মিত পড়াশোনা:
উস্তাদের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী মেহনত করো। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনার অভ্যাস গড়ে তোলো। প্রতিদিনের পাঠ ধারাবাহিকভাবে শেষ করো, পিছিয়ে পড়লে চাপ বাড়বে।
(৪) প্রস্তুত থাকো ক্লাসের আগে:
ক. দরসের ( ক্লাসের) আগে মুতালা'আ করে নাও। অর্থাৎ যে বিষয়টির দরস (ক্লাস) আছে, তার মূল বিষয়বস্তু আগেই পড়ে রাখো। সম্ভব হলে, হাদীস, তাফসীর,ফিকহ ইত্যাদি - শাব্দিক অর্থ ও মূল বক্তব্য নিজে হাতে নোট করো—তাহলে ক্লাসে আত্মবিশ্বাস বাড়বে, ক্লাসে শিক্ষকের ব্যাখ্যাও সহজে বুঝতে পারবে।
খ. প্রতিদিন নিয়মিত ভাবে, দেরি না করে সময়মতো ক্লাসে পৌঁছাও। দরসে উপস্থিত থেকে- শ্রদ্ধা ও অত্যন্ত মনোযোগের সাথে সবক শুনো। মোবাইল, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বা অন্য চিন্তা থেকে দূরে থাকো। ক্লাসে শিক্ষকের ব্যাখ্যা নোট করো। (হযরত মুফতী আমিনী (রহ.) এই বিষয়টির প্রতি খুবই জোর দিতেন। তিনি ঘুমানোর সময়ও মাথার কাছে কাগজ কলম রাখতেন, গাড়িতে , নিজে ওয়াজ করার সময়, ওয়াজের খুতবা পাঠের সময়ও তিনি নোট লিখতেন।)
গ. সম্ভব হলে সামনের বেঞ্চে বসো। উস্তাদের চোখে চোখ রেখে শুনো। কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে লজ্জা না করে বিনয়ের সাথে শিক্ষককে প্রশ্ন করো। এটি তোমার জ্ঞানের গভীরতা বাড়াবে। "(ইমাম বুখারী (রহ.) বলেছেন, প্রশ্ন করতে লজ্জা পাবে না।)"
ঘ. ক্লাস শেষে তাকরার (অন্যদের সাথে -দিনের পাঠ পুনরাবৃত্তি করো) ("হাকীমুল উম্মত হযরত থানবী রহ. বলেছেন; কোন ছাত্র নিয়মিত তিনটি কাজ করলে আমি তার আলেম হওয়ার ব্যাপারে দায়িত্ব নিতে পারি। ১. নিয়মিত সবক মুতালাআ করা ২. দরসে মনোযোগের সাথে সবক শুনা। ৩. তাকরার করা।")
(৫) কিতাবের পাঠ রুটিন তৈরি:
ক. প্রতিটি কিতাবের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করো। সব বিষয়ে ভারসাম্য রক্ষা করো।
খ. দৈনিক ও সাপ্তাহিক পরিকল্পনা: প্রতিদিন কোন অধ্যায় বা পাঠ শেষ করবে তা ঠিক করো। সপ্তাহ শেষে ( জুমাবার) পুরো সপ্তাহের পড়া মিলিয়ে দেখো, কোথায় কমতি রয়েছে তা চিহ্নিত করো।
গ. পড়ার মাঝে ৫-১০ মিনিটের বিরতি নাও। এতে মন সতেজ থাকবে। তবে বিরতি যেন দীর্ঘ না হয়!
(৬) নোট তৈরি:
ক. পড়া শেষে (আরবী, উর্দু কিংবা বাংলায়) উস্তাদের ব্যাখ্যা, হাদিসের কিংবা পাঠ্যের মূল শিক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা—সবকিছু সংক্ষেপে নোট করো। এটি বোঝার গভীরতা বাড়ায়। (পরীক্ষার সময় এগুলিই হবে তোমার রত্নভাণ্ডার।)
খ. গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, উদাহরণ ও শব্দের অর্থ লিখে রাখো।
(৭) দু'আ করো, নিয়ত বিশুদ্ধ:
প্রতিটি কাজ শুরু করো নিয়তের বিশুদ্ধতায়। পরিশ্রম করো, ধৈর্য ধরো, দু'আ করো—তোমার সফলতা তখন আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসবে ইনশাআল্লাহ। বাকি আল্লাহর উপর ছেড়ে দাও।

(৮) করণীয়
• প্রতিদিন নিয়মিত নামাজ পড়ো, কুরআন তিলাওয়াত করো। এটি মনকে শান্ত ও পড়ায় মনোযোগী করে।
• শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও তাদের নির্দেশনা মেনে চলো।
• স্বাস্থ্যের যত্ন নাও—পর্যাপ্ত ঘুম (প্রতিদিন অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা ঘুম জরুরী)। স্বাস্থ্যকর খাবার ও হালকা ব্যায়াম তোমাকে সতেজ রাখবে। কারণ সুস্থ শরীরেই জ্ঞানের আলো বিচরণ করে।
• সময়ের সদ্ব্যবহার করো। প্রতিটি মুহূর্ত ইলমের জন্য ব্যয় করো।
(৯) বর্জনীয়
• অলসতা ও টালবাহানা থেকে দূরে থাকো। “আজ না পড়ে কাল পড়ব” এই মনোভাব তোমাকে পিছিয়ে দেবে।

যে কাজ সময় নষ্ট করে, তা কাজের নয়। সব ধরনের পাপ, গল্পগুজব, অপ্রয়োজনীয় আড্ডা, গেমস, অকারণ মোবাইল ব্যবহার বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অযথা সময় নষ্ট করো না।—এসব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখো। কারণ সময়ে হচ্ছে জীবন। সময় একবার গেলে, আর ফেরে না।
• নেতিবাচক চিন্তা বা বন্ধুদের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় গল্পে সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকো।
• শিক্ষক বা সহপাঠীদের সঙ্গে অশ্রদ্ধাশীল আচরণ করো না।
(১০) শেষ কথা :
ইলম আহরণের পথ কখনো সহজ নয়, তবে এটি তোমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। প্রতিটি পাঠে তোমার হৃদয় ও মনকে ঢেলে দাও। যখন ক্লান্ত লাগবে, তখন মনে করো, তুমি শুধু নিজের জন্য নয়, আল্লাহর জন্য, উম্মাহর জন্য জ্ঞানের আলো বহন করছো।
প্রিয় তালিবে ইলম, নতুন শিক্ষাবর্ষে নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলো, ইলমের সমুদ্রে ডুব দাও, আর সফলতার শিখরে পৌঁছে যাও।

আসো, এই বছরটা হোক আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার বছর। আসো, আমরা হই আলোকবর্তিকা—নিজের জন্য, সমাজের জন্য, উম্মাহর জন্য।

ফরিয়াদ করি, তোমার প্রতিটি প্রচেষ্টা আল্লাহর দরবারে মাকবূল হোক। আল্লাহ তোমাদের সকলকে তাঁর জ্ঞানের নূর দিয়ে আলোকিত করুন। আমীন।
ফি আমানিল্লাহ।
------সংগৃহীত

30/03/2026

যথা সময়ে 06 এপ্রিল রোজ সোমবারে জামিয়া রিশীদিয়ার নতুন শিক্ষা বর্ষের ক্লাশ শুরু হয়ে যাবে আগ্রহী ছাত্র/ছাত্রী ও অভিভাবক বৃন্দ অতিসত্তর ভর্তি হয়ে যাবার আহ্বান করা হচ্ছে।

29/03/2026

এটি জামিয়া রশীদিয়ার নামে ফেক পেইজ। কেউ প্রতারণার শিকার হবেন না। যারা ফলো করেছেন সাবধান থাকবেন। সবাই এই পেইজটি কে আনফলো করুন। এই পেইজের কোন সংবাদ বা তথ্যের সম্পর্কে জামিয়া অবগত নয়। দয়াকরে সবাই শেয়ার করে দিন।

Photos from Jamia Rashidia Latibabad Kishoreganj's post 20/04/2024
16/01/2023

"স্মৃতিপটে মাওলানা আযহার আলী আনোয়ার শাহ"
===========================
মাওলানা আযহার আলী আনোয়ার শাহ রহ:-কে ছাত্রজীবন থেকে চিনতাম। হাকিমুল উম্মত আল্লামা আশরাফ আলী রহ:-এর বিশিষ্ট খলিফা হজরত মাওলানা আতহার আলী রহ:-এর সন্তান হিসেবে তার প্রতি আমার অন্তরের টান ছিল আলাদা। পরবর্তী সময়ে তার যশ, খ্যাতি ও প্রতিপত্তি যখন মধ্যগগনে তখন পরিচিতি আরো প্রগাঢ় হয়। তাকে দূর থেকেও দেখেছি, কাছে থেকেও উপলব্ধি করেছি। সান্নিধ্যের সৌরভে বিমুগ্ধ হয়েছি। তার তাকওয়া, পরহেজগারি, বিনয় ও অতিথিপরায়ণতার কিছু নমুনা আমি নিজ চোখে দেখেছি। তিনি বহুবার জামিয়া ইমদাদিয়ার সালানা মাহফিলে আমাকে দাওয়াত দিয়েছেন। সব মাহফিলে যেতে পারিনি, কিছু মাহফিলে হাজিরা দিয়েছি।

শাহ সাহেব রহ: জীবিত থাকতে যতবার জামিয়া ইমদাদিয়ার মাহফিলে গিয়েছি তিনি মেহমানখানায় এসে আমার খোঁজখবর নিতেন। চা-নাশতা ও খাবারে যাতে কোনো অসুবিধা না হয় তার দেখভাল করতে দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা দিতেন। তার বিনয় ও সৌজন্যতাবোধ আমাকে প্রভাবিত করে। মাহফিল শেষে হিসাব বিভাগের লোক পাঠিয়ে গাড়িভাড়া ও হাদিয়া দিতেন এবং ভাউচার লিখে ওখানে আমার স্বাক্ষর নিতেন। এ নিয়ম অন্য কোথাও দেখিনি। এটা জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত। লেনদেনে তার স্বচ্ছতা ও সতর্কতা সর্বজনবিদিত। মুসলিম উম্মাহর জাগরণী চেতনা ও অগ্রসর চিন্তার দৃঢ় বন্ধনে ছিল তার জীবনচর্চা।

১৯৮৩ সালে প্রথম তার সাথে আমি পরিচিত হই জামিয়া ইমদাদিয়াতে। আমি তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করি। ছাত্রদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে আমন্ত্রিত হই। পুরো প্রোগ্রামের আয়োজক ছিলেন জামিয়ার তৎকালীন ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আতাউর রহমান খান রহ:। জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার শায়খুল হাদিস মাওলানা ছিদ্দিক আহমদ রহ: পাকিস্তান আমলে নেজামে ইসলাম পার্টি করেছেন। মাওলানা আতহার আলী রহ: ও তিনি দু’জনই নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্য ছিলেন। শাহ সাহেব রহ: দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও মাওলানা আতাউর রহমান খান রহ: রাজনীতিতে ছিলেন সক্রিয়।

বহুমাত্রিকতা মাওলানা আনোয়ার শাহ রহ:-এর জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তিনি একাধারে কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ সংস্থা হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের সদস্য, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার (বেফাক) সহসভাপতি, কিশোরগঞ্জ জামিয়া ইমদাদিয়ার মহাপরিচালক, কিশোরগঞ্জ ইমাম-উলামা পরিষদের সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদের খতিব ছিলেন। এ ছাড়া প্রাজ্ঞ আলিম, সুবক্তা, চমৎকার কুরআন তিলাওয়াত ও বিজ্ঞ মুফাসসিরে কুরআন হিসেবে দেশব্যাপী ছিলেন জনপ্রিয়।

পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতে তার উচ্চারণ, বাচনভঙ্গি ও সুরলহরি ছিল ভিন্ন মাত্রার। মাওলানা আতাউল্লাহ শাহ বুখারী রহ: ও মাওলানা ইহতেশামুল হক থানভী রহ:-এর সুর ও প্রকাশভঙ্গির সার্থক প্রতিনিধি ছিলেন মাওলানা আনোয়ার শাহ রহ:। এ ছাড়া মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন খ্যাতিসম্পন্ন ওস্তাদের কাছে আযহার আলী আনোয়ার শাহ ১৯৬৬ সালে আরবি সাহিত্য ও তাজবিদুল কুরআন শিক্ষা লাভ করেন। ইলমে কিরাত ও তাজবিদে তার ওস্তাদ হলেন কারী আতা সোলাইমান রিযক্ব আল মিসরি রহ: ও ইবরাহিম আবদুল্লাহ রহ:। ফলে আফ্রো-এশিয়ার সম্মিলনে তেলাওয়াতের একটি নতুন সুরের ঝংকার ও নতুন ধ্বনির আমেজের সৃষ্টি হয় মাওলানা আনোয়ার শাহ রহ:-এর কণ্ঠে। তার চমৎকার তিলাওয়াত, শুদ্ধ বাংলা ও সাবলীল আলোচনায় মুগ্ধ হয়েছে দেশের কোটি তাওহিদি জনতা।
বিশ্ববরেণ্য আলিম আল্লামা ইউসূফ বান্নুরি রহ:, মুফতি ওলী আহমদ টুংকী রহ: ও মাওলানা আবদুল্লাহ দরখাস্তীর কাছে তিনি ইলম দ্বীন হাসিল করার সৌভাগ্য লাভ করেন।

শিক্ষা সমাপ্তির পর তিনি আত্মশুদ্ধির লক্ষ্যে বাইয়াত হন হাকিমুল উম্মত হজরত থানভী রহ:-এর বিশিষ্ট খলিফা মুহিউস্সুন্নাহ মাওলানা আবরারুল হক রহ:-এর হাতে। দীর্ঘ সাধনার পর তিনি তার নিকট থেকে খিলাফত লাভ করেন। কওমি মাদরাসার সিলেবাসের ব্যাপারে তার স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন সময় সংস্কারের কথা বলেছি। আমাদের নেসাবের মধ্যে আধুনিক কিছু বইপত্র পাঠ্যভুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু বোর্ডের কিছু দায়িত্বশীলদের ভিন্নমতের জন্য এতে সফল হতে পারছি না। আমার চিন্তা হলো, কিছু সংযোজন-বিয়োজনের প্রয়োজন আছে। আমাদের মৌলিক কিতাবাদি ঠিক রেখে বাকিগুলোতে কিছুটা তারমিম (সংস্কার) করা যেতে পারে। আর এটা করতে পারলে আমাদের মঙ্গল বৈ অমঙ্গল হবে না (আবদুল্লাহ আশরাফ, ইসলাম টাইমস, ঢাকা, ৭ অক্টোবর, ২০১৯)।

নিয়মতান্ত্রিক দলীয় রাজনীতির সাথে তার বিশেষ সংযোগ ছিল না। বাবা মাওলানা আতহার আলী রহ: রাজনীতির পুরোধা থাকালেও তিনি কখনো রাজনৈতিক তৎপরতায় জড়াতে পছন্দ করেননি। এ ব্যাপারে তার বক্তব্য হলো, ‘আমি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করি না কেন এর পেছনে একটা বড় কারণ রয়েছে, আপনারা জানেন, বাবা ছিলেন উপমহাদেশের ইসলামী রাজনীতির পুরোধা এবং এ দেশের আলিমদের রাজনীতির ময়দানে তিনি নামিয়েছেন। তিনি তার তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে এবং বিশেষ কারণে আমাকে রাজনীতি করতে নিষেধ করেছেন। রাজনীতিতে না জড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো, আমাদের এ সময়ের রাজনীতিবিদদের মাঝে সেই ইখলাস বা একনিষ্ঠতা নেই। বর্তমান যুগের রাজনীতির কূটিলতায় তিনি অত্যন্ত মর্মাহত, বিরক্ত ও নিরাশ হয়ে পড়েন। রাজনীতি থেকে তিনি তিক্ত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন’। তিনি তার ছেলে মাওলানা আনোয়ার শাহকে প্রদত্ত এক অসিয়তনামায় বলেন, ‘আমার অসিয়ত তুমি কখনো রাজনীতিতে অংশ নেবে না। আমি রাজনীতিতে জড়িত হয়ে বহু তিক্ত অভিজ্ঞতার অধিকারী হয়েছি। এখানে নিজস্ব লোকেরাই গাদ্দারি ও বিশ্বাসঘাতকতা করে’ (মাওলানা শফীকুর রহমান জালালাবাদী, হায়াতে আতহার, পৃ.৩১২)।

তবে ইসলামের জন্য সংগ্রামী অবস্থানের প্রয়োজন সামনে এলে মাওলানা আনোয়ার শাহ রহ: দায়িত্ব নিয়ে সামনে এসে দাঁড়ান। মোটেও পিছপা হননি। উত্তাপমুখর বহু সময়েই এটা তিনি প্রমাণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘দলীয় রাজনীতির সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলেও শরয়ি আন্দাজে যখন যা বলা ও করা দরকার, তা আমি শহীদি মসজিদের খুতবা এবং প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে মিছিল-মিটিংসহ দরকারি ও কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়ে থাকি। আমি এ কাজগুলো দলীয় ব্যানার থেকে বলতে চাই না।’

প্রখর ব্যক্তিত্বসচেতন এ রাহবার আলেমে দ্বীন দেশ, জাতি ও উম্মাহর ক্রান্তিকালে বয়ান ও খুতবার মাধ্যমে অমূল্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে থাকেন। ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর ওপর যেকোনো আঘাতের প্রতিবাদে সবার আগে গর্জে ওঠেন তিনি। ভারতের বাবরি মসজিদ ভাঙা, আফগানিস্তানে মার্কিন হামলা, কাশ্মির, ইরাক, বসনিয়া, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও উইঘুর ও রোহিঙ্গা মজলুম মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে মিছিল-মিটিং ও প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন তিনি। জেলা শহর থেকে আওয়াজ উঁচু করেছেন বারবার। এ ছাড়াও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক নানান সঙ্কট-সমস্যার রাহনুমায়ি বয়ান, বিবৃতি ও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সত্যোচ্চারণ ও হক কথা বলতে কোনো দিন দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন না। বেফাকের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের পক্ষে ছিলেন তিনি। বেফাকের সমাবেশেও তিনি তার সংস্কারধর্মী কথা তুলে ধরতে কুণ্ঠিত হতেন না।

মাওলানা আনোয়ার শাহ রহ:-এর ছোট ভাই, যিনি বর্তমানে জামিয়া ইমদাদিয়ার প্রিন্সিপাল, মাওলানা শাব্বির আহমদ রশিদ হাফি.-এর সাথেও আমার হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। আমি তার দাওয়াতে জামিয়ার সম্মেলনে গেছে। তিনি আমাকে জামিয়া ইমদাদিয়ার মজলিশে শূরার সদস্য মনোনীত করেন। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭৩ বছর।

মাওলানা আনোয়ার শাহ রহ: ছিলেন সময়সচেতন দেশের বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, মুফাসসির, একজন যোগ্য শিক্ষক, সমাজসেবক ও অসংখ্য দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক। দ্বীনি শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে মরহুমের বিশেষ অবদানের কথা জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে। সারা জীবন পঠন পাঠনে সময় অতিবাহিত করেন। রুটিনমাফিক জীবন পরিচালনায় তিনি ছিলেন অভ্যস্ত। তিনি ছিলেন আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর। দেশে-বিদেশে তার অসংখ্য ছাত্র ও অনুরক্ত রয়েছে। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ তার নামাজে জানাজায় শরিক হন। এতে তার গগনচুম্বী জনপ্রিয়তার প্রমাণ মেলে। আমরা এ মনীষীর রূহের মাগফিরাত কামনা করি। মানবসভ্যতার ক্যালেন্ডারে তিনি বেঁচে থাকবেন আজীবন তার কীর্তির সাথে।

উপসম্পাদকীয়, নয়া দিগন্ত, ঢাকা।
১৬ জানুয়ারি, ২০২৩
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন Professor Dr. A.F.M. Khalid Hossain হাফি.
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও গবেষক।

10/11/2022

اهلا وسهلا مرحبا طيبا

Want your school to be the top-listed School/college in Kishoreganj?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address


Latibabad, Kishoreganj Sadar, Kishoreganj
Kishoreganj
2300