05/06/2026
উইলিয়াম শেকসপিয়রের ‘অ্যাজ ইউ লাইক ইট’ নাটকের নির্বাসিত ডিউক (যাঁর মূল নাম ডিউক সিনিয়র) এবং তাঁর দরবারের দার্শনিক ভাবুক জ্যাকস (Jaques)-এর সেই বিখ্যাত কথোপকথন আমার সবচেয়ে প্রিয়।
জ্যাকস বর্ণনা করেছেন একজন পুরুষ মানুষের জন্ম থেকে হারিয়ে যাওয়ার আগ অব্দি পুরো ট্রানজিশন।
ডিউক সিনিয়র: "জ্যাকস, এই বনের শান্ত পরিবেশেও তোমার চোখে বিষাদের ছায়া কেন? এই সংসার আর মানবজীবনকে তুমি আসলে কীভাবে দেখছো?"
জ্যাকস দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে উত্তর দেয়-
"জানেন ডিউক সিনিয়র, এই পুরো পৃথিবীটা আসলে একটা বিশাল রঙমঞ্চ! আর আমরা রক্ত-মাংসের মানুষগুলো? আমরা কেউই চিরস্থায়ী নই, সবাই এই মঞ্চের এক একজন অভিনেতা-অভিনেত্রী মাত্র।
"All the world's a stage,
And all the men and women merely players..."
এই নাট্যমঞ্চে আমাদের প্রত্যেকের একটা নির্দিষ্ট প্রবেশের সময় থাকে, আর থাকে প্রস্থান। মানুষ তার এই জীবনের ছোট্ট নাটকে একে একে সাতটি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে যায়:
১. প্রথম অংক (শৈশব): অবুঝ এক দুগ্ধপোষ্য শিশু, যে কেবল মায়ের কোলে কাঁদে, হাত-পা ছোড়ে আর বমি করে।
২. দ্বিতীয় অংক (কৈশোর): কাঁধে বইয়ের বোঝা নিয়ে, অনিচ্ছা সত্ত্বেও শামুকের গতিতে পাঠশালার দিকে এগিয়ে চলা এক উজ্জ্বল মুখের বালক।
৩. third অংক (যৌবনের প্রেম): এক আকুল প্রেমিক, যে তার প্রিয়ার রূপের প্রশংসায় কামারের হাপরের মতো দীর্ঘশ্বাস ফেলে আস্ত একটা মহাকাব্য লিখে ফেলে।
৪. চতুর্থ অংক (সৈনিক): চিতার মতো ক্ষীপ্র আর সম্মানের কাঙাল এক সৈনিক, যে বুদবুদের মতো ক্ষণস্থায়ী খ্যাতির লোভে কামানের মুখেও বুক চিতিয়ে দিতে ডরায় না।
৫. পঞ্চম অংক (বিচারক): একটু পরিণত বয়স। ঘুষের টাকায় পুষ্ট গোলগাল ভুঁড়ি, গম্ভীর চোখ আর ছাঁটা দাড়ির এক বিচক্ষণ মানুষ, যে জগতকে কেবল অকাট্য যুক্তির জালে বিচার করে।
৬. ষষ্ঠ অংক (বার্ধক্য): শরীরটা ক্রমশ শীর্ণ হয়ে আসে, চোখের ওপর চশমা ঝোলে, পাশে থাকে টাকার থলি। গলার সেই সিংহের মতো গর্জন এবার শিশুর মতো ক্ষীণ স্বরে রূপ নেয়।
৭. সপ্তম অংক (শেষ দৃশ্য): এক দ্বিতীয় শৈশব! যেখানে মানুষ একে একে তার দাঁত, চোখ, স্বাদ, স্মৃতি সবকিছু হারাতে থাকে।
BG and Video Credit : মির্চির আসাধারণ ওডিও ভান্ডারও কালজয়ী হয়ে থাকবে।
লেখা: সাঈম সাকিব