02/09/2021
অধিকাংশ নারী-ই কেন জাহান্নামি হবেন? কেন জাহান্নামে অধিকাংশ নারী শাস্তি ভোগ করবেন? কি তার মৌলিক কারণ? দাজ্জাল ও ফেমিনিন রেভিলিউশনের সাথে এর কোন সম্পর্....
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলাল্লাহ (সঃ)
02/09/2021
অধিকাংশ নারী-ই কেন জাহান্নামি হবেন? কেন জাহান্নামে অধিকাংশ নারী শাস্তি ভোগ করবেন? কি তার মৌলিক কারণ? দাজ্জাল ও ফেমিনিন রেভিলিউশনের সাথে এর কোন সম্পর্....
31/08/2021
রাসূল (সা:)মেরাজে গিয়ে কি কি দেখলেন || Abu Taha Muhammad Adnan
রাসূল (সা:)মেরাজে গিয়ে কি কি দেখলেন || Abu Taha Muhammad Adnan Waz | আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান ওয়াজ #আবুত্বহা #আদনানী #নতুন_ওয়াজরাসূল (সা:)মেরাজে গিয়ে কি কি দেখলেন || Abu Taha Muhammad Adnan Waz | আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান ওয়াজ"কোন ব্য.....
share
হাফ হাতা শার্ট বা গেঞ্জি পরে নামাজ পড়া যাবে কি না?
শায়খ আহমাদুল্লাহ
আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন
17/08/2021
আসুন এক সাথে জাহান্নাম থেকে বাঁচি
আল্লাহু আকবর
17/08/2021
আশুরার শোক উদযাপন বিদআত কেন?
মুহররম মাসের দশ তারিখ আশুরার দিন হিসেবে পরিচিত। ৬১ হিজরির ১০ মুহররম তারিখে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হুসাইন রা. কে শাহাদাতের মর্যাদায় ভূষিত করেছিলেন। এই শাহাদাতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তার মর্যাদা অনেক উন্নীত করেছেন। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসান ও হুসাইন রা. এর ব্যাপারে এ শুভ সংবাদ প্রদান করে গেছেন যে, তারা হবেন জান্নাতের যুবকদের নেতা।
আর এ কথা চির সত্য, যে যত বড় মর্যাদা লাভ করে তাকে তত বড় পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। যেমন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হল, মানব জাতির মধ্যে কে সব চেয়ে বেশি পরীক্ষা ও বিপদাপদের সম্মুখীন হয়েছিলেন? তিনি বললেন, নবীগণ, তারপর আল্লাহর নেককার বান্দাগণ।
তারপর অন্যদের মধ্যে যারা যে পরিমাণ ঈমান ও পরহেযগারিতার অধিকারী তারা সে পরিমাণ পরীক্ষা সম্মুখীন হয়েছেন। মানুষ তার দীনদারি অনুযায়ী পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। কেউ যদি মজবুত দ্বীনের অধিকারী হয় তবে সে বেশি পরিমাণ পরীক্ষার মুখোমুখি হয়। আর কারো দ্বীনদারিতে কমতি থাকলে তার বিপদাপদ কম আসে এবং পরীক্ষাও কম হয়। মুমিন বান্দা যতদিন পৃথিবীতে চলা ফেরা করে ততদিন তার উপর বিপদাপদ পতিত হতে থাকে এবং এভাবে তার আর কোন গুনাহ বাকী থাকে না।” (মুসনাদ আহমদ ও তিরমিযী, সনদ হাসান)
আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাদের এই মর্যাদা পূর্বেই নির্ধারণ করে রাখা হয়েছিল। তারা তাদের পূর্বপুরুষদের মতই বিপদাপদের সম্মুখীন হয়েছেন। ইসলামের মর্যাদা নিয়েই তারা দুনিয়াতে আগমন করেছেন এবং ইসলাম প্রদত্ত মর্যাদা সহকারে তারা প্রতিপালিত হয়েছেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সংস্পর্শ, স্নেহ-মমতা, আদর ও ভালবাসা পেয়ে তাদের জীবন সৌভাগ্য মণ্ডিত হয়েছে। যার কারণে মুসলমানগণ তাদের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করে থাকেন।
রাসূল যখন ইহজগৎ ত্যাগ করেন তখন তাঁরা ভাল-মন্দ বুঝার বয়সে উপনীত হন নি।
আল্লাহ তাআলা তাদেরকে এমন নিয়ামত দিয়েছেন যার মাধ্যমে তারা তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে গিয়ে মিলিত হতে পারে। কারণ, তাদের চেয়ে যিনি বেশি মর্যাদার অধিকারী তথা তাদের পিতা আলী রা. ও শহীদ অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন।
হুসাইন রা. এর নিহত হওয়ার ঘটনায় জনমানুষের মাঝে ফেতনা-ফ্যাসাদের বিস্তার ঘটে। যেমন উসমান রা. এর নিহত হওয়ার ঘটনা বিরাট বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। যার কারণে আজ পর্যন্ত মুসলিম জাতি বিভক্ত।
❖ হুসাইন রা. এর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড:
খারেজী সম্প্রদায়ের আব্দুর রহমান বিন মুলজিম আলী রা. কে হত্যা করার পর সাহাবীদের একাংশ হাসান রা. এর হাতে বাইআত নিলেন। তার ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমার এই ছেলে মুসলমানদের দুটি বড় বড় বিবদমান দলের মধ্যে সমাধান করবেন।” তিনি রাষ্ট্র ক্ষমতা ছেড়ে দিলেন। এর মাধ্যমে মুয়াবিয়া এবং হাসান রা. এর সমর্থক দু দলের মধ্যে সমাধান হল। অতঃপর তিনি ইহজগৎ ত্যাগ করলেন। এরপর বেশ কিছু মানুষ হুসাইন রা. এর নিকট চিঠির পর চিঠি লেখা শুরু করল। তারা বলল, যদি হুসাইন রা. ক্ষমতা গ্রহণ করেন তবে তাঁকে তারা সাহায্য-সহযোগিতা করবে। অথচ তারা এ কাজের যোগ্য ছিল না।
অতঃপর হুসাইন রা. যখন তাদের নিকট তার চাচাত ভাই মুসলিম ইবনে আকীল ইব্ন আবু তালিবকে পাঠালেন তখন তারা তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তার দুশমনকে তাকে প্রতিহত করতে এবং তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করল।
এদিকে বিচক্ষণ সাহাবীগণ এবং হুসাইন রা. হিতাকাংখীগণ যেমন ইবনে আব্বাস, ইব্ন উমর প্রমুখ তারা সবাই হুসাইন রা. কে ঐ সকল লোকদের ডাকে না যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিলেন। তারা বললেন: হুসাইন রা. সেখানে যাওয়াতে কোন লাভ নেই। এতে কোন কল্যাণ বয়ে আসবে না। পরে ঘটনা যা ঘটার তাই ঘটল। আল্লাহর ইচ্ছাই বাস্তবায়িত হল।
হুসাইন রা. বিজ্ঞ সাহাবীগণের পরামর্শ উপেক্ষা করে যখন বের হলেন তখন দেখলেন, অবস্থা পরিবর্তন হয়ে গেছে। তিনি তাদের নিকট আবেদন করলেন, তাকে ছেড়ে দেয়া হোক তিনি যেন তিনি ফিরে যেতে পারেন অথবা কোন সীমান্ত প্রহরায় অংশ গ্রহণ করতে পারেন। অথবা তাকে যেন ইয়াজিদের সাথে সাক্ষাত করতে দেয়া হয়। কিন্তু তারা তার কোন প্রস্তাব গ্রহণ করল না। বরং তাকে চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলে যুদ্ধ করতে বাধ্য করল। তিনি এবং তার সঙ্গীগণ যুদ্ধ করে পরিশেষে শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করলেন।
এই শাহাদাতের মাধ্যমে আল্লাহ তাকে মর্যাদার সুউচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করলেন এবং তাঁর অন্যান্য পূত-পবিত্র পরিবার বর্গের সাথে মিলিত করলেন এবং তাঁর উপর যারা এহেন নিষ্ঠুর আচরণ করল তাদেরকে লাঞ্ছিত করলেন।
ইতিহাসের এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড জনমানুষের মধ্যে অত্যন্ত খারাপ প্রভাব ফেলল। মানুষ দুভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। এ নিয়ে অনেক মানুষ মুনাফেকি, মূর্খতা এবং গোমরাহির মধ্যে ঘুরপাক খেতে লাগল। একদল মানুষ এই আশুরার দিন কে মাতম, আহাজারি, কান্নাকাটি এবং শোক দিবস হিসেবে গ্রহণ করল। তারা সেদিন জাহেলি জামানার বিভিন্ন আচরণ প্রদর্শনী শুরু করল। তারা সে দিন, শোক র্যালী, কালো পতাকা মিছিল, নিজের শরীরে চাবুক তলোয়ার ইত্যাদি ধারাল অস্ত্র দ্বারা দিয়ে জখম, নিজেদের গালে আঘাত, শরীরের কাপড় ছেড়া, জামার পকেট ছেড়া, চুল ছেড়া ইত্যাদি বিভিন্ন জাহেলী প্রথা অনুযায়ী শোক দিবস পালন করে থাকে। যা আজ পর্যন্ত পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবছর আশুরার দিন তারা ইসলামী শরীয়তের সম্পূর্ণ বিপরীত এহেন কার্যকলাপ করে থাকে। তারা মনে করে এ সব কাজ করার মাধ্যমে তারা হুসাইন রা. এর আহলে বাইত তথা পরিবার বর্গের প্রতি ভালবাসা এবং সমবেদনা প্রকাশ করে!!
❖ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ বলেনঃ
"হুসাইন রা. এর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে শয়তান মানুষের মধ্যে দুটি বিদআত আবিষ্কার করল। একটি হল, আশুরার দিন শোক ও কান্নাকাটি করার বিদআত। যে দিন শরীরে আঘাত করা, চিৎকার করে কান্নাকাটি করা, পিপাষার্ত থাকা, মর্সিয়া পালন ইত্যাদি কার্যক্রম করা হয়ে থাকে। শুধু তাই নয় বরং এ দিন পূর্ব পুরুষদেরকে গালাগালি করা হয়, তাদের উপর অভিশাপ দেয়া হয় এবং এমন সব লোকদেরকে অপরাধী সাব্যস্ত করা হয় যারা প্রকৃতপক্ষে অপরাধী নয় এবং হুসাইন রা. এর মৃত্যু সংক্রান্ত এমন সব কাহিনী বয়ান করা হয় যেগুলো অধিকাংশই মিথ্যা এবং বানোয়াট।
যারা এসবের সূচনা করেছিল তাদের উদ্দেশ্য ছিল ফেতনা-ফ্যাসাদের দরজা উন্মুক্ত করা এবং মুসলিম উম্মাহকে বিভক্ত করা। এসব কাজ তো মুসলমানদের ঐকমত্যে ওয়াজিব নয় মুসতাহাবও নয় বরং এতে শুধু অতীতের বিপদাপদকে কেন্দ্র করে ধৈর্য হীনতা এবং কান্নাকাটি নতুন করে করা হয়। অথচ তা আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসূল কর্তৃক শক্তভাবে নিষিদ্ধ জিনিস।”
ধৈর্য হীনতা প্রকাশ করা বা চিৎকার-কান্নাকাটি করা ইসলামী শরীয়তের পরিপন্থী। বিপদে-মসিবতে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ হল, ধৈর্যের পরিচয় দেয়া, ইন্নাল্লিাহি ওয়া ইন্নালিল্লাইহি রাজিঊন পাঠ করার পাশাপাশি আত্ম সমালোচনা করা। যেমন:
▪আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَبَشِّرِالصَّابِرِينَ - الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّـهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ ولَـٰئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ ۖ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ
"আর ধৈর্য ধারণকারীদেরকে শুভ সংবাদ দাও। যারা বিপদ এলে বলে: “ইন্নাল্লিাহি ওয়া ইন্নালিল্লাইহি রাজিঊন। এদের উপরই আল্লাহর পক্ষ থেকে দয়া ও করুণা বর্ষিত হয় এবং এরাই সুপথে প্রতিষ্ঠিত।” (সূরা বাকারা: ১৫৫)
▪সহীহ বুখারীতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন:
لَيْسَ مِنّا مَنْ ضَرَبَ الْخُدُودَ، وَشَقَّ الْجُيُوبَ، وَدَعا بِدَعْوى الْجاهِلِيَّةِ
যে ব্যক্তি গালে চপেটাঘাত করে, পকেট ছিঁড়ে এবং জাহেলিয়াতের মত আহবান করে আমাদের দলভুক্ত নয়।” (মজমু ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া ২৫/৩০২, ৩০৭)
▪নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
أَنا بَرِيءٌ مِمَّنْ بَرئَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَرِئَ مِنَ الصَّالِقَةِ وَالْحالِقَةِ وَالشَّاقَّةِ
"যে মহিলা (বিপদ-মুসিবতে) চিৎকার করে, মাথা মুণ্ডন করে, কাপড় ছিঁড়ে তার থেকে আমি সম্পর্ক মুক্ত।” (সহীহ মুসলিম)
▪নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন:
النَّائِحَةُ إذا لَمْ تَتُبْ قَبْلَ مَوْتِها، تُقامُ يَومَ القِيامَةِ وعليها سِرْبالٌ مِن قَطِرانٍ، ودِرْعٌ مِن جَرَبٍ
"বিলাপকারীনী মহিলা যদি তওবা করার আগে মৃত্যু বরণ করে তবে সে কিয়ামতের দিন আলকাতরা মাখানো পায়জামা আর ঘা বিশিষ্ট বর্ম পরিহিত অবস্থায় উঠবে।” (সহীহ মুসলিম, জানাইয অধ্যায়)
▪সহীহ বুখারীতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন:
ما مِن عبدٍ تُصيبُه مُصيبةٌ، فيقولُ: إنَّا لله وإنَّا إليه راجعونَ، اللهُمَّ أْجُرْني في مُصِيبتِي، وأَخْلِفْ لي خيرًا منها، إلَّا أَجَرَه اللهُ في مُصِيبته، وأَخْلَفَ له خيرًا منها
"যে আল্লাহর বান্দা বিপদে আপতিত হলে বলে: ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইল্লাইহি রাজিঊন, "আল্লাহুম্মা আজিরনী ফী মুসীবাতী ওয়াখলুফ লাহু খাইরান মিনহা" অর্থাৎ নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য নিবেদিত এবং তার কাছেই ফিরে যাব। হে আল্লাহ, বিপদে আমাকে প্রতিদান দাও এবং এর থেকে উত্তম বিকল্প দান কর।”
তাকে আল্লাহ তাকে তার বিপদে উত্তম প্রতিদান দিবেন এবং তারচেয়ে ভালো বিকল্প ব্যবস্থা করবেন।” (সহীহ মুসলিম, কিতাবুল জানাইয)
▪ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
أَرْبَعٌ في أُمَّتي مِن أمْرِ الجاهِلِيَّةِ، لا يَتْرُكُونَهُنَّ: الفَخْرُ في الأحْسابِ، والطَّعْنُ في الأنْسابِ، والاسْتِسْقاءُ بالنُّجُومِ، والنِّياحَةُ
"আমার উম্মতের মধ্যে চারটি জিনিস জাহেলিয়াতের কাজ যেগুলো তারা ছাড়বে না। বংশ আভিজাত্য দিয়ে গর্ব করা, অন্যের বংশকে দোষারোপ করা, তারকার সাহায্যে বৃষ্টি প্রার্থনা করা এবং মানুষের মৃত্যুতে বিলাপ করা। (সহীহ মুসলিম, বিতাবুল জানাইয)
সুতরাং কোন ব্যক্তি যদি হুসাইন রা. এর নিহত হওয়ার ঘটনায় অন্য মুমিনদের প্রতি জুলুম করে, তাদেরকে গালাগালি করে বা তাদের উপর অভিশাপ দেয় এবং দ্বীনের দুশমন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কাজে সাহায্য করা সহ অসংখ্য অন্যায় কাজে জড়িত হয় তাদের পরিণতি কী হতে পারে?
শয়তান গোমরাহ লোকদের জন্যে আশুরার দিনকে শোক ও মাতম প্রকাশের দিন হিসেবে সুসজ্জিত ভাবে তুলে ধরেছে। যার কারণে এ সব লোক আশুরা আসলে কান্নাকাটি, দুঃখের কাওয়ালী গাওয়া, বানোয়াট কিচ্ছা-কাহিনী বর্ণনা ইত্যাদি কার্যক্রম শুরু করে দেয়। এতে কি কিছু লাভ হয়? যা হয় তা হল, মানুষের মাঝে হিংসা-বিদ্বেষ এবং গোঁড়ামির বিষ বাষ্প ছড়ানো, মুসলমানদের মাঝে ফেতনা-ফ্যাসাদ জাগ্রত করা এবং অতীত মানুষদের গালাগালি করা। এভাবে দ্বীনের মধ্যে অসংখ্য ফেতনা ছড়ানো হয় এবং মিথ্যার পরিচর্যা করা হয়।
ইসলামের ইতিহাসে এত ফেতনা-ফ্যাসাদ, দ্বীনের নামে মিথ্যাচার এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফেরদেরকে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে এ শিয়া সম্প্রদায়টির চেয়ে অগ্রগণ্য আর কোন মানুষ দেখা য়ায় নি। (সমাপ্ত)
উৎস: শাইখ আব্দুল আযীয বিন আহমদ আত তুওয়াইজিরী কর্তৃক রচিত
‘আল বিদা আল হাওলিয়া’ (মাস্টার্স এর থিসিস)
অনুবাদ: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব
#শেয়ার_করুন
©সিরাতল মুস্তাকিম
গোপন গুনাহ থেকে বাঁচার ও নফসকে প্রতিহত করার চমৎকার একটি পদ্ধতি:-
-----------------------------------
শয়তান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার সাথে ৪টি বিষয়ে ওয়াদা করেছে।
وَّ لَاُضِلَّنَّہُمۡ وَ لَاُمَنِّیَنَّہُمۡ وَ لَاٰمُرَنَّہُمۡ فَلَیُبَتِّکُنَّ اٰذَانَ الۡاَنۡعَامِ وَ لَاٰمُرَنَّہُمۡ فَلَیُغَیِّرُنَّ خَلۡقَ اللّٰہِ ؕ وَ مَنۡ یَّتَّخِذِ الشَّیۡطٰنَ وَلِیًّا مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ فَقَدۡ خَسِرَ خُسۡرَانًا مُّبِیۡنًا ﴿۱۱۹﴾ؕ
‘আর অবশ্যই আমি তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব, মিথ্যা আশ্বাস দেব এবং অবশ্যই তাদেরকে আদেশ দেব, ফলে তারা পশুর কান ছিদ্র করবে এবং অবশ্যই তাদেরকে আদেশ করব, ফলে অবশ্যই তারা আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবে’। আর যারা আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে, তারা তো স্পষ্টই ক্ষতিগ্রস্ত হল। (৪ঃ১১৯)
আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা কুরআন এ কয়েক জায়গাতে বলেছেন যে শয়তান আমাদের প্রকাশ্য শত্রু৷ সুতরাং শয়তান এমন এক শত্রু যে কীনা আমাদের সাথে যুদ্ধ করার শপথ নিয়েছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার নিকট, সুতরাং বিষয়টি মোটেও অবহেলা করার নয়৷
আমাদের প্রতিটি দিন শুরু করার পূর্বে বারবার নিজেদের স্মরণ করে দেয়া উচিত যে আমাদের দিনগুলো শুরু ও শেষ হয় শয়তানের সাথে যুদ্ধ এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার আনুগত্যের মাধ্যমে। সুতরাং আপনি যদি কেবল আল্লাহর ইবাদত করার উদ্দেশ্যে ময়দানে নামেন তবে অন্যদিকে শয়তানের মত হার না মানা বদ-সৈনিক আপনাকে আক্রমণ করার জন্যে আড়ালে সদাপ্রস্তুত রয়েছে। ফলস্বরূপ আপনি আল্লাহর ইবাদাত করলেও খুব সহজেই যেকোনো পাপে জড়িয়ে পড়বেন শয়তানের ধোকায়।
তবে কেমন হয়, যদি দিনের শুরুতে শয়তানের মত শত্রুকে আপনি তাড়িয়ে দিয়ে ময়দানে নেমে যান আল্লাহর আনুগত্যের জন্যে? এর জন্য আপনাকে যা করতে হবে তা হল নিম্নোক্ত বহুল পরিচিতি দোয়াটি ১০০ বার পড়ে নিবেনঃ
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ
লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর।
আমরা সকলেই জানি এ দুয়াটি সকল সন্ধ্যার যিকর হিসেবে পড়া হয় এবং অনেকে পড়ি তো পড়ি না৷ পড়লেও ১০ বার৷ হিসনুল মুসলিম বইটিতে দুয়াটি একদম শেষে থাকার ফলে অনেকে গুরুত্ব দিয়ে পড়ি না।
আপনি দেখে থাকবেন পুরো হিসনুল মুসলিমে এটিই এমন একটি দোয়া যেটি আপনার পড়তে সবচেয়ে বেশি আলসেমি হয়। জ্বী ভাই! এটি সেই দুয়া যেটি পড়লে শয়তান আর আপনার ধারে কাছে আসতে পারবে না। শয়তান আল্লাহর কাছে করা ওয়াদা গুলো সম্পন্ন করতে পারবে না! এটি সামান্য কোনো বিষয় নয়! দুয়াটি সকালে পাঠ করলে বিকাল পর্যন্ত আসতে পারবে না। আর বিকালে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত আসতে পারবে না। একজন রাক্বী (যিনি কিনা রুক্বাইয়াহ করেন) তাকে একবার এক জ্বিন ভর করতে গিয়ে না পেরে কেদে দিয়ে বলেছিলো যে আমি পারছি না উনার উপর ভর করতে৷ এর মূল কারণ ছিলো তিনি সেদিন ১০০ বার উক্ত দুয়াটি পড়ে নিয়েছিলেন। ঘটনাটি আরো সাজানো৷
যা হোক, এবার আমরা এ দুয়াটি একটি ভিন্ন নিয়মে পড়বো। আর তা হচ্ছে, উক্ত দুয়াটি আপনি সকালে ফজরের সলাত টা পড়েই ১০০ বার পড়ে মসজিদ থেকে বের হন, এর আগে কিছুতেই দিন শুরু করবেন না। আপনি এই দুয়াকে এমনভাবে প্রায়োরাটাইজ করবেন যে আপনি খাবার-দাবার গ্রহণ করুন আর না করুন, এ দুয়া পড়ে আপনাকে দিন শুরু করতে-ই হবে। অন্যসব আমল স্কিপ করে আগে এই দুয়াটি প্রথমেই পড়ে শেষ করে ফেলুন। ১০ মিনিটের মত লাগতে পারে। তারপর আপনি চাইলে অন্য যেকোনো সকাল সন্ধ্যার যিকর গুলো পড়তে পারেন কিংবা কুরআন তিলওয়াত ইত্যাদি যা ইচ্ছা পড়তে পারতেন।
ঠিক তেমনি পূনরায় আসর কিংবা মাগরিব এর সলাত শেষ করেই দুয়াটি নাক-কান বন্ধ করে ১০০ বার পড়া শেষ করে ফেলুন। এবারও আপনি শয়তান হতে মুক্ত।
আর, যেসকল ভাইবোনেরা সকাল সন্ধ্যার যিকর করেন না তারা এপটি প্লেস্টোর থেকে নামিয়ে নিন কিংবা বইটি স্বল্পমূল্যে কিনে নিন৷ অতঃপর সকাল সন্ধ্যার যিকর এর দুয়াগুলোর বাংলা অর্থ পড়ুন৷ আমি নিশ্চিত যে আপনি মাথায় হাত দিয়ে বলবেন যে এমনসব দুয়াগুলো বাদ কিভাবে জীবন কাটালাম! এক পর্যায়ে আপনি সকাল সন্ধ্যার যিকর ছাড়া চলতে পারবেন না৷
এবার আসি মূল সমস্যায়। এটা একদম কমন। তা হলো, আউযুবিল্লাহ পড়া, ইন্নি আউযুবিকা দিয়ে শুরু এমন দুয়াগুলো পড়লেও মনে হয় শয়তান যেন যায়নি, এখনও কুমন্ত্রণা দিচ্ছে। জ্বী, এটি সকলের ক্ষেত্রেই। চলুন জানা যাক মূল রহস্য৷
৩ ধরনের নাফস রয়েছে। যথাঃ
১. নাফসুল মুত্বমাইন্নাহ
২. নাফসুল লাওয়ামাহ
৩. নাফসুল আম্মারাহ
এর মধ্যে সর্বোত্তম ও সুস্থ নাফস হচ্ছে প্রথমটি, যেটি নিয়ে আমরা আমাদের রবের নিকট ফিরে যাবার আশা করি, এরপর অধিকাংশের নাফস হচ্ছে দ্বিতীয়টি। যা রোগাক্রান্ত। অর্থাৎ অনুতপ্ত পাপী নাফস, যেটি পাপ করে, আবার তাওবা করে।আর তৃতীয় ধরণের নাফসটি ধ্বংসাত্মক, এটির মাঝে কোনো অনুতাপবোধ কিংবা ভয় নেই। মনে রাখবেন আমাদের নাফস হচ্ছে নরম মাটির মত, এটিকে যেভাবে তৈরী করা হয় এটি সেভাবেই কাজ করে।
শয়তান আপনার নাফসকে এমনভাবে তৈরি করে রেখেছে যে আপনি প্রতিরক্ষামূলক দুয়াগুলো পাঠ করলেও আপনার নাফস আপনাকে ছাড় দেয় না। কিন্তু বিশ্বাস করুন আপনি যখন আল্লাহর কাছে শয়তান হতে আশ্রয় চান তখন শয়তান আপনার ধারে ঘেষতে পারে না ঠিকই, কিন্তু আপনার নরম মাটির মত নাফসটি যা শয়তান নাফসুল লাও-ওয়ামাহ তে পরিণত করেছে সেটি আপনাকে ছাড়েনা।
আর যখন আপনার মাঝে পাপ করার ইচ্ছা জাগে তখন শয়তান ও নাফসুল লাও-ওয়ামাহ এদুটির সাথে আপনাকে যুদ্ধ করতে হয় এবং আপনি হেরে যান।
কিন্তু যেদিন আপনি ১০০ বার উক্ত দুয়াটি পাঠ করবেন। সেদিন আপনাকে যুদ্ধ করতে হবে নাফসুল লাও-ওয়ামাহ এর সাথে৷ সেদিন শয়তান থাকবে না ইনশাআল্লাহ।
ধরা যাক আজ আপনার সিগারেট, মদ কিংবা অন্যকোনো দ্রব্যসেবন করতে মন চাইছে কিংবা কোনো বাজে ফিল্ম দেখা বা গোপন কোনো পাপ করতে মন চাইছে। মনে রাখবেন সেদিন শয়তান নেই। আছে নাফসুল লাও-ওয়ামাহ। আপনার রোগাক্রান্ত নাফস।
একটি জিনিস সবসময়ই দেখবেন, আপনার যতই পাপ করার ইচ্ছা হয়। আপনি জানেন যে মনের গভীরে আপনার একটা শক্তি আছে যেটা দিয়ে আপনি চাইলেই পাপটা এভয়েড করতে পারেন৷ কিন্তু আপনি তা করেন না। দাঁড়িয়ে বসে কিছু একটা যুক্তি খোজেন পাপ করার কিংবা না করার। ফলস্বরূপ পাপ হয়ে যায়। একটু খানি তৃপ্তির পর দীর্ঘসময়ের অনুশোচনা।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা বলেছেন,
وَ اسۡتَعِیۡنُوۡا بِالصَّبۡرِ وَ الصَّلٰوۃِ ؕ وَ اِنَّہَا لَکَبِیۡرَۃٌ اِلَّا عَلَی الۡخٰشِعِیۡنَ ﴿ۙ۴۵﴾
আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় তা বিনয়ী ছাড়া অন্যদের উপর কঠিন। (২ঃ ৪৫)
আপনার যখন ফিতনা অনুভব হবে আপনি সাথে সাথে ২ রাকাত নফল সলাতে দাঁড়িয়ে যান। এটা এই লিখার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সবথেকে উত্তম হয় যদি আপনি সারাক্ষণ ওযুতে থাকার অভ্যাস গড়ে তোলেন। ফলস্বরূপ মনে ফিতনার অনুভূতি এলেই আপনি সিজদায় পড়ে বলে ফেললেন
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ
ইয়া হাইয়্যু, ইয়া ক্বইয়্যুমু বিরমাতিকা আস্তাগিছ।
আল্লাহকে এ দুটো নামে ডেকে কিছু চাইলে আল্লাহ দোয়া কবুল করেন। এভাবে যতক্ষণ ফিতনা অন্তর থেকে না দূর হয়, সিজদায় পড়ে থাকেন। সাহায্য চান৷ দিনে ১০০ বার ফিতনা হলে ১০১ বার সলাত পড়ুন।
মনে রাখবেন, ফিতনা শুরু হলে যদি সলাতের জন্য ওযু করতে যান টয়লেটে কখনোই দেরি করবেন না৷ অনেক সময় টয়লেটে শয়তান ধোকা দিয়ে বলতে পারে যে, উত্তমরূপে ওযু করে সলাত টা আদায় করে নে। আপনি বিন্দুমাত্র কানে নিবেন না। চোখ কান বন্ধ করে কোনোমতে শরীরের অংশগুলো ভিজিয়ে ওযু সম্পন্ন করে সলাতে দাঁড়িয়ে যান৷ কেননা অনেক সময় টয়লেটে ধীরে ধীরে অযু করতে গিয়ে সলাতের আগ্রহ টাই চলে যায়৷ শরীর মুছতে গিয়ে টাওয়েল খুজতে গিয়েও টাইম নিবেন না, টাওয়েল না পেলে ভিজে শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে যান৷
আমার মনে আছে, ব্যক্তিগত কোনো কারণে আমি অনেক ভেঙে যাই। যখনই মনে ব্যাথা অনুভব করতাম তখনই অযু করার জন্য টয়লেট যেতাম৷ কিন্তু মূহুর্তের মধ্যে আমার মনের কষ্টটা দূর হয়ে যেতো৷ এরকম কয়েকবার হয় সেদিন। পড়ে বুঝতে পারি হতাশা সৃষ্টিটা শয়তান করছে কিন্তু সে চায় না আমি এর কারণে নফল সলাত পড়ে তার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দিই।
এভাবে যখন আপনি চেষ্টা করতে থাকবেন আপনি অবশ্যই আল্লাহর সাহায্য পাবেন।
وَ الَّذِیۡنَ جَاہَدُوۡا فِیۡنَا لَنَہۡدِیَنَّہُمۡ سُبُلَنَا ؕ وَ اِنَّ اللّٰہَ لَمَعَ الۡمُحۡسِنِیۡنَ ﴿٪۶۹﴾
আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথেই আছেন। (২৯ঃ৬৯)
আরেকটি কাজ অবশ্যই করবেন তা হল, একাকী থাকা বর্জন করুন। কুরআন এর ৩০ তম পারাটি হিফজ করার চেষ্টা করুন। এক পর্যায়ে পাপ করতে গিয়েও করতে পারবেন না, তখন মনে হবে আমি গুনাহ করলে হিফজ করা বন্ধ হয়ে যেতে পারে কিংবা যা মুখস্থ করেছি তা ভুলে যাবো। কেননা কুরআন হচ্ছে আলো, আর পাপ হল অন্ধকার। আলো আর অন্ধকার একত্রে থাকতে পারে না। আপনি যেদিন পাপকে সম্পূর্ণরুপে এভয়েড করবেন সেদিন আপনার এতটা শান্তি লাগবে যা উক্ত পাপ করার সময়েও কখনো পাননি। এর ফলে আপনার কুরআন হিফজ করার আগ্রহও বেড়ে যাবে!
আরেকটি বিষয়, প্লেস্টোর এ lock me out নামের একটি এপ আছে যেটির মাধ্যমে আপনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফোন এক্সেস করতে পারবেন না। আপনার যখন ফিতনা অনুভুত হবে তখন আপনি ১ ঘন্টার জন্য টাইমার সেট করে দিলে আপনি আর ফোন খুলতে পারবেন না। ফোন খুললেই আবার স্ক্রিন বন্ধ হয়ে যাবে। সর্বোত্তম হয় যদি বাটন ফোন ইউজ করেন, কিন্তু যখন আপনি বাটন ইউজ করতে যাবেন তখন শয়তান ধোকা দিয়ে বলবে যে অনেক দ্বীনি পোস্ট আর ভিডিও ছাড়া থাকবি কিভাবে?
এটা একটা কমন ধোকা৷ কিন্তু আপনি এক সপ্তাহ স্মার্টফোন থেকে বিরতি নিয়েই দেখুন, অনাবিল শান্তি আর স্বাধীনতা অনুভব করবেন। আপনার আমার এই ফোন আমাদেরকে বেধে রেখেছে, অন্তর শক্ত করে ফেলেছে৷
-
আপনার রোগাক্রান্ত নাফসটিকে নাফসুল মুত্বমা-ইন্নাহ তে নেয়ার পথে কান্নাকাটি করুন। নরম মাটির নাফস কে রোগমুক্ত করুন। অনুতাপের আগুনে নিজের নাফস দগ্ধ করে শক্ত করুন যাতে ওই অবস্থায় অটল থাকে।
یٰۤاَیَّتُہَا النَّفۡسُ الۡمُطۡمَئِنَّۃُ ﴿٭ۖ۲۷﴾
ارۡجِعِیۡۤ اِلٰی رَبِّکِ رَاضِیَۃً مَّرۡضِیَّۃً ﴿ۚ۲۸﴾
فَادۡخُلِیۡ فِیۡ عِبٰدِیۡ ﴿ۙ۲۹﴾
وَ ادۡخُلِیۡ جَنَّتِیۡ ﴿٪۳۰﴾
হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি ফিরে এসো তোমার রবের প্রতি সন্তুষ্টচিত্তে, সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের মধ্যে শামিল হয়ে যাও। আর প্রবেশ কর আমার জান্নাতে। (৮৯ঃ ২৭,২৮,২৯)
শেষ ধাপ,
আপনাকে এখন আল্লাহর প্রতি আশা রাখতে হবে। আর এই আয়াতগুলো প্রতিদিন দেখে দেখে অন্তরে আশার আলো জাগিয়ে তুলুন।
যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরী করে দেন এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য তার কাজকে সহজ করে দেন। আর যে আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার গুনাহসমূহ মোচন করে দেন এবং তার প্রতিদানকে মহান করে দেন। (৬৫ঃ ২,৩,৪,৫)
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّكَ لَنْ تَدَعَ شَيْئًا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا بَدَّلَكَ اللَّهُ بِهِ مَا هُوَ خَيْرٌ لَكَ مِنْهُ
আবু কাতাদাহ হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ
নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর জন্য কোনো কিছু ত্যাগ করলে আল্লাহ এর থেকেও উত্তম কিছু দ্বারা তাকে প্রতিস্থাপন করবেন। (মুসনাদে আহমাদঃ ২২৬৫)
সুতরাং পাপ ছেড়ে দেয়ার পর আপনাকে কেবল অপেক্ষা করতে হবে এর বিনিময় পাবার জন্য। সুতরাং ধৈর্যের সাথে বিনিময়ের অপেক্ষা করুন....।
(আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা সর্বপ্রথম আমাকে, অতঃপর আপনাদের সকলকে আমল করার তাউফিক দান করুক, আমিন)।
কার্টেসি:নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
#শেয়ার_করুন
©সিরাতাল মুস্তাকিম
02/05/2020
সেহেরির পূর্বে হস্তমৈথুন অত:পর...
প্রশ্ন: যদি কেউ সেহেরির পূর্বে হস্তমৈথুন করে ও নাপাক অবস্থায় সেহেরি খায় এবং সকালে গোসল করে ফজর সালাত কাজা করে তাহলে তার রোজা হবে কি?
উত্তর:
নিম্নোক্ত অতি সংক্ষেপে কয়েকটি পয়েন্টে উক্ত প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হল:
● ক. হস্তমৈথুন করা আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘনের শামিল ও কবিরা গুনাহ। (সূরা মুমিনূন এর ৫, ৬ ও ৭ নং আয়াতের আলোকে)।
আর এটি বাস্তব সত্য ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত বিষয় যে, এই বদ অভ্যাস মানুষের শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক দিয়ে মারাত্মক ক্ষতিকর। সুতরাং তা থেকে বিরত থাকার স্বার্থে বিয়ে করা এবং বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী একসাথে থাকা জরুরি। অনিবার্য কারণ বশত: বিয়ে করতে কিছুটা বিলম্ব হলে রোজা রাখতে হবে এবং আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগ্রত রেখে এই গোপন গুনাহ ও বদভ্যাস থেকে আত্মসংবরণ করার চেষ্টা করতে হবে।
কিন্তু অজ্ঞতা, কু প্রবৃত্তির তাড়না বা শয়তানের প্ররোচনায় এমনটি করে থাকলে অনতিবিলম্বে আল্লাহর কাছে লজ্জিত অন্তরে তওবা করা এবং ভবিষ্যতে জেনে-বুঝে আর কখনো এমনটি না করার জন্য অঙ্গীকার করা জরুরি।
● খ. হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বীর্যপাত ঘটালে শরীর নাপাক হয়। গোসল ছাড়া পাক হওয়া যায় না।
● গ. শরীর নাপাক (গোসল ফরজ) অবস্থায় সেহেরি খেয়ে রাজা রাখা জায়েজ। তবে তার আগে ওজু করে নেয়া ভালো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো কখনো জুনুবি (নাপাক) অবস্থায় সেহেরি খেয়ে রোজা রেখেছেন বলে সহিহ হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে।
যাহোক, গোসল ফরজ অবস্থায় সেহরি খাওয়ার পর রোজা রাখলে ইনশাআল্লাহ তা সহিহ হবে।
● ঘ. শরীর নাপাক অবস্থায় সেহরি খাওয়া জায়েজ হলেও ফজর সালাতের পূর্বে গোসল করা অত:পর যথাসময়ে ফজর সালাত আদায় করা আবশ্যক।
● ঙ. ফজরের পূর্বে গোসল না করা অত:পর যথাসময়ে ফজর সালাত আদায় না করা আল্লাহর বিধানকে অবহেলা করার শামিল ও কবিরা গুনাহ। শরিয়ত সম্মত কারণ ছাড়া সালাতকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদায় না করা কুফরি পর্যায়ের গুনাহ। এর জন্য আল্লাহর নিকট তওবা করতে হবে।
● চ. এভাবে অলসতা ও অবহেলা বশত: ফজরের পূর্বে ফরজ গোসল ও ফজর সালাত থেকে বিরত থাকা অত:পর দিনের বেলায় গোসল করার পর ফজর সালাত কাজা করলে সম্ভাবনা আছে, মহান আল্লাহ তা কবুল করবেন না। তবে দায়িত্ব পালনার্থে কাজা করা আবশ্যক। অর্থাৎ সওয়াব না হলেও কাজা করা আবশ্যক। কেননা তা তার কাঁধে অর্পিত ফরজ (অবশ্যপালনীয়) কর্তব্য।
আল্লাহ আমাদেরকে তার নাফরমানি ও ক্রোধ থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
#সংক্ষিপ্ত_প্রশ্নোত্তর
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল সৌদি আরব
#শেয়ার_করুন
©সিরাতাল মুস্তাকিম
27/04/2020
হস্তমৈথুন করা কবিরাহ গুনাহ ও হারাম কাজ এবং
হস্তমৈথুনের ক্ষতিকারক দিক সমুহ:
আল্লাহ তা’আলার দেয়া এ সুন্দর যৌবনকালটাকে ক্ষয় করার জন্য যে ব্যক্তি তার স্বীয় লিঙ্গের পিছনে লেগে যায় এবং নিজ হাত দিয়ে এটা চর্চা করায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তার এ হাত পরকালে সাক্ষী দেবে যে, সে এ পাপ কোথায় কতবার করেছে- যা পবিত্র কালামে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।
♦আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
“সেই দিন আমি তাদের মুখের উপর মোহর মেরে দেব, বরং তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে, আর তাদের পা সাক্ষ্য দেবে যা তারা অর্জন করত সে-সন্বন্ধে। ” -(আল- কুরআন, ৩৬:৬৫)।
★রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ
ল্প“ যে ব্যক্তি স্বীয় জিহ্বা এবং লজ্জাস্থান জামিন হবে আমি তার জাহান্নামের জন্যে জামিন হবো।” -(বুখারি, মিশকাত)।
→উক্ত হাদিস থেকে প্রমানিত হচ্ছে,
মানব দেহের এ দু’টো অঙ্গ অত্যন্ত দুর্বল ও বিপদজনক। এ দু’টো অঙ্গের মাধ্যমে বিশেষ করে লজ্জাস্থানের মাধ্যমে পাপ করাতে শয়তানের জন্য খুব সুবিধা। এ দু’টো অঙ্গের মাধ্যমে বেশীরভাগ পাপ হয়ে থাকে। যদি কোন ব্যক্তি এ দু’টো অঙ্গের হেফাজত করে, বিশেষ করে যুবক অবস্থায় লিঙ্গের হেফাজত করে অবয়িদ কোন প্রকারেই বীর্যপাত ঘটাতে চেষ্টা না করে তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশের বিরাট সুযোগ পেয়ে যাবে।
♦অন্যত্র সহীহ হাদীস থেকে আরও প্রমানিত হয়ঃ
“(একদা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যুবকদের লক্ষ্য করে বলেন) হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা রাখে, তাদের বিবাহ করা উচিত। কেননা বিবাহ দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। আর যে বিবাহের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা রাখে না, তার উচিত (কামভাব দমনের জন্য) রোযা রাখা।”
-(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত)।
♣রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেনঃ
“তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহ তা’আলা নিজের দায়িত্ব মনে করেন।
(১)ঐ খতদাতা ব্যক্তি, যে তার খতের মূল্য পরিশোধের চেষ্টা করে।
(২)সে বিবাহিত যুবক, যে চরিত্রের হিফাজতের উদ্দেশে বিবাহ করে।
(৩) সে মুজাহিদ, যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে।”
-(হাসানঃ আত-তিরমিযী, নাসায়ী,
ইবনু মাজাহ, মিশকাত)।
হস্তমৈথুন এমনই একটি কাজ যার অর্থ নিজেকে কলুষিত করা। এটা একটা জঘন্য কলুষ বা পাপ বোধযুক্ত কাজ। হস্তমৈথুন এমনই গোপনীইয় পাপ যা মানুষ চোরের মত চুপিসারে করে এবং প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করে।
♦রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেনঃ
“উত্তম চরিত্র হল পু্ন্য। আর যে কাজ তোমার মনে খটকা সৃষ্টি করে এবং লোকের কাছে প্রকাশ হওয়াকে তুমি পছন্দ কর না, তা হল পাপ।”
-(মুসলিম, মিশকাত)।
অশালীন, অশোভনীয় ও অন্যায় কাজে মনে সঙ্কোচবোধ করার নাম হলো লজ্জা বা হায়া। যার লজ্জা নেই সে পারে হস্তমৈথুনে লিপ্ত হতে।
লজ্জা বা হায়া সম্পর্কে ;
♣রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ
“লজ্জাশীলতা কল্যাণই বয়ে আনে । ” – [বুখারী ও মুসলিম]
→মুসলিমের এক বর্ণনায় এরূপ রয়েছেঃ “লজ্জাশীলতার পুরোটাই কল্যাণময়।
#ইসলামের_দৃষ্টিতে_হস্তমৈথুনের_ক্ষতিকারক_দিক_সমুহ:
ইসলামের দৃষ্টিতে এটা হারাম এবংকবীরা গুনাহ। শরীয়ত অনুযায়ী যারা হস্তমৈথুন করে তারা সীমালংগনকারী । শারীরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
পুরুষ হস্তমৈথুন করলে প্রধান যে্সব সমস্যায় ভুগতে পারে তার মধ্যে একটি হল
[১ ] পুরুষ হস্তমৈথুন করতে থাকলে সে
ধীরে ধীরে নপুংসক (Impotent) হয়ে
যায়। অর্থাৎ যৌন সংগম স্থাপন করতে
অক্ষম হয়ে যায় ।
[২] আরেকটি সমস্যা হল অকাল
বীর্যপাত। ফলে স্বামী তার স্ত্রীকে
সন্তুষ্ট করতে অক্ষম হয় । বৈবাহিক
সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয় না ।
[৩ ] অকাল বীর্যপাত হলে বীর্যে
শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যায় । তখন বীর্যে
শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ২০মিলিয়নের কম ।।
যার ফলে সন্তান জন্মদানে ব্যর্থতার
দেখা দেয় । (যে বীর্য বের হয় সে বীর্যে শুক্রাণুর
সংখ্যা হয় ৪২ কোটির মত ।
স্বাস্থ্যবিজ্ঞান মতে কোন পুরুষের থেকেযদি ২০ কোটির কম শুক্রাণু বের হয় তাহলে সে পুরুষ থেকে কোন সন্তান হয়না। )
[৪ ]অতিরিক্ত হস্তমৈথুন পুরুষে যৌনাঙ্গকে দুর্বল করে দেয় ।
Dr.Liu বলেন -
“There is a huge change in body
chemistry when one
masturbates excessively”
→আর শরীরের অন্যান্য যেসব ক্ষতি হয়-
১ ) Nervous system, heart, digestive
system, urinary system এবং আরো
অন্যান্য system ক্ষতিগ্রস্ত হয় । পুরো
শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং শরীর রোগ -
বালাইয়ের যাদুঘর হয়ে যায় ।
২ ) চোখের ক্ষতি হয় ।
৩ ) স্মরণ শক্তি কমে যায় ।
৪ ) মাথা ব্যথা হয় ইত্যাদি আরো অনেক
সমস্যা হয় হস্তমৈথুনের কারণে।
৫ ) আরেকটি সমস্যা হল Leakage of semen। অর্থাৎ সামান্য উত্তেজনায়
যৌনাঙ্গ থেকে তরল পদার্থ বের হয় । ফলে অনেক মুসলিম ভাই নামায পড়তে
পারেন না ।
মহান আল্লাহ্ তা’ আলার স্মরণ থেকে মুসলিমদের দূরে রাখে হস্তমৈথুন।♥রসূলুল্লাহ্ ( সঃ ) বলেছেন-
”যে ব্যক্তি আমাকে তার দুই চোয়ালের
মধ্যবর্তী জিনিস (জিহ্বার) এবং দুইপায়ের মধ্যবর্তী জিনিস (যৌনাঙ্গের)
নিশ্চয়তা (সঠিক ব্যবহারের) দেবে আমি তার বেহেশতের নিশ্চয়তা দিব।
(বুখারী ও মুসলিম)।
যৌন চাহিদা হচ্ছে ক্ষুধার মতো! ক্ষুধা লাগলে যেমন খাবার প্রয়োজন হয় , তেমনি নারী পুরুষ একটি নির্দিষ্ট বয়সে উপনীত হলে তাদের যৌন চাহিদা সৃষ্টি হয় ৷
এটা আল্লাহর একটি সৃষ্টি। তাই প্রতিটি ছেলে মেয়ের উপযুক্ত বয়সে বিবাহ হওয়াটাই শ্রেয়।
কিন্তু আমাদের সমাজে পড়াশোনার নামে , ক্যারিয়ার গড়ার নামে উপযুক্ত সময় থেকে অনেক পরে ছেলে-মেয়েদের বিবাহ দেয়া হয়।
ফলে যৌন চাহিদার বর্শবর্তি হয়ে যেনা ব্যভিচারে পা বাড়ায় যুবক যুবতীরা ৷
আর এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক ৷ কারণ আপনি যদি একটি বিড়াল পালেন , আর তাকে খেতে না দেন তাহলে সুযোগ পেলেই বিড়াল আপনার হাড়ির খাবার চুরি করবে ৷
অভিভাবকরা ইচ্ছে করেই ছেলেমেয়ের বিয়ে দেরীতে দিচ্ছে , সুতরাং যেনা তো হবেই ৷ আপনার মেয়ে অন্য ছেলের সাথে তো পালাবেই ৷ এটা আপনারই কর্মফল ৷
সরকারি বিধান মোতাবেকও যদি একজন নারীর বিয়ের বয়স ১৮ বছর এবং একজন পুরুষের বিয়ের বয়স ২১ বছর হয় তারপরও অনেক অভিভাবকেরা ছেলের বয়স নিয়ে গেছে ৩০/৩৫ এ এবং মেয়ের বয়স নিয়ে গেছে ২৫/২৮ এ ৷
অথচ ইসলামিক রাষ্ট্রে ছেলে মেয়েদের এত দেরীতে বিবাহ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই ৷
অভিভাবকের কাছে এখন বিবাহ হয়ে গেছে কঠিন তাই যেনা হয়েছে সহজ ৷
এর জন্য এই সমস্ত সহীহ দ্বীনহীন অভিভাবকরাই দায়ী!
আল্লাহ্ প্রতিজ্ঞাও করেছেন “ বিয়ে করলেই তোমাদের ধনী করে দিবো।”
তবুও মেয়ে বিয়ে দেয়ার সময় কেবলই চাকুরীজীবী ছেলে খোজাটা মূলত আল্লাহ্’র উপর অনির্ভরশীলতা’র ইঙ্গিত।
আমি তো মনে করি,
“একটা ভালো চাকুরী’র পূর্বশর্তই হচ্ছে “বিয়ে”।
কেননা, তখন তাকে রিজিক প্রদান করার দায়িত্ব স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা নিয়ে নেন।
পড়ুন সেই মহাপবিত্র আয়াতে কারীমা…
” ﻭﺃﻧﻜﺤﻮﺍ ﺍﻻﻳﺎﻣﻲ ﻣﻨﻜﻢ ﻭ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﻴﻦ ﻣﻦ ﻋﺒﺎﺩﻛﻢ ﻭ ﺇﻣﺎﺋﻜﻢ ﺇﻥ ﻳﻜﻮﻧﻮﺍ ﻓﻘﺮﺍﺀ ﻳﻐﻨﻬﻢ ﺍﻟﻠﻪ “
(তোমাদের মধ্য হতে যারা বিবাহহীন তাদের বিবাহ দিয়ে দাও এবং দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরকেও। তারা যদি নিঃস্বও হয়ে থাকেন তবে স্বয়ং আল্লাহ্ তাকে ধনী বানিয়ে দেবেন)
– সূরা নুর। আয়াতঃ ৩২।
অবশ্য উক্ত আয়াতে বিবাহহীনদের অবিভাবকদেরকেই আল্লাহ্ এ আদেশ করেছেন। কেননা আল্লাহ্ জানেন, অবিভাবকেরা কি সব চিন্তা করেন।
অবস্থা এমন দাড়িয়েছে যে কেউ বিয়ে করতে চাওয়া সামাজিকভাবে খারাপ চোখে দেখা হয়।
আমাদের সমাজে কেউ কারো বিয়ের কথা শুনলে মানুষ এতাটাই অবাক হয় যে অবৈধভাবে প্রেম ভালোবাসা যেনা করলেও এতোটা অবাক হয়না।
বিষয়টা এখন সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে গেছে,আগে মানুষ প্রেম ভালোবাসার কথা শুনলে অবাক হতো লজ্জা পেত, এখন তার বিপরীত।
এ কারণেই আজ আমাদের সমাজের এত অধঃপতন।
ছেলে বিয়ে করে মেয়েকে খাওয়াবে কি..!?
আপনার আরেকটা মেয়ে থাকলে তাকে খাওয়াতেন না? তাহলে সমাজকে পাপমুক্ত করার জন্যে নিজের মেয়েকে বিয়ে দিয়ে অন্যের ঘরে তুলে দিয়ে, ছেলেকে বিয়ে করিয়ে অন্যের মেয়েকে ঘরে তুলে নিজের মেয়ের এখনো বিয়ে হয়নি মনে করে অন্যের মেয়েকে খাওয়াতে অসুবিধা কোথায়??
শুধু প্রতিষ্ঠিত ছেলের সাথেই বিয়ে দিতে হবে এই চিন্তা কেন আসবে..?
প্রতিষ্ঠিত বলতে কি বুঝেন আপনি..?
ভুলে যাবেননা মানুষের ভাগ্য" হায়াত মউত এগুলো মানুষের হাতে থাকেনা কখনো বলেও আসেনা।
ধরুন,আজকে আপনি একজন ভালো চাকুরীজীবি প্রতিষ্ঠিত ছেলের সঙ্গে আপনার মেয়েকে বিয়ে দিলেন,দুর্ভাগ্যবশত বিয়ের পরে তার মৃত্যু হলে বা তার চাকুরী চলে গেলো তখন কি করবেন.?
তাই প্রতিষ্ঠিত নয়,একজন ভালো নামাজি দ্বীনদার ছেলে দেখেই বিয়ে দিন,এতে তারা সাময়িক কিছু করতে না পারলেও তাদের দ্বীনদারীত্বের কারনে আল্লাহর রহমত অবধারিত থাকবে, এবং ভাল একটা কিছুর ব্যবস্থা হবে ইনশাআল্লাহ ।
আর বদবখত,লম্পট, প্রতিষ্ঠিত ছেলে দেখে দিবেনতো বিয়ের পরে পস্তাতে হবে,যতই প্রতিষ্ঠিত হউক আল্লাহর রহমত না থাকলে গজব অবধারিত।
টাকা পয়সা মানুষ্কে সুখ শান্তি এনে দিতে পারেনা।
সুতরাং,আপনার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ছেলেকে বিয়ে করিয়ে সমাজের অসংখ্য ছেলেকে চারিত্রিক শুদ্ধতা নিয়ে বেড়ে উঠতে সহযোগিতা করুন।নিশ্চই এখন যে ছেলেটা বেকার সেই কয়দিন পর প্রতিষ্ঠিত হয়ে বিয়ে করবে। তখন কিন্তু তার চাহিদাও বেড়ে যাবে। প্রতিষ্ঠিত হয়েই যখন বিয়ে করতে হল, তখন ভাল দেখেই বিয়ে করি। তখন দেখা যায় এসকল আপুদের আর বিয়ে হয় না।আবার কোন কোন অবিভাবক লেখা-পড়া শেষ করার আগে বিয়ে দিতে চায়না,ফলে মেয়ের বয়স বেড়ে যায় প্লাস চেহারার লাবন্নতা নষ্ট হয়। বয়স্ক মেয়েকে কেউ বিয়ে করতে চায়না আরো যদি লাবন্নতা হ্রাস পায়,তাহলেতো কথায় নাই।তাই দেখা যায় অনেক আপুদের বিয়ে হচ্ছেনা বলে অবিভাবকদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।কয়েক বছর আগেও যে সকল প্রস্তাব নাকোচ করে দিয়েছি,এখন তাদের হয় বিয়ে হয়েছে তা নাহলে এখন আর তারা আগ্রহী নয়।তো আসুন সবাই বিয়েকে তথা হালালকে সহজ করি এবং প্রেম তথা হারামকে কঠিন করি।
ছেলে-মেয়েকে বিয়ে দিন সাবালক হলেই…
আপনি যদি বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার কলুষিত দিকগুলো দেখেন তার অধিকাংশের কারণ মূলত বিয়েতে দেরি করা। তা আপনি বুঝুন আর না-ই বুঝুন!
পিতা-মাতা তথা অভিভাবকদের জন্য দুটি দিকে খুবই দায়িত্ববান হওয়া দরকার। সন্তান লালন-পালনে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। সন্তানকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে। বিয়ের উপযুক্ত বয়স হলেই বিয়ে দিতে হবে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যার কোনো সন্তান জন্ম লাভ করে সে যেন তার সুন্দর নাম রাখে এবং তাকে উত্তম আদব-কায়দা শিক্ষা দেয়। যখন সে বালেগ হয় তখন যেন তার বিবাহ দেয়। যদি সে বালেগ হয় এবং তার বিবাহ না দেয় তাহলে সে কোনো পাপ করলে, সে পাপ তার পিতার উপর বর্তাবে।’ (বায়হাকী, মিশকাত হা/৩১৩৮)।
বিবাহের বয়স হওয়ার পর ছেলেমেয়ে যত ধরনের অবৈধ সম্পর্ক,যেনা ব্যভিচার করবে সেই পাপ ঐ ছেলেমেয়ের পিতার বা অভিবাকের হবে ।
অতএব,
আপনি ও আপনার সন্তানকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করতে ও সুন্দর সমাজ গড়তে
আপনার সন্তানকে সামর্থ্য থাকলে বিয়ে দিয়ে দেন তাড়াতাড়ি।
:
আল্লাহ বলেনঃ
চরিত্র রক্ষার জন্য যারা বিয়ে করবে তারা যদি অভাবি হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দিবেন। (সুরা নুর : ৩২)
মুফতী মাহমুদ উল্লাহ আতিকি দাঃবাঃ
#যৌনতা !
বাচার উপায়!
বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ মানুষের একটি
সহজাত প্রবৃত্তি।
হুজুর হলেই এই ফিতরাত হাওয়ায় মিশে যায় না।
স্বাভাবিকভাবেই মানুষের শারীরিক ও মানসিক যৌন চাহিদা
রয়েছে।
চারদিকে এত এত অশ্লীলতার মাঝে নিজের নজর,
লজ্জাস্থান, চরিত্র, আত্মিক পবিত্রতা ধরে রাখা
নিঃসন্দেহে বেশ কঠিন।
আল্লাহর রহমতে যাদের মধ্যে অল্পবিস্তর
দ্বীনের চর্চা আছে তাদের হয়তো আর দশজন
জাহিল ছেলেদের মত জিনা ব্যবিচার করে
বেড়ানো অত সহজ নয়।
কিন্তু চোখের হেফাজত, অন্তরের পবিত্রতা ধরে
রেখে ইবাদতের মাধুর্য অর্জন করা বেশ কষ্টসাধ্য
হয়ে যাচ্ছে দিন দিন।
অনেকেই বলবে আল্লাহর ভয় মনের মধ্যে
থাকলে পাপ করা সম্ভব নয়।
কথা অবশ্যই সত্য, কিন্তু এটা সবসময় প্র্যাক্টিক্যাল
সমাধান নয়।
তাকওয়া অবশ্যই একমাত্র সমাধান কিন্তু ব্যপারটা তো
এমন না যে একজন সারাদিন পাপ করে যাচ্ছে আর হঠাৎ
তার মধ্যে আল্লাহর ভয় এসে সব পাপ থেকে সে
বিরত হয়ে গেলো। তাই ফাহেশায় ভরপুর এই
সমাজে নিজের চারিত্রিক পবিত্রতা ধরে রাখতে হিমশিম
খাওয়া কাউকে তাকওয়ার প্রেসক্রিপশন দিয়ে দিলেই
সমাধান হয়ে যায় না, তাকওয়া কীভাবে অর্জিত হবে,
কীভাবে এসব ফাহেশাকে মোকাবেলা করতে
হবে তার কিছু প্র্যাক্টিক্যাল উপায় বাতলে দেওয়া
জরুরী।
বিয়ে নিঃসন্দেহে এই জাহিল সমাজে নিজের
চরিত্রের হেফাজত করে তাকওয়া অর্জনের এক
বরকতময় মাধ্যম।
কিন্তু সেটাও তো জাহিলিয়াতের এই সমাজে আর
সহজ থাকলো না।
আল্লাহ সবার জন্য সহজ করে দিন।
অবিবাহিত যারা অশ্লীলতা, ফাহেশায় ভরা পরিবেশের
কারণে চোখের হেফাজত, চারিত্রিক সততা ধরে
রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন তাদের জন্য আমার কাছে কিছু
উপদেশ আর কৌশল আছে। আশা করি উপকারে
আসবে,
১। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা।
এটা ধরে রাখতে হবে, কষ্ট করে হলেও।
কুরআনে আল্লাহ বলেছেন এই সালাত ফাহেশা কাজ
থেকে বিরত রাখে।
আল্লাহর এই ওয়াদার প্রতি ইয়াকিনের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত
সালাতের উপর লেগে থাকতে হবে। পাঁচ ওয়াক্ত
সালাতে পাঁচ বার ওজু করা, পাঁচ বার সালাতের জন্য তৈরি
হয়ে মসজিদের দিকে হেঁটে যাওয়া, পাঁচ বার
মসজিদে কাতারবদ্ধ হয়ে অনেকগুলো মানুষের
সাথে সালাতে দাঁড়ানো এই সবকিছুর মধ্যে একটা
পবিত্রতার ছোঁয়া আছে।
যদি শক্ত করে এই আমলটা ধরে রাখা যায় ইনশাআল্লাহ
আল্লাহ মনের ভেতর সবধরণের ফাহেশার বিরুদ্ধে
রক্ষাকবচ তৈরি করে দিবেন।
২। যদি নিজের কোন গোপন অশ্লীল কর্ম নিয়িমত
হয়ে থাকে আইডেনটিফাই করুন সেই পাপটা কখন
বেশী হচ্ছে।
যেমন ধরুন, হয়তো কাজটা হচ্ছে যখন বাসায় কেউ
থাকে না, যখন আপনি স্ফেসিফিক কিছু বন্ধুদের সাথে
থাকেন, যখন কোন স্ফেসিফিক জায়গায় যান তখন।
এবার সেই সময়, সেই মানুষগুলো আর সেই স্থান
আইডেনটিফাই হয়ে গেলে চোখ বন্ধ করে
তাদেরকে বর্জন করুন।
কষ্ট হলেও, যেভাবেই হোক বর্জন করুন। মিনিমাম
এক মাস এটা করে দেখুন, ফল পাবেন। সেই
বন্ধুদের কাছে যাবেন না, ঐসব জায়গায় ভুলেও
যাবেন না।
৩। নিজেকে সবসময় ব্যস্ত রাখুন। অলস সময়
কাটাবেন না।
অলস পড়ে থাকলে নানান খারাপ চিন্তা এসে ভর
করবে।
সবসময় কুরআন, হাদীস, ইসলামিক পড়াশোনা করতে
পারবেন এমন না।
খেলাধুলা করবেন, রান্না বান্না করবেন, নিজের
কোন ক্রিয়েটিভ স্কিল থাকলে সেখানে সময়
দিবেন।
মোটকথা কোনোভাবেই নিজেকে একা
অলসভাবে থাকতে দেওয়া যাবে না।
৪। দাড়ি, টুপি, ইসলামিক লেবাসে থাকবেন সবসময়।
এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকরী উপায় খারাপ কাজ
থেকে বিরত থাকার।
এটা ধরে রাখতে পারলে কোন মেয়ের দিকে
তাকাতে আপনার নিজেরই অস্বস্তি লাগবে, খারাপ কিছু
দেখা, খারাপ কথা বলা, খারাপ জায়গায় যাওয়া এমনিতেই বন্ধ
হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
তাকওয়ার কারণে না হলেও লোকচক্ষুর ভয়ে
হলেও আপনি কোন ফাহেশা কাজ করতে পারবেন
না।
ইনশাআল্লাহ এই লোকচক্ষুর ভয়-ই একদিন আল্লাহর
ভয়ে রুপ নিবে।
৫। এই সময়ে ফাহেশার অন্যতম মাধ্যম ফেসবুক,
টেলিভিশন, ইউটিউব, ইন্টারনেট এসব।
কোন আহামরি গুরুত্বপূর্ণ দরকার না থাকলে এসব
থেকে একেবারেই বিরত থাকা সবচেয়ে উত্তম।
কিন্তু জানি এই কাজ হাতে গোণা দু'একজন ছাড়া সম্ভব
নয়। এক্ষেত্রে কিছু পন্থা অবলম্বন করা যায়
-ফেসবুক, ইউটিউবে এড ব্লক ইউজ করা। ছবি ছাড়া
ফেসবুক ইউজ করা।
-এমার্জেন্সি না হলে স্মার্টফোন ইউজ না করা। এখন
তো আবার ইসলামিক এপের জয়জয়কার, অনেকেই
বলবেন স্মার্টফোন তো তাদের অনেক উপকার
করে।
সেক্ষেত্রে স্মার্টফোনে সিম, ইনটারনেট
সংযোগ বন্ধ রাখতে পারেন।
৬। যারা একা রুমে থাকেন তারা রুমে ইন্টারনেট
রাখবেন না।
অর্থাৎ ইন্টারনেটের লাইন এভাবে থাকবে না যে,
আপনি একা একা গোপনে ব্যবহার করতে পারেন।
ওয়াইফাই রাউটার রাখা যাবে না, ব্রডব্যান্ড ইউজ করলে
সংযোগ এভাবে থাকতে হবে যেখানে আপনি একা
গোপনে ইউজ করতে পারবেন না।
পিসির মনিটর এভাবে সেট করুন যাতে বাসার অন্যদের
চোখে পড়ে।
৭। জররী কারণ ছাড়া পত্রিকা, ম্যাগাজিন এসব পড়ার
কোনই দরকার নেই।
৮। দ্বীনি পড়াশোনা ইন্টারনেট বেইজড করবেন
না। গুগলিং, এই সাইট ঐ সাইট ঘাঁটাঘাঁটির মাঝে নানান উল্টা
পালটা জিনিসও চলে আসে, নফসের ধোঁকায় দু'একটা
উল্টা পাল্টা সাইটে ঢুকেও পড়তে পারেন।
৯। যারা নিয়মিত ফেসবুক ইউজ করেন তারা বাছাইকৃত কিছু
ব্যক্তি, পেজ, এসবে see first দিয়ে বাকী
সবাইকে আনফলো করে দিতে পারেন।
হুদাই হোমপেজ স্ক্রল করতে থাকবেন না।
এতে নানান আজেবাজে জিনিসপত্রও চোখ চলে
যায়।
১০। দ্বীনের উপর আছে এমন ভাইদের সাথে
বেশী বেশী সময় কাটান।
১১। প্রচুর বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সবসময় জটিল
একাডেমিক দ্বীনি বই পড়তে হবে এমন না।
মাঝে মাঝে হালকা মেজাজের কিংবা সেকুলার কিছু বই
পত্রও পড়তে পারেন।
১২। যারা স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে আছে তারা
ক্লাসে এমনভাবে বসবেন না যেখান থেকে
সহজে মেয়েদের দিকে চোখ পড়বে। যেমন
মেয়েদের পেছনে বসবেন না।
একদম সামনের বেঞ্চে বসতে পারলে
সবচেয়ে ভালো।
অবশ্য সেক্ষেত্রে টিচার অল্পবয়সী ম্যাডাম
হলে আরেক সমস্যা।
মোট কথা এমন আসন বাছাই করুন যেখান থেকে
সহজেই মেয়েদের দিকে চোখ যাবে না।
১৩। প্রতি রাতে কিছু নফল ইবাদাত করা। একেবারে
অল্প হলেও।
দু'রাকাত সালাত হলেও। এবং এটা ধারাবাহিকভাবে করা।
সকাল সন্ধ্যার জিকির ও দু'আগুলো যতটুকু সম্ভব করার
চেষ্টা করা। প্রতিদিন কিছু কুরআন তিলাওয়াত করা, বিশেষ
করে ফজরের পর। এবং এটাকে নিত্য অভ্যাসে
পরিণত করা। মানুষের অন্তরের উপর এগুলোর
ভীষণ প্রভাব। এগুলো প্রতিদিন একটু একটু করে
মানুষের অন্তরকে পরিষ্কার করে।
১৪। সবসময়, সর্বাবস্থায় আল্লাহর কাছে দু'আ করা।
আমরা তো অসহায়, নাদান বান্দা। নিজেকে হেফাজত
করার শক্তি তো আমাদের নেই। তাই মহান রবের
কাছে আশ্রয় চাওয়া। বিশেষ করে দু'আ কবুল হওয়ার
যে সময়গুলো আছে সেই সময়গুলোতে
নিজের ঈমান, আমল, চোখের হেফাজত, ফাহেশা
কাজ থেকে হেফাজতে থাকার জন্য বেশী
বেশী দু'আ করা।
১৫। কোন পাপ হয়ে গেলে সাথে সাথে দুই রাকাত
সালাত আদায় করে তাওবা করা। প্রতিদিন আল্লাহর কাছে
ইস্তিগফার করা।
যারা নিয়িমিত পাপাচারে লিপ্ত থাকে শয়তান একটা সময়
তাদেরকে ধোঁকা দেয় এই বলে যে, "তুমি পাপও
করছো আবার তাওবাও করছো, আল্লাহর সাথে
তো মজাক করছো।
বরং তুমি যতদিন পাপে লিপ্ত আছো ততদিন তাওবা করার
দরকার নেই। আগে পাপটা পুরোপুরি ছেড়ে দাও,
তারপর খালেস দিলে তাওবা করে নিবে।"
শয়তানের এই ধোঁকায় পা দেওয়া যাবে না। প্রতিদিন
যত পাপই করেন, যত অশ্লীল কাজে লিপ্ত থাকেন
না কেন, দুই রাক'আত সালাত আদায় করে আল্লাহর
কাছে তাওবা করার এই আমলটা কখনো বন্ধ করবেন
না। কখনো না।
আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন।
যদি এখান থেকে কেউ উপকৃত হয়ে থাকেন দয়া
করে আমার জন্য দু'আ করবেন আল্লাহ যেন এর
বিনিময়ে আমাকে মাফ করে দেন।
এফ জেট ইমরান
#শেয়ার_করুন
মূলপোস্ট: https://www.facebook.com/siratalmustakim123/