27/04/2020
হস্তমৈথুন করা কবিরাহ গুনাহ ও হারাম কাজ এবং
হস্তমৈথুনের ক্ষতিকারক দিক সমুহ:
আল্লাহ তা’আলার দেয়া এ সুন্দর যৌবনকালটাকে ক্ষয় করার জন্য যে ব্যক্তি তার স্বীয় লিঙ্গের পিছনে লেগে যায় এবং নিজ হাত দিয়ে এটা চর্চা করায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তার এ হাত পরকালে সাক্ষী দেবে যে, সে এ পাপ কোথায় কতবার করেছে- যা পবিত্র কালামে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।
♦আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
“সেই দিন আমি তাদের মুখের উপর মোহর মেরে দেব, বরং তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে, আর তাদের পা সাক্ষ্য দেবে যা তারা অর্জন করত সে-সন্বন্ধে। ” -(আল- কুরআন, ৩৬:৬৫)।
★রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ
ল্প“ যে ব্যক্তি স্বীয় জিহ্বা এবং লজ্জাস্থান জামিন হবে আমি তার জাহান্নামের জন্যে জামিন হবো।” -(বুখারি, মিশকাত)।
→উক্ত হাদিস থেকে প্রমানিত হচ্ছে,
মানব দেহের এ দু’টো অঙ্গ অত্যন্ত দুর্বল ও বিপদজনক। এ দু’টো অঙ্গের মাধ্যমে বিশেষ করে লজ্জাস্থানের মাধ্যমে পাপ করাতে শয়তানের জন্য খুব সুবিধা। এ দু’টো অঙ্গের মাধ্যমে বেশীরভাগ পাপ হয়ে থাকে। যদি কোন ব্যক্তি এ দু’টো অঙ্গের হেফাজত করে, বিশেষ করে যুবক অবস্থায় লিঙ্গের হেফাজত করে অবয়িদ কোন প্রকারেই বীর্যপাত ঘটাতে চেষ্টা না করে তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশের বিরাট সুযোগ পেয়ে যাবে।
♦অন্যত্র সহীহ হাদীস থেকে আরও প্রমানিত হয়ঃ
“(একদা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যুবকদের লক্ষ্য করে বলেন) হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা রাখে, তাদের বিবাহ করা উচিত। কেননা বিবাহ দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। আর যে বিবাহের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা রাখে না, তার উচিত (কামভাব দমনের জন্য) রোযা রাখা।”
-(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত)।
♣রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেনঃ
“তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহ তা’আলা নিজের দায়িত্ব মনে করেন।
(১)ঐ খতদাতা ব্যক্তি, যে তার খতের মূল্য পরিশোধের চেষ্টা করে।
(২)সে বিবাহিত যুবক, যে চরিত্রের হিফাজতের উদ্দেশে বিবাহ করে।
(৩) সে মুজাহিদ, যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে।”
-(হাসানঃ আত-তিরমিযী, নাসায়ী,
ইবনু মাজাহ, মিশকাত)।
হস্তমৈথুন এমনই একটি কাজ যার অর্থ নিজেকে কলুষিত করা। এটা একটা জঘন্য কলুষ বা পাপ বোধযুক্ত কাজ। হস্তমৈথুন এমনই গোপনীইয় পাপ যা মানুষ চোরের মত চুপিসারে করে এবং প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করে।
♦রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেনঃ
“উত্তম চরিত্র হল পু্ন্য। আর যে কাজ তোমার মনে খটকা সৃষ্টি করে এবং লোকের কাছে প্রকাশ হওয়াকে তুমি পছন্দ কর না, তা হল পাপ।”
-(মুসলিম, মিশকাত)।
অশালীন, অশোভনীয় ও অন্যায় কাজে মনে সঙ্কোচবোধ করার নাম হলো লজ্জা বা হায়া। যার লজ্জা নেই সে পারে হস্তমৈথুনে লিপ্ত হতে।
লজ্জা বা হায়া সম্পর্কে ;
♣রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ
“লজ্জাশীলতা কল্যাণই বয়ে আনে । ” – [বুখারী ও মুসলিম]
→মুসলিমের এক বর্ণনায় এরূপ রয়েছেঃ “লজ্জাশীলতার পুরোটাই কল্যাণময়।
#ইসলামের_দৃষ্টিতে_হস্তমৈথুনের_ক্ষতিকারক_দিক_সমুহ:
ইসলামের দৃষ্টিতে এটা হারাম এবংকবীরা গুনাহ। শরীয়ত অনুযায়ী যারা হস্তমৈথুন করে তারা সীমালংগনকারী । শারীরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
পুরুষ হস্তমৈথুন করলে প্রধান যে্সব সমস্যায় ভুগতে পারে তার মধ্যে একটি হল
[১ ] পুরুষ হস্তমৈথুন করতে থাকলে সে
ধীরে ধীরে নপুংসক (Impotent) হয়ে
যায়। অর্থাৎ যৌন সংগম স্থাপন করতে
অক্ষম হয়ে যায় ।
[২] আরেকটি সমস্যা হল অকাল
বীর্যপাত। ফলে স্বামী তার স্ত্রীকে
সন্তুষ্ট করতে অক্ষম হয় । বৈবাহিক
সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয় না ।
[৩ ] অকাল বীর্যপাত হলে বীর্যে
শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যায় । তখন বীর্যে
শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ২০মিলিয়নের কম ।।
যার ফলে সন্তান জন্মদানে ব্যর্থতার
দেখা দেয় । (যে বীর্য বের হয় সে বীর্যে শুক্রাণুর
সংখ্যা হয় ৪২ কোটির মত ।
স্বাস্থ্যবিজ্ঞান মতে কোন পুরুষের থেকেযদি ২০ কোটির কম শুক্রাণু বের হয় তাহলে সে পুরুষ থেকে কোন সন্তান হয়না। )
[৪ ]অতিরিক্ত হস্তমৈথুন পুরুষে যৌনাঙ্গকে দুর্বল করে দেয় ।
Dr.Liu বলেন -
“There is a huge change in body
chemistry when one
masturbates excessively”
→আর শরীরের অন্যান্য যেসব ক্ষতি হয়-
১ ) Nervous system, heart, digestive
system, urinary system এবং আরো
অন্যান্য system ক্ষতিগ্রস্ত হয় । পুরো
শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং শরীর রোগ -
বালাইয়ের যাদুঘর হয়ে যায় ।
২ ) চোখের ক্ষতি হয় ।
৩ ) স্মরণ শক্তি কমে যায় ।
৪ ) মাথা ব্যথা হয় ইত্যাদি আরো অনেক
সমস্যা হয় হস্তমৈথুনের কারণে।
৫ ) আরেকটি সমস্যা হল Leakage of semen। অর্থাৎ সামান্য উত্তেজনায়
যৌনাঙ্গ থেকে তরল পদার্থ বের হয় । ফলে অনেক মুসলিম ভাই নামায পড়তে
পারেন না ।
মহান আল্লাহ্ তা’ আলার স্মরণ থেকে মুসলিমদের দূরে রাখে হস্তমৈথুন।♥রসূলুল্লাহ্ ( সঃ ) বলেছেন-
”যে ব্যক্তি আমাকে তার দুই চোয়ালের
মধ্যবর্তী জিনিস (জিহ্বার) এবং দুইপায়ের মধ্যবর্তী জিনিস (যৌনাঙ্গের)
নিশ্চয়তা (সঠিক ব্যবহারের) দেবে আমি তার বেহেশতের নিশ্চয়তা দিব।
(বুখারী ও মুসলিম)।
যৌন চাহিদা হচ্ছে ক্ষুধার মতো! ক্ষুধা লাগলে যেমন খাবার প্রয়োজন হয় , তেমনি নারী পুরুষ একটি নির্দিষ্ট বয়সে উপনীত হলে তাদের যৌন চাহিদা সৃষ্টি হয় ৷
এটা আল্লাহর একটি সৃষ্টি। তাই প্রতিটি ছেলে মেয়ের উপযুক্ত বয়সে বিবাহ হওয়াটাই শ্রেয়।
কিন্তু আমাদের সমাজে পড়াশোনার নামে , ক্যারিয়ার গড়ার নামে উপযুক্ত সময় থেকে অনেক পরে ছেলে-মেয়েদের বিবাহ দেয়া হয়।
ফলে যৌন চাহিদার বর্শবর্তি হয়ে যেনা ব্যভিচারে পা বাড়ায় যুবক যুবতীরা ৷
আর এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক ৷ কারণ আপনি যদি একটি বিড়াল পালেন , আর তাকে খেতে না দেন তাহলে সুযোগ পেলেই বিড়াল আপনার হাড়ির খাবার চুরি করবে ৷
অভিভাবকরা ইচ্ছে করেই ছেলেমেয়ের বিয়ে দেরীতে দিচ্ছে , সুতরাং যেনা তো হবেই ৷ আপনার মেয়ে অন্য ছেলের সাথে তো পালাবেই ৷ এটা আপনারই কর্মফল ৷
সরকারি বিধান মোতাবেকও যদি একজন নারীর বিয়ের বয়স ১৮ বছর এবং একজন পুরুষের বিয়ের বয়স ২১ বছর হয় তারপরও অনেক অভিভাবকেরা ছেলের বয়স নিয়ে গেছে ৩০/৩৫ এ এবং মেয়ের বয়স নিয়ে গেছে ২৫/২৮ এ ৷
অথচ ইসলামিক রাষ্ট্রে ছেলে মেয়েদের এত দেরীতে বিবাহ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই ৷
অভিভাবকের কাছে এখন বিবাহ হয়ে গেছে কঠিন তাই যেনা হয়েছে সহজ ৷
এর জন্য এই সমস্ত সহীহ দ্বীনহীন অভিভাবকরাই দায়ী!
আল্লাহ্ প্রতিজ্ঞাও করেছেন “ বিয়ে করলেই তোমাদের ধনী করে দিবো।”
তবুও মেয়ে বিয়ে দেয়ার সময় কেবলই চাকুরীজীবী ছেলে খোজাটা মূলত আল্লাহ্’র উপর অনির্ভরশীলতা’র ইঙ্গিত।
আমি তো মনে করি,
“একটা ভালো চাকুরী’র পূর্বশর্তই হচ্ছে “বিয়ে”।
কেননা, তখন তাকে রিজিক প্রদান করার দায়িত্ব স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা নিয়ে নেন।
পড়ুন সেই মহাপবিত্র আয়াতে কারীমা…
” ﻭﺃﻧﻜﺤﻮﺍ ﺍﻻﻳﺎﻣﻲ ﻣﻨﻜﻢ ﻭ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﻴﻦ ﻣﻦ ﻋﺒﺎﺩﻛﻢ ﻭ ﺇﻣﺎﺋﻜﻢ ﺇﻥ ﻳﻜﻮﻧﻮﺍ ﻓﻘﺮﺍﺀ ﻳﻐﻨﻬﻢ ﺍﻟﻠﻪ “
(তোমাদের মধ্য হতে যারা বিবাহহীন তাদের বিবাহ দিয়ে দাও এবং দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরকেও। তারা যদি নিঃস্বও হয়ে থাকেন তবে স্বয়ং আল্লাহ্ তাকে ধনী বানিয়ে দেবেন)
– সূরা নুর। আয়াতঃ ৩২।
অবশ্য উক্ত আয়াতে বিবাহহীনদের অবিভাবকদেরকেই আল্লাহ্ এ আদেশ করেছেন। কেননা আল্লাহ্ জানেন, অবিভাবকেরা কি সব চিন্তা করেন।
অবস্থা এমন দাড়িয়েছে যে কেউ বিয়ে করতে চাওয়া সামাজিকভাবে খারাপ চোখে দেখা হয়।
আমাদের সমাজে কেউ কারো বিয়ের কথা শুনলে মানুষ এতাটাই অবাক হয় যে অবৈধভাবে প্রেম ভালোবাসা যেনা করলেও এতোটা অবাক হয়না।
বিষয়টা এখন সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে গেছে,আগে মানুষ প্রেম ভালোবাসার কথা শুনলে অবাক হতো লজ্জা পেত, এখন তার বিপরীত।
এ কারণেই আজ আমাদের সমাজের এত অধঃপতন।
ছেলে বিয়ে করে মেয়েকে খাওয়াবে কি..!?
আপনার আরেকটা মেয়ে থাকলে তাকে খাওয়াতেন না? তাহলে সমাজকে পাপমুক্ত করার জন্যে নিজের মেয়েকে বিয়ে দিয়ে অন্যের ঘরে তুলে দিয়ে, ছেলেকে বিয়ে করিয়ে অন্যের মেয়েকে ঘরে তুলে নিজের মেয়ের এখনো বিয়ে হয়নি মনে করে অন্যের মেয়েকে খাওয়াতে অসুবিধা কোথায়??
শুধু প্রতিষ্ঠিত ছেলের সাথেই বিয়ে দিতে হবে এই চিন্তা কেন আসবে..?
প্রতিষ্ঠিত বলতে কি বুঝেন আপনি..?
ভুলে যাবেননা মানুষের ভাগ্য" হায়াত মউত এগুলো মানুষের হাতে থাকেনা কখনো বলেও আসেনা।
ধরুন,আজকে আপনি একজন ভালো চাকুরীজীবি প্রতিষ্ঠিত ছেলের সঙ্গে আপনার মেয়েকে বিয়ে দিলেন,দুর্ভাগ্যবশত বিয়ের পরে তার মৃত্যু হলে বা তার চাকুরী চলে গেলো তখন কি করবেন.?
তাই প্রতিষ্ঠিত নয়,একজন ভালো নামাজি দ্বীনদার ছেলে দেখেই বিয়ে দিন,এতে তারা সাময়িক কিছু করতে না পারলেও তাদের দ্বীনদারীত্বের কারনে আল্লাহর রহমত অবধারিত থাকবে, এবং ভাল একটা কিছুর ব্যবস্থা হবে ইনশাআল্লাহ ।
আর বদবখত,লম্পট, প্রতিষ্ঠিত ছেলে দেখে দিবেনতো বিয়ের পরে পস্তাতে হবে,যতই প্রতিষ্ঠিত হউক আল্লাহর রহমত না থাকলে গজব অবধারিত।
টাকা পয়সা মানুষ্কে সুখ শান্তি এনে দিতে পারেনা।
সুতরাং,আপনার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ছেলেকে বিয়ে করিয়ে সমাজের অসংখ্য ছেলেকে চারিত্রিক শুদ্ধতা নিয়ে বেড়ে উঠতে সহযোগিতা করুন।নিশ্চই এখন যে ছেলেটা বেকার সেই কয়দিন পর প্রতিষ্ঠিত হয়ে বিয়ে করবে। তখন কিন্তু তার চাহিদাও বেড়ে যাবে। প্রতিষ্ঠিত হয়েই যখন বিয়ে করতে হল, তখন ভাল দেখেই বিয়ে করি। তখন দেখা যায় এসকল আপুদের আর বিয়ে হয় না।আবার কোন কোন অবিভাবক লেখা-পড়া শেষ করার আগে বিয়ে দিতে চায়না,ফলে মেয়ের বয়স বেড়ে যায় প্লাস চেহারার লাবন্নতা নষ্ট হয়। বয়স্ক মেয়েকে কেউ বিয়ে করতে চায়না আরো যদি লাবন্নতা হ্রাস পায়,তাহলেতো কথায় নাই।তাই দেখা যায় অনেক আপুদের বিয়ে হচ্ছেনা বলে অবিভাবকদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।কয়েক বছর আগেও যে সকল প্রস্তাব নাকোচ করে দিয়েছি,এখন তাদের হয় বিয়ে হয়েছে তা নাহলে এখন আর তারা আগ্রহী নয়।তো আসুন সবাই বিয়েকে তথা হালালকে সহজ করি এবং প্রেম তথা হারামকে কঠিন করি।
ছেলে-মেয়েকে বিয়ে দিন সাবালক হলেই…
আপনি যদি বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার কলুষিত দিকগুলো দেখেন তার অধিকাংশের কারণ মূলত বিয়েতে দেরি করা। তা আপনি বুঝুন আর না-ই বুঝুন!
পিতা-মাতা তথা অভিভাবকদের জন্য দুটি দিকে খুবই দায়িত্ববান হওয়া দরকার। সন্তান লালন-পালনে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। সন্তানকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে। বিয়ের উপযুক্ত বয়স হলেই বিয়ে দিতে হবে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যার কোনো সন্তান জন্ম লাভ করে সে যেন তার সুন্দর নাম রাখে এবং তাকে উত্তম আদব-কায়দা শিক্ষা দেয়। যখন সে বালেগ হয় তখন যেন তার বিবাহ দেয়। যদি সে বালেগ হয় এবং তার বিবাহ না দেয় তাহলে সে কোনো পাপ করলে, সে পাপ তার পিতার উপর বর্তাবে।’ (বায়হাকী, মিশকাত হা/৩১৩৮)।
বিবাহের বয়স হওয়ার পর ছেলেমেয়ে যত ধরনের অবৈধ সম্পর্ক,যেনা ব্যভিচার করবে সেই পাপ ঐ ছেলেমেয়ের পিতার বা অভিবাকের হবে ।
অতএব,
আপনি ও আপনার সন্তানকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করতে ও সুন্দর সমাজ গড়তে
আপনার সন্তানকে সামর্থ্য থাকলে বিয়ে দিয়ে দেন তাড়াতাড়ি।
:
আল্লাহ বলেনঃ
চরিত্র রক্ষার জন্য যারা বিয়ে করবে তারা যদি অভাবি হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দিবেন। (সুরা নুর : ৩২)
মুফতী মাহমুদ উল্লাহ আতিকি দাঃবাঃ
#যৌনতা !
বাচার উপায়!
বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ মানুষের একটি
সহজাত প্রবৃত্তি।
হুজুর হলেই এই ফিতরাত হাওয়ায় মিশে যায় না।
স্বাভাবিকভাবেই মানুষের শারীরিক ও মানসিক যৌন চাহিদা
রয়েছে।
চারদিকে এত এত অশ্লীলতার মাঝে নিজের নজর,
লজ্জাস্থান, চরিত্র, আত্মিক পবিত্রতা ধরে রাখা
নিঃসন্দেহে বেশ কঠিন।
আল্লাহর রহমতে যাদের মধ্যে অল্পবিস্তর
দ্বীনের চর্চা আছে তাদের হয়তো আর দশজন
জাহিল ছেলেদের মত জিনা ব্যবিচার করে
বেড়ানো অত সহজ নয়।
কিন্তু চোখের হেফাজত, অন্তরের পবিত্রতা ধরে
রেখে ইবাদতের মাধুর্য অর্জন করা বেশ কষ্টসাধ্য
হয়ে যাচ্ছে দিন দিন।
অনেকেই বলবে আল্লাহর ভয় মনের মধ্যে
থাকলে পাপ করা সম্ভব নয়।
কথা অবশ্যই সত্য, কিন্তু এটা সবসময় প্র্যাক্টিক্যাল
সমাধান নয়।
তাকওয়া অবশ্যই একমাত্র সমাধান কিন্তু ব্যপারটা তো
এমন না যে একজন সারাদিন পাপ করে যাচ্ছে আর হঠাৎ
তার মধ্যে আল্লাহর ভয় এসে সব পাপ থেকে সে
বিরত হয়ে গেলো। তাই ফাহেশায় ভরপুর এই
সমাজে নিজের চারিত্রিক পবিত্রতা ধরে রাখতে হিমশিম
খাওয়া কাউকে তাকওয়ার প্রেসক্রিপশন দিয়ে দিলেই
সমাধান হয়ে যায় না, তাকওয়া কীভাবে অর্জিত হবে,
কীভাবে এসব ফাহেশাকে মোকাবেলা করতে
হবে তার কিছু প্র্যাক্টিক্যাল উপায় বাতলে দেওয়া
জরুরী।
বিয়ে নিঃসন্দেহে এই জাহিল সমাজে নিজের
চরিত্রের হেফাজত করে তাকওয়া অর্জনের এক
বরকতময় মাধ্যম।
কিন্তু সেটাও তো জাহিলিয়াতের এই সমাজে আর
সহজ থাকলো না।
আল্লাহ সবার জন্য সহজ করে দিন।
অবিবাহিত যারা অশ্লীলতা, ফাহেশায় ভরা পরিবেশের
কারণে চোখের হেফাজত, চারিত্রিক সততা ধরে
রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন তাদের জন্য আমার কাছে কিছু
উপদেশ আর কৌশল আছে। আশা করি উপকারে
আসবে,
১। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা।
এটা ধরে রাখতে হবে, কষ্ট করে হলেও।
কুরআনে আল্লাহ বলেছেন এই সালাত ফাহেশা কাজ
থেকে বিরত রাখে।
আল্লাহর এই ওয়াদার প্রতি ইয়াকিনের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত
সালাতের উপর লেগে থাকতে হবে। পাঁচ ওয়াক্ত
সালাতে পাঁচ বার ওজু করা, পাঁচ বার সালাতের জন্য তৈরি
হয়ে মসজিদের দিকে হেঁটে যাওয়া, পাঁচ বার
মসজিদে কাতারবদ্ধ হয়ে অনেকগুলো মানুষের
সাথে সালাতে দাঁড়ানো এই সবকিছুর মধ্যে একটা
পবিত্রতার ছোঁয়া আছে।
যদি শক্ত করে এই আমলটা ধরে রাখা যায় ইনশাআল্লাহ
আল্লাহ মনের ভেতর সবধরণের ফাহেশার বিরুদ্ধে
রক্ষাকবচ তৈরি করে দিবেন।
২। যদি নিজের কোন গোপন অশ্লীল কর্ম নিয়িমত
হয়ে থাকে আইডেনটিফাই করুন সেই পাপটা কখন
বেশী হচ্ছে।
যেমন ধরুন, হয়তো কাজটা হচ্ছে যখন বাসায় কেউ
থাকে না, যখন আপনি স্ফেসিফিক কিছু বন্ধুদের সাথে
থাকেন, যখন কোন স্ফেসিফিক জায়গায় যান তখন।
এবার সেই সময়, সেই মানুষগুলো আর সেই স্থান
আইডেনটিফাই হয়ে গেলে চোখ বন্ধ করে
তাদেরকে বর্জন করুন।
কষ্ট হলেও, যেভাবেই হোক বর্জন করুন। মিনিমাম
এক মাস এটা করে দেখুন, ফল পাবেন। সেই
বন্ধুদের কাছে যাবেন না, ঐসব জায়গায় ভুলেও
যাবেন না।
৩। নিজেকে সবসময় ব্যস্ত রাখুন। অলস সময়
কাটাবেন না।
অলস পড়ে থাকলে নানান খারাপ চিন্তা এসে ভর
করবে।
সবসময় কুরআন, হাদীস, ইসলামিক পড়াশোনা করতে
পারবেন এমন না।
খেলাধুলা করবেন, রান্না বান্না করবেন, নিজের
কোন ক্রিয়েটিভ স্কিল থাকলে সেখানে সময়
দিবেন।
মোটকথা কোনোভাবেই নিজেকে একা
অলসভাবে থাকতে দেওয়া যাবে না।
৪। দাড়ি, টুপি, ইসলামিক লেবাসে থাকবেন সবসময়।
এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকরী উপায় খারাপ কাজ
থেকে বিরত থাকার।
এটা ধরে রাখতে পারলে কোন মেয়ের দিকে
তাকাতে আপনার নিজেরই অস্বস্তি লাগবে, খারাপ কিছু
দেখা, খারাপ কথা বলা, খারাপ জায়গায় যাওয়া এমনিতেই বন্ধ
হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
তাকওয়ার কারণে না হলেও লোকচক্ষুর ভয়ে
হলেও আপনি কোন ফাহেশা কাজ করতে পারবেন
না।
ইনশাআল্লাহ এই লোকচক্ষুর ভয়-ই একদিন আল্লাহর
ভয়ে রুপ নিবে।
৫। এই সময়ে ফাহেশার অন্যতম মাধ্যম ফেসবুক,
টেলিভিশন, ইউটিউব, ইন্টারনেট এসব।
কোন আহামরি গুরুত্বপূর্ণ দরকার না থাকলে এসব
থেকে একেবারেই বিরত থাকা সবচেয়ে উত্তম।
কিন্তু জানি এই কাজ হাতে গোণা দু'একজন ছাড়া সম্ভব
নয়। এক্ষেত্রে কিছু পন্থা অবলম্বন করা যায়
-ফেসবুক, ইউটিউবে এড ব্লক ইউজ করা। ছবি ছাড়া
ফেসবুক ইউজ করা।
-এমার্জেন্সি না হলে স্মার্টফোন ইউজ না করা। এখন
তো আবার ইসলামিক এপের জয়জয়কার, অনেকেই
বলবেন স্মার্টফোন তো তাদের অনেক উপকার
করে।
সেক্ষেত্রে স্মার্টফোনে সিম, ইনটারনেট
সংযোগ বন্ধ রাখতে পারেন।
৬। যারা একা রুমে থাকেন তারা রুমে ইন্টারনেট
রাখবেন না।
অর্থাৎ ইন্টারনেটের লাইন এভাবে থাকবে না যে,
আপনি একা একা গোপনে ব্যবহার করতে পারেন।
ওয়াইফাই রাউটার রাখা যাবে না, ব্রডব্যান্ড ইউজ করলে
সংযোগ এভাবে থাকতে হবে যেখানে আপনি একা
গোপনে ইউজ করতে পারবেন না।
পিসির মনিটর এভাবে সেট করুন যাতে বাসার অন্যদের
চোখে পড়ে।
৭। জররী কারণ ছাড়া পত্রিকা, ম্যাগাজিন এসব পড়ার
কোনই দরকার নেই।
৮। দ্বীনি পড়াশোনা ইন্টারনেট বেইজড করবেন
না। গুগলিং, এই সাইট ঐ সাইট ঘাঁটাঘাঁটির মাঝে নানান উল্টা
পালটা জিনিসও চলে আসে, নফসের ধোঁকায় দু'একটা
উল্টা পাল্টা সাইটে ঢুকেও পড়তে পারেন।
৯। যারা নিয়মিত ফেসবুক ইউজ করেন তারা বাছাইকৃত কিছু
ব্যক্তি, পেজ, এসবে see first দিয়ে বাকী
সবাইকে আনফলো করে দিতে পারেন।
হুদাই হোমপেজ স্ক্রল করতে থাকবেন না।
এতে নানান আজেবাজে জিনিসপত্রও চোখ চলে
যায়।
১০। দ্বীনের উপর আছে এমন ভাইদের সাথে
বেশী বেশী সময় কাটান।
১১। প্রচুর বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সবসময় জটিল
একাডেমিক দ্বীনি বই পড়তে হবে এমন না।
মাঝে মাঝে হালকা মেজাজের কিংবা সেকুলার কিছু বই
পত্রও পড়তে পারেন।
১২। যারা স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে আছে তারা
ক্লাসে এমনভাবে বসবেন না যেখান থেকে
সহজে মেয়েদের দিকে চোখ পড়বে। যেমন
মেয়েদের পেছনে বসবেন না।
একদম সামনের বেঞ্চে বসতে পারলে
সবচেয়ে ভালো।
অবশ্য সেক্ষেত্রে টিচার অল্পবয়সী ম্যাডাম
হলে আরেক সমস্যা।
মোট কথা এমন আসন বাছাই করুন যেখান থেকে
সহজেই মেয়েদের দিকে চোখ যাবে না।
১৩। প্রতি রাতে কিছু নফল ইবাদাত করা। একেবারে
অল্প হলেও।
দু'রাকাত সালাত হলেও। এবং এটা ধারাবাহিকভাবে করা।
সকাল সন্ধ্যার জিকির ও দু'আগুলো যতটুকু সম্ভব করার
চেষ্টা করা। প্রতিদিন কিছু কুরআন তিলাওয়াত করা, বিশেষ
করে ফজরের পর। এবং এটাকে নিত্য অভ্যাসে
পরিণত করা। মানুষের অন্তরের উপর এগুলোর
ভীষণ প্রভাব। এগুলো প্রতিদিন একটু একটু করে
মানুষের অন্তরকে পরিষ্কার করে।
১৪। সবসময়, সর্বাবস্থায় আল্লাহর কাছে দু'আ করা।
আমরা তো অসহায়, নাদান বান্দা। নিজেকে হেফাজত
করার শক্তি তো আমাদের নেই। তাই মহান রবের
কাছে আশ্রয় চাওয়া। বিশেষ করে দু'আ কবুল হওয়ার
যে সময়গুলো আছে সেই সময়গুলোতে
নিজের ঈমান, আমল, চোখের হেফাজত, ফাহেশা
কাজ থেকে হেফাজতে থাকার জন্য বেশী
বেশী দু'আ করা।
১৫। কোন পাপ হয়ে গেলে সাথে সাথে দুই রাকাত
সালাত আদায় করে তাওবা করা। প্রতিদিন আল্লাহর কাছে
ইস্তিগফার করা।
যারা নিয়িমিত পাপাচারে লিপ্ত থাকে শয়তান একটা সময়
তাদেরকে ধোঁকা দেয় এই বলে যে, "তুমি পাপও
করছো আবার তাওবাও করছো, আল্লাহর সাথে
তো মজাক করছো।
বরং তুমি যতদিন পাপে লিপ্ত আছো ততদিন তাওবা করার
দরকার নেই। আগে পাপটা পুরোপুরি ছেড়ে দাও,
তারপর খালেস দিলে তাওবা করে নিবে।"
শয়তানের এই ধোঁকায় পা দেওয়া যাবে না। প্রতিদিন
যত পাপই করেন, যত অশ্লীল কাজে লিপ্ত থাকেন
না কেন, দুই রাক'আত সালাত আদায় করে আল্লাহর
কাছে তাওবা করার এই আমলটা কখনো বন্ধ করবেন
না। কখনো না।
আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন।
যদি এখান থেকে কেউ উপকৃত হয়ে থাকেন দয়া
করে আমার জন্য দু'আ করবেন আল্লাহ যেন এর
বিনিময়ে আমাকে মাফ করে দেন।
এফ জেট ইমরান
#শেয়ার_করুন
মূলপোস্ট: https://www.facebook.com/siratalmustakim123/