06/04/2026
Reflection of my life
কোচিং বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী। উনি এটা কোন যুক্তিতে বলেছেন আমি জানি না। কোচিংয়ে কি সমস্যা?
এলাকার বেকার মুরব্বিরা কোচিং বন্ধ করতে চায়, পোলাপান কোচিংয়ে গিয়ে প্রেম করে নষ্ট হয়ে যায়, এই কারণ। শিক্ষামন্ত্রীরও এই চিন্তা কিনা আমি জানি না।
প্রতি জেলায় হাতে গোনা কয়েকটি সরকারি স্কুল ও কলেজ আছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে আধা-সরকারী ও বেসরকারি স্কুল কলেজে পড়তে হয়।
স্কুল কলেজে ১ রুমে শিক্ষার্থী থাকে ৮০ - ১০০ জন। সময় ৫০ মিনিট। সংজ্ঞা পড়াইতেই তো সময় যায় গা। পিছন থেকে শোনাও যায় না। কি প্রশ্ন করে কে বুঝে নিবে! সেই সুযোগ নাই।
নটেরডেম কলেজের ফার্স্ট বয়, বা ভিকারুননিসার ফার্স্ট গার্লটাও স্কুল কলেজ থেকে শিখে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেয় না। বাসায় বুয়েট, ঢাবি, ঢামেকের অন্তত ২ জন টিচায় আসে। এই প্রাইভেট টিউটররাই মূলত পরীক্ষার জন্য তৈরি করে।
শিক্ষা এখন সম্পূর্ণভাবে বাপের টাকার উপর। যে গার্ডিয়ান বাসায় ১০-১৫ হাজার টাকা দিয়ে বুয়েট, চুয়েট, ঢাবি, চবির ছাত্রদেরকে টিচার হিসেবে রাখতে পারে, তার সন্তানরাই ভালো জায়গায় যেতে পারে।
এখন সবার তো বাসায় শিক্ষক রাখার সক্ষমতা নাই। অনেকে কম টাকায় কোচিং-য়ে পড়ে। কোচিং থেকেই প্রস্তুতি নেয়।
যেমন আমি, আমার ক্লাস এইটে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি, এসএসসি ও এইচএসসি ২টাতে এ প্লাস পাওয়া, পুরোটাই কোচিংয়ের কারণে।
হাইস্কুলে থাকতে কোচিংয়ে আমার ফেভারিট টিচার ছিলেন চুয়েটের তপু ভাই এবং চমেকের রাশেদ ভাই। সাজ্জাদ ভাই ইংলিশ ভালো পড়াতেন।
ইন্টারে ম্যাথ, কেমিস্ট্রি, ফিজিক্স এগুলোও পড়েছিলাম কামাল স্যার, কণক স্যার এবং তপু ভাই থেকে।
স্কুল ও কলেজে হাজিরা আর পরীক্ষা দেওয়া ছাড়া খুব বেশি কিছু শিখি নাই। সুযোগ ছিল না। গণ-ক্লাস, কিচিরমিচির লেগে থাকতো। সিলেবাস শেষ হতো না।
স্কুলের স্মৃতি ছিল ভয়াবহ। মিঠুন স্যার সূত্র লিখে পুরো বোর্ড ভরায় ফেলতেন, তারপর ১টা অংক করাতেন। এর পরের ৬টা বাড়ির কাজ দিতেন। বাসায় যাদের টিচার ছিলো তারা করে আনতো, যাদের ছিল না তারা পারতো না। টেবিলের নিচে মাথা রেখে শার্ট খুলে মাইর খেতো।
সংবিধানের ১৭ (ক) তে, বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক শিক্ষার কথা বলা আছে। যা আজও বাস্তবায়ন হয় নি। এই সংবিধান লঙ্ঘনটা সালাহউদ্দিন আহমেদ দেখেন না?
শিক্ষা নিয়ে এই দেশে যা করা হয় স্রেফ মশকারি। কামলা ও অদক্ষ দাস তৈরির কারখানা। এই জন্য এ দেশের এ প্লাস পাওয়া তরুণরা আমেরিকায় মুদির দোকানের চাকরির জন্য ঘুরে।
আমার স্টুডেন্ট চুয়েটে পড়ে, মেডিকেলে পড়ে, চবিতে পড়ে। আমি অনেক কোচিংয়ে পড়াইছিলাম এবং টিউশন করাইতাম।
ভালো ইন্ট্রিগ্রেশন পারা স্টুডেন্টকে আমি একটা বিস্কিট আর স্কেল দিয়ে বলেছিলাম, এই বিস্কিটটা টেবিলে কয়বার বসানো যাবে বের করো। সে পারে নাই।
জ্ঞানের সাথে ব্যবহার ও প্রয়োগের কোন সম্পর্ক নাই। থিওরি পড়ো,,সূত্র কেমনে আসছে বুঝে নাও, মুখস্থ করো, কৌশল শিখো, ইকুয়েশন বা এক্সপ্রেশন এরকম হইলে, হরে এই লবে এই, রুটে এই থাকলে এভাবে করতে হবে। কেইস ধরে ধরে পড়ো। ব্যস এতদূর।
ঐ জ্ঞান জীবনে কোথায় কাজে লাগে? কেন এসব পড়তেছি? এসবের ধারেকাছে নাই। এই জন্য পানিসেচের মেশিনও ইন্ডিয়া ও চায়না থেকে আনতে হয়। এ দেশে তৈরি হয় না।
- পর্যাপ্ত স্কুল- প্রতিষ্ঠান নাই
- ক্লাসে ২৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী, যা স্ট্যান্ডার্ড না।
- যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক নাই
- শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নাই
- ল্যাব নাই,
- ব্যবহারিক জ্ঞান নাই
- প্রয়োগমূলক আনন্দদায়ক শিক্ষা নাই। আছে মুখস্থনির্ভর পীড়নমূলক শিক্ষা।
ইউরোপের দেশে ভালো বেতনধারী পেশাদার দক্ষ শিক্ষক দিয়ে পড়ানো হয়। ক্লাসরুমটাই ওদের ল্যাব। ফিজিক্স ক্লাসে ডিজিটাল স্ক্রীন, টেবিল ও রুম ভর্তি পেন্ডুলাম, স্প্রীং, লেন্স, মিরর, ম্যাগনেট, ভোল্টমিটার, রেসিস্টেন্স, ব্যাটারি, প্রিজম, ওসিলোস্কোপ সব থাকে।
আমাদের দেশে কাস্টম বা এডমিন ক্যাডার হতে না পারা, ফ্রাস্ট্রেটেড ব্যক্তিরা যাদের নিয়তির পরিহাস শিক্ষা ক্যাডার এমন কেউ অথবা সব জায়গায় ট্রাই করেও ক্ষমতা দেখানো যায়-ঘুষ খাওয়া যায়, এমন চাকরি না পেয়ে, হতাশ হয়ে শিক্ষকতায় পেশায় আসা লোকজনই শিক্ষক।
উনারা একটা বোর্ড আর একটা মার্কার দিয়ে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি সব ক্লাস শেষ করে ফেলেন। ক্লাসে আর কোন কিছু নাই।
জনাব শিক্ষামন্ত্রী। এই বন্ধ সেই বন্ধ করে ব্যাটাগিরি না করে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন করুন।
©️✍🏻 Arif Moynuddin