Darul Ifta Online, BD - দারুল ইফতা অনলাইন, বাংলাদেশ

Darul Ifta Online, BD - দারুল ইফতা অনলাইন, বাংলাদেশ

Share

একঝাঁক উলামায়ে কেরামের তত্বাবধানে পরিচালিত একটি অনলাইন দারুল ইফতা। আকিদা, ইবাদত, মুয়ামালাত, মুয়াশারাত ইত্যাদি জীবন সমস্যার ইসলামি সমাধান।

24/09/2025

আলহামদুলিল্লাহ।।

দেশ সেরা ২০টি ফতোয়া বিভাগ 20/03/2025

অফলাইনে আগ্রহীদের জন্য ভালো সুযোগ!

দেশ সেরা ২০টি ফতোয়া বিভাগ মুসলিম জীবনে ফতোয়ার অনুসরণ অপরিহার্য। যুগ যুগ ধরে আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালনা করে আসছে বিজ্ঞ মুফতি সাহেবগণ ও ফতোয়...

Photos from Darul Ifta Online, BD - দারুল ইফতা অনলাইন, বাংলাদেশ's post 22/10/2024

নতুন সরকার গঠন হয়েছে দুই মাসের অধিক। উপদেষ্টাদের তালিকা অনেক দীর্ঘ হলেও চোখে পড়ার মত কাজ হয়নি। (ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক থেকে নির্বাচিতত উপদেষ্টাদের কথা ভিন্ন) তবে ড. আ ফ ম খালিদ হাফি. ধর্ম উপদেষ্টা হওয়ার পর বড় বড় অনেকগুলো কাজ নজরে পরেছে।
তাঁর কিছু বিষয়ে অনেকে যদিও হতাশ হয়েছে। কিন্তু তার ব্যাপারে বরাবর আমার প্রত্যাশা আকাশচুম্বি। কেন এত প্রত্যাশা তার কারণ ছোট্ট করে রাখি। আমি মনে করি তিনি যা-ই করুক না কেন শেকড় কখনো ভুলবে না। দোকালের মত তিনি মূলের দিকে ফিরবে। আর কিছু বিষয় বাদ দিলে হচ্ছেও তাই।
গত কয়েকদিন আগে বিশ্বনন্দিত আলেমে দ্বীন মাওলানা আব্দুল মালেক হাফি. বাইতুল মোকাররমের খতিব হলেন। সবাই খতিব হওয়ায় খুশি হয়েছে। অভিনন্দন জানিয়েছে অনেকেই। আমি নিজেও অত্যন্ত খুশি হয়েছি। কিন্তু বিষয়টা কাকতালীয় ছিল না। এর পিছনে রয়েছে ধর্ম উপদেষ্টা বড় হাত। কিন্তু সে হিসেবে ধর্ম উপদেষ্টার কথা তেমন শোনা যায়নি। আজ আরেকটি খুশির সংবাদ এলো। মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ হাফি. ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফিকহ একাডেমি ( مجمع الفقه الإسلامي الدولي) এর সদস্য নিযুক্ত হয়েছেন। সবাই খুশি হয়েছেন। আমি নিজেও যারপরনাই খুশি। অনেকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন আর অভিনন্দন মতই বিষয়। কিন্তু কথা হলো এর পিছনে কারিগর কে? কার চেষ্টায় একাডেমির সদস্য হলেন? তাকে আমরা সামান্য মুবারকবাদও জানালাম না। আর বরাবরের তাঁর এই কীর্তীও হয়তো সাধারণ ভাবেই ঢাকা পরে যাবে।
অথচ একদম স্বাভাবিক শিষ্টাচার হল, সাধারন পর্যায়ের পদ পদবী/উন্নতি কেউ পেলে সেটার পেছনের কারিগরের কৃতজ্ঞতা আদায় করা। ইসলামের শিক্ষাও এটাই। আমরা যেমন সমালোচনা করি, ভালো কাজের তেমন প্রশংসা কি করি? করিনা।
অনেকে বলতে পারে, এটা প্রচার করলে অন্যদের রোষানলে পরে যাবে। আমার কথা হল, এখন পর্যন্ত তিনি যা করেছেন তা কি মুক্ত স্বাধীনভাবে করতে পারছেন? পারেননি। কারণ ধর্ম মন্ত্রনালয়ে জামাতের গালাবা অত্যাধিক বেশি। সে জায়গায় থেকে তিনি যা করছেন জীবন-মরণ বাজি রেখে করছেন। আর যদি আপনি মনে করেন এটা আমাদের পাওনা তাহলে আপনার সাথে আমার কোন কথা নাই।

যাকগে, আগে যিনি সদস্য ছিলেন। তার ব্যপারে বেশি কিছু বলতে চাই না। তিনি বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীর আরবি অনুবাদক। ঢাবির আরবি ভাষা বিভাগের অধ্যাপক। তিনি আরবি শিক্ষক হয়ে মাজমাউল ফিকহিল ইসলামির মত ফিকহ বোর্ডে কী গবেষনা করেছেন? আল্লাহ ভালো জানেন। অথচ পাকিস্তান থেকে মাজমাউল ফিকহিল ইসলামীর সদস্য হলেন তাকি উসমানি হাফি. এর মত ব্যক্তিত্ব। তার মাউমাউল ফিকহিল ইসলামির মাকালা দিয়ে-ই রচনা হয়েছে বুহুস ফি কাযায়ার অধিকাংশ। আমাদের এতোদিনের সদস্যর মাকালাও বুহুস থেকে বড় হবে বোধ হয়। বের হয়নি বিধায় জানতে পারিনি। আপনাদের জানা থাকলে বলে দিয়েন। অবশেষে ধর্ম উপদেষ্টাকে প্রথমে মুবারকবাদ জানাই। আর মুফতি মিজানুর রহমান হাফি. এর জন্য রইল অভিনন্দন।

21/10/2024

বাংলাদেশে ইলিশ মাছ সংরক্ষণের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সরকার নির্দিষ্ট সময়ে ইলিশ ধরতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যখন এই মাছ ডিম দেয় এবং প্রজনন ও বৃদ্ধির সময় হয় তখন এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। ফলে গত কয়েক বছর ধরে এই মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যেমনটি সংবাদপত্র থেকে জানা যায়। তবে কিছু মানুষ আইন লঙ্ঘন করে এই সময়ও মাছ ধরে। যদি সরকারি কতৃপক্ষের হাতে তারা ধরা খায় তাদের কাছ থেকে মাছ কেড়ে নেয়া হয় এবং এতিমখানা বা মাদ্রাসায় দিয়ে দেয়া হয়। এখন জানার বিষয় হল,
১. নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরলে জেলে কি সে মাছের মালিক হবে?
২. জেলেদের থেকে এই ধরনের মাছ কেনা শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ কি না?
৩. মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের জন্য সরকার থেকে এই ধরনের মাছ গ্রহণ করার হুকুম কী?
৪. মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য এই ধরনের মাছ খাওয়া বৈধ হবে কি না?
গরিব এবং ধনী হওয়ার ভিত্তিতে তাদের হুকুমে কি কোনো পার্থক্য হবে? ৫. শিক্ষকদের জন্য এই মাছ খাওয়া এবং খাওয়ানো বৈধ হবে কী?

উত্তর: মনে রাখতে হবে, যখন জনগণের কল্যাণের জন্য সরকার কোন বৈধ বস্তুতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং সেই বিষয়ে বিধিনিষেধ বেধে দেয়, তখন জনগণের জন্য সরকারি নির্দেশ মেনে চলা এবং তা থেকে বিরত থাকা জরুরি। কারণ যেকোনো রাষ্ট্রের বাসিন্দা ঐ রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন মেনে চলার (নীরব) চুক্তিবদ্ধ থাকে, আর বৈধ বিষয়ে চুক্তি করার পর তা পালন করা সেই রাষ্ট্রের প্রতিটি ব্যক্তির জন্য আমানতের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়; তেমনিভাবে এই ধরনের বৈধ বিষয়ে আইন লঙ্ঘন করা চুক্তিভঙ্গ করার শামিল। আর শরীয়ত যেকোনো বৈধ চুক্তি ভঙ্গ করা থেকে নিষেধ করেছে। এছাড়াও আইন ভঙ্গ করার ক্ষেত্রে সম্পদ ও সম্মানের হুমকি থাকে, এবং ধরা পড়ার ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও শাস্তি ভোগ করার সম্ভাবনা থাকে, আর নিজেকে অপমান থেকে বাঁচানো শরীয়ত মোতাবেক জরুরি। এই ভূমিকার পরে চাওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর নিম্নরূপ:

১. সমুদ্রের মধ্যে থাকা মাছ মূলত সকলের জন্য বৈধ, তাই সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জেলেরা ধরা মাছের মালিক হবে; তবে যেহেতু সাধারণ স্বার্থে সরকারি ভাবে ঐ সময়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাই তা থেকে বিরত থাকা জরুরি।
২. জেলেদের থেকে এই ধরণের মাছ কিনতে কোনো অসুবিধা নেই, তা বৈধ।
৩,৪,৫: ঐ সময়ে মাছ ধরা যদিও নিষিদ্ধ, তবে সরকার বৈধ আইনের লঙ্ঘনের কারণে ঐ মাছ জেলেদের থেকে কেড়ে বৈধ না; যদিও আইনের লঙ্ঘন করার কারণে অন্য শাস্তি দেওয়া বৈধ, কিন্তু আর্থিক জরিমানা আরোপ/মাছ জব্দ করা বৈধ নয়। তাই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের জন্য সরকারের কাছ থেকে ঐ ধরনের মাছ গ্রহণ করা বৈধ নয়, এবং সরকারের কাছ থেকে পাওয়া ঐ মাছ ব্যবহার করা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক কারও জন্য বৈধ নয়।
এটা হল উলুমিল ইসলামিয়া বানুরী টাউন করাচী পাকিস্তানের ফতোয়া।

আর দারুল উলূম দেওবন্দের ফতোয়া হল,
(যদিও সরকারের জন্য এভাবে মাছ জব্দ করা ঠিক না।) কিন্তু জব্দ করার পর যদি মাদরাসা কতৃপক্ষ যাকাতের হকদার ছাত্রদের জন্য গ্রহন করে তাহলে বৈধ অন্যথায় বৈধ নয়।
তথ্যসূত্র:
১. সূরা আল-ইসরা: ৩৪
২. মেশকাত শরিফ: ৫৫
২. শামী: ৪/৬২ (এইচ এম সাইদ)
৩. বাদায়েয়ূস সানায়ে: ৯/৪৫৩

বানুরীটাউন লিংক
https://www.banuri.edu.pk/readquestion/hukumti-pabandi-ky-bawjud-shkart-ki-huvi-maclyon-ka-hukm-144207200311/18-02-2021
দেওবন্দ লিংক
https://darulifta-deoband.com/home/ur/halal-haram/603849

20/10/2024

মেয়েরা স্বামীর দ্বিতীয় বিবাহ পছন্দ করে না। কিন্তু কেন?

শরিয়তের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষ সমান না। নারীর উপর রয়েছে পুরুষের নানাবিদ শ্রেষ্ঠত্ব। তার মধ্যে একটা হল, নারীরা এক সাথে একাধিক বিবাহ করতে পারবে না। যেটা পুরুষরা সক্ষমতা ও ইনসাফ কায়েমের শর্তে চার পর্যন্ত পারে।
অনেককে দেখবেন, এক নারীতে আশক্ত পুরুষ খোজে। আবার অনেকে এক পুরুষে আষক্ত নারী খোজে। কেনরে বোন? আল্লাহ কি পুরুষকে এক নারীতে আশক্ত হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন? নাকি একসাথে একাধিক বিবাহের অনুমতিও দিয়েছেন। যদি একাধিক বিবাহের অনুমতি দিয়েই থাকে তাহলে সে এক নারীতে আশক্ত হবে কেন? এটা তো তার স্বভাবের পাশাপাশি আল্লাহর মর্জিরও মোখালেফ। আমি এখানে পরকিয়ার কথা বলছি না। এক পুরুষের সক্ষমতা ও ইনসাফের শর্তে একাধিক নারীর প্রতি টাণ প্রাকৃতিক। ইসলাম তাই বলে। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে একপুরুষে আশক্ত হওয়া আবশ্যক।
এখানে সমান অধিকারের দাবি তুলে আমরাও এক পুরুষে আশক্ত হব না বলা যেমন শরিয়ত বিরোধী। তেমন পুরুষরা এক নারীতে আশক্ত হোক এটাও ঠিক না। নারীরা স্বভাবতই নিজের স্বামীর ভাগ কাউকে দিতে চায় না। এটা ভাল বিষয় ও প্রশংসনীয়। কিন্তু এটা যেন শরিয়তের মেজাজের খেলাফ না হয়।
যেমন সেদিন একজনের লেখায় দেখলাম, দুআ করে বলছে আল্লাহ যেন স্বামীকে জান্নাতে কোন হুর না দেয়। জান্নাতেও যেন সে একা স্বামীর সাথে থাকতে পারে! (আবেগী) এটা কেমন কথা? এটা অন্যদের প্রতি হিংসার বহিঃপ্রকাশ। চরম পর্যায়ের হিংসা। রাসুল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের স্ত্রীগণও ভাগ দিয়েছেন। এতেই নারীদের কল্যাণ। নারী সাহাবীগণ তো স্বামীকে কম ভালো বাসত না? আর যদি বলেন এখনকার পুরুষরা তো আর নবী-সাহাবীর মত না। আমি বলি, নারীদের ক্ষেত্রেও একই কথা। তাহলে...??

17/10/2024

হেফযখানার অনেক ছাত্রকে দেখা যায় যে, তারা কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করার সময় সিজদার আয়াত আসলে তা না পড়ে সামনে চলে যায়। তাদের এ কাজটি কেমন? জানতে চাই।

উত্তর
তেলাওয়াতের মাঝে সিজদার আয়াত বাদ দিয়ে তেলাওয়াত করা মাকরূহ তাহরীমী। এভাবে বাদ দিয়ে পড়া কুরআনে কারীমের আদব পরিপন্থী। আল্লাহর কালাম ধারাবাহিক ভাবেই পড়ে যাওয়া কর্তব্য। সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করার সাথে সাথে সিজদা দেওয়া জরুরি নয়। পরেও দেওয়া যায়। তাই তিলাওয়াতের সময় সিজদা আদায় করতে না পারলে পরে করবে। কিন্তু কোনো অবস্থায় তা বাদ দিয়ে পড়বে না।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৪৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২০৮; শরহুল মুনিয়্যাহ ৫০৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/১১৭

16/10/2024

প্রশ্ন
দেশের কোনো কোনো এলাকায় কুরবানীর গোশত বণ্টনের একটি সমাজপ্রথা চালু আছে।
এই সমাজের নিয়ম ‎হল, এলাকার যারা কুরবানী করেন, তাদের কুরবানীর গোশতের তিন ভাগের একভাগ বাধ্যতামূলকভাবে সমাজে জমা ‎করতে হয়।

পরবতীর্তে এই গোশত নির্দিষ্ট সমাজভুক্ত সকল ব্যক্তিবর্গ, যারা কুরবানী করেছেন এবং যারা কুরবানী ‎করেননি সবার মধ্যে বণ্টন করা হয়। এরূপ বণ্টন কি শরীয়মসম্মত? এক্ষেত্রে করণীয় কী?‎

উত্তর: গোশত বণ্টনের প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিটি আমাদের দেশের কোনো কোনো এলাকায় প্রচলিত একটি সমাজপ্রথা। ‎সাধারণ দৃষ্টিতে এটি একটি ভালো উদ্যোগ মনে হতে পারে; কিন্তু কোনো সামাজিক প্রথা বা রীতি পালন করার জন্য তা ‎শরীয়তের দৃষ্টিতে শুদ্ধ ও আমলযোগ্য কি না— তাও নিশ্চিত হতে হয়।

ভালো নিয়ত থাকলেও শরীয়ত সমর্থন করে না ‎অথবা ইসলামের নীতির সাথে মানানসই নয় এমন কোনো কাজ করা বা এমন কোনো রীতি অনুসরণ করার সুযোগ ‎নেই।

প্রশ্নোক্ত সমাজপ্রথাটিতে উদ্দেশ্য ভালো হলেও যে পদ্ধতিতে তা করা হয় এতে শরীয়তের দৃষ্টিতে মৌলিক কিছু আপত্তি ‎রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল, সামাজিক এ প্রথার কারণে সকলেই তার কুরবানীর এক তৃতীয়াংশ গোশত সমাজের ‎লোকদের হাতে দিতে বাধ্য থাকে।

এবং এর বিলি-বণ্টন ও গ্রহিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু সমাজপতিদেরই হাত থাকে। ‎গোশত বণ্টনের ক্ষেত্রে এ বাধ্যবাধকতা শরীয়তসম্মত নয়। কেননা শরীয়তে কুরবানী ও গোশত বণ্টন একান্তই ‎কুরবানীদাতার নিজস্ব কাজ।

ঈদের দিন সম্মিলিতভাবে জামাতে নামায আদায় করতে বলা হলেও কুরবানীর জন্য কত মূল্যের পশু কিনবে, সে পশু ‎কোথায় জবাই করবে, গোশত কীভাবে বণ্টন করবে—এ বিষয়গুলো কুরবানীদাতার ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ‎

শরীয়তে কুরবানীর কিছু গোশত সদকা করতে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং আত্মীয়-স্বজন ও গরীব-দুঃখীদের কুরবানীর ‎গোশত দিতে তাকিদও দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু তা কুরবানীদাতার উপর অপরিহার্য করা হয়নি। বরং কুরবানীদাতা কী ‎পরিমাণ গোশত নিজে রাখবে, কী পরিমাণ সদকা করবে এবং কাকে কাকে বিলি করবে আর কী পরিমাণ আগামীর ‎জন্য সংরক্ষণ করবে— এগুলো কুরবানীদাতার একান্তই নিজস্ব ব্যাপার এবং ব্যক্তিগতভাবে করার কাজ। এটিকে ‎সামাজিক নিয়মে নিয়ে আসা ঠিক নয়।

তাই শরীয়তের মাসআলা জানা না থাকার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গোশত বণ্টনের প্রশ্নোক্ত যে পদ্ধতি প্রচলিত ‎হয়েছে, তা পরিহারযোগ্য। নিম্নে সংক্ষেপে প্রশ্নোক্ত প্রথাটির কিছু ক্ষতির দিক উল্লেখ করা হল—‎

১. অনেক কুরবানীদাতার পরিবারের সদস্য-সংখ্যা বেশি হওয়ায় অথবা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে নিজ পরিবারের ‎জন্য বেশি গোশত রাখার প্রয়োজন হয়; ফলে সে পরিবারের জন্য বেশি গোশত রাখতে চায়। আবার অনেকে তার ‎কোনো দরিদ্র আত্মীয়কে কুরবানীর গোশত দিতে চায়।

কিন্তু সামাজিক এই বাধ্যবাধকতার কারণে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ‎সামাজিক রীতি অনুযায়ী কুরবানীর এক তৃতীয়াংশ গোশত সমাজে দিতে বাধ্য হয়। অথচ হাদীস শরীফে ইরশাদ ‎হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—‎
إِنَّهُ لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ‎.‎
কোনো মুসলমানের সম্পদ তার সন্তুষ্টি ব্যতীত হালাল নয়।
______(মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২০৬৯৫)‎

২. প্রশ্নোক্ত প্রথায় গোশতদাতা তার দানের অংশটি কাকে দেবে সে স্বাধীনতা হারায়। হয়তো সে তার নিকটাত্মীয় অথবা ‎পরিচিত কাউকে একটু বেশি পরিমাণে দিত, কিন্তু এক্ষেত্রে তার জন্য এমনটি করার সুযোগ থাকে না।

৩. অনেক মানুষ এমন আছেন, যারা প্রত্যেকের হাদিয়া বা সদকা গ্রহণ করতে চান না। আর শরীয়তও কাউকে সকলের ‎হাদিয়া বা সদকা গ্রহণ করতে বাধ্য করেনি। কিন্তু সামাজিক এই রীতির কারণে গোশত গ্রহণকারী প্রত্যেকেই অন্য ‎সকলের হাদিয়া বা সদকা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। বলাবাহুল্য এ ধরনের ঐচ্ছিক বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা ‎মোটেই উচিত নয়।

৪. এ ধরনের বাধ্যবাধকতা আরোপের আরেকটি ক্ষতির দিক হল, সমাজের কিছু মানুষ এমন থাকে, যাদের আয় ‎রোজগার হারাম পন্থায় হয়। সেক্ষেত্রে জেনে বুঝে তাদের কুরবানীর গোশত সমাজের সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া ‎হয়।

অথচ হারাম উপার্জনের মাধ্যমে কুরবানীকৃত পশুর গোশত খাওয়া জায়েয নয়।
মোটকথা, শরীয়তের শিক্ষা মোতাবেক প্রত্যেককে তার কুরবানীর অংশ দান করার বিষয়ে স্বাধীন রাখতে হবে। প্রশ্নোক্ত ‎পদ্ধতিতে বা অন্য কোনোভাবে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যাবে না।

কুরবানীদাতা নিজ দায়িত্ব ও বিবেচনা মতো যাকে ‎যে পরিমাণ হাদিয়া করতে চায় করবে এবং গরীব-মিসকীনকে যে পরিমাণ সদকা করতে চায় করবে। রাসূলুল্লাহ ‎সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় থেকে শত শত বছর যাবৎ এ পদ্ধতিই চলমান আছে।

এই পদ্ধতিই অবলম্বন ‎করা জরুরি। শরীয়ত যা চালু করতে বলেনি এমন কোনো প্রথা চালু করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

‎______সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৭২;
______জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫১০;
_____বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪;
_____তাবয়ীনুল হাকায়েক ‎৬/৪৮২;
______ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৭৩;
______আলবাহরুর রায়েক ৮/১৭৮;
______ ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০০;
______রদ্দুল মুহতার ‎৬/৩২৮

06/10/2024

ইহরামের চাদরকেই ইহরাম মনে করায় যেসব সমস্যায় পড়েন হাজী সাহেবান!

হজ্ব বা উমরার সূচনা হয় ‘ইহরাম’ দ্বারা। হজ্ব বা ওমরার নিয়তে তালবিয়া পাঠ করলে ‘ইহরাম’ সম্পন্ন হয়। ইহরামের মাধ্যমে হজ্ব শুরু হয় এবং নির্ধারিত সময়ে চুল মুণ্ডন বা ছোট করার দ্বারা ‘হালাল’ হওয়া পর্যন- ইহরামের হালত বাকী থাকে। ইহরাম গ্রহণকারী ব্যক্তিকে ‘মুহরিম’ বলে। ইহরামের হালতে পুরুষের জন্য পোষাকের বিধান এই যে, শরীরের কোনো অঙ্গের আকারে প্রস'তকৃত বা সেলাইকৃত পোষাক পরিধান করা যাবে না। টুপি, মোজা, জামা, কোর্তা, সদরিয়া, গেঞ্জি, পাজামা, সেলোয়ার, শার্ট, প্যান্ট, আন্ডারওয়্যার এবং এ ধরনের সকল পোষাক ইহরামের হালতে পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ। এজন্য তারা ইহরামের হালতে শুধু চাদর ব্যবহার করবেন। একটি চাদর পাজামার স্থলে অপরটি পাঞ্জাবির স'লে। ইহরামের হালতে লুঙ্গি পড়ার অনুমতি থাকলেও উত্তম হল চাদর পরিধান করা। পুরুষের জন্য ইহরামের হালতে মাথা ও মুখমণ্ডল আবৃত করাও জায়েয নয়। এজন্য চাদর পরিধান করা যাবে, কিন' এর দ্বারা মাথা ও মুখমণ্ডল আবৃত করা যাবে না। এই দুই চাদর পাক-সাফ হওয়া চাই। সাদা হলে ভালো। তবে নতুন হওয়া জরুরি নয়।

এই চাদর যেহেতু ইহরামের হালতের পোষাক তাই অনেক সময় একে ‘ইহরাম’ বলা হয়। কিন' এর অর্থ এই নয় যে, নিয়ত ও তালবিয়া পাঠ ছাড়া শুধু এই কাপড় পরলেই কেউ ‘মুহরিম’ হয়ে যাবে। কেননা নিয়ত ও তালবিয়া পাঠ ছাড়া শুধু দু’টি সাদা কাপড় পরার দ্বারা ‘ইহরাম’ সম্পন্ন হয় না এবং হজ্বও শুরু হয় না।

তদ্রূপ ইহরামের চাদরকে ইহরাম মনে করার কারণে কেউ কেউ মনে করেন, ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করা যায় না কিংবা তা নাপাক হয়ে গেলে যেন ইহরামই নষ্ট হয়ে গেল! অথচ তা নয়। ইহরামের চাদর পরিবর্তন করার, ধোয়ার পূর্ণ সুযোগ রয়েছে। তদ্রূপ তা নাপাক হয়ে গেলেও ইহরামের কোনো ক্ষতি হয় না। চাদরটি ধুয়ে পাক করে নিলেই হল কিংবা তা বদলে নিলেই হল।

এই বিষয়টি এত লম্বা করে বলার কারণ এই যে, আমি নিজে অনেক ভাইকে এই সব ভুল ধারণা পোষণ করতে দেখেছি, যার মূল কথা এই যে, তারা ইহরামের পোষাককেই ‘ইহরাম’ মনে করেছেন।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এই মাসআলাও পরিষ্কার হয়ে যায় যে, যদি কোনো ব্যক্তি ভুলক্রমে ইহরামের চাদর ব্যাগে রেখে দেয় এবং তা অন্যান্য জিনিসপত্রের সঙ্গে ভিতরে চলে যায়, যার কারণে জিদ্দা পৌঁছার আগে ওই কাপড় পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না, অন্যদিকে বিমান বন্দরে ইহরামের হালতে পরা যায় এমন কোনো কাপড়ের ব্যবস্থা করাও সম্ভব না হয় তখন এই দুশ্চিন্তায় পড়ে যাওয়ার কারণ নেই যে, ‘ইহরাম’ কীভাবে সম্পন্ন হবে? বরং কর্তব্য হল বিমান জিদ্দায় পৌঁছার ঘন্টাখানেক আগে সাধারণ কাপড় পরিহিত থাকলেও নিয়ত ও তালবিয়ার মাধ্যমে ‘ইহরাম’ সম্পন্ন করবে। জিদ্দা পৌঁছার পর লাগেজপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পোষাক পরিবর্তন করে চাদর পরিধান করবে। আর ইহরামের হালতে দু-আড়াই ঘন্টা বা তার বেশি সময় জামা-পাজামা ইত্যাদি পরিহিত থাকার কারণে যে কাফফারা আসে তা আদায় করবে।

তো যাদের এই বিভ্রানি- আছে যে, ইহরামের চাদরই ইহরাম তারা সেই চাদর পরা ছাড়া নিয়ত ও তালবিয়া পাঠ করলেও ইহরাম হবে না মনে করে বিনা ইহরামে জিদ্দায় পৌছে যায়, যার কারণে বিনা ইহরামে মীকাত অতিক্রম করার গুনাহ যেমন হয় তেমনি দমও ওয়াজিব হয়ে যায়। এজন্য কর্তব্য হল, হজ্বের পূর্বে হজ্বের মাসাইল পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া যেন বিভ্রানি- বা ভুল প্রচারণার শিকার হয়ে অযথা কষ্ট পোহাতে না হয় এবং অসচেতনভাবে হজ্ব অসম্পূর্ণ বা বিনষ্ট হওয়ারও আশঙ্কা না থাকে।

সূত্র: মাসিক আল কাউসার

ইউসুফ আমিন

Want your school to be the top-listed School/college in Khulna?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address


Darul Ifta Online, BD/দারুল ইফতা অনলাইন, বাংলাদেশ
Khulna
4125