19/06/2026
নামাজ ঠিকমত হচ্ছে তো প্রিয় ভাই ও বোনেরা??
কুরআনের শিক্ষা প্রচার ও প্রসার এবং আর্ত মানবতার সেবায় নিবেদিত
19/06/2026
নামাজ ঠিকমত হচ্ছে তো প্রিয় ভাই ও বোনেরা??
জরুরী ঘোষণা
আগামী কাল শুক্রবার রাত ১২টার মধ্যে ৭ম তাফসীরে অংশগ্রহণ করলে নাম্বার কর্তন করা হবে না। এই সুযোগটি কুরআন প্রেমীরা লুফে নিতে পারেন।
#কুরআন_প্রতিযোগিতা # #করআন #কুরআনপ্রতিযোগিতা #ফেসবুক_কুরআন_প্রতিযোগিতা #তাফসীর
17/06/2026
15/06/2026
আলহামদুলিল্লাহ! বিজয়ীদের বিকাশে প্রাইজমানি পাঠানো সম্পন্ন 📱✨
সোশ্যাল মিডিয়া দাওয়াতুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, আমাদের ফেসবুক কুরআন প্রতিযোগিতার ১ম পর্বের ৫মে তাফসীরে বিজয়ী ২ জনের প্রাইজমানির টাকা আজ বিকাশের মাধ্যমে সফলভাবে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
টাকা পৌঁছে যাওয়া সম্মানিত বিজয়ীগণ:
১. 👤 মো: কামরুজ্জামান (সাতক্ষীরা) — ১০০/- টাকা (বিকাশ)
২. 👤 মাসউদা বিনতে ওয়ায়েজুল্লাহ (ঢাকা) — ১০০/- টাকা (বিকাশ)
বিজয়ীদের এই চমৎকার অর্জন ও সাফল্যের জন্য আমাদের ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আবারও জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আল্লাহ তাআলা আপনাদের দ্বীনি জ্ঞান ও আমলে আরও বেশি বরকত দান করুন। আমিন। 🤲
📍 আয়োজনে: সোশ্যাল মিডিয়া দাওয়াতুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
📞 যোগাযোগ: ০১৯১৩-৩৩৩২৩১
12/06/2026
ফেসবুক কুরআন প্রতিযোগিতা (৯ম পর্ব) : ৭ম তাফসীর ও প্রশ্নপত্র 🎉
✨ বিষয়বস্তু: সূরা আল-ইমরান (আয়াত: ১৩১-১৩২) ✨
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ।
সোশ্যাল মিডিয়া দাওয়াতুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর ৯ম পর্বের ৭ম তাফসীর ক্লাসে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম। গত পর্বে আমরা সুদের সামাজিক কুফল জেনেছি। আজকের আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা সুদ বর্জনের পর জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার তাগিদ এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
📖 মূল আয়াত ও সরল অনুবাদ:
وَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ (১৩১)
অনুবাদ: "আর তোমরা সেই আগুন (জাহান্নাম) থেকে বেঁচে থাকো, যা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।"
وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ (১৩২
অনুবাদ: "এবং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো, যাতে তোমাদের ওপর দয়া বা রহমত করা হয়।"
🔍 তাফসীর ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ:
১. জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার তাগিদ ও সুদের ভয়াবহতা (আয়াত ১৩১):
পূর্ববর্তী আয়াতে (১৩০ নং আয়াত) আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে 'চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ' খেতে নিষেধ করেছেন। তার ঠিক পর পরই এই আয়াতে আল্লাহ বলছেন, "তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাকো।"
তাফসীর ইবনে কাসীর অনুযায়ী, সুদের আয়াতের পর পরই জাহান্নামের ভয় দেখানোর অর্থ হলো—সুদ খাওয়া কাফেরদের স্বভাব। কোনো মুমিন যদি আল্লাহর এই অমোঘ বিধান অমান্য করে সুদের কারবার জারি রাখে, তবে সে কাফেরদের মতো জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হওয়ার উপযুক্ত হয়ে যাবে।
সুদের ওপর হাদিসের কঠোর হুঁশিয়ারি:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "সুদের গুনাহের সত্তরটি স্তর রয়েছে, যার সর্বনিম্ন স্তর হলো আপন মায়ের সাথে ব্যভিচার (জিনা) করার সমতুল্য।" (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২২৭৪)।
হযরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদখোর, সুদদাতা, সুদের চুক্তি লেখক এবং এর সাক্ষীদ্বয়ের ওপর লানত (অভিশাপ) করেছেন এবং বলেছেন, তারা সবাই পাপের দিক থেকে সমান।" (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৯৮)।
২. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য এবং অবাধ্যতার পরিণতি (আয়াত ১৩২):
জাহান্নাম থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে মূল চাবিকাঠি বলে দিয়েছেন। সেটি হলো—আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিঃশর্ত আনুগত্য। এর বিপরীত করলে মানুষের জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়।
আল্লাহর আনুগত্য না করলে (অবাধ্য হলে) ইহকালীন শাস্তি:
বিপর্যয় ও ফেতনা: আল্লাহর বিধান ও রাসূলের সুন্নাহ অমান্য করলে সমাজে ও ব্যক্তিজীবনে অশান্তি, মহামারী ও নানাবিধ ফেতনা ছড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا ۚ قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنْكُمْ لِوَاذًا ۚ فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
"রাসূলের আহ্বানকে তোমরা তোমাদের একে অপরের আহ্বানের মতো গণ্য করো না। আল্লাহ অবশ্যই জানেন তোমাদের মধ্যে যারা একে অপরের আড়ালে লুকিয়ে চুপিসারে কেটে পড়ে। অতএব যারা তাঁর (রাসূলের) আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় (ফেতনা) এসে পড়বে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।" (সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬৩)
দুনিয়াতেই লাঞ্ছনা: ওহোদ যুদ্ধের ময়দানে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর একটি ছোট নির্দেশ (পাহাড়ের গিরিপথ না ছাড়ার নির্দেশ) অমান্য করায় মুসলিম বাহিনীকে সাময়িক কঠিন কুফল ও লাঞ্ছনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এটা প্রমাণ করে, নবীর সামান্য অবাধ্যতাও দুনিয়ার বুকে বড় পরাজয় ও বিপর্যয় ডেকে আনে।
আল্লাহর অবাধ্যতার পরকালীন শাস্তি:
স্থায়ী জান্নাত থেকে বঞ্চনা: كُلُّ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ أَبَى. قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَنْ يَأْبَى؟ قَالَ: مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَبَى
হাদিসের পূর্ণ অর্থ:
"আমার উম্মতের সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত যে অস্বীকার করে। সাহাবীগণ আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কে অস্বীকার করে? তিনি বললেন: যে আমার আনুগত্য করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল, আর যে আমার অবাধ্য হলো সে-ই (জান্নাতে যেতে) অস্বীকার করল।" সহীহ বুখারীর ৭২৮০
জাহান্নামের অনন্ত আগুন: আল্লাহ ও রাসূলের প্রকাশ্য অবাধ্যতাকারী আখেরাতে চরম অপমানিত হবে। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন:
وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ
"আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে, আল্লাহ তাকে আগুনে (জাহান্নামে) প্রবেশ করাবেন; সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং তার জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।" (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৪)।
💡 আজকের তাফসীর থেকে মূল শিক্ষণীয় দিক (Lessons):
১. হারাম উপার্জন ও সুদ কাফেরদের স্বভাব: সুদের মতো জঘন্য হারাম কারবার মানুষকে জাহান্নামের আগুনের দিকে ঠেলে দেয়, যা মূলত কাফেরদের জন্য প্রস্তুত।
২. অবাধ্যতা ধ্বংসের মূল কারণ: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা দুনিয়াতে অশান্তি ও আখেরাতে অনন্ত আজাবের কারণ। জান্নাত পাওয়ার একমাত্র শর্তই হলো নবীর সুন্নাহর নিঃশর্ত অনুসরণ।
৩. বিজয় ও রহমতের চাবিকাঠি আনুগত্য: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পূর্ণাঙ্গ আনুগত্য ছাড়া আখেরাতে মুক্তি এবং দুনিয়ায় আল্লাহর বিশেষ রহমত (رحمة) পাওয়া অসম্ভব।
📝 ৭ম তাফসীর প্রতিযোগিতার প্রশ্নপত্র
🔳 ১ম অংশ: বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ কুইজ)
[মোট নম্বর: ১০] (প্রতিটি প্রশ্নের মান ২ নম্বর)
১. সূরা আল-ইমরানের ১৩১ নং আয়াতে সুদের নিষেধাজ্ঞার পরপরই জাহান্নামের ভয় দেখানোর মূল কারণ কী?
(ক) ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি বৃদ্ধি করা
(খ) সুদ কাফেরদের স্বভাব এবং তা জাহান্নামে নিয়ে যায়—এটি স্পষ্ট করা
(গ) ওহোদ যুদ্ধের কৌশলগত পরিবর্তন আলোচনা করা
(ঘ) মুসলমানদের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করা
২. "যা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে" (সূরা আল-ইমরান: ১৩১)—এই আয়াতাংশটি আকিদাগতভাবে কী প্রমাণ করে?
(ক) জাহান্নাম কেয়ামতের পর তৈরি করা হবে
(খ) জাহান্নাম কেবল সাময়িক একটি ধারণা
(গ) জাহান্নাম বর্তমানেও অস্তিত্বশীল ও অবাধ্যদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে
(ঘ) জাহান্নামে কেবল মুনাফিকরাই প্রবেশ করবে
৩. সহীহ মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী, সুদের অপরাধে রাসূলুল্লাহ ﷺ কোন চার শ্রেণির ব্যক্তির ওপর লানত করেছেন?
(ক) চোর, ডাকাত, মিথ্যাবাদী ও ব্যভিচারী
(খ) সুদখোর, সুদদাতা, সুদের চুক্তি লেখক এবং এর দুই সাক্ষী
(গ) অলস, অহংকারী, কৃপণ ও পরিশ্রমবিমুখ ব্যক্তি
(ঘ) বেনামাজী ও যাকাত না দেওয়া ব্যক্তি
৪. সূরা আন-নূরের ৬৩ নং আয়াত অনুযায়ী, রাসূলের আদেশের অবাধ্য হলে দুনিয়াতে কী শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে?
(ক) ধন-সম্পদ ও ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া
(খ) বড় কোনো ফেতনা (বিপর্যয়) বা যন্ত্রণাদায়ক আজাব গ্রাস করা
(গ) দীর্ঘায়ু ও দুনিয়াবী রাজত্ব লাভ করা
(ঘ) ব্যবসায় আন্তর্জাতিকভাবে সফল হওয়া
৫. সহীহ বুখারীর হাদিস অনুযায়ী, জান্নাতে প্রবেশ করতে কে নিজেই অস্বীকার করে বা বঞ্চনা ডেকে আনে?
(ক) যে ব্যক্তি জিহাদে অংশ নেয়নি
(খ) যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রকাশ্য অবাধ্যতা করে
(গ) যে ব্যক্তি সমাজে অর্থ দান করে না
(ঘ) যে ব্যক্তি দুনিয়াতে দরিদ্র জীবন যাপন করে
🔳 ২য় অংশ: সৃজনশীল প্রশ্ন (বড় প্রশ্ন)
[মোট নম্বর: ১০]
প্রশ্ন: সূরা আল-ইমরানের (১৩১-১৩২) আলোকে সুদের সাথে জাহান্নামের সম্পর্ক আলোচনা করুন। সূরা আন-নূর (৬৩) ও সূরা আন-নিসা (১৪) অনুযায়ী আল্লাহ ও রাসূলের অবাধ্যতার ইহকালীন ও পরকালীন পরিণতি কী? এর আলোকেই ওহোদ যুদ্ধের বিপর্যয় থেকে প্রাপ্ত ঐতিহাসিক শিক্ষাটি ব্যাখ্যা করুন।
শব্দসীমা: অনূর্ধ্ব ৪০০ শব্দের মধ্যে উত্তর লিখতে হবে।
✅ অংশগ্রহণের নিয়মাবলী ✅
❤️❤️ অংশগ্রহণ করার আগে অবশ্যই তাফসীরটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
👉 সঠিক উত্তরগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী লিখুন এবং নির্দিষ্ট লিংকের ইনবক্সে জমা দিন। (১-৫) (যেমন: ১-খ, ২-গ...)
👉 উত্তরপত্রের সাথে নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, ঠিকানা ও এ্যাম ক্যাশ/নগদ/বিকাশ সম্বলিত মোবাইল নাম্বার এবং কততম তাফসীর তা অবশ্যই যুক্ত করতে হবে।
👉 পোস্টটি শেয়ার করে অন্যদের অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে এবং কমেন্ট করে কনফার্ম করতে হবে।
👉 সঠিক উত্তরদাতাদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হবে তবে দুইজনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। যারা পাবেন ১০০+১০০ টাকার (এমক্যাশ/নগদ/বিকাশ পেমেন্ট) পুরস্কার।
👉 ৩০টি তাফসীর ও কুইজ শেষ হলে ৯ম পর্বের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে। ৯ম পর্বের চূড়ান্ত ফলাফলে মেধাক্রম অনুসারে ১০ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।
👉 প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হবে মোট ৩টি ইভেন্টে:
✅ আর্টিকেল (১টি) ২৫০০ শব্দের মধ্যে
✅ অডিও কুরআন তেলাওয়াত (১০ আয়াত)
👉 উত্তর জমা দিতে হবে ১২/০৫/২৬ রাত ১২টার মধ্যে নিম্নের পেজের ইনবক্সে: https://www.facebook.com/share/1TX1RthBzp/
👉 উত্তর জমা দিয়ে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে হবে।
।
⚠️ উত্তরপত্র জমাদানের নিয়ম ও শেষ সময়:
উত্তরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়: ১৬/০৬/২০২৬ইং (১০ই জুন, ২০২৬) রাত ১২টার মধ্যে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: নিয়মানুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের পরে কোনো উত্তরপত্র জমা দিলে মূল্যায়ন খাতা থেকে সরাসরি ২ নম্বর কর্তন (মাইনাস) করা হবে।
কুরআনী ভালোবাসায় আপনাদের অপেক্ষায়—
ডাঃ হাফেজ মাওলানা মোঃ সাইফুল্লাহ মানসুর
চেয়ারম্যান, সোশ্যাল মিডিয়া দাওয়াতুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
09/06/2026
🎉 আলহামদুলিল্লাহ! ফেসবুক কুরআন প্রতিযোগিতা (৯ম পর্ব) : ১ম থেকে ৬ষ্ঠ তাফসীরের চূড়ান্ত গ্র্যান্ড সমন্বিত স্কোরবোর্ড 🎉
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ।
সোশ্যাল মিডিয়া দাওয়াতুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে ৯ম পর্বের এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম এবং ৬ষ্ঠ তাফসীর প্রতিযোগিতার প্রাপ্ত নম্বর একত্রিত করে চূড়ান্ত মেগা স্কোরবোর্ড প্রকাশ করা হলো। অফিসিয়াল খাতা ও ব্যানার অনুযায়ী সকল নম্বর নির্ভুলভাবে পুনর্বিন্যাস করে মেধা স্থানসমূহ চূড়ান্ত করা হয়েছে:
🏆 ১ম থেকে ৬ষ্ঠ তাফসীরের চূড়ান্ত সমন্বিত মেগা মেধা তালিকা 🏆
১. মোমেনা ইসলাম (ঢাকা)
১ম: ২০ | ২য়: ২০ | ৩য়: ২০ | ৪র্থ: ২০ | ৫ম: ২০ | ৬ষ্ঠ: ১৮.৫
✨ সর্বমোট নম্বর: ১১৮.৫ (অবস্থান: ১ম)
২. তাসমিয়া ফেরদৌস (যশোর)
১ম: ১৮ | ২য়: ১৯.৭৫ | ৩য়: ২০ | ৪র্থ: ২০ | ৫ম: ২০ | ৬ষ্ঠ: ২০
✨ সর্বমোট নম্বর: ১১৭.৭৫ (অবস্থান: ২য়)
৩. মুনতাজার আহমেদ বিন মাহদী (নোয়াখালী)
১ম: ২০ | ২য়: ২০ | ৩য়: ১৭.৫ | ৪র্থ: ২০ | ৫ম: ১৮ | ৬ষ্ঠ: ২০
✨ সর্বমোট নম্বর: ১১৫.৫ (অবস্থান: ৩য়)
৪. মোঃ ইসলামুল হক (খুলনা)
১ম: ১৬ | ২য়: -- | ৩য়: ২০ | ৪র্থ: ২০ | ৫ম: ১৮ | ৬ষ্ঠ: ২০
✨ সর্বমোট নম্বর: ৯৪.০০ (অবস্থান: ৪র্থ)
৫. সাব্বির তরফদার (বাগেরহাট)
১ম: ২০ | ২য়: ১৯.৭৫ | ৩য়: ১২ | ৪র্থ: ২০ | ৫ম: ২০ | ৬ষ্ঠ: --
✨ সর্বমোট নম্বর: ৯১.৭৫ (অবস্থান: ৫ম)
৬. মোসাম্মৎ জোবায়দা জেসমিন যুথি (ঢাকা)
১ম: -- | ২য়: ১৯.৫ | ৩য়: ২০ | ৪র্থ: ২০ | ৫ম: ২০ | ৬ষ্ঠ: --
✨ সর্বমোট নম্বর: ৮৯.৫ (অবস্থান: ৬ষ্ঠ)
৭. আম্বিয়া খাতুন (যশোর)
১ম: -- | ২য়: ১৯.৭৫ | ৩য়: ১৮.৫ | ৪র্থ: ২০ | ৫ম: ২০ | 6ষ্ঠ: --
✨ সর্বমোট নম্বর: ৭৮.২৫ (অবস্থান: ৭ম)
৮. হোছনে আরা (চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ)
১ম: -- | ২য়: -- | ৩য়: ২০ | ৪র্থ: ২০ | ৫ম: ১৭.৫ | ৬ষ্ঠ: ১৯.৫
✨ সর্বমোট নম্বর: ৭৭.০০ (অবস্থান: ৮ম)
৯. উম্মে হামীমা (মাদারীপুর)
১ম: ২০ | ২য়: ১৮.৫ | ৩য়: ১৯.৫ | ৪র্থ: ১৮ | ৫ম: -- | ৬ষ্ঠ: --
✨ সর্বমোট নম্বর: ৭৬.০০ (অবস্থান: ৯ম)
১০. মোহাম্মদ কামারুজ্জামান (শ্যামনগর, সাতক্ষيرة)
১ম: -- | ২য়: -- | ৩য়: ১৮ | ৪র্থ: ২০ | ৫ম: ২০ | ৬ষ্ঠ: ৯.৫
✨ সর্বমোট নম্বর: ৬৭.৫ (অবস্থান: ১০ম)
১১. মাসউদা বিনতে ওয়ায়েজুল্লাহ / মাসউদা সুলতানা (ঢাকা/খুলনা)
১ম: -- | ২য়: -- | ৩য়: -- | ৪র্থ: ২০ | ৫ম: ২০ | ৬ষ্ঠ: ২০
✨ সর্বমোট নম্বর: ৬০.০০ (অবস্থান: ১১শ)
১২. আফসানা মরিয়ম ইতু (নোয়াখালী)
১ম: ১৬ | ২য়: -- | ৩য়: -- | ৪র্থ: ১৭.৫ | ৫ম: ১৮ | ৬ষ্ঠ: --
✨ সর্বমোট নম্বর: ৫১.৫
১৩. জিনিয়া (কিশোরগঞ্জ)
১ম: -- | ২য়: -- | ৩য়: ১৯ | ৪র্থ: ২০ | ৫ম: -- | ৬ষ্ঠ: --
✨ সর্বমোট নম্বর: ৩৯.০০ (অবস্থান: ১৩শ)
১৪. রিনা খাতুন (ID: ২০০)
১ম: ২০ | ২য়: -- | ৩য়: -- | ৪র্থ: -- | ৫ম: -- | ৬ষ্ঠ: --
✨ সর্বমোট নম্বর: ২০.০০ (অবস্থান: ১৪শ)
১৫. মোঃ আলামিন (রাজশাহী)
১ম: ২০ | ২য়: -- | ৩য়: -- | ৪র্থ: -- | ৫ম: -- | ৬ষ্ঠ: --
✨ সর্বমোট নম্বর: ২০.০০ (অবস্থান: ১৪শ)
১৬. তানিয়া সুলতানা (রাজশাহী)
১ম: -- | ২য়: -- | ৩য়: -- | ৪র্থ: ২০ | ৫ম: -- | ৬ষ্ঠ: --
✨ সর্বমোট নম্বর: ২০.০০ (অবস্থান: ১৪শ)
十七. বিনতে জামাল
১ম: -- | ২য়: ১৮.৭৫ | ৩য়: -- | ৪র্থ: -- | ৫ম: -- | ৬ষ্ঠ: --
✨ সর্বমোট নম্বর: ১৮.৭৫ (অবস্থান: ১৫শ)
১৮. কাজী আশরাফুর রহমান
১ম: ১৮ | ২য়: -- | ৩য়: -- | ৪র্থ: -- | ৫ম: -- | ৬ষ্ঠ: --
✨ সর্বমোট নম্বর: ۱৮.০০ (অবস্থান: ১৬শ)
১৯. জান্নাতি বিনতে হায়
১ম: ০৮ | ২য়: -- | ৩য়: -- | ৪র্থ: -- | ৫ম: -- | ৬ষ্ঠ: --
✨ সর্বমোট নম্বর: ০৮.০০ (অবস্থান: ১৭শ)
বিঃদ্রঃ কারো নাম্বার তালিকায় যুক্ত না হলে ইনবক্সে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
🤝 ফাউন্ডেশনের বিশেষ বার্তা ও আকুল আহ্বান:
সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ঘরে ঘরে পবিত্র কুরআনের নূরানী আলো পৌঁছে দেওয়ার এই দীর্ঘ ৯ বছরের (২০১৭-২০২৬) পথচলাকে আরও সুসংগঠিত করতে আমরা ৩১৩ জন স্থায়ী মেম্বার সংগ্রহ করছি। আমাদের মূল অফিশিয়াল ডিভাইসটি হারিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে নিয়মিত কুইজ ও মানসম্মত ইসলামিক কনটেন্ট উপস্থাপনা করতে আমাদের অত্যন্ত কষ্ট হচ্ছে। কুরআনের এই প্রচারণার কাজ সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে একটি ল্যাপটপ এবং একটি ক্যামেরা প্রয়োজন। আপনারা মেম্বারশিপ রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই ল্যাপটপ ও ক্যামেরা ক্রয়ের ফান্ডে সামান্য অনুদান পাঠিয়ে পরকালের পাথেয় (সাদাকায়ে جاریয়া) অর্জন করতে পারেন।
💰 আর্থিক অনুদান পাঠানোর মাধ্যম:
📱 বিকাশ + নগদ (ব্যক্তিগত নম্বর): ০১৯১৩-৩৩৩২৩১
🏦 ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি | অ্যাকাউন্ট নম্বর: 20503160201086802 | শাখা: খুলনা কেডিএ শাখা
কুরআনী ভালোবাসায় আপনাদের পাশে—
ডাঃ হাফেজ মাওলানা মোঃ সাইফুল্লাহ মানসুর
চেয়ারম্যান, সোশ্যাল মিডিয়া দাওয়াতুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।
06/06/2026
🎉 আলহামদুলিল্লাহ! ফেসবুক কুরআন প্রতিযোগিতা (৯ম পর্ব) : ৬ষ্ঠ তাফসীরের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা 🎉
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ।
সোশ্যাল মিডিয়া দাওয়াতুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে সকল দ্বীনি ভাই ও বোনদের জানাই আন্তরিক মোবারকবাদ। সূরা আল-ইমরানের ১২৯ ও ১৩০ নম্বর আয়াতের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত আমাদের ৬ষ্ঠ তাফসীর প্রতিযোগিতাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ!
এবারের প্রতিযোগিতায় প্রতিটি খাতা অত্যন্ত সূক্ষ্ম, কঠোর এবং গবেষণাধর্মী নিয়ম (সর্বোচ্চ ৪০০-৫০০ শব্দসীমা) মেনে মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিযোগীদের গভীর জ্ঞান, চমৎকার রেফারেন্স এবং আরবী ইবারতের সঠিক ব্যবহার আমাদের মুগ্ধ করেছে।
নিচে মেধা তালিকা অনুযায়ী চূড়ান্ত ফলাফল ও রেজাল্ট শিট প্রকাশ করা হলো:
📊 ৬ষ্ঠ তাফসীর প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত মেরিট লিস্ট (Result Sheet)
১ম (যৌথ) : মুনতাজার আহমেদ বিন মাহদী (নোয়াখালী)
কুইজ: ১০ | বড় প্রশ্ন: ১০ | সর্বমোট: ২০ | গ্রেড: A+
১ম (যৌথ) : তাসমিয়া ফেরদৌস (যশোর)
কুইজ: ১০ | বড় প্রশ্ন: ১০ | সর্বমোট: ২০ | গ্রেড: A+
১ম (যৌথ) : ইসলামুল হক (খুলনা)
কুইজ: ১০ | বড় প্রশ্ন: ১০ | সর্বমোট: ২০ | গ্রেড: A+
১ম (যৌথ) : মাসউদা বিনতে উবায়েদুল্লাহ (ঢাকা)
কুইজ: ১০ | বড় প্রশ্ন: ১০ | সর্বমোট: ২০ | গ্রেড: A+
২য় (যৌথ) : হোছনে আরা (চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ)
কুইজ: ১০ | বড় প্রশ্ন: ৯.৫ | সর্বমোট: ১৯.৫ | গ্রেড: A
২য় (যৌথ) : মোহাম্মদ কামারুজ্জামান (শ্যামনগর, সাতক্ষীরা)
কুইজ: ১০ | বড় প্রশ্ন: ৯.৫ | সর্বমোট: ১৯.৫ | গ্রেড: A
৩য় : মোমেনা ইসলাম (ঢাকা)
কুইজ: ১০ | বড় প্রশ্ন: ৮.৫ | সর্বমোট: ১৮.৫ | গ্রেড: A-
📝 প্রতিযোগীদের খাতা খতিয়ান ও বিচারকদের মন্তব্য (Remarks)
🏆 মুনতাজার আহমেদ বিন মাহদী (নোয়াখালী):
তাফসীর ইবনে কাসীর ও মা'আরিফুল কুরআনের রেফারেন্সসহ আপনার শব্দসীমা (৪৫৮ শব্দ) ছিল সম্পূর্ণ নিখুঁত। অসাধারণ ও সাবলীল উপস্থাপনার জন্য আপনি পূর্ণ নম্বর পেয়েছেন। মারহাবা!
🏆 তাসমিয়া ফেরদৌস (যশোর):
আপনার উত্তরটি ছিল এক কথায় অনন্য। ৪০৪ শব্দের মধ্যে আপনি যেভাবে সূক্ষ্ম অর্থনৈতিক পয়েন্ট এবং সঠিক হাদিস ফুটিয়ে তুলেছেন, তা একজন পরিপক্ক গবেষকের পরিচায়ক। অভিনন্দন!
🏆 ইসলামুল হক (খুলনা):
৪১১ শব্দের পরিমিত অবয়বে আপনার চমৎকার সাহিত্যিক ও প্রফেশনাল ভাষা আমাদের মন কেড়েছে। কোনো সাব-হেডিং বাদ না দিয়ে চমৎকার ভারসাম্য বজায় রেখেছেন। শুভকামনা!
🏆 মাসউদা সুলতানা:
আপনার খাতার প্রতিটি পাতায় স্পষ্ট ও সুন্দর হস্তাক্ষরে আরবী টেক্সটের নিখুঁত ব্যবহার (ফাদজানু বি হারবিম...) খাতার মানকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ৪১১ শব্দের অনন্য উপস্থাপনা ছিল এটি। মোবারকবাদ!
🏅 হোছনে আরা (হবিগঞ্জ):
আপনার উত্তরে সূরা তালাকের ২-৩ নম্বর আয়াতের গভীর সংযোগ ঘটানো অত্যন্ত উচ্চমানের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ছিল। মাত্র ৮টি শব্দ কম হওয়ার কারণে (৩৯২ শব্দ) সামান্য নম্বর কাটা গেলেও আপনার খাতাটি ছিল সেরাগুলোর একটি!
🏅 মোহাম্মদ কামারুজ্জামান (সাতক্ষীরা):
ড. ইসরার আহমদ, উমর চাপরা এবং 'Behavioral Economics'-এর আধুনিক বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের অবতারণা করে আপনার উত্তরটি ডক্টরেট লেভেলের রূপ পেয়েছিল। শব্দসংখ্যা (৫৪০ শব্দ) সামান্য বেশি হওয়ায় নীতিগত কারণে ০.৫ নম্বর কাটা গেলেও আপনার জ্ঞান আমাদের ঋণী করেছে। জাযাকাল্লাহ!
🏅 মোমেনা ইসলাম (ঢাকা):
আপনার আরবী ক্যালিগ্রাফি এবং সুদের কুফল বর্ণনার ধরণটি খুব সুন্দর ছিল। তবে নির্ধারিত শব্দসীমা থেকে অনেক কম (২৫৭ শব্দ) হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী নম্বর কিছু কমলেও আপনার দ্বীনি প্রচেষ্টা অত্যন্ত প্রশংসনীয়!
🎁 বিজয়ীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা ও পরবর্তী করণীয়:
নিয়মানুযায়ী প্রথম ৪ জন যৌথভাবে ১ম স্থান অধিকার করায় এবং পরবর্তী প্রতিযোগীদের নম্বর খুব কাছাকাছি থাকায়, চূড়ান্ত ১০০/- টাকা বিকাশ প্রাইজমানি উপহারের জন্য খুব শীঘ্রই লাইভ লটারির (ড্র) মাধ্যমে ২ জন ভাগ্যবানের নাম ঘোষণা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
আসুন, কুরআনের এই মহাসড়কে আমরা বদরের ৩১৩ জন বীরের প্রেরণা নিয়ে এগিয়ে চলি। আমাদের স্থায়ী মেম্বারশিপের কাফেলায় শামিল হতে এবং হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ-ক্যামেরা ক্রয়ের ফান্ডে আপনাদের সাদাকায়ে জারিয়ার অবদান নিশ্চিত করতে আমাদের পেজের পিন করা পোস্টে নজর রাখুন।
💰 ল্যাপটপ, ক্যামেরা ক্রয় ও ফাউন্ডেশনের আর্থিক অনুদান পাঠানোর মাধ্যম:
আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো অংকের অনুদান পাঠিয়ে কুরআনের প্রচারণায় শরিক হতে পারেন:
📱 বিকাশ + নগদ (ব্যক্তিগত নম্বর): ০১৯১৩-৩৩৩২৩১
🏦 ব্যাংক অ্যাকাউন্ট:
ব্যাংক: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি
অ্যাকাউন্ট নম্বর: 20503160201086802
শাখা: খুলনা কেডিএ শাখা
(টাকা পাঠানোর পর অনুগ্রহ করে ইনবক্সে বা কমেন্টে লাস্ট নম্বরটি জানিয়ে নিশ্চিত করুন)
কুরআনী ভালোবাসায় আপনাদের পাশে—
ডাঃ হাফেজ মাওলানা মোঃ সাইফুল্লাহ মানসুর
চেয়ারম্যান,
সো্যাল মিডিয়া দাওয়াতুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।
29/05/2026
# # জুমার বিশেষ বয়ান ও খুতবা নোট
আলোচনার বিষয়: আইয়ামে তাশরীকের তাৎপর্য, ঐতিহাসিক ঘটনাবলী ও সমসাময়িক করণীয়
খতিব: ডাঃ হাফেজ মাওলানা মোঃ সাইফুল্লাহ মানসুর
মসজিদ: নিউ টাউন জামে মসজিদ, লবণচরা, খুলনা।
------------------------------
বِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ।
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের, যিনি আমাদের পবিত্র জিলহজ্জ মাসের ১২ তারিখ, অর্থাৎ জুমার এই বরকতময় দিনে একত্রিত হওয়ার তৌফিক দান করেছেন। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক মানবতার মুক্তির দূত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি।
আজ জিলহজ্জ মাসের ১২ তারিখ— যা আইয়ামে তাশরীকের দ্বিতীয় দিন এবং কুরবানির শেষ দিন। ইসলামের ইতিহাসে এবং আজকের এই সময়ে আমাদের জন্য এই দিনগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। আসুন, এই দিনটিকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক ঘটনা ও আমাদের করণীয়গুলো সংক্ষেপে জেনে নিই:
------------------------------
# # ১. নমরুদের আগুন ও হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর অলৌকিক মুক্তি
মুফাসসিরিনে কেরাম ও ঐতিহাসিকদের মতে, জিলহজ্জ মাসের এই দিনগুলোতেই নমরুদ হযরত ইব্রাহীম (আ.)-কে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার জন্য বিশাল অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করেছিল। কিন্তু আল্লাহর ওপর তাঁর অবিচল ভরসার কারণে অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল।
* আল্লাহর কুদরতি নির্দেশ:
{قُلْنَا يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ}
অর্থ: "আমি বললাম, হে আগুন! তুমি ইব্রাহীমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।" (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৬৯)
* বিপদে ইব্রাহীম (আ.)-এর ভরসা:
«عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ، قَالَهَا إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ حِينَ أُلْقِيَ فِي النَّارِ»
অর্থ: "হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: 'হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকীল' (আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক)— এই দোয়াটি হযরত ইব্রাহীম (আ.) তখন পাঠ করেছিলেন, যখন তাঁকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করা হয়েছিল।" (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৪৫৬৩)
আল্লাহর নির্দেশে সেই বিধ্বংসী আগুন হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর জন্য একটি আরামদায়ক শান্তিময় বাগানে পরিণত হয়েছিল।
------------------------------
# # ২. মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের ঐতিহাসিক ঘটনা
কুরবানির সফরে শয়তান যখন হযরত ইব্রাহীম (আ.)-কে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করার কুপ্ররোচনা দিচ্ছিল, তখন তিনি এই দিনগুলোতে মিনার তিনটি স্থানে শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে মেরেছিলেন।
«لَمَّا أَتَى إِبْرَاهِيمُ خَلِيلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَنَاسِكَ عَرَضَ لَهُ الشَّيْطَانُ عِنْدَ جَمْرَةِ الْعَقَبَةِ، فَرَجَمَهُ بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ حَتَّى سَاخَ فِي الْأَرْضِ...»
অর্থ: "আল্লাহর খলীল হযরত ইব্রাহীম (আ.) যখন হজ্জের মানাসিক আদায়ের জন্য আসলেন, তখন জামরাতুুল আকাবায় শয়তান তাঁর সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াল। তিনি তাকে সাতটি পাথর মারলেন, ফলে সে মাটিতে ধসে গেল..." (আল-মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন, হাদীস: ৩৩৮৮)
সেই ঘটনার স্মৃতি রক্ষার্থেই আজ সারা বিশ্ব থেকে যাওয়া হাজীরা মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করছেন।
------------------------------
# # ৩. বিদায় হজ্জের ভাষণ ও পারস্পরিক সম্প্রীতি
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জের সময়ে এই আইয়ামে তাশরীকের দিনগুলোতে মিনার ময়দানে দাঁড়িয়ে মানবজাতির পারস্পরিক অধিকার নিয়ে ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন:
«إlnَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ بَيْنَكُمْ حَرَامٌ، كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا، فِي شَهْرِكُمْ هَذَا، فِي بَلَدِكُمْ هَذَا»
অর্থ: "নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত (জীবন), তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের ইজ্জত-সম্মান একে অপরের জন্য ঠিক তেমনি হারাম ও পবিত্র; যেমন পবিত্র তোমাদের আজকের এই দিন, তোমাদের এই মাস এবং তোমাদের এই শহর।" (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৬৭)
------------------------------
# # ৪. আজকের দিনের জরুরি করণীয় ও মাসআলাসমূহ
* তাকবীরে তাশরীক জারি রাখা: গত ৯ জিলহজ্জ ফজর থেকে শুরু হওয়া ওয়াজিব তাকবীরে তাশরীক আগামীকাল ১৩ জিলহজ্জ আসর নামাজ পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাজের পর পুরুষদের উচ্চস্বরে এবং নারীদের নিম্নস্বরে একবার পাঠ করা ওয়াজিব।
* কুরবানির শেষ সুযোগ: আজ ১২ জিলহজ্জ কুরবানির শেষ দিন। আজ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা পশু কুরবানি করতে পারবেন।
* রোজা রাখার নিষেধাজ্ঞা: আজসহ আগামীকালের দিনটি আল্লাহ তাআলার বিশেষ মেহমানদারির দিন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
«أَيَّامُ التَّشْرِيقِ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ وَذِكْرٍ لِلَّهِ»
অর্থ: "আইয়ামে তাশরীক হলো মূলত খাওয়া, পান করা এবং মহান আল্লাহর জিকির করার দিন।" (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১১৪১)। তাই এই দিনগুলোতে রোজা রাখা সম্পূর্ণ হারাম।
------------------------------
# # ৫. আমাদের সামাজিক দায়িত্ব ও পরিচ্ছন্নতা (বিশেষ আহ্বান)
ঈদের আজ তৃতীয় দিন। আমাদের নিউ টাউন ও লবণচরা এলাকার সকল মুসলিম ভাইদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ— কুরবানির পর পশুর বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলে রাখবেন না। দ্রুত বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে অপসারণ করুন, ব্লিচিং পাউডার বা স্যাভলন পানি দিয়ে কুরবানির স্থান ধুয়ে পরিষ্কার করুন। আপনার কারণে যেন কোনো প্রতিবেশী বা পথচারী দুর্গন্ধের কষ্টে না ভোগেন। কারণ, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা ঈমানের অঙ্গ।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবার কুরবানি, জিকির ও নেক আমলসমূহ কবুল করুন। আমীন।