12/06/2026
ফেসবুক কুরআন প্রতিযোগিতা (৯ম পর্ব) : ৭ম তাফসীর ও প্রশ্নপত্র 🎉
✨ বিষয়বস্তু: সূরা আল-ইমরান (আয়াত: ১৩১-১৩২) ✨
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ।
সোশ্যাল মিডিয়া দাওয়াতুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর ৯ম পর্বের ৭ম তাফসীর ক্লাসে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম। গত পর্বে আমরা সুদের সামাজিক কুফল জেনেছি। আজকের আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা সুদ বর্জনের পর জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার তাগিদ এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
📖 মূল আয়াত ও সরল অনুবাদ:
وَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ (১৩১)
অনুবাদ: "আর তোমরা সেই আগুন (জাহান্নাম) থেকে বেঁচে থাকো, যা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।"
وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ (১৩২
অনুবাদ: "এবং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো, যাতে তোমাদের ওপর দয়া বা রহমত করা হয়।"
🔍 তাফসীর ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ:
১. জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার তাগিদ ও সুদের ভয়াবহতা (আয়াত ১৩১):
পূর্ববর্তী আয়াতে (১৩০ নং আয়াত) আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে 'চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ' খেতে নিষেধ করেছেন। তার ঠিক পর পরই এই আয়াতে আল্লাহ বলছেন, "তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাকো।"
তাফসীর ইবনে কাসীর অনুযায়ী, সুদের আয়াতের পর পরই জাহান্নামের ভয় দেখানোর অর্থ হলো—সুদ খাওয়া কাফেরদের স্বভাব। কোনো মুমিন যদি আল্লাহর এই অমোঘ বিধান অমান্য করে সুদের কারবার জারি রাখে, তবে সে কাফেরদের মতো জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হওয়ার উপযুক্ত হয়ে যাবে।
সুদের ওপর হাদিসের কঠোর হুঁশিয়ারি:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "সুদের গুনাহের সত্তরটি স্তর রয়েছে, যার সর্বনিম্ন স্তর হলো আপন মায়ের সাথে ব্যভিচার (জিনা) করার সমতুল্য।" (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২২৭৪)।
হযরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদখোর, সুদদাতা, সুদের চুক্তি লেখক এবং এর সাক্ষীদ্বয়ের ওপর লানত (অভিশাপ) করেছেন এবং বলেছেন, তারা সবাই পাপের দিক থেকে সমান।" (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৯৮)।
২. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য এবং অবাধ্যতার পরিণতি (আয়াত ১৩২):
জাহান্নাম থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে মূল চাবিকাঠি বলে দিয়েছেন। সেটি হলো—আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিঃশর্ত আনুগত্য। এর বিপরীত করলে মানুষের জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়।
আল্লাহর আনুগত্য না করলে (অবাধ্য হলে) ইহকালীন শাস্তি:
বিপর্যয় ও ফেতনা: আল্লাহর বিধান ও রাসূলের সুন্নাহ অমান্য করলে সমাজে ও ব্যক্তিজীবনে অশান্তি, মহামারী ও নানাবিধ ফেতনা ছড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا ۚ قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنْكُمْ لِوَاذًا ۚ فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
"রাসূলের আহ্বানকে তোমরা তোমাদের একে অপরের আহ্বানের মতো গণ্য করো না। আল্লাহ অবশ্যই জানেন তোমাদের মধ্যে যারা একে অপরের আড়ালে লুকিয়ে চুপিসারে কেটে পড়ে। অতএব যারা তাঁর (রাসূলের) আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় (ফেতনা) এসে পড়বে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।" (সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬৩)
দুনিয়াতেই লাঞ্ছনা: ওহোদ যুদ্ধের ময়দানে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর একটি ছোট নির্দেশ (পাহাড়ের গিরিপথ না ছাড়ার নির্দেশ) অমান্য করায় মুসলিম বাহিনীকে সাময়িক কঠিন কুফল ও লাঞ্ছনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এটা প্রমাণ করে, নবীর সামান্য অবাধ্যতাও দুনিয়ার বুকে বড় পরাজয় ও বিপর্যয় ডেকে আনে।
আল্লাহর অবাধ্যতার পরকালীন শাস্তি:
স্থায়ী জান্নাত থেকে বঞ্চনা: كُلُّ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ أَبَى. قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَنْ يَأْبَى؟ قَالَ: مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَبَى
হাদিসের পূর্ণ অর্থ:
"আমার উম্মতের সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত যে অস্বীকার করে। সাহাবীগণ আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কে অস্বীকার করে? তিনি বললেন: যে আমার আনুগত্য করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল, আর যে আমার অবাধ্য হলো সে-ই (জান্নাতে যেতে) অস্বীকার করল।" সহীহ বুখারীর ৭২৮০
জাহান্নামের অনন্ত আগুন: আল্লাহ ও রাসূলের প্রকাশ্য অবাধ্যতাকারী আখেরাতে চরম অপমানিত হবে। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন:
وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ
"আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে, আল্লাহ তাকে আগুনে (জাহান্নামে) প্রবেশ করাবেন; সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং তার জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।" (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৪)।
💡 আজকের তাফসীর থেকে মূল শিক্ষণীয় দিক (Lessons):
১. হারাম উপার্জন ও সুদ কাফেরদের স্বভাব: সুদের মতো জঘন্য হারাম কারবার মানুষকে জাহান্নামের আগুনের দিকে ঠেলে দেয়, যা মূলত কাফেরদের জন্য প্রস্তুত।
২. অবাধ্যতা ধ্বংসের মূল কারণ: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা দুনিয়াতে অশান্তি ও আখেরাতে অনন্ত আজাবের কারণ। জান্নাত পাওয়ার একমাত্র শর্তই হলো নবীর সুন্নাহর নিঃশর্ত অনুসরণ।
৩. বিজয় ও রহমতের চাবিকাঠি আনুগত্য: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পূর্ণাঙ্গ আনুগত্য ছাড়া আখেরাতে মুক্তি এবং দুনিয়ায় আল্লাহর বিশেষ রহমত (رحمة) পাওয়া অসম্ভব।
📝 ৭ম তাফসীর প্রতিযোগিতার প্রশ্নপত্র
🔳 ১ম অংশ: বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ কুইজ)
[মোট নম্বর: ১০] (প্রতিটি প্রশ্নের মান ২ নম্বর)
১. সূরা আল-ইমরানের ১৩১ নং আয়াতে সুদের নিষেধাজ্ঞার পরপরই জাহান্নামের ভয় দেখানোর মূল কারণ কী?
(ক) ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি বৃদ্ধি করা
(খ) সুদ কাফেরদের স্বভাব এবং তা জাহান্নামে নিয়ে যায়—এটি স্পষ্ট করা
(গ) ওহোদ যুদ্ধের কৌশলগত পরিবর্তন আলোচনা করা
(ঘ) মুসলমানদের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করা
২. "যা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে" (সূরা আল-ইমরান: ১৩১)—এই আয়াতাংশটি আকিদাগতভাবে কী প্রমাণ করে?
(ক) জাহান্নাম কেয়ামতের পর তৈরি করা হবে
(খ) জাহান্নাম কেবল সাময়িক একটি ধারণা
(গ) জাহান্নাম বর্তমানেও অস্তিত্বশীল ও অবাধ্যদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে
(ঘ) জাহান্নামে কেবল মুনাফিকরাই প্রবেশ করবে
৩. সহীহ মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী, সুদের অপরাধে রাসূলুল্লাহ ﷺ কোন চার শ্রেণির ব্যক্তির ওপর লানত করেছেন?
(ক) চোর, ডাকাত, মিথ্যাবাদী ও ব্যভিচারী
(খ) সুদখোর, সুদদাতা, সুদের চুক্তি লেখক এবং এর দুই সাক্ষী
(গ) অলস, অহংকারী, কৃপণ ও পরিশ্রমবিমুখ ব্যক্তি
(ঘ) বেনামাজী ও যাকাত না দেওয়া ব্যক্তি
৪. সূরা আন-নূরের ৬৩ নং আয়াত অনুযায়ী, রাসূলের আদেশের অবাধ্য হলে দুনিয়াতে কী শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে?
(ক) ধন-সম্পদ ও ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া
(খ) বড় কোনো ফেতনা (বিপর্যয়) বা যন্ত্রণাদায়ক আজাব গ্রাস করা
(গ) দীর্ঘায়ু ও দুনিয়াবী রাজত্ব লাভ করা
(ঘ) ব্যবসায় আন্তর্জাতিকভাবে সফল হওয়া
৫. সহীহ বুখারীর হাদিস অনুযায়ী, জান্নাতে প্রবেশ করতে কে নিজেই অস্বীকার করে বা বঞ্চনা ডেকে আনে?
(ক) যে ব্যক্তি জিহাদে অংশ নেয়নি
(খ) যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রকাশ্য অবাধ্যতা করে
(গ) যে ব্যক্তি সমাজে অর্থ দান করে না
(ঘ) যে ব্যক্তি দুনিয়াতে দরিদ্র জীবন যাপন করে
🔳 ২য় অংশ: সৃজনশীল প্রশ্ন (বড় প্রশ্ন)
[মোট নম্বর: ১০]
প্রশ্ন: সূরা আল-ইমরানের (১৩১-১৩২) আলোকে সুদের সাথে জাহান্নামের সম্পর্ক আলোচনা করুন। সূরা আন-নূর (৬৩) ও সূরা আন-নিসা (১৪) অনুযায়ী আল্লাহ ও রাসূলের অবাধ্যতার ইহকালীন ও পরকালীন পরিণতি কী? এর আলোকেই ওহোদ যুদ্ধের বিপর্যয় থেকে প্রাপ্ত ঐতিহাসিক শিক্ষাটি ব্যাখ্যা করুন।
শব্দসীমা: অনূর্ধ্ব ৪০০ শব্দের মধ্যে উত্তর লিখতে হবে।
✅ অংশগ্রহণের নিয়মাবলী ✅
❤️❤️ অংশগ্রহণ করার আগে অবশ্যই তাফসীরটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
👉 সঠিক উত্তরগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী লিখুন এবং নির্দিষ্ট লিংকের ইনবক্সে জমা দিন। (১-৫) (যেমন: ১-খ, ২-গ...)
👉 উত্তরপত্রের সাথে নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, ঠিকানা ও এ্যাম ক্যাশ/নগদ/বিকাশ সম্বলিত মোবাইল নাম্বার এবং কততম তাফসীর তা অবশ্যই যুক্ত করতে হবে।
👉 পোস্টটি শেয়ার করে অন্যদের অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে এবং কমেন্ট করে কনফার্ম করতে হবে।
👉 সঠিক উত্তরদাতাদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হবে তবে দুইজনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। যারা পাবেন ১০০+১০০ টাকার (এমক্যাশ/নগদ/বিকাশ পেমেন্ট) পুরস্কার।
👉 ৩০টি তাফসীর ও কুইজ শেষ হলে ৯ম পর্বের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে। ৯ম পর্বের চূড়ান্ত ফলাফলে মেধাক্রম অনুসারে ১০ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।
👉 প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হবে মোট ৩টি ইভেন্টে:
✅ আর্টিকেল (১টি) ২৫০০ শব্দের মধ্যে
✅ অডিও কুরআন তেলাওয়াত (১০ আয়াত)
👉 উত্তর জমা দিতে হবে ১২/০৫/২৬ রাত ১২টার মধ্যে নিম্নের পেজের ইনবক্সে: https://www.facebook.com/share/1TX1RthBzp/
👉 উত্তর জমা দিয়ে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে হবে।
।
⚠️ উত্তরপত্র জমাদানের নিয়ম ও শেষ সময়:
উত্তরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়: ১৬/০৬/২০২৬ইং (১০ই জুন, ২০২৬) রাত ১২টার মধ্যে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: নিয়মানুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের পরে কোনো উত্তরপত্র জমা দিলে মূল্যায়ন খাতা থেকে সরাসরি ২ নম্বর কর্তন (মাইনাস) করা হবে।
কুরআনী ভালোবাসায় আপনাদের অপেক্ষায়—
ডাঃ হাফেজ মাওলানা মোঃ সাইফুল্লাহ মানসুর
চেয়ারম্যান, সোশ্যাল মিডিয়া দাওয়াতুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ