ইংরেজি শব্দের কিছু উচ্চারণ বিধি জেনে নিই
============================
★শব্দের মধ্য Tথাকলে "T"এর পর U হলে"T" এর উচ্চারণ "চ" হবে...
যেমন :--- Future (ফিউচার) Century (সেনচুরী),Mixture , Fixture
.
★শব্দের মধ্য "D"এর পর G হলে "D"এর উচ্চারণ হয় না..
যেমন:---- knowledge (নলেজ) judge(জজ), Bridge , Coleridge
.
★ K এর পর n হলে K এর উচ্চারণ হয় না..যেমন
:--- know(নো) knee(নী)knife (নাইফ) knowledge (নলেজ)
.
..
★ G এর পর A,O,Uথাকলে G এর উচ্চারণ"গ" হয়
যেমন:-- Garden (গার্ডেন) Good (গোড) Guide (গাইড)
.
★ S এর পর H হলে Sএরসর্বদা "শ" হয়..
যেমন:-- Bangladesh (বাংলাদেশ) , Bush , Cash
.
★ W এর পর h/r হলে W এর উচ্চারণ হয় না
যেমন:-- write (রাইট) wrong (রং) who (হু) Wh -Question এর সব ।
.
★ T এর পর io হলে "T" এর উচ্চারণ "শ" হয় ..
যেমন National (ন্যাশনাল)
.
★ i/u এর পর gh হলে gh এর উচ্চারণ হয় না, যদি হয় "ফ" এর মত হবে।
যেমন :-- Eight (এইট) Right (রাইট) High(হাই).... যদি হয়.. Enough (এনাফ)
cough (কফ)
,
ng একত্রে হলে ং"এর উচ্চারণহয়।
যেমনBangladesh (বাংলাদেশ)
.
★শব্দের শেষে e থাকলে "e" এর উচ্চারণ হয় না।
যেমন: name (নেইম) come(কাম) take (টেক)
.
★শব্দের প্রথমে vowel হলে এগুলো বর্ণের উচ্চারণ হয়। শব্দের ভেতরে vowel হলে এগুলো কারের উচ্চারণ হয়.।
দুটি vowel একত্রে হলে প্রথমটি কারের উচ্চারণ হয়, দ্বিতীয়টি বর্ণের উচ্চারণ হয়।
যেমন :---Egg (এগ) one (ওয়ান) in(ইন), up (আপ)guide (গাইড) mauth
( মাউথ) again (এগ্যাইন)
.
G যখন কোন শব্দে gm বা gn রুপে ব্যবহৃত হয় তখন
G এর উচ্চারণ Silent হয়।
প্রথমে যদি G থাকে এবং তারপরেই যদি "N" থাকে তবে G silent থাকে।
Example :
1.Sign(সাইন)-চি হ্ন।
2.Campaign(ক্যাম পেন) -প্রচার।
3.Reign(রেইন)-শ াসন।
4.Design (ডিজাইন )-নকশা
5.Resign (রিজাইন) -পদত্যাগ
/
/
C-এর উচ্চারণ কখন 'ক' আর কখন 'স' হবে ?
------------------------------------------------------
Rule1: C-এর পরে যদি
A,L,O,R,U হয় তাহলে তার উচ্চারণ 'ক' হয় । কিছু সহজ
উদাহরণ পড়ে মিলিয়ে দেখুন...
Can (v,ক্যান্) = পারা ।
Class (n,ক্লাস্) = শ্রেনী ।
Colour (n,কালার্) = রং ।
Cup (n,কাপ্) = পেয়ালা ।
Crime (n,ক্রাইম্) = দুর্নীতি ।
.
Rule2: C-এর পরে যদি I,E,Y থাকে তাহলে তার উচ্চারণ 'স' হবে ।
দেখে নিই কিছু সহজ উদাহরণ..
Center (n,সেন্টার্) = কেন্দ্র ।
Ceiling (n,সিলিং) = ভেতরের দিকের ছাদ ।
Cinema (n,সিনেমা) = প্রেক্ষাগৃহ ।
Cyclist (n,সাইক্লিস্ট্) = সাইকেল চালক ।
===========
======================================
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীরণ :
কার্টেসি ব্যতীত অন্য কোন গ্রুপ কিংবা পেইজে পোস্ট করে নিজের নামে চালানো নিষিদ্ধ । মনে রাখবেন আপনি যা করছেন আল্লাহ সবই দেখছেন ও জানেন। আল্লাহকে ভয় করুন।
Student Life
It is a page about student life. Here all we discuss about student life's happiness, bitter experience, & all aspect of student life.
31/07/2020
02/02/2017
জ্ঞানে প্রেমে অনেক প্রভেদ। জ্ঞানে আমাদের ক্ষমতা বাড়ে, প্রেমে আমাদের অধিকার বাড়ে। জ্ঞান শরীরের মত, প্রেম মনের মত। জ্ঞান কুস্তি করিয়া জয়ী হয়, প্রেম সৌন্দর্য্যের দ্বারা জয়ী হয়। জ্ঞানের দ্বারা জানা যায় মাত্র, প্রেমের দ্বারা পাওয়া যায়। জ্ঞানেতেই বৃদ্ধ করিয়া দেয়, প্রেমেতেই যৌবন জিয়াইয়া রাখে। জ্ঞানের অধিকার যাহার উপরে তাহা চঞ্চল, প্রেমের অধিকার যাহার উপরে তাহা ধ্রুব। জ্ঞানীর সুখ আত্মগৌরব-নামক ক্ষমতার সুখ, প্রেমিকের সুখ আত্মবিসর্জ্জন-নামক স্বাধীনতার সুখ।"
___ রবী ঠাকুর।
19/06/2015
২৭ বছর বয়সে যখন হন্যে হয়ে ব্যাংকে চাকরি খুঁজছেন, তখন আপনারই বয়েসি কেউ একজন সেই ব্যাংকেরই ম্যানেজার হয়ে বসে আছেন। আপনার ক্যারিয়ার যখন শুরুই হয়নি, তখন কেউ কেউ নিজের টাকায় কেনা দামি গাড়ি হাঁকিয়ে আপনার সামনে দিয়েই চলে যাচ্ছে। কর্পোরেটে যে সবসময় চেহারা দেখে প্রমোশন দেয়, তা নয়। দিন বদলাচ্ছে, কনসেপ্টগুলো বদলে যাচ্ছে। শুধু বেতন পাওয়ার জন্য কাজ করে গেলে শুধু বেতনই পাবেন। কথা হল, কেন এমন হয়? সবচাইতে ভালটি সবচাইতে ভালভাবে করে কীভাবে? কিছু ব্যাপার এক্ষেত্রে কাজ করে। দুএকটি বলছি।
প্রথমেই আসে পরিশ্রমের ব্যাপারটা। যারা আপনার চাইতে এগিয়ে, তারা আপনার চাইতে বেশি পরিশ্রমী। এটা মেনে নিন। ঘুমানোর আনন্দ আর ভোর দেখার আনন্দ একসাথে পাওয়া যায় না। শুধু পরিশ্রম করলেই সব হয় না। তা-ই যদি হত, তবে গাধা হত বনের রাজা। শুধু পরিশ্রম করা নয়, এর পুরস্কার পাওয়াটাই বড় কথা। অনলি ইওর রেজাল্টস্ আর রিওয়ার্ডেড, নট ইওর এফর্টস্। আপনি এক্সট্রা আওয়ার না খাটলে এক্সট্রা মাইল এগিয়ে থাকবেন কীভাবে? সবার দিনই তো ২৪ ঘণ্টায়। আমার বন্ধুকে দেখেছি, অন্যরা যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন সে রাত জেগে আউটসোর্সিং করে। ও রাত জাগার সুবিধা তো পাবেই! আপনি বাড়তি কী করলেন, সেটাই ঠিক করে দেবে, আপনি বাড়তি কী পাবেন। আপনি ভিন্নকিছু করতে না পারলে আপনি ভিন্নকিছু পাবেন না। বিল গেটস রাতারাতি বিল গেটস হননি। শুধু ভার্সিটি ড্রপআউট হলেই স্টিভ জবস কিংবা জুকারবার্গ হওয়া যায় না। আমার মত অনার্সে ২.৭৪ সিজিপিএ পেলেই বিসিএস আর আইবিএ ভর্তি পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়ে যাওয়া যাবে না। আউটলায়ার্স বইটি পড়ে দেখুন। বড় মানুষের বড় প্রস্তুতি থাকে। নজরুলের প্রবন্ধগুলো পড়লে বুঝতে পারবেন, উনি কতটা স্বশিক্ষিত ছিলেন। শুধু রুটির দোকানে চাকরিতেই নজরুল হয় না। কিংবা স্কুলকলেজে না গেলেই রবীন্দ্রনাথ হয়ে যাওয়া যাবে না। সবাই তো বই বাঁধাইয়ের দোকানে চাকরি করে মাইকেল ফ্যারাডে হতে পারে না, বেশিরভাগই তো সারাজীবন বই বাঁধাই করেই কাটিয়ে দেয়।
স্টুডেন্টলাইফে কে কী বলল, সেটা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। আমাদের ব্যাচে যে ছেলেটা প্রোগ্রামিং করতেই পারত না, সে এখন একটা সফটওয়্যার ফার্মের মালিক। যাকে নিয়ে কেউ কোনদিন স্বপ্ন দেখেনি, সে এখন হাজার হাজার মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। ক্যারিয়ার নিয়ে যার তেমন কোন ভাবনা ছিল না, সে সবার আগে পিএইচডি করতে আমেরিকায় গেছে। সব পরীক্ষায় মহাউত্সাহে ফেল করা ছেলেটি এখন একজন সফল ব্যবসায়ী। আপনি কী পারেন, কী পারেন না, এটা অন্যকাউকে ঠিক করে দিতে দেবেন না। পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স পাননি? প্রাইভেটে পড়ছেন? কিংবা ন্যাশনাল ভার্সিটিতে? সবাই বলছে, আপনার লাইফটা শেষ? আমি বলি, আরে! আপনার লাইফ তো এখনো শুরুই হয়নি। আপনি কতদূর যাবেন, এটা ঠিক করে দেয়ার অন্যরা কে? লাইফটা কি ওদের নাকি? আপনাকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতেই হবে কেন? কিংবা ডাক্তারি পাস করে কেন ডাক্তারিই করতে হবে? আমার পরিচিত এক ডাক্তার ফটোগ্রাফি করে মাসে আয় করে ৬-৭ লাখ টাকা। যেখানেই পড়াশোনা করেন না কেন, আপনার এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করে আপনার নিজের উপর। শুধু 'ওহ শিট', 'সরি বেবি', 'চ্যাটিংডেটিং' দিয়ে জীবন চলবে না। আপনি যার উপর ডিপেনডেন্ট, তাকে বাদ দিয়ে নিজের অবস্থানটা কল্পনা করে দেখুন। যে গাড়িটা করে ভার্সিটিতে আসেন, ঘোরাঘুরি করেন, সেটি কি আপনার নিজের টাকায় কেনা? ওটা নিয়ে ভাব দেখান কোন আক্কেলে? একদিন আপনাকে পৃথিবীর পথে নামতে হবে। তখন আপনাকে যা যা করতে হবে, সেসব কাজ এখনই করা শুরু করুন।
জীবনে বড় হতে হলে কিছু ভাল বই পড়তে হয়, কিছু ভাল মুভি দেখতে হয়, কিছু ভাল মিউজিক শুনতে হয়, কিছু ভাল জায়গায় ঘুরতে হয়, কিছু ভাল মানুষের সাথে কথা বলতে হয়, কিছু ভাল কাজ করতে হয়। জীবনটা শুধু হাহাহিহি করে কাটিয়ে দেয়ার জন্য নয়। একদিন যখন জীবনের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে, তখন দেখবেন, পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে, মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ছে। স্কিল ডেভেলাপমেন্টের জন্য সময় দিতে হয়। এসব একদিনে কিংবা রাতারাতি হয় না। "আপনার মত করে লিখতে হলে আমাকে কী করতে হবে? আমি আপনার মত রেজাল্ট করতে চাই। আমাকে কী করতে হবে?" এটা আমি প্রায়ই শুনি। আমি বলি, "অসম্ভব পরিশ্রম করতে হবে। নো শর্টকাটস্। সরি!" রিপ্লাই আসে, "কিন্তু পড়তে যে ভাল লাগে না। কী করা যায়?" এর উত্তরটা একটু ভিন্নভাবে দিই। আপনি যখন স্কুলকলেজে পড়তেন, তখন যে সময়ে আপনার ফার্স্ট বয় বন্ধুটি পড়ার টেবিলে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকত, সে সময়ে আপনি গার্লস স্কুলের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। এখন সময় এসেছে, ও ওখানে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে আর আপনি পড়ার টেবিলে বসে থাকবেন। জীবনটাকে যে সময়ে চাবুক মারতে হয়, সে সময়ে জীবনটাকে উপভোগ করলে, যে সময়ে জীবনটাকে উপভোগ করার কথা, সে সময়ে জীবনটাকে উপভোগ করতে পারবেন না, এটাই স্বাভাবিক। এটা মেনে নিন। মেনে নিতে না পারলে ঘুরে দাঁড়ান। এখনই সময়!
বড় হতে হলে বড় মানুষের সাথে মিশতে হয়, চলতে হয়, ওদের কথা শুনতে হয়। এক্ষেত্রে ভার্সিটিতে পড়ার সময় বন্ধু নির্বাচনটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সাবকনশাস মাইন্ড আপনাকে আপনার বন্ধুদের কাজ দ্বারা প্রভাবিত করে। আমরা নিজেদের অজ্ঞাতসারেই আমাদের চাইতে ইনফেরিয়র লোকজনের সাথে ওঠাবসা করি, কারণ তখন আমরা নিজেদেরকে সুপিরিয়র ভাবতে পারি। এ ব্যাপারটা সুইসাইডাল। আশেপাশে কাউকেই বড় হতে না দেখলে বড় হওয়ার ইচ্ছে জাগে না। আরেকটা ভুল অনেকে করেন। সেটি হল, ধনীঘরের সন্তানদের সাথে মিশে নিজেকে ধনী ভাবতে শুরু করা। মানুষ তার বন্ধুদের দ্বারা প্রভাবিত হয়। উজাড় বনে তো শেয়ালই রাজা হয়। আপনি কী শেয়ালরাজা হতে চান, নাকি সিংহরাজা হতে চান, সেটি আগে ঠিক করুন।
বিনীত হতে জানাটা মস্ত বড় একটা আর্ট। যারা অনার্সে পড়ছেন, তাদের অনেকের মধ্যেই এটার অভাব রয়েছে। এখনো আপনার অহংকার করার মত কিছুই নেই, পৃথিবীর কাছে আপনি একজন নোবডি মাত্র। বিনয় ছাড়া শেখা যায় না। গুরুর কাছ থেকে শিখতে হয় গুরুর পায়ের কাছে বসে। আজকাল শিক্ষকরাও সম্মানিত হওয়ার চেষ্টা করেন না, স্টুডেন্টরাও সম্মান করতে ভুলে যাচ্ছে। আপনি মেনে নিন, আপনি ছোটো। এটাই আপনাকে এগিয়ে রাখবে। বড় মানুষকে অসম্মান করার মধ্যে কোন গৌরব নেই। নিজের প্রয়োজনেই মানুষকে সম্মান করুন।
কৃতজ্ঞতাঃ
30/04/2015
কত টাকা জমালে একজন ছেলে বিয়ের যোগ্য হবে?
বিয়ের বয়স নিয়ে কয়েকদিন আগে আলোচনা জমে উঠেছিল ব্লগে। ব্লগারদের যারা এই বিষয়ক আলোচনায় অংশ নিয়েছেন, তাদের অধিকাংশের মতামত হচ্ছে, ছেলেদের বিয়ের বয়স ২৫ আর মেয়েদের ২২ – এর কাছাকাছি। তবে অনেকেই মনে করেন, স্ত্রীকে ভরণপোষণ করার আর্থিক যোগ্যতা না হলে বিয়ে করা একদমই ঠিক হবে না।
প্রশ্ন হচ্ছে, ভরণপোষণের আর্থিক যোগ্যতা টাকার অংকে কত? কত টাকা মাসিক আয় হলে বা জমা হলে একজন তরুন বিয়ের চিন্তা করতে পারে?
বেশ কয়েক বছর আগে টিভিতে একটা বিজ্ঞাপন দেখাতো। এক তরুন গাড়ীতে (প্রাইভেট কারে) চলন্ত অবস্থায় মাকে ফোন করে বলছে, “ব্রীজের কনট্রাক্টটা পেয়ে গেছি। তাই একটা প্লট বুকিং দিয়ে দিলাম।”
মা বললেন, “গাড়ী হলো, বাড়ী হলো, এবার বিয়েটা করে ফেল বাবা।”
গাড়ী, বাড়ী হওয়ার পর একজন সুন্দরী নারীকে ঘরে আনার চিন্তা করাটা হয়তো অনেকেই নিরাপদ মনে করবেন। তবে, ব্রীজের কনট্রাক্ট পাওয়ার ভাগ্য যেমন সকলের হয় না, তেমনি গাড়ী, বাড়ী (বিশেষ করে এই ঢাকা শহরে) করার পর বিয়ে করতে হলে ছেলেটাকে হয়তো পুরো যৌবনটাই আইবুড়ো থাকতে হবে।
তাহলে আর্থিক সামর্থ্য কতটুকু হলে বিয়ে করা যাবে?
এ বিষয়ে নিজের জীবনের কাহিনী বলার লোভ সামলাতে পারছি না।
২৫ বছর চলে যাচ্ছে দেখে আব্বা যখন জোর করে বিয়ে দিয়ে দিলেন, তখন আমার চাকুরী নেই, একেবারে কপর্দকশূন্য যাকে বলে। বিয়ের সব খরচ বাবার – কনের গহনাগাটি, পোশাক থেকে শুরু করে বৌভাতের খরচ পর্যন্ত। মোদ্দাকথা, আমার একটা ফুটো পয়সাও খরচ করার সামর্থ্য ছিল না।
আমার দেওলিয়াত্বের বিষয়টি আব্বার কাছে মৃদুস্বরে তুলতে তিনি উড়িয়ে দিয়েছিলেন এই বলে যে, তোমার থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা তো আছেই। বৌমার থাকার জন্য তোমার ঘরটি শেয়ার করবে আর একজন নতুন মানুষের খাবারের ব্যবস্থা আমি করতে পারবো।
চাকুরী না থাকাতে তেমন অসুবিধা হয়নি। সমূদ্রে বা পাহাড়ে হানিমুনে না গেলেও শুক্লপক্ষের প্রতিটা রাত দুজনে মিলে জ্যোস্নায় ভিজেছি। চাঁদের আলোয় ছাদে বসে বসে গভীর রাত পর্যন্ত গল্প করেছি, এমনকি বাড়ীর পিছনের নদীর ধারে বসে শান্ত নদীর পানির ঝিকিমিকি দেখেছি, নদীতে নামার জন্য বাসার সাথে সান বাধানো ঘাট করা আছে, পানিতে পা ডুবিয়ে তাতে বসে থেকেছি।
দুইজন মিলে ক্ষেত-খামারে ঘুরে ঘুরে বেড়িয়েছি। নদীর ধার দিয়ে হেটে হেটে চলে গিয়েছি অনেকদূর। বাড়ীর আশে-পাশে শাক-সবজি, ফুলের গাছ লাগিয়েছি। আমি কোদাল দিয়ে মাটি কুপিয়ে ঝুরঝুরে করেছি আর সে তাতে বীজ পুতে দিয়েছে। সেই বীজ থেকে যখন প্রথম পাতাগুলো মাটির আড়াল থেকে মাথা বের করে হেসেছে, তখন মনে হয়েছে দুনিয়াতে এর চেয়ে বেশী আনন্দের দৃশ্য আর হতে পারে না। কপর্দকশূণ্য সেই দিনগুলোই জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন হয়ে রয়েছে।
এর মধ্যে ঘটলো আরেক ঘটনা। বিয়ের তিনমাসের মধ্যে আমাদের সংসারে একেবারো আনকোরা নতুন অতিথি আসার সম্ভাবনার কথা জানা গেলো। বউ বললো, অনেক তো হলো বৃক্ষলতা দেখা, চাষাবাদ করা আরে চাঁদের দিকে চেয়ে থাকা, এবার বোধ হয় আয়-রোজগারের দিকে তোমার নযর দেয়া দরকার। সে তখনও ছিল ছাত্রী, তাই হয়তো নিজেই রোজগারের চিন্তা করেনি।
অদ্ভুত ব্যাপার হলো, চাকুরী খুজতে ঢাকায় এলাম আর চাকুরী পেয়ে গেলাম। বেতন তেমন বেশী নয়। দুই বেডরুমের একটা ছোট বাসা ভাড়া করে যখন আমার নিজের শুরু করলাম, তখন বাসায় ফার্নিচার বলতে ছিল মাত্র একটি জাহাজের খাট আর একটা স্টিলের আলমারি। টিভি নেই, ফ্রিজ নেই, সোফা নেই, এমনকি খাবার জন্য একটা ডাইনিং টেবিলও নেই। সেই শূন্য বাড়ীতে ফিরে যখন দেখতাম আমার কয়েক মাসের মেয়ে আমাকে দেখে হাসছে বা আমার কাছে আসার জন্য হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে, তখন আনন্দ ধরে রাখা কষ্ট হয়ে পড়তো। সবচেয়ে বড় কথা, যা ছিল, তা নিয়েই আমরা এতো সুখী ছিলাম যে, কী নেই তা ভাবার অবকাশ পেতাম না। এখনও আমরা কখনো কোন কিছুর অভাব অনুভব করি না।
পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে একটি হাদীসের কথা মনে পড়ছে। একবার রাসুল (সঃ) এর কাছে এক নারী এলেন যিনি বিয়ে করতে চান। রাসুল (সঃ) এর সাথে বেশ কয়েকজন সাহাবা ছিলেন। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কী ই নারীকে বিয়ে করতে আগ্রহী?
একজন সাহাবা বললেন যে তিনি বিয়ে করতে চান, কিন্তু তার আর্থিক সামর্থ নেই। রাসুল (সঃ) জানতে চাইলেন, তোমার কী কোন কিছুই নেই? তিনি বললেন, তাঁর একটি লোহার আংটি আছে। তিনি তাঁকে লোহার আংটি বিক্রি করে তাই দিয়ে মোহরানা দিয়ে বিয়ে করতে বললেন।
ইসলাম ধর্মে বিয়ের জন্য পুরুষের নূন্যতম আর্থিক সামর্থের বিষয় এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়।
কিন্তু পরিচিতজনদের মধ্যে দেখেছি, বিয়ের জন্য আমরা যে ধরণের প্রস্তুতি নিই, সে ধরণের প্রস্তুতি আগের যুগের রাজারা যুদ্ধে যাবার জন্যও নিতেন না। বিয়ের অনুষ্ঠানই হবে কয়েক সপ্তাহ ধরে। তাতে কয়েক হাজার লাইট জ্বলতে হবে, বর-কনের গায়ে হলুদ হবে একমাস ধরে (বিয়ের সময় যাতে শ্যামলা রঙ কোনভাবেই প্রকাশ হয়ে না পড়ে), তার জন্য আছে বিশেষ আয়োজন, বিশেষ ধরণের উপহার-সামগ্রী, বিশেষ আচার-বিচারও আছে। আছে কার্ড ছাপানোর ব্যবস্থা। তার পর হবে বিয়ের অনুষ্ঠান। তার জন্য বিশেষ পোশাক, বিশেষ উপহার, বিশেষ কার্ড। এ উপলক্ষে বিশেষ ভাবে সাজাতে হবে বাড়ী, প্রয়োজন হবে রাজকীয় গাড়ী। তারপর বউভাত। সেখানেও কার্ড, উপহার, সাজ-সজ্জা, হাজার বাতি। তারপরেও শেষ হয় না। বর শ্বশুরবাড়ীতে গেলে পচিশ কেজি ওজনের রুইমাছ নিয়ে যেতে হবে, উপহার সামগ্রীর স্তুপ নিতে হবে, ইত্যাদি কত কিছু। তারপর হানিমুন। আজকাল দেশের মধ্যে হানিমুন করার কথা উঠলে মান-সম্মান একবারেই চলে যায়।
আমাদের বিয়ের দিকে তাকালে মনে হয় ভোগবাদীতার কত গভীরে আমরা ডুবে গেছি – এ যেন তারই পরিমাপক। এখনকার যুগে রাজা-বাদশা নেই, গলায় গজমতির হার আর ময়ুর সিংহাসন দিয়ে নিজেদের শান-শওকত দেখানোর সুযোগ নেই। সে অভাবটা আমরা মেটানোর চেষ্টা করছি বিয়ের অনুষ্ঠান দিয়ে। অনেক ক্ষেত্রে গায়ে হলুদ, বিয়ে কিংবা বউভাতের কার্ড ছাপাতে যে খরচ করা হয়, তা দিয়ে হয়তো একটা গ্রামকে স্বাবলম্বী করে দেয়া যায়।
একজন একটি মন্তব্যে লিখেছিলেন, বউকে এফোর্ড করার ক্ষমতা না হলে বিয়ে করা উচিৎ নয়। এই এফোর্ড করার বিষয়টি খুব মারাত্মক, কেননা এর কোন সীমা নেই, শেষ নেই, বিশেষ করে যদি অর্থ-বিত্তের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। বছর শেষে আপনার পরিচিত কেউ বিদেশে বেড়াতে যায়। আপনার কাছে যদি এফোর্ড করার মানে তার সাথে টেক্কা দিয়ে বিদেশে বেড়ানো হয়, তাহলে এফোর্ড করাটা বড় কঠিন হয়ে পড়বে। কেননা, পরিচিতজনের মধ্যে অনেকেরই অনেক টাকা থাকবে, দামী গাড়ী থাকবে, অভিজাত এলাকায় আলিশান ফ্লাট থাকবে।
আমার মনে হয়, ভোগবাদিতা বর্জনের প্রধান ধাপ হচ্ছে বিয়ের ক্ষেত্রে মানবিক হওয়া। একটি ছেলে যখন কনে খোঁজার সময় ফর্সা রঙ দেখে, শ্বশুরের অর্থ-বিত্ত দেখে, তখন বিষয়টি যেমন নিন্দনীয়, তেমনি একটি মেয়ে যখন হবু স্বামীর টাকাটা বড় করে দেখে, তখনও বিষয়টি একই রকম। প্রকৃতির দিকে তাকালে দেখা যাবে, সৃষ্টিজগতের আসল কাজ হচ্ছে বংশ রক্ষা। বিয়ে করে সংসার করাই হচ্ছে মানব জীবনের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক লক্ষ্য। বিয়েকে কঠিন করতে থাকলে এক সময় মানব বংশ রক্ষাই দুস্কর হয়ে পড়বে। এখনই তার কিছু লক্ষণ দেখা দিয়েছে। পোপকে বলতে হচ্ছে, তোমরা বিয়ে করো, পৃথিবীকে শিশুদের থেকে বঞ্চিত করো না।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Address
Khulna
9200