27/09/2015
একসময় হিন্দু মুসলিমের মধ্যে খুব একটা কলহ বা অন্তর্দ্বন্দ ছিলো না। বরং উপমহাদেশের হিন্দু মুসলিমের মধ্যে ছিলো ভ্রাতৃত্বের অটুট বন্ধন, সৌহার্দ্য এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলার উদ্যম। ইংরেজরা(খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী) যখন উপমহাদেশে রাজত্ব করছিলো, তখন হিন্দু ও মুসলিমদের বিক্ষিপ্ত আক্রমণে তারা দিশাহীন হয়ে পড়ে। মুসলিম এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ আক্রমণ তাদের কিরূপ দুর্দশা সৃষ্টি করতে পারে, তা আঁচ করতে পেরে তারা উপমহাদেশের সংস্কৃতির উপর আঘাত হানলো।
ইংরেজরা হিন্দু এবং মুসলিমদের মধ্যে কুসংস্কারের অন্ধকার ছড়িয়ে দিলো। দুইধর্মের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে ভিত্তিহীন অপসংস্কৃতির সাহায্য নিলো। এক ধর্মের মানুষের কাছে অন্য ধর্মের মানুষের নামে কুৎসা রটনা করলো। ফলে ধীরে ধীরে হিন্দু ও মুসলিম সমাজের মধ্যে সৃষ্টি হলো বিস্তর ফারাক। তারা ইংরেজদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার কথা ভুলে নিজেদের মধ্যে পরস্পর দ্বন্দ, কলহ, মিথ্যাচারীতা ও যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত হলো। তারই জের ধরে সৃষ্টি হলো কয়েকটি আলাদা রাষ্ট্র। অত্যন্ত দুঃখজনক, যে আজও ইংরেজদের এই শীতল মস্তিষ্কের মরণাত্মক খেলা এই উপমহাদেশের কোনো শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বুঝে উঠতেই পারলেন না। এখনও আমাদের মাথার উপর মূর্খদের স্বর্গরাজ্যের বোঝা। আজও আমরা নিজেদের সাথে রক্তারক্তি আর বাকযুদ্ধে নিজেদের ব্যস্ত রাখি। কারো ভালো দেখতে পারি না। এক ভাই উপরে উঠলে আরেক ভাই তাকে টেনে হিঁচড়ে নিচে নামাবেই! বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা, আজ এই বিরোধীতার জের ধরে পাকিস্তান, ভারত এমনকি বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাসের ভয়ানক বিকৃতি করা হয়েছে।
এই যখন উপমহাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, তখন ইংরেজরা সমস্ত পৃথিবীকে শোষণ করছে বিনা বাঁধায়। অথচ এখনও যদি মুসলিম-হিন্দু ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে খ্রীষ্টীয়রা পৃথিবীর সিংহাসন ছেড়ে দিতে বাধ্য।
হিন্দু ও মুসলিম সকল ভাইদের প্রতি আমার আকূল আবেদন- আসুন আমরা যার যার ধর্ম নিজেদের মতো পালন করি। কোনো ধর্মে অন্য ধর্মকে অবমাননা করার কথা নেই। তাহলে কেনো আমরা এই বিভৎস পাপাচারীতায় লিপ্ত হবো? পরস্পর শ্রদ্ধা, ভক্তি, সৌহার্দ্র, সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনই পারে আমাদের পৃথিবীর বুকে আবারও মাথা উঁচু করে বাঁচার পথ দেখাতে।
সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপর নাই।
আপনার ভেতর সুপ্ত বিশ্ব মানবতাকে জাগ্রত করুন।
Plz share this post if u like it.