ভালোবাসার ক্যানভাস

ভালোবাসার ক্যানভাস

Share

ইসলাম প্রচার করার জন্য এই পেজের জন্ম,
এই পেজে লাইক কমেন্ট ও সেয়ার করে আপনিও ইসলাম প্রচারে অংশ নিন...

20/06/2016

-কী হল এখন আবার কই বের হচ্ছিস ?
(ক্রমা)
-কারও কাছে কৈফিয়ত দিতে আমি
বাধ্য নই (আমি)
-আমি যে সারাদিন না খেয়ে বসে
আছি , সেদিকে কী কারও খেয়াল
আছে ?
-প্রয়োজন বোধ করি নিই। আমাকে
যেতে দিন ।
-না দিব না ।
-আমাকে মাথা খারাপ করতে বাধ্য
করিয়েন না ।
-দেখ আশিক , নিজের দোষ স্বীকার
করতে শিখ । আই এম সরি । প্লিজ একটু
শান্ত হ !
আর মিছে মিছি রাগ করতে পারলাম
না ওর সাথে । এতক্ষণ যেই কথোপকথন
গুলো শুনছিলেন তা আমার আর আমার
বউ ক্রমা এর মাঝে । পারিবারিক
ভাবে আমাদের বিয়ে হয়েছিল । আজ
থেকে দেড় বছর আগে ।
আমার খালার বান্ধবীর বোনের
মেয়ে ।
আমি আশিক , লেখাপড়া শেষ করে
একটা ব্যাংকে জব করছি । জব পাবার
পর বাবা-মা ওঠে পড়ে লেগেছিল
আমার বিয়ের জন্য । পরে খালার
সাহায্যে ওদের সাথে আমাদের
আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে । আমি ,
বাবা-মা আর খালা মিলে প্রথম
ওদের বাসায় গিয়েছিলাম ।
কিছুটা বিরক্তিকর অনুভূতি হয়েছিল
সেদিন । আমি সোফায় বসে আছি ।
বাবা-মা আর খালা মিলে তাদের
সাথে বিভিন্ন ধরণের আলাপ করে
যাচ্ছে । প্রচন্ড বিরক্ত লাগছে
এভাবে মুরুব্বিদের সামনে বসে
থাকতে । মেয়ের বাবা মাঝেমধ্যে
আমাকে দু-চারটা প্রশ্ন করছে ।
এই কেমন চলছে চাকুরি , কতদিন হল
জবে জয়েন করলাম এই আর কি । মেয়ের
মা কিছু বলছে না ( কী আর বলবে
আম্মা আর খালার সাথে যা গল্পের
আসরে বসেছে )
কিছুক্ষণ পরে ম্যাডামের আগমন ঘটলো
। এসে মায়ের পাশে বসলো ।
মা আর বাবা মিলে কিছু জিজ্ঞাসা
করছিল , আমি এইসবে কান পাতিনেই ।
সত্যি কথা বলতে প্রথম মেয়ে দেখতে
আসা তো তাই বিরক্ত লাগছে ।
বাবা-মা এর কথা বলা শেষে শাশুড়ি
মা এবার মুখ খুললেন । ওনার ছেলেকে
ডেকে বললেন আমাদের আলাদা রুমে
নিয়ে যাবার জন্য ।
পরে আমকে শালা ওর (বউয়ের ) রুমে
নিয়ে গেল ।
রুমটা দারুণ গোছানো। আর আমার
রুমের যে বেহাল দশা তা একমাত্র
আল্লাহ্ ভাল জানে । আমি টেবিলে
একটা ম্যাগাজিনের বই পেলাম ওটা
দেখতে লাগলাম । সাথে সাথে তার
আগমন ।
-আপনি কী কানা নাকি ? (ক্রমা )
-( প্রথমেই এ রকম প্রশ্নে ভড়কে গেলাম
। নিজেকে সামলে নিয়ে পাল্টা
প্রশ্ন ছুড়লাম ) আপনি কী ট্যারা
নাকি ? (আমি )
-কীইইইইইই বললেন !
-আপনি যা শুনলেন ।
-দেখে তো মনে হয় ভাজা মাছটা
উল্টে খেতে জানেন না ।
-সমস্যা নাই ! আপনি উল্টে-পাল্টে
ভেজে দেবেন আমি খাবো ।
-আমি রান্না করতে জানি না ।
- তা কীভাবে জানবেন ময়দা মেখে
এই তো টাইম পান না ( আস্তে আস্তে
বললাম )
- কিছু বললেন ?
-কই আপনি কী কিছু শুনলেন ?
-না তো ! গিলেছি ! আমার কিছু শর্ত
আছে । আপনি মানতে পারলে এই
বিয়েতে আমি রাজি তা না হলে
না ।
-আমার ও কিছু শর্ত আছে , আপনি আগে
বলুন ।
-হুম
প্রথমত : আমি রেগে গেলে আপনাকে
তুই বলবো , পরে আবার ক্ষমা চেয়ে
নিব । কিন্তু সিচুয়েশন বুঝে রাগ যে
কাউকে ভাঙাতে হবে । আর না
ভাঙাতে পারলে শাস্তি ।
দ্বিতীয়ত : আমাকে প্রত্যেক সপ্তাহে
একদিন অত্যন্ত বাহিরে ঘুরতে নিয়ে
যেতে হবে ।
তৃতীয়ত : বেশি রাত করে বাসায়
ফিরবে না আর বাহিরে থাকলে
ফোন রিসিভ না করলে খবর আছে ।
এই তো এগুলোই আমার আবদার ।
আপনার ???
-ওকে কথা দিলাম সবগুলো
যথাযথভাবে পালন করতে চেষ্টা
করবো ( মনে মনে বলছি একটা আবদার
ও রাখবো না ) আমার গুলো হচ্ছে
১: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে ।
২: আর আমার বাবা-মাকে নিজের
বাবা-মার মতো ভালো ভাসতে হবে
। তাহলে আপনি যা চাবেন সেটি
দিতে আমি বাধ্য থাকিব । এই তো !
আর কোনও শর্ত নেই ।
-ওকে । আমি আপনার শর্তে রাজি ।
আপনার ফোন নাম্বার টা দেন তো ?
-কী করবেন ?
-মুড়ি খাবো , গাঁদা !
- ওপস ! আপনার জন্য একটা ছোট উপহার
ছিল ।
-কই দেখি !
-না এখন দিব না , আপনার ভাইয়ের
কাছে দিয়ে যাব ।
-আচ্ছা ঠিক আছে এখন তাহলে আমি
যাই।
-আচ্ছা ।
ও চলে যেতে এই শালার আগমন ।
কিছুক্ষণ কথা বললাম ওর সাথে । উঠে
আসার সময় একটা বক্স শালার হাতে
ধরিয়ে দিয়ে বললাম এটি তোমার
আপুকে দিও । ওর ভাইয়া আমাকে
অবাক করে দিয়ে বললো
-ভাইয়া আপনার জন্য একটি উপহার
আছে !
-কই দেখি ।
-আগে বলেন আমাকে কী দেবেন ?
- ( শালা ডাকাত ) যা চাও ।
-আচ্ছা পরে ফোন করে নিয়ে নিব ।
এটা আপুর পক্ষ থেকে ।
- তোমার আপুকে ধন্যবাদ । বক্স টা
নিয়ে বের হয়ে গেলাম ।
বাবা-মা বাহিরে অপেক্ষা
করেছিল পরে তাদেরকে বিদায়
জানিয়ে চলে আসলাম । ওদিকে
মোবাইলটা হঠাত্ কেঁপে উঠলো ।
পকেটে ছিল তাই সাইলেন্ট করা ছিল
একটা নাম্বার থেকে মেসেজ
আসলো
- ভালবাসি । গিফট টা আমার অনেক
পছন্দ হয়েছে ।
( ও আপনাদের তো বলাই হয় নিই , কী
গিফট পেয়েছিলাম কিংবা
দিয়েছিলাম )
আমি একটা চেইন গিফট করেছিলাম
আরও ঘড়ি গিফট করেছিল ।
বাবা-মার সাথে বের হবার সময়
উপরে কৌশল খাটিয়ে বারান্দায়
দিকে এক পলক তাকালাম দেখি সে
দাঁড়িয়ে আছে । আর মুচকি মুচকি
হাসছে আমি একটু হাসি দিয়ে
গাড়িতে উঠে পড়লাম ।
-
-
বিয়ের পর আমাদের সংসার খুবই
ভালো চলছিল । কিন্তু মাঝেমধ্যে ও
খুব রাগ করতো ওর শর্ত আমি না মানার
কারণে ।
যেমন-
আজকে অফিসে যাই নিই তাই ও
বায়না ধরেছিল ঘুরতে যাবে । আমি
বললাম একটু বাহিরে যাব এসে নেই
তারপর নিয়ে যাব । ও রাজি হলো
বললো তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে ।
-
আর আমার মনেই ছিল না । ফোনটা ও
বাসায় রেখে এসেছি । এলাকার
বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেবার জন্য
বাসা থেকে বের হয়েছিলাম ।
আড্ডার এক পর্যায়ে এক বন্ধু জোর করে
বললো আজকে ওদের বাসায় যেতে
হবে , সবাই জোরাজুরি করছিল তাই ওর
কথা ভুলেই গেছিলাম ।
রাত ৭ টায় বাসায় ফিরে আসি ।
এসে দেখছি ও আমার সাথে কোনও
কথা এই বলছে না !
এতবার বুঝালাম যে
-আমি আমার বন্ধুদের বাসায়
গেছিলাম ও কোনও কথা এই শুনছিল না
বরং রেগে গিয়ে বাসার
জিনিসগুলো ভাঙছে আর বলছে আমার
লাইফে আমি নাকি ওর কোনও
প্রয়োজন বোধ করি না ।
এ কথা শুনার পর আমি রেগে গেলাম ।
ব্যাগ গুছিয়ে যখন বাসা থেকে বের
হতে যাবো , তখন সে আটকালো ।
এখন সে আমার বুকে মাথা দিয়ে শুয়ে
আছে ।
- তোমাকে আজ ডাবল শাস্তি পেতে
হবে ( ক্রমা )
-কেন ? (আমি)
-চুপ একদম চুপ ! ( আমার মুখ চেপে ধরলো )
আমাকে খাইয়ে দিতে হবে ,আদর
করতে হবে আর কালকে অফিসে
যাবা না আমাকে ঘুরতে নিয়ে
যেতে হবে ।
-এতগুলো !
-আরও আছে
-আবার কী ?
-তোমাকে রাত্রে না খেয়ে
থাকতে হবে , দুপুরে আমি না খেয়
ছিলাম ।
- ( পরে বুঝতে পারলাম বড় অন্যায় হয়ে
গেছে , আসলে আমি এই ওর কোনও শর্ত
পালন করি না । কিন্তু ও আমার সব শর্ত
পালন করে ) ওকে । তুমি শুয়ে থাকো
আর আমি খাবার নিয়ে আসছি ।
এখন সে আমার হাতে খাচ্ছে আর
খাবার মাঝখানে একটু দুষ্টুমি তো
হবে !!

17/06/2016

হঠাৎ সাইলেন্ট থাকা ফোনের
স্কিনে অালো জ্বলে উঠল!হাতে
নিয়ে দেখি অচেনা নাম্বার! যাই
হউক কলটা রিসিভ করে সালাম
দিলাম। অাসসালামু অালাইকুম!! কি
অাজিব ব্যাপার সালামের জবাব
নেয়!!
--হ্যালো, হ্যালো, এই যে বোবা
নাকি কথা বলছেন না কেন? এই যে
অন্ততপক্ষে সালামের জবাবটা তো
দিবেন!!(অামি)
-------ওয়া-অালাইকুম অাসসালাম!!
(মেয়ে)
--বাপরে মেয়ে কন্ঠ কেন? কে
অাপনি?(অামি)
-----নিরব
-----এই যে কথা বলছেন না কেন? কে
অাপনি? ফোন করেছেন কেন? কথায়
বা বলেন না কেন তবে?(অামি)
----এতো প্রশ্ন একসাথে করলে সব
প্রশ্নের উত্তর কেমন করে দিব?(মেয়ে)
-------অাচ্ছা বলেন কে অাপনি?
(অামি)
---অাপনি অামাকে চিনবেন না!!
কিন্তু অামি হয়তো অাপনাকে
কিছুটা চিনি!! (মেয়ে)
----হুম,পরিচয় না দিলে কেমন করে
চিনব? অার অাপনেই বা অামাকে
কেমন করে চিনেন? (অামি)
-----পরিচয় দিলেও চিনবেন না!!অার
অাপনি অামার কোন একভাবে
চেনা!! (মেয়ে)
---অাজিব তো!! পরিচয় দিলেও
যেহেতু চিনবোনা, তাহলে ফোন
করেছেন কেন? অামার নাম্বারটাই
বা কোথায় পেলেন!!(অামি)
-----কোথায় পেলাম সেটা জানা
কি খুব জুরুরী?অামি অাপনার সাথে
কথা বলার জন্য ফোন করেছি!! (মেয়ে)
----হুম জুরুরী!! অার অামি অপরিচিত
কারও সাথে কথা বলিনা!!(অামি)
---বলেন না সেটা ভাল!! তবে এখন
থেকে অামার সাথে বলতে হবে!!
(মেয়ে)
-
সরি অামি অপরিচিত কারও সাথে
কথা বলতে পারব না,বাই!! অার ফোন
দিয়েন না!!
এই বলে ফোন কেটে দিলাম!! মেয়ে,
কোন পেচ লাগায় কে জানে!!
চিন্তা বাদ দিয়ে পড়ায় মনযোগ
দিলাম!!
একটু পর অাবার ফোনের স্কিনের
অালো জ্বলে উঠল!! উফফ অাবার এই
নাম্বার ধ্যাত।ফোনটা কেটে
দিলাম!! কয়েকবার দিলো, অামি
বারে বারে কেটে দিচ্ছি ফোন!!
তারপর মেসেজ করল প্লিজ ফোনটা
রিসিভ করেন একটু প্লিজ প্লিজ!!
ফোনটা রিসিভ করলাম!!

--অাচ্ছা অাপনার সমস্যাটা কি একটু
বলবেন!! অার অামি বললাম তো
বললাম, কোন অপরিচিত মানুষের
সাথে কথা বলিনা। তবুও কেন বার
বার ফোন করছেন!!(অামি)
----বলছি তো অাপনার সাথে কথা
বলতে ফোন করেছি!! (মেয়ে)
----দেখেন অাপা, লজ্জা সরম বলতে
একটা কথা অাছে তো!! অাপনাকে
এতো করে বলছি হয় পরিচয় দেন, না হয়
ফোন করবেন না।কথাগুলো কি কাঁনে
যায় না? তবুও কেন বার বার বেহায়ার
মতো ফোন করছেন? অাপনার কি
লজ্জা সরম বলতে কিছুই নেই?? (অামি)
----সরি অার ড্রিস্টাব করব না!!
অাপনার সাথে একটু কথা বলতে ফোন
করেছি!! কিন্তু অাপনি ড্রিস্টাব
হচ্ছেন ক্ষমা করে দিবেন দয়া করে!!
অার অামি মোটেও এমন না যে
কাউকে ফোন দিয়ে দিয়ে বিরক্ত
করব!! অার লজ্জা সরমটা একটু বেশি'ই
তাই কিছুই বলতে পারলাম না। তবে
হয়তো কিছু বলতেই ফোন করেছিলাম!!
বাই ভাল থাকবেন!! (মেয়ে)

এই বলে ফোনটা কেটে দিল!!
দূর নিজের কাছে নিজেরেই খারাপ
লাগছে মেয়েটির লাস্ট কথা গুলো
শোনে!! মেয়েটি হয়তো অামাকে
খারাপ ভাববে!! সরি বলা দরকার!!
---ফোন দিব নাকি দিব না! দু'টানাই
পড়ে গেলাম!! পাঁচ মিনিট
চলেগেলো!! তারপর ফোনটা দিয়ে
দিলাম!! একি ফোন দেখি অফ, একজন
মেয়েলি কন্ঠে বলছে "অাপনি যে
নম্বরে ফোন করেছেন সে নম্বরটি এখন
বন্ধ অাছে "!!কয়েকবার ট্রাই করলাম
না এবারও একই কথা বলছে ;।
-দূর নিজেকে অপরাধী অপরাধী
লাগছে মেয়েটি হয়তো অামার
কথায় খুব কষ্ট পেেয়ছে!! কেন যে
এভাবে বলতে গেলাম!! একটা
মেসেজ করে রাখলে কেমন হয়? যখন
ফোন অন করবে;তখন নিশ্চুই মেসেজটি
পাবে।। যাই হউক ছোট করেএকটি
মেসেজ দিয়ে রাখলাম "যে সরি
;পারলে ফোন দিয়েন "
--
--
দুই দিন পার হয়েগেলো কোন ফোন
অাসলে না নাম্বারটি হতে!! নিজের
কাছে নিজেকে অপরাধী ভাবতে
রাখলাম!!
হঠাৎ করে স্কিনে সেই নাম্বারটি
বেসে উঠল!! ফোনটা রিসিভ করেই
সরি বললাম ;অাসলে এমনি করে
অাপনাকে বলা উচিত হয়নি!কি করবো
বলেন অাপনি পরিচয় দিতে
চাইছিলেন না!! (অামি)
----অকে সমস্যা নেয়!! কেন ফোন
দিতে বলছেন? অাপনার তো অামার
সাথে কথা বলার কোন দরকার নেয়!!
(মেয়েটি)
----রাগ করে কথা বলছেন কেন? অকে
সরি বললাম তো!! অাসলে অামার
কারণে কেউ কষ্ট পাক; তা চাই না
অামি!!(অামি)
---হইছে ;থাক অার বলতে হবেনা কষ্ট
দেওয়ার মতো কথা বলবে অাবার কষ্ট
দিতে চায় না বলে!! (মেয়ে)
----লজ্জা দিবেন না প্লিজ!! বাই দ্য
ওয়ে অামার কথায় অাপনে কষ্ট
পাবেন কেন? (অামি)
----এমনি বলা যাবেনা!! (মেয়ে)
---ঠিক অাছে বলতে হবেনা!! তবে
এবার অাপনার পরিচয়টা দেন!!
(অামি)
---অামি বর্ষা ;বর্ষা রহমান!! (মেয়ে)
----অামি অাকাশ অাহমেদ (অামি)
---জানি !! (বর্ষা)
---জানেন? কেমনে? (অামি)
---অাপনে একদিন অামার কাজিনের
সাথে অামাদের ভার্সিটিতে
এসেছিলেন!! (বর্ষা)
----কার কথা বলছেন? নীলের কথা
বলছেন নাতো অাবার!! (অামি)
-----জ্বি নীলের কথায় বলছি!! নীল
অামার কাজিন!! অার ওর কাছ
থেকেই অাপনার নাম্বার নিয়েছি!!
(বর্ষা)
----কেনো নিয়েছেন?? অামার
কাছে অাপনার কি প্রয়োজন?
(অামি)
----সব দরকার বলা যায় না! হয়তো খুব
দরকার!! (বর্ষা)
----বলতে হবে!! (অামি)
----কি বলবো? (বর্ষা)
-----কেন ফোন নাম্বার বা অামার
সম্পর্কে নীলের কাছে জেনেছেন?
(অামি)
---সত্যিটা বলবো? (বর্ষা)
---হুম সত্যিটাই বলেন!! (অামি)
---অাসলে অামার অাপনাকে দেখে
ভাল লেগে যায়!! নীলের সাথে
দেখে অাপনাকে অনেক ভাল
লাগে!! বলতে পারেন একতরফা
ভালবাসা তৈরি!! অার অাপনি
বলতে পারেন ;এক দেখায় ভাল লাগা
হয়। কিন্তু ভালবাসা হয় না।তবে
অামি বলবো অন্যদের ক্ষেত্রে এই
সংজ্ঞাটা কেমন জানিনা! তবে
অামি অাপনাকে ভালবেসে
ফেলেছি এটাই সত্য!! জানি
মেয়েরা কখনোই অাগে ভালবাসি
কথাটা বলতে পারেনা ;তবে একটু
ভাবেন কতটা পছন্দ হলে একটা মেয়ে
প্রথম দেখাতেই একটা ছেলেকে
ভালবাসতে পারে?অাপনি ঐ দিন
যখন লজ্জা সরম নেয় অামার বলছেন!
তখন খুব খারাপ লেগেছিলো!! অামি
সেদিন সারারাত কেঁদেছি!! জানেন
তো মেয়েদের লজ্জা সরমটা একটু
বেশি!! তবে এটা হয়তো জানেন না
একটি মেয়ে যাকে মন থেকে
ভালবেসে ফেলে ;তার কাছে
কখনোই লজ্জা সরম লুকাতে পারেনা!!
অামি সত্যি'ই অাপনাকে
ভালবাসি!!(বর্ষা)
-----কথাগুলো শোনে কি বলব বুঝতে
পারছিলাম না!! প্রথম দেখাতেই
একটা মেয়ে এতোটা ভালবাসতে
পারে বুঝতে পারিনি(মনে মনে
ভাবছি)
---এইযে কি হল ;কিছু তো একটা
বলবেন!! (বর্ষা)

---দেখেন অামাকে অাপনার পছন্দ হয়
মানলাম ;তবে অামারও তো একটা
পছন্দ
অাছে!! (অামি)
---অামি অামার পছন্দ মতো হওয়ার
চেষ্টা করব!! তবুও বলেন অাপনার কেমন
মেয়ে পছন্দ!! (বর্ষা)
---নম্র ভদ্র, পর্দাশীল নামাজি,
সংসারিক!! (অামি)
---অামি সবসময় হিজাব পড়ি, এবং
চেষ্টা করি সবসময় পর্দাশীল থাকতে!
তবুও চেষ্টা করব অাপনার মনের মত
হওয়ার!! (বর্ষা)
---কিন্তু অামি তো অাপনাকে
দেখিনি!! (অামি)
---অামি অামার একটা ছবি MMS করে
দিচ্ছি দেখে নিয়েন!! (বর্ষা)
----একটা MMS ছবি অাসলো!!
অাসলেই
অনেক সুন্দর!! হিজাব পড়া চোখে
হালকা কাজল দেয়া!! তবুও তো
তাকে
সাথে সাথে হ্যা বলতে পারিনা।।
ভাবার জন্য সময় নিলাম বর্ষার কাছে
দু'দিন সময় চাইলাম! সে সময় দিল!!
--
--
৬ বছর পর

বর্ষার সাথে অামার বিয়ে হয়েছে!!
সেদিন অনেক ভাবলাম। বর্ষার ছবি
পরিবারকে দেখালাম সবার পছন্দ হয়!!
তবে সে সময় অামাদের বিয়ে হয়নি!!
হয়েছে তার তিন বছর পর!!কেননা
তখনো
লেখা পড়া শেষ হয়নি!! তবে বর্ষা
একটা মিথ্যার অাশ্রয় নিয়েছিলো
;সেটি হল বর্ষা অামার থেকে এক
বছরের সিনিয়র ছিল!! তবুও সে
বুঝিয়েছে ভালবাসায় এক বা পাঁচ
বছর
কোন ব্যাপার না!! ও অাপনাদের তো
বলায় হয়নি অামাদের একটি মেয়ে
অাছে!! দেখতে ঠিক বর্ষার মতো!!

এ হল অামাদের কাছে অাসার গল্প!!

23/05/2016

=বাবু.......আমার কাছে আসো কানে
কানে কথা বলবো!(আমি)
=হুম বল।(সবুজ)
=কাছে আসবা তো।
=এসেছি এবার বলো..
=ফুহহহহহহহহহ.....
=এটা কি হলো?
=হি হি হি তোমাকে ভয় দেখাইলাম।
=কিন্তু আমি তো ভয় পাই নি বাবু
=কিহহ তুমি ভয় পাও নি(কাঁদো কাঁদো
হয়ে)
= না বাবু ভয় পাই নি
=ভ্যাঁএএএএ তুমি ভয় পাও বলছি।এ্যাঁএএএ
=আচ্ছা আচ্ছা আমি ভয় পাইছি এবার
খুশি!
=হি হি লক্ষী বাবুতা।

কথা হচ্ছিল আমার আর সবুজের। কি
ভাবছেন সামনাসামনি কথা হচ্ছে!উহু
না ম্যাসেন্জারে চ্যাট হচ্ছে।বলতে
গেলে অনেক ভূমিকম্প ঘূর্ণিঝড়ের পর
আমার আর সবুজের প্রেম হয়েছে।প্রেম
বলা ভুল বরং দুষ্টুমির একটা ভালো
পার্টনারশিপ হয়েছে।

এবার আমার আর সবুজের ব্যাপারে
কিছু বলা যাক সবুজ এবার অনার্স ২nd
ইয়ারে পড়ে আর আমি পড়ি ইন্টার ২nd
ইয়ার।সবুজ এফবিতে লেখালেখি করে
আর আমি নিয়মিত গল্প পড়ি আর লাইক
কমেন্ট করি।এর পরের ঘটনা খুবই কমন।
লেখক আর পাঠিকার প্রেম কাহিনি।

এবার বলি মূল ঘটনা।একদিন
প্রাতঃকালে "কালো শাড়ি" নামক
একটা গল্প পড়ছিলাম।গল্পটা এত্তো
দারুন যে আবেগে আপ্লুত হয়ে
লেখকের আইডি খুজে বার করে
ওনাকে মেসেজ করি "আপনার কালো
শাড়ি গল্পটা কিন্তু খুব সুন্দর হয়েছে"।
মিস্টার লেখকও সাথে সাথে
রিপ্লাই করে "ধন্যবাদ"।আর এই সাথে
সাথে রিপ্লাই করাই লেখকের
কাল..নাহ সুকাল হলো।আমিও
নাছোরবান্দা...ওহহ না
নাছোড়বান্দীর মতো লেখকের
ঘাড়ে চাপলাম। মি.লেখকও কম যায়
না আমাকে কিছুতেই পাত্তা
দিচ্ছিলেন না।লেখক বলে ভাব একটু
বেশি কিনা।তো কি হইছে এ্যাট
লাস্ট তো পটতেই হলো। বাট আমি
কিন্তু লেখক কে প্রপোজ করেছিলাম
না উনিই করেছিলেন। তাহলে
প্রপোজের দিনের কথোপকথন
বলি....এহেম এহেম....শুরু করলাম..
=আমি তোমাকে একটা হেব্বি
ভালো একটা গল্প পাঠাতে চাই
(আমি)
=তুমি লিখছো নাকি (মি.লেখক)
= নাহ। বাট গল্পটা দারুন।
=আচ্ছা দাও।
=তাহলে শোনো। একযে ছিল লেখক।
সে লেখালেখি করতো। এক যে ছিল
গল্পপাগলি।সে ফেবুতে গল্প পড়তো।
সেই লেখকের একটা গল্প পড়ে
গল্পপাগলিটা তাকে নক করলো।
তারপর আস্তে আস্তে তাদের বন্ধুত্ব
হলো তারপর প্রেম হলো।আর
তারপর.....ব্রেকআপ।
=হা হা হা গল্পটা আসলেই দারুন তো।
=বাট আমরা কিন্তু প্রেম করবো না
ঠিক আছে!!
=আচ্ছা! বাট জারিন তোমাকে একটা
কথা বলি?
=হুম বলো...
=হা হা আমি তোমাকে পছন্দ করি।
=হি হি তো কি আমিও তো করি।
=হা হা ভালোও বাসি
=হি হি ওমা সত্যি!
=হা হা সত্যি
=হি হি কিন্তু তুমি এতো হাসছো
কেন?
=হা হা তুমিও তো হাসছো।
=হি হি চুপ বেয়াদপ
=হা হা হা...


আমার আর সবুজের রিলেশন ভালোই
চলছে।যার ই মন খারাপ হোক সরি বলে
সবুজ।ওর এই হ্যাবিট টা দারুন।এই জন্যই
ওকে কখনও হারানোর কথা ভাবতে
পারি না। সামনে আমার hscপরীক্ষা।
পড়াশোনার চাপে তেমন কথা হচ্ছে
না। প্রায় ৬দিনপর আমাদের কথা
হচ্ছে। কল রিসিভ করেই বললাম...
=এই শোনো আমি কিন্তু তোমাকেই
বিয়ে করবো।
=আচ্ছা করবা বাট সবাই তো ফোন
রিসিভ করে হ্যালো বলে কেমন
আছো জিজ্ঞাসা করে তুমি এটা
বলো কেন!!
=তোমার যাতে মনে থাকে তাই
=এটা কি ভুলে যাওয়ার কথা।
=জানি না। আমার পরীক্ষা শেষ
হলেই তুমি আমায় বিয়ে করবে ব্যস!
=তা নাহয় করবো কিন্তু তোমায়
খাওয়াবো কি?
=ঠেলাগাড়ি ঠেলবা। আমি নাহয়
টিউশনি করাবো।
=না আমি লেখালেখি করবো।আর
একটা কাজ করলে কেমন হয়!
=কি কাজ?
=ব্যাংক ডাকাতি করলে কেমন হয়!
=ওহ বাবু তাহলে তো খুব ভালো হয়।
আমরা সুখে থাকবো।
=যখন পুলিশে ধরবে তখন?
=তাহলে তো আরো মজা হবে আমরা
একসাথে হাজতে থাকবো।খাওয়া
দাওয়া ফ্রিতে হয়ে যাবে।উফফ কি
মজা....
=এতো লাফিয়ে কাজ নেই ছেলে
মেয়ে একসাথে থাকতে দিবে না
বাবু!
=ইমম তাহলে ওই আইডিয়া বাদ।
তারচেয়ে বরং আমরা কাউকে খুন
করে ফাঁসিতে ঝুলবো।
=ফাঁসি না হয়ে যদি যাবজ্জীবন হয়
তখন ঝামেলা। তারচেয়ে বরং দুজনে
আত্মহত্যা করবো
=উমমম আত্মহত্যা মহাপাপ।
=আচ্ছা তাহলে তুমি আমাকে আর
আমি তোমাকে খুন করবো...
=ওয়াওও গ্রেট।তোমার এতো বুদ্ধি
কেন?
=বলবো?
=হুম বলো
=I love u জারিন।
=হি হি চুপ বেয়াদব।
=হা হা হা....


সবুজকে পেয়ে আমার লাইফে শত শত শত
প্রজাপতি উড়াউড়ি শুরু হয়েছে ও
এতো এতো ভালো যে যে ইচ্ছে করে
ওর বোচা নাক কামড়ায়ে দিই।আর
তো কটা দিন তারপর পরীক্ষা শেষ আর
তারপর....


হুম আজ সবুজের সাথে দেখা করার
তারিখ। আমরাই প্লান করেছিলাম যে
তিনদিন কোন যোগাযোগ না রেখে
আজকের তারিখে স্টেশনে দেখা
করবো। তার যে গল্পটা পড়ে আমি
তার গলায় ঝুলেছিলাম ঠিক সে
গল্পের মতো আমাকে কালো শাড়ি
পড়তে হয়েছে আবার রেলস্টেশনে
দেখা করতে হবে ফিল্মি ফিল্মি
ভাব হবে তাই হি হি

কাজের সময় একটা অটোও পাওয়া যায়
না উফ।
=এই অটো স্টেশন যাবে?
=হুম উঠেন আপা।
অটোতে উঠলাম। চোখগুলা বন্ধ করলাম।
মনে বেশ প্রশান্তি।স্টেশনে চলে
এসেছি ওই তো আমার সবুজ আমার
দিকে এগিয়ে আসছে।চোখের পলক ও
ফেলছে না আমি জানতে চাইলাম
কি দেখো....
=তোমাকে দেখছি
=আমাকে কি খুব সুন্দর দেখাচ্ছে??
=তোমাকে তো জরিনা সুন্দরীর মতো
লাগছে।
=কি বললা তুমি...!
=হা হা কিছু না। এই নাও তোমার
পছন্দের পাঁচটা সূর্যমুখী ফুল। I LOVE U....
=হুম I LO......

হঠাৎ কেউ বললো আপা স্টেশন এসে
গেছি। ওহহ আচ্ছা।ভাড়া মিটালাম।
আহহ স্বপ্ন দেখতে কত্তো ভালো
লাগে।বসলাম একজায়গায়।সবুজকে তো
ফোন দিয়ে লাভ নেই প্লান মতো
তিনদিন তো কোনো যোগাযোগ
নেই। উফফ কখন যে আসবে।!কখন থেকে
বসে আছি আসুক একবার দেখাবো
মজা।

হি হি আমার বোঝা হয়ে গেছে সবুজ
আসবেনা। চেষ্টা করছি চোখ থেকে
যেন পানি না বার হয়। ও বলেছিল
মেয়েদের কাজল ছাড়া চোখ দুধ
ছাড়া চায়ের মত। অতি যত্নে কাজল
দিয়েছিলাম। ওর সব কথা মানতাম
আমি। কাঁদতে নিষেধ করেছিল।কিন্তু
চোখ থেকে পানি বার হচ্ছে হাতের
তালু দিয়ে পানি মুছার চেষ্টা করছি
কিন্তু হাতের তালু আবৃত হচ্ছে চোখের
কালো কাজলে। খুব কান্না পাচ্ছে
সবুজ তোমার এই কথাটা রাখতে
পারলাম না আমি কেঁদে ফেললাম।


বাসায় ঢুকতেই আম্মা জিজ্ঞাসা
করলো আমার এই অবস্থা কেন। কালো
শাড়ি,কালো খোলা চুল, চোখের
কাজল চোখে মুখে লেপ্টে আছে
কেন। আমি কিছুই বলতে পারিনি শুধু
আম্মাকে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে
কেঁদেছি।


প্রায় একমাস হয়ে গেল আজো কোনো
খবর পেলাম না সবুজের। ওর আইডিতে
রেগুলার ঘুরি। ওর লেখা প্রতিটা
গল্পের প্রতিটা লাইক কমেন্টের
মালিককে আমি জিজ্ঞাসা করেছি
কেউ কিছু জানে কিনা। কিন্তু
পাগলটাকে সেভাবে কেউ চিনে
না পরিচিত কেউ নেই বললেই চলে।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতাম
প্লীজ কেউ যেন আমাকে সবুজের খবর
দেয় আমাকে ওর কাছে নিয়ে যায়।
যখন ওকে খুজতে খুজতে আমি
পরিশ্রান্ত তখন হয়তো আমার প্রার্থনা
কবুল হলো ওর এক ছোট ভাইকে খুজে
পেলাম যে আমাকে ওর খবর দিল।


আজকে সবুজের বাড়ি এসেছি ওর
সাথে দেখা করতে। প্রথমে আন্টি
আঙ্কলের সাথে দেখা করলাম
সালাম করলাম ওনারা প্রাণ ভরে
আমায় দোয়া করলেন। তারপর
স্যান্ডেল খুলে ওর সাথে দেখা
করতে যেতে বললেন।
সবুজ আমাকে দেখে খুব খুশি হবে।
কারন ওর পছন্দমত কালো শাড়ি,কালো
টিপ, কালো কানের দুল পরে এসেছি।
ওহহ মুখটা একটু সাদা দেখাচ্ছিল ওটাও
কালো বানিয়েছি...ওই তো ওকে
দেখা যাচ্ছে। দেখতেই বললাম
"আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল
ক্ববুর"
ও হয়তো বললো--
আজ আর বিয়ের কথা বললে না যে। আর
তোমাকে অতুলনীয়া লাগছে। I LOVE U
জারিন...
আমি বললাম--
হি হি চুপ বেয়াদপ।
ও হয়তো শুধু মুচকি হাসতে লাগলো।


পুনশ্চ ১:যেদিন সবুজ আর আমার দেখা
করার কথা ছিল তার আগের দিন সবুজ
ইলেকট্রিক শকে মারা গিয়েছিল।
ওদের বাড়ির প্রায় সব পুড়ে
গিয়েছিল।সবুজের মা বাবা বাসায়
ছিল না তাই শুধু তারা ঠিক ছিল।
পুনশ্চ ২:আমি যখন এসব জানতে পারি
তার পরদিনই সবুজের সাথে দেখা
করতে যাই কিন্তু সেটা কবরস্থানে।

16/05/2016

কিছু মেয়ে আছে যারা সবসময় নিজ
ফ্রেন্ড সার্কেলটা মাতিয়ে রাখছে,
হাসছে, হাসাচ্ছে...
ঠিক সেই মূহুর্তে সার্কেলের কতিপয়
বান্ধবী হাসির ফাঁকেফাঁকে
হ্যান্ডব্যাগে লুকিয়ে মোবাইলে
প্রেম করছে।
হাস্যোজ্জ্বল মেয়েটা আড়চোখে
সেটা দেখেও দেখে না, হয়ত সেই
কয়েক ন্যানোসেকেন্ডের জন্য
হাসিটাও স্তিমিত হয়ে যায়।

এই সদাহাস্য মেয়েগুলোর সাথে
কখনো কারোও ঝগড়া হয়না,
রাগারাগি হয়না, অভিমান হয় না।
মেয়েগুলোকে দেখে আপনি কল্পনাও
করতে পারবেন না, স্কুল/কলেজ/
ভার্সিটির এই সার্কেল থেকে
বেরিয়ে যাওয়ার মূহুর্ত থেকে এই
মেয়েগুলো কি ভয়ঙ্কর একা হয়ে যায়!
সারাদিন যে আপনাকে সঙ্গ দিলো,
দিনশেষে সেই মানুষটাই সঙ্গীহীন
হয়ে চুপচাপ বসে থাকে...

বিকেল হলে আগে ছাদে বা বাসার
সামনের আঙ্গিনায় খেলতে যেতো।
কিন্তু আম্মু এখন বকা দেয়, "অমুক ভাইয়ার
সামনে যাবিনা, তমুক ভাইয়ার দিকে
তাঁকাবিনা"
মেয়েটা তখন নিজেকে বারান্দার
কোণায় গুটিয়ে ফেলে...

কিছুদিন পর বারান্দার অপজিট
বিল্ডিং অথবা বারান্দা বরাবর
নিচের মাঠে ছেলেদের আনাগোনা
বেড়ে যাওয়ায় আম্মু বারান্দায়
যাওয়াও বন্ধ করে দেয়!
সারাদিন ঘরে আঁটকে থাকা এই
মেয়েগুলো হয়ত একারণেই ফ্রেন্ড
সার্কেলে কথার তুবড়ি ছোটায়..
অকারণেই হেসে গড়িয়ে পরে...

কতিপয় বান্ধবীরা এই মেয়েগুলোদের
নিয়ে আড়ালে হাসির খোরাক
বানায়,
রাত হলে ফোনালাপে প্রেমিককে
শোনায়,

- 'জানো বেবি আজ ওই মেয়েটা
ফুসকা খেতে গিয়ে প্লেট ফেলে
দিয়ে সে কি কান্না!...হাহাহ
া...স্টুপিড পুরা"
- "কোন মেয়েটা বেবি?"
- 'ওই যে, আমার খেত একটা ফ্রেন্ড
আছে বলছিলাম না!...বাঁচালটাইপের
মেয়েটা'
- "হু...বাদ দাও তো"


এই সদাহাস্য মেয়েদের আমি ছোট্ট
একটা নামে ডাকি, "কিন্নরী".

এই মেয়েগুলো একটু বোকাধাচের হয়।
খুব সহজেই ফ্রেন্ডের সাথে ঘুরতে
যেতে চলে যায় অকপট বিশ্বাসে।
অভিমানী হয়, তবে বদমেজাজি না।
ক্ষমা করার মত মানসিকতা নিয়ে
এরা জন্মগতভাবেই পারদর্শী!

ঠিক ততক্ষণ এরা স্বাভাবিক থাকে
যতক্ষণ না কোন বিপরীত লিঙ্গের
আবির্ভাব না ঘটছে...

হয়ত কোন ছেলে জন্মদিনের দিন
সারপ্রাইজ ভিডিওটেপ দিয়ে উইশ
করলো,
নীল পাঞ্জাবি পরে কদমফুল হাতে
বারান্দার সামনে দাড়ালো কোন
এক বর্ষায় হিমু সেজে,
অথবা রোজ ফেসবুক ইনবক্সে ছোট ছোট
কবিতা।

কিন্নরী এই অল্পতেই বিশ্বাস করে
স্বপ্ন দেখে ফেলে!
হয়ত সারপ্রাইজ উইশটা নিয়ে কোনরূপ
মন্তব্য করবেনা,
কিন্তু পরম যত্নে সাজিয়ে রাখবে
লুকানো কোনো ফোল্ডারে.
বৃষ্টিভেজা কদমহাতে দাঁড়ানো
ছেলেটার প্রতি বিরক্তির দৃষ্টি
নিক্ষেপ করলেও,
বারান্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে ঠিকই
ছেলেটার চলে যাওয়া খেয়াল করবে
খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে.
হয়ত ছোট কবির কবিতার রিপ্লে
দিবেনা,
কিন্তু রোজ ঠিকই অপেক্ষা করবে
কবিতার জন্য!

আচ্ছা, কি মনে হয়?
এগুলা কিন্নরীদের প্রেমে পরার
লক্ষ্মণ???
উহু মোটেও না, কারো প্রেমে পরার
আগে ১০০বার নিজের কনজারভেটিভ
পরিবারের কথা চিন্তা করবে
মেয়েটা।
নিজের ভবিষ্যৎ এর কথা ভাববে,
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে
ছোট তৈরি করে এক পা, দু পা করে
পিছিয়ে যাবে...

এই মেয়েগুলো একইসাথে বাস্তবতা
আর আবেগের তৈরি ছেঁড়া স্বপ্ন
বুনতে পারে।
যদি কখনো সুযোগ পেয়ে যান, আঁকড়ে
ধরে রাখুন এদের...
খুব সম্ভবত জীবনের শ্রেষ্ঠ কিছু সম্পদের
একটি পেয়ে যাবেন!



কোথায় যেনো শুনেছিলাম,
- "সব মেয়েরা জন্মগতভাবে 'হৈম'
হলেও,
সব ছেলেরা 'হিমু' হতে পারে না."

হ্যা, সব মেয়েরাই জন্মগত 'হৈম' কিন্তু
'হিমু' তো সহজ একটি ভং!
চাইলেই কি আর নিজের 'হৈমসত্বা'
কে আগলে বেঁচে থাকতে পারছে সব
মেয়ে?

আমি তাই 'হৈমে' বিশ্বাসী নই,
আমি বিশ্বাসী 'কিন্নরীতে'...

কিন্নরীরা বয়ামে রাখা
কাঁচপোকা,
যাদের বয়ামের মাঝেই সমস্ত
অস্তিত্ব...
বনের জোনাকীর মত মুক্ত তারা নয়!

এটা এক আলাদা সৌন্দর্য.
এমনি কোনো কিন্নরীর জন্যই হয়ত কবি
লিখেছিলেন,

"ঘাড় গুঁজে দিন
লিখতে লিখতে,
ঘাড়ঁ গুজে রাত
লিখতে লিখতে,
মুছেছে দিন-মুছেছে রাত
যখন আমার লেখার হাত
অসাড় হলো,
মনে পড়ল,
সাল কি তারিখ, বছর কি মাস
সেসব হিসেব আর ধরিনি।
লেখার দিকে তাকিয়ে দেখি,
এক পৃথিবী লিখব বলে,
একটা খাতাও শেষ করিনি..."

হু,,,কিন্নরীদের নিয়ে চাইলেও এক
পৃথিবী লেখা হয়ে ওঠেনি!

"ভালো থাকুক তাঁরা"।

15/05/2016

একজন সদ্য ধনী হওয়া লোক সকালে ঘুম
থেকে ওঠে নিজের বাড়ির
বারান্দায় বসে বউয়ের সাথে
খোশগল্প করছেন।বউ বলছেন- দেখো ,
তোমারতো এখন মেলা টাকা পয়সা
হয়েছে। এখন আর অতো কিপটামি না
করে,পোলাপানদের পুষ্টির জন্য কিছু
টাকা পয়সা খরচ করো। লটকা'র স্বাস্থ্য
দেখছো। কি নাজুক অবস্থা। এই রাস্তা
দিয়ে প্রতিদিন গোয়ালা দুধ নিয়ে
যায়।অন্তত ১ লিটার দুধতো ওর কাছ
থেকে প্রতিদিন কিনতে পারো।
পিছন থেকে লটকা বলে ওঠলো- মা, দুধ
খামু।
বউয়ের কথা কর্তার মনে ধরলো।
বললেন- গোয়ালা দেখলেই ডাক
দিবা।
পরেরদিন সকালে গোয়ালা হাজির।
কর্তা বললেন- ১লিটার দুধের দাম
কতো?
আগ্গে ৪০ টাকা।
ঠিক আছে। কাল সকাল থেকে
প্রতিদিন ১ লিটার করে দুধ দিয়ে
যাবা।
আচ্ছা - বলেই গোয়ালা রওয়ানা
দিলো।
কর্তা চিন্তা করলেন। ৪০ টাকায় ১
লিটার বলার সাথে সাথেই রাজি
হয়ে গেলো। দেখিনা ৪০ টাকায় ২
লিটার দুধ দেয় কিনা।
গোয়ালাকে আবার ডেকে বললেন-
আচ্ছা, ৪০ টাকায় তুমি কি ২ লিটার
দিতে পারবা?
জ্বি, তা পারবো।
দুধ খেয়ে লটকা'র পুষ্টি বেশ যষ্টি হতে
শুরু করেছে। লটকা পুষ্টিতে পরিপুষ্ট,
কর্তা কত্রী দুজনেই বেশ তুষ্ট।
কিছুদিন পর কর্তা চিন্তা করলেন-৪০
টাকায় ২লিটারে রাজি হয়ে
গেলো। তাহলে ৩ লিটার দেয় কিনা
চেষ্টা করে দেখি।
গোয়ালাকে বললেন- এই তুমি কি ৪০
টাকায় ৩ লিটার দিতে পারবা?
জ্বি বাবু তাও পারবো।
কিন্তু দুধ খেয়ে লটকা'র পুষ্টি এবার
আর তেমন বাড়েনা। খেলার মাঠে
সামান্য ল্যাং খেলেই লটকা চ্যাং
হয়ে ছিটকে পড়ে।
কর্তা চিন্তা করলেন- দুধের পরিমাণ
আরেকটু বাড়াতে হবে। গোয়ালাকে
বললেন- ৪০ টাকায় ৪ লিটার দিতে
পারবা?
জ্বি আগ্গে পারবো। তবে দুধে
পুষ্টিতো দূরের কথা দুধের রঙই আর
খুঁজে পাবেন না। সব জলরঙ হয়ে যাবে।
এক লিটার দুধে আর কত জল মিশানো
যায় বলেন?
আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার
অবস্থাও এরকম। শিক্ষকদের ওপর নির্দেশ
আসলো পাশের হার ৬০ হবে। উনারা
বললেন- নো প্রবলেম।
শিক্ষাকর্তা ৬০এ সন্তুষ্ট না।আরো
বাড়াতে হবে।
অসুবিধা নাই। কত চান? ৭০,৮০,৯০,৯৫,৯৯%
। চিন্তার কোনো কারণ নাই। A+কত
চান? শত, হাজার, দশহাজার, ২০
হাজার, লাখ। নো প্রবলেম।হচ্ছে, হবে,
হয়ে যাবে। যা চান , তাই সাপ্লাই
দেয়া হবে।
শিক্ষাকর্তা বেজায় খুশী। পাশ আর
পাশ। প্লাস আর A প্লাস।
এবার এই A প্লাস খাওয়া বাস্তব একটা
পুষ্টির নমুনা দেই।
আমার কাজিন-খুশীতে গদগদ হয়ে
নাচতে নাচতে ফোন করলো- ভাইয়া
শুধু A+না একেবারে গোল্ডেন A+
পেয়েছি।
গোল্ডেন এ প্লাস নামক এই অদ্ভূত
জিনিস পৃথিবীর আর কোথাও আছে
কিনা আমার জানা নেই। বললাম,
ভালোইতো হলো। আমরা আগে
পরীক্ষা দিলে মার্কস পেতাম।
তোরা সোনা পাওয়া শুরু করেছিস।
জমিয়ে রাখ, বিয়ের সময় কাজে
লাগবে।
মনে হয় একটু রেগে গেলো। বললো-
তুমি না শুধু ঢং করো।
আচ্ছা আর ঢং করবোনা। এবার বললাম-
ইংরেজিতে কত মার্কস পেয়েছিস।
তুমি না কিছুই বুঝোনা।বললাম না
গোল্ডেন A প্লাস পেয়েছি। এর
মানে বোঝ?
মানে বোঝারইতো চেষ্টা করছি।
দেখি তোর Golden A + এর নমুনা।
বলতো-"আমার একটা পোষা বিড়াল
আছে এবং আমি আমার বিড়ালটিকে
খাওয়াই"-এর ইংরেজি কি?
খিলখিল করে হেসে বললো-
এইটাতো একেবারে সোজা। এর
চেয়ে কত কঠিন সৃজনশীল প্রশ্নের জবাব
দিলাম।
এটার ইংরেজি হবে-I am a cat and I eat
my cat. গ্রামার ঠিক হয়েছে ভাইয়া?
বললাম, গ্রামারের আর দরকার কি?
তোর নিজের গ্লামার ঠিক রাখলেই
হবে।তোকে কর্তার ছেলে লটকা'র
সাথে বিয়ে দিবো। একটা জল
মিশ্রিত দুধ খেয়ে খেলার মাঠে
লটকে থাকে আর একটা শিক্ষার
মাঠে নিজেই বিড়াল হয়ে বিড়াল
খেতে থাকে।
কিছুদিন আগের ঘটনা। মফস্বলের এক
অনুষ্ঠানে জনৈক মাননীয় মন্ত্রী
মহোদয় একটি ঘরোয়া বৈঠকে বলছেন-
আপনারা আমাকে যেভাবে
হসপিটালাইজড করেছেন তাতে আমি
খুবই আনন্দিত হয়েছি।
মন্ত্রী'র কথা শুনে এ ওর দিকে
তাকায়। ঘটনা কি? মন্ত্রী আবার
এখানে হাসপাতালে কবে ছিলেন?
আসলে উনি বলতে চেয়েছিলেন-
যেভাবে হসপিটালিটি করেছেন।
বড়ই নাজুক। দুধ মনে করে পানি
খাওয়ানো শিক্ষা ব্যবস্থাও নাজুক।
আসলে দুধের পরিবর্তে বেড়েছে শুধুই
জল, আর শিক্ষার মানের পরিবর্তে
বেড়েছে শুধু পাশের ফল।
তারপরও যারা ভালো রেজাল্ট করে
পাশ করেছো তোমাদের জন্য অনেক
শুভকামনা। আর যারা এ অথবা
গোল্ডেন এ পেলেনা বলে মনে দুঃখ
পাচ্ছো। তারা কোনো দুঃখ
পেয়োনা। জীবনটা অনেক বড়। একটা
সার্টিফিকেটই জীবনের সবকিছু না।

15/04/2016

শেষ বিকেল টা অন্ধকার ভরে
আসছিলো। দুপুরে পর থেকেই আকাশ
মেঘলা, মাঝে মাঝে তরল মেঘেরা
উড়ে যাচ্ছিল আকাশছোঁয়া
বাড়িগুলো মাথা মুড়িয়ে। বাতাস
আর্দ্র কিন্তু বৃষ্টিটাই যা হচ্ছিলো না।

দিনগুলো যেনো আমার আর
যাচ্ছিলো না।পড়াশোনাতে মন নাই,
দিন দিন খারাপ ছাত্রী হয়ে যাচ্ছি।
রাস্তায় বের হইলে অন্য মনস্ক হয়ে
যায়। কোন কোন সময় গাড়ির ডাইভার
বকাও দেয়, দেখে চলতে পারেন
না??? এভাবে কেউ রাস্তা দিয়ে
হাঁটে নাকি??? আমার কিছুই বলার
থাকে না শুধুই তাকিয়ে থাকি।

দিনের বেলায় কান্না করতে
পারতাম না, রাত আসলেই শুধু কান্না
করতাম, এক সময় ঘুমিয়ে যেতাম। আবার
মাঝ রাতে ঘুম ভাংলে কান্না
করতাম। বাকি রাতটুকু ঘুম আসতোনা।
অথচ ঘুমের জন্য কত বকা খেয়েছি
কাজলের হাতে। মেসেজিং করতে
করতে ঘুমিয়ে যেতাম, সকালে উঠে
দেখতাম অনেক গুলো মেসেজ আর কল।
আমি না বলে ঘুমিয়ে যাওয়াতে
মাঝে মাঝে রাগ করতো, আবার
মাঝে মাঝে কিছু বলতোনা।

শরীর টা ভাল যাচ্ছে না, আগে চার,
পাঁচ বার করে খেতাম আর এখন তিন
বার ঠিক মতো খাওয়া হয়না। শুধু মনে
হতো বেশী দিন বাঁচবো না। তবে সব
সময় দোয়া করতাম তারাতারি
আল্লাহ তুমি আমাকে নিয়ে যাও,
অথবা কাজলকে যেনো তারাতারি
ভুলতে পারি।

আমার কাজিনরে কল দিলাম, ও
হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে।
বললাম একদিনের জন্য হলেও তুই বাসায়
আয়, তোর সাথে কিছু কথা আছে।

কাজিনকে কল দেওয়ার পরে, আগের
কথা ভাবছি। আমার আর কাজলের
রিলেশন হয় রং নম্বর কল থেকে। তারপর
ফেসবুকে বেশী কথা হতো। আমি
কাজলকে সত্যি অনেক ভালবেসে
ফেলি। আমি ন্যাশনাল ভার্সিটিতে
পড়ি আর কাজল পাবলিক
ভার্সিটিতে পড়ে। জেলা আলাদা
আলাদা ছিলো।

কাজলের সাথে চলতো সব সময়
মেসেজিং। সময় হইলে ফোনে কথা
হতো। আমাদের একটা ছোট্ট পরী হবে,
পরীকে নিয়ে সুন্দর একটা স্বপ্নের মত
দুজন সংসার গুছিয়ে ফেলি।

কাজলের ইচ্ছে ছিলো অনেক গুলো
বাচ্চার, আমি যেহেতু রাজি হতাম
না তাই এক ছেলে এক মেয়ের কথা
বলতো। তবে ছেলের কথা হতোনা শুধু
পরীকে নিয়েই কথা হতো।

আমার বিশেষ করে কাজলের সাথে
কথা বলতে বেশি ভাল লাগতো,
কাজলের ভয়েস টা অনেক সুন্দর। কথাও
বলে অনেক কিউট করে।

প্রতি টা দিন পরীকে নিয়ে কথা
বলতে দিন চলে যেতো। এভাবে দুই
মাস যাওয়ার পরে কাজল বললো
তোমার সাথে দেখা করবো। আমি
বললাম অনেক পরে দেখা হবে
আমাদের। এতো তারাতারি দেখা
করবোনা। তাছাড়া দুজন দুজন ফেসবুকে
ছবি দেখেছি।

কাজল দেখা করবেই, আমার একটা
জিনিস ভয় লাগতো যদি আমাকে
দেখে না ভাল লাগে? তাহলে তো
আর কাজল কথা বলবে না। এমনকি
অচেনা ছেলের সাথে কথা বলতেও
ভয় পাই। সামনাসামনি কিভাবে কথা
বলবো?? এটা নিয়েও টেনশন হতো,এ
কারণে না করতাম।

প্রহেলা বৈশাখের পাঁচ দিন আগে
দেখা করতে চায়। আমি বললাম
একবারে প্রহেলা বৈশাখে আসো।
কাজল বলে এপ্রিলের নয় তারিখে
দেখা করবো। আবার প্রহেলা
বৈশাখে দেখা করতে আসবো।

আমি শুধু কাজলকে বলতাম তুমি
আমাকে দেখার পরে আর প্রহেলা
বৈশাখে আসবে না। আমি জানি
আমাকে তোমার ভাল লাগবেনা।

না দেখো, আমি ঠিক আবার দেখতে
আসবো।আমার পরীর আম্মুকে...

নয় তারিখে দেখা করি, সেই দিনটা
অনেক সুন্দর একটা দিন কাটে। যতটা ভয়
পেয়েছিলাম তার এক অংশ ভয়
লাগেনি। মনে হয়েছে কাজল আমার
অনেক চেনা। আমি নিজেকে
কাজলের কাছে ভয়হীন ভাবে
উপস্থাপন করেছি। এজন্য কাজল অনেক
টা অবাক হয়েছিল। কিন্তু আমি
কিভাবে বুঝায় কাজলকে আমার
কতটা চেনা মনে হয়েছে,কতটা আপন
মনে হয়েছে।

সেদিনের পরে আমার মনে হয়েছে
কাজল আমাকে পছন্দ করেছে। কারণ
তারপর থেকে আরও বেশি কথা হতো।
কিন্তু কাজল খুব চালাক।

কাজল তো অনেক সুন্দর ছিলো ওর
সাথে আমাকে মানাতোনা। কাজল
আমাকে পছন্দ করেনি ঠিকি, কিন্তু
আমাকে বুঝতে দেয়নি। কাজল পাঁচ
দিন পরে আমার দেখতে আসে
প্রহেলা বৈশাখের দিন। আমি যে
আগে বলছিলাম আজ দেখা করলে আর
প্রহেলা বৈশাখে আসবে না?? তাই
হয়তো আমাকে বুঝতে দেয়নি। আবার
দেখা করতে আসে।

প্রহেলা বৈশাখ টাও মুটামুটি
ভালোই কাটে। আমি লাল
কালারের ড্রেস ও হোয়াইট
কালারের সার্ট পরে। দিনটা
ভালোই চলে গেলো।

বৈশাখের পরের দিন একটা বিষয়
নিয়ে ঝগড়া হয়। দুজন দুজনের সাথে
কথা বলি না। পরের দিন কাজল
যেহেতু কল দেয়না। ওকে খুব মিস
করছিলাম তাই আমি নিজেই কল করি।

তখন কাজল আমাকে জানায় আমি
তোমাকে ভালবাসিনা। আসলে
আমি একজনকে খুব ভালবাসি, ওর
সাথে ব্রেক আপ হওয়াতে তোমার
সাথে কথা বলে সময় পাস করতাম।
কিন্তু গতকাল ও আমার জীবনে ফিরে
আসছে।

প্রথম প্রথম তোমার ব্যবহারে মনে হতো
তুমিও সময় পাস করো। এতো অল্প
দিনেই তুমি আমাকে বিশাস করছো?
তাই মনে হতো সময় পাস করছো। এর
আগে অনেক মেয়ের সাথে সময় পাস
করছি।কিন্তু ওদের এতো ইমোশনাল
হতে দেখিনি। আমি ভাবিনি তুমি
এতো ইমোশনাল হয়ে পরবে।

আমি শুধু চুপচাপ আছি আর চোখের
পানি পরছে।

আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমি
তোমার সাথে খুব অন্যায় করে
ফেলছি। আমাকে ভুলে যেয়ে নতুন
করে জীবন সাজাও।

আমার মুখে কোন ভাষা থাকে না। শুধু
বলি রাখি। এরপর আমাকে ফেসবুকে
ব্লক করে দেয়। নাম্বারও বন্ধ করে।

দুদিন পরে নাম্বার খুলে, আমার এই
দুইটা দিন খুব কষ্টের দিন যায়, এইই দুদিন
কোন দিন ভুলার মতো না।

আমি কল দিয়ে বললাম দেখো তুমি শুধু
আমার সাথে কথা বলো, বলছিনা
আমাকে বিয়ে করো। তুমি শুধু কথা
বলো, তোমার সাথে কথা না বলে
থাকতে পারছিনা। সারাদিন খুব মিস
করতাম, আর কাঁদতাম। কথা হতো তবে
আগের মত ভাল লাগা নিয়ে না।
কাজল ওর জিএফ এর গল্প করতো, অনেক
টা কষ্ট হতো। আমার পরীকে নিয়ে
আর কথা হতোনা।

কাজল একদিন বললো, নাও আমরা ওপেন
রিলেশনশিপ করি। আমার জিএফ ঠিক
মতো কথা বলতে পারেনা। আমরাও
সময় কাটেনা। তুমি যেহেতু আমাকে
ছাড়া থাকতে পারছোনা । ওপেন
রিলেশনশিপ করি, তোমার যখন ভাল
পাত্র সাথে বিয়ে আসবে বিয়ে
করে নিও। এভাবে আমারা কথা
বললে তুমিও ভাল থাকবে আমিও।

আমি বললাম তুমি যাস্ট গুড বন্ধু হয়ে
থাকো। প্রতি দিন সন্ধ্যায় একটু কথা
বলো এতেই দিন চলে যাবে। কোনরকম
রিলেশনের ভিতরে আর যাবোনা।
যে রিলেশনের ভবিষ্যৎ নাই সেটা
যেনেও কেন?? রিলেশনশিপে
যাবো??? আমার এভাবে ভাল থাকার
দরকার নাই।

একসময় কাজলের প্রতি খুব বোরিং
এসে যায়। ওর কথা এমন ছিলো আগে
যেভাবে সব সময় কথা হতো
সেভাবেই তোমার বলতে হবে। আমি
চাইতাম কম কথা বলে আস্তে আস্তে
ভুলে যেতে। যেহেতু আমাকে
ভালবাসেনা অন্য কাউকে
ভালবাসে। ওর এরকম আবদারের ওর উপর
রাগ হয়।

আমি বলি আমাকে আর না কল দিতে
আমিও আর দিবোনা। এক প্রকার রাগ
করেই কথা গুলো বলি।

দুইমাস কথা বলিনা, দুইমাসে খুব মিস
করতাম কিন্তু কথা না বলাতে খুব
একটা কষ্ট হতোনা। কিন্তু দুইমাস পরে
আমার একটা বন্ধুর কাছে সব কিছু
শেয়ার করতে আগের কথা গুলো বলি,
সব কিছু নতুন করে মনে পরাতে খুব মিস
করতে থাকি।

ইশস কেন যে শেয়ার করতে
গেছিলাম? আবার কাজলকে খুব মিস
করি। কাজলকে কল করি ফেসবুকে
এ্যাড করার জন্য।

ফেসবুকে এ্যাড করার পরে জানতে
পারি কাজল আগের জিএফ ব্রেক আপ
করাতে। আবার নতুন রিলেশন করছে।
আর এই মেয়েকেই বিয়ে করবে।
জিনিসটা খারাপ লাগে, কাজল
আমার কাছে আসতে পারতো?? নতুন
করে কেন রিলেশন করলো??? তবু আমার
বিশ্বাস হতোনা। মনে হতো আমি
যাতে কাজলকে ভুলে যায় এজন্য
মিথ্যে বলছে।

আমি কাজলের কাছে ওর জিএফ এর
সাথে এ্যাডযাস্ট ছবি চায়। কাজল
দেয় তখনো বিশ্বাস করিনি। আমার
মনে হয় কাজলের ভাবির সাথে ছবি।
কিন্তু কাজল একদিন ফোনে কথা
বলিয়ে দেয়, তখন মনে হতো সত্যি।

কাজলকে বলছিলাম তুমি আমার
কাছে না এসে কেন নতুন জনের কাছে
গেলে??? কাজল বলেছিলো এমন
একটা মানুষের জন অপেক্ষা করছিলো,
যাকে নিজের সব কিছু দিয়ে
ভালবাসা যায়। আমার সেদিনি মনে
হয়েছিলো আসলে আমি তো
কাজলের যোগ্য না।

আমার কষ্ট হতো এটা ভেবে আরও
কখনো কাজলের সাথে দেখা হবে
না। জীবনে একটা বার দেখা করার
ইচ্ছে ছিলো। আমার চোখের পানি
গুলো কাজলের সামনে ঝড়াতে ইচ্ছে
করতো শুধু একবার।

আমার বিষয়ে আমার কাজিন সব কিছু
জানতো। ওকেই কল করলাম আসার জন্য।

কাজিন আসছে, আমি শুধু ওকে বললাম
আমি যদি কখনো মৃত্যুর সাথে লড়াই
করি। তখন যেনো সাথে সাথে
কাজলকে কল করে। আমি মরার আগে
শেষ বারের মতো দেখে যেতে চাই।
আমার কথায় আমার কাজিন বোন খুব মন
খারাপ করতো। আমাকে বুঝাইতো
একটি ছেলে গেছে কত ভাল ছেলে
আসবে। ভুলে যেয়ে নতুন জীবন শুরু কর।
অনেক কিছু বুঝাতো ।

যাক কথাগুলো কাজিনকে বলে তবু
শান্তি লাগছে। কিন্তু কাজলকে মিস
করা বাদ যাচ্ছে না। আগে কল দিলে
কাজল কথা বলতো, মেসেজ দিলে
রিপ্লাই করতো এখন তাও করেনা।

দিন যত যাচ্ছে মিস করার পরিমাণ টা
বেড়েই যাচ্ছে,না পড়াশোনা
করি??? না বাবা মার কথা শুনি??
উল্টা বাবা মার সাথে খারাপ
ব্যবহার করি। একদম সিদ্ধান্ত নিলাম
আর পৃথিবীকে বেঁচে থাকবোই না।
এভাবে আর জীবন চলে না। পৃথিবীর
মানুষ গুলো নিষ্ঠুর, ওদের থেকে দূরেই
চলে যাব।

আমি রাতে অনেক গুলো ঘুমের
ট্যাবলেট খেয়ে কাজিন বোনকে কল
করে বলি। কিছু ভুল হইলে ক্ষমা করে
দিস। আমার হয়ে কাজলের কাছে
ক্ষমা চেয়ে নিস। আমি তোদের
ছেড়ে চলে যাচ্ছি রে।

আমার কাজিন সাথে সাথে আমার
বাসায় বাবা মাকে জানায়। সবাই
এসে দেখে ঘুমের ট্যাবলেটের
পাতা গুলো পরে আছে বিছানায়।
এটা দেখেই সবাই হসপিটালে নিয়ে
যায়।

আমার কাজিন কাজলকে কল করে বলে
ভাইয়া প্লিজ একটা বার তরু কে
দেখতে আসেন। ও আত্মহত্যা করার
চেষ্টা করছে। মরবে কি বাঁচবে
জানি না শেষ বারের মতো দেখতে
চেয়েছিল। প্লিজ ভাইয়া আসেন, কথা
দিচ্ছি আপনার কোন সমস্যা হবে না।
আপনি শুধু এসে একটু দেখা করে চলে
যাবেন।

কাজল বলে ঠিক আছে, আমি দেখি।
হ্যাঁ কাজল হয়তো মানবতার কারনে
আসে।কাজল যখন আসে আমার জ্ঞান
ফিরে। আমার বাসায় সবাই একটু একটু
জানে আমি কাউকে ভালবাসি তাই
এই কাজ করছি। .

কাজলকে দেখে আমার ভাল লাগা
শুরু হয়। মনে হয় আমি এখন সুস্থ। আমার
কাজিন আমার পরিবারের সবার
কাছে পরিচয় করিয়ে দেয় কাজল
আমার ডিপার্টমেন্ট বন্ধু। সাথে ওর এক
বন্ধু আসছে।

ওর বন্ধু আমাকে বুঝায় আমি ভুল করেছি
এরকম করে ডিসিশন নিয়ে। আর যেনো
পাগলামী না করি। কারণ কাজল এখন
চাইলেও আমার কাছে ফিরে আসতে
পারবে না। কাজল এখন যে মেয়েকে
ভালবাসে সেই মেয়ে কাজলকে খুব
ভালবাসে।এখন ফিরে আসলে তিন
তিনটা জীবন নষ্ট হবে।

কিছু সময় থাকার পরে কাজলরা চলে
আসে। আসার আগে কাজল বলে আর
যেনো পাগলামী না করি, নিজের
মতো করে জীবন সাজাতে, বাবা
মার দিক দিয়ে বুঝায়। তুমি আমার
মতো ছেলের জন্য কেন?? নিজের
বাবা মাকে কষ্ট দিবে????? তাদের
কষ্ট দেওয়া রাইট নাই।কাজল হসপিটাল
থেকে যাওয়ার পরে নাম্বার চেন্জ
করে।

---নিজেকে এখন গুছাতে চেষ্টা
করছি। ডাক্তার বলছে আপনার
মেয়েকে যত তারাতারি বিয়ে
দিবেন?? তত তারাতারি মানুষিক
ভাবে সুস্থ হবে।

---এখন ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করি,
বাবা মার কথা শুনি। মৃত্যু পথ থেকে
বেঁচে নিজেও এখন বুঝি, আমি কত বড়
ভুল করছিলাম? যাইহোক এখন ঠিক মতো
নামাজ কালাম পড়ি। নামাজ ঠিক
মতো পড়লে মন ফ্রেশ থাকে। অবসর
সময়ে হাদিসের বই পড়ে সময় কাটাই।

পাঁচ বছর পরে

---হ্যালো তরু শুনছো????
---হ্যাঁ বলো শাহেদ।
---আজ আমার অফিসের একজন কলিগ
দুপুরে লান্চ করবে। সেই অনুযায়ী
রান্না করো কেমন????
---আচ্ছা ঠিক আছে,
----কষ্ট বাড়িয়ে দিলাম???
---আরে না, আমাদের জন্য তো রান্না
করতেই হবে।
---আচ্ছা তরু এখন রাখি।
---ওকে।
আমি ইলিশ মাছ আর মুরগীর গোস্ত ভুনা
ভুনা করলাম। সাথে ডাল, ভাজি,
সালাদ করলাম। এগুলো শাহেদ খুব
ভালবাসে।


দুপুরে রান্না করে সব কিছু ঠিক ঠাক
করে, গোসল সেরে নেই। যখন চুল
চিরুনি করছিলাম তখনি কলিং
বেলের আওয়াজ আসে। আমি
তারাতারি হালকা মত মাথায় কাপড়
দিয়ে দরজা খুলি।

দরজা খুলেই তো অবাক হয়ে যায়। আজ
পাঁচ বছর পরে কাজল কে দেখছি???
কখনো ভাবিনী কাজলকে এভাবে
দেখবো। কাজলো আমার দিকে
তাকিয়ে আছে অবাক ভাবে।

শাহেদ বলে উঠে আমার কলিগ ওর নাম
কাজল। চলো তারাতারি খেতে দাও,
আমি কোনমতে সালাম দিলাম।

আমি বসতে বলে চলে যায় খাবার
রেডি করতে। আর ভাবনায় পরে যায়।

আমার সেই ঘটনার পরে শাহেদের
সাথে বিয়ে হয়ে যায়। আমি প্রথম
থেকেই শাহেদের সাথে তেমন কথা
বলতাম না। শাহেদ সব কিছু জেনেই
বিয়ে করে।

সাত দিন পরেই শাহেদ বাসায় নিয়ে
আসে। কারণ আমি শাহেদের বাসায়
চুপচাপ থাকতাম কারও সাথে বেশি
কথা বলতাম না। এটা দেখে আরও
তারাতারি শাহেদ বাসায় নিয়ে
আসে যে, ওর বাসার কেউ যাতে
বুঝতে না পারে।

আমি কোন কাজ করতে পারতাম না,
এমনকি কোন রান্না করতেও পারতাম
না। শাহেদ আমাকে সব কিছু
শিখিয়েছে, প্রথম প্রথম ডিম ভাজি
থেকে শুরু করে সব কিছু করে দিতো।
আমি ইচ্ছে করেও আরও কিছুই করতাম
না। সব সময় রাগ দেখাতাম ভাল করে
খেতেও চাইতাম না। .

আস্তে আস্তে শাহেদ কে খুব
ভালবেসে ফেলি। ওর ভালবাসার
কাছে নিজেই কখন যেনো জড়িয়ে
ফেলি। এখন শাহেদ ছাড়া কিছুই চলে
না।

এসব কথা ভাবছিলাম আর শাহেদ
ডাকে কি ব্যপার পরীর আম্মু????
তারাতারি করো, হ্যাঁ হয়ে গেছে।
আমি খেতে দেয়, তারপর শাহেদ গল্প
করছে। জানো কাজল অনেক কষ্টে
আছে??? ওর বউ এর সাথে ভাল পরেনা।
কাজলের বাবা মাকে দেখতে
পারেনা পরিবারে ঝামেলা
লেগেই থাকে। কাজলের মা বাবা
আলাদা থাকে। কাজল ঠিক মতো
খাওয়া দাওয়া করেই আসতে পারে
না। নিজে তৈরী করে খেয়ে আসে।
সকালে কাজলের বউ ঘুম থেকে
উঠৈনা ।

আমি শুধু চেয়ে আছি কাজলের দিকে,
অনেক চেন্জ হয়েছে। চোখে চশমা,
মানুষিক অশান্তিতে আছে,
চেহারার মধ্যে ফুটে উঠছে । কিন্তু ওর
জিএফ তো ভাল ছিলো এরকম ব্যবহার
তো করবে না। তাই আমি জিজ্ঞাসা
করলাম লাভ ম্যারেজ নাকি
এ্যারেন্জ ম্যারেজ?

কাজল বললো বাবা মার পছন্দ মতো।
এখন ক্লিয়ার হলাম।জিএফ সাথে
বিয়ে হয়নি হয়তো কোন কারনে।

কথা বলছিলাম আর আমার পরী টা আম্মু
বলে ডাকে, আমি পরীকে কোলে
নিয়ে আসি। পরীক বাবাকে দেখেই
আমার কোল থেকে ঝাপিয়ে
শাহেদের গলা জড়িয়ে ধরে বলে
বাবাই বাবাই।

শাহেদ কোলে নিয়ে দেখায় ওই যে
দেখো তোমার আংকেল হয়।
কাজলকে উদ্দেশ্যে করে বলে এটা
আমার মেয়ে পরী। কাজল আমার মুখের
দিকে তাকাই, হয়তো ভাবছে আমি
আমার মেয়ের নাম পরীই রাখছি।
আমি একটা তৃপ্তির হাসি দেয়।

পরীকে কোলে নিয়ে আদর করে
কাজল। আমার পরী খুব মিশুক সবার
কোলেই যায়।কাজলের ভিতরে হয়তো
অপরাধ বোধ কাজ করছে। বেশি সময়
লেট করেনা কাজল আমাদের কাছ
থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায়।:)

সত্যি কথা আর আর কোন কষ্ট নাই
কাজলের জন্য। এখন শাহেদ আমাকে ওর
ভালবাসা দিয়ে সব ভুলিয়ে
দিয়েছে। এখন সব ভালবাসা পরী আর
পরীর বাবার জন্য। কখনো যেনো
আমার দ্বারা শাহেদ কষ্ট না পায়,
দোয়া করবেন সবাই।
(মানুষকে ঠকালে কোন একদিন এর
প্রায়শ্চিত্ত্ব ভোগ করতেই হবে এটাই
নিয়ম)
লেখা : উপমা পরি

Want your school to be the top-listed School/college in Khulna?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Khulna