15/04/2016
শেষ বিকেল টা অন্ধকার ভরে
আসছিলো। দুপুরে পর থেকেই আকাশ
মেঘলা, মাঝে মাঝে তরল মেঘেরা
উড়ে যাচ্ছিল আকাশছোঁয়া
বাড়িগুলো মাথা মুড়িয়ে। বাতাস
আর্দ্র কিন্তু বৃষ্টিটাই যা হচ্ছিলো না।
দিনগুলো যেনো আমার আর
যাচ্ছিলো না।পড়াশোনাতে মন নাই,
দিন দিন খারাপ ছাত্রী হয়ে যাচ্ছি।
রাস্তায় বের হইলে অন্য মনস্ক হয়ে
যায়। কোন কোন সময় গাড়ির ডাইভার
বকাও দেয়, দেখে চলতে পারেন
না??? এভাবে কেউ রাস্তা দিয়ে
হাঁটে নাকি??? আমার কিছুই বলার
থাকে না শুধুই তাকিয়ে থাকি।
দিনের বেলায় কান্না করতে
পারতাম না, রাত আসলেই শুধু কান্না
করতাম, এক সময় ঘুমিয়ে যেতাম। আবার
মাঝ রাতে ঘুম ভাংলে কান্না
করতাম। বাকি রাতটুকু ঘুম আসতোনা।
অথচ ঘুমের জন্য কত বকা খেয়েছি
কাজলের হাতে। মেসেজিং করতে
করতে ঘুমিয়ে যেতাম, সকালে উঠে
দেখতাম অনেক গুলো মেসেজ আর কল।
আমি না বলে ঘুমিয়ে যাওয়াতে
মাঝে মাঝে রাগ করতো, আবার
মাঝে মাঝে কিছু বলতোনা।
শরীর টা ভাল যাচ্ছে না, আগে চার,
পাঁচ বার করে খেতাম আর এখন তিন
বার ঠিক মতো খাওয়া হয়না। শুধু মনে
হতো বেশী দিন বাঁচবো না। তবে সব
সময় দোয়া করতাম তারাতারি
আল্লাহ তুমি আমাকে নিয়ে যাও,
অথবা কাজলকে যেনো তারাতারি
ভুলতে পারি।
আমার কাজিনরে কল দিলাম, ও
হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে।
বললাম একদিনের জন্য হলেও তুই বাসায়
আয়, তোর সাথে কিছু কথা আছে।
কাজিনকে কল দেওয়ার পরে, আগের
কথা ভাবছি। আমার আর কাজলের
রিলেশন হয় রং নম্বর কল থেকে। তারপর
ফেসবুকে বেশী কথা হতো। আমি
কাজলকে সত্যি অনেক ভালবেসে
ফেলি। আমি ন্যাশনাল ভার্সিটিতে
পড়ি আর কাজল পাবলিক
ভার্সিটিতে পড়ে। জেলা আলাদা
আলাদা ছিলো।
কাজলের সাথে চলতো সব সময়
মেসেজিং। সময় হইলে ফোনে কথা
হতো। আমাদের একটা ছোট্ট পরী হবে,
পরীকে নিয়ে সুন্দর একটা স্বপ্নের মত
দুজন সংসার গুছিয়ে ফেলি।
কাজলের ইচ্ছে ছিলো অনেক গুলো
বাচ্চার, আমি যেহেতু রাজি হতাম
না তাই এক ছেলে এক মেয়ের কথা
বলতো। তবে ছেলের কথা হতোনা শুধু
পরীকে নিয়েই কথা হতো।
আমার বিশেষ করে কাজলের সাথে
কথা বলতে বেশি ভাল লাগতো,
কাজলের ভয়েস টা অনেক সুন্দর। কথাও
বলে অনেক কিউট করে।
প্রতি টা দিন পরীকে নিয়ে কথা
বলতে দিন চলে যেতো। এভাবে দুই
মাস যাওয়ার পরে কাজল বললো
তোমার সাথে দেখা করবো। আমি
বললাম অনেক পরে দেখা হবে
আমাদের। এতো তারাতারি দেখা
করবোনা। তাছাড়া দুজন দুজন ফেসবুকে
ছবি দেখেছি।
কাজল দেখা করবেই, আমার একটা
জিনিস ভয় লাগতো যদি আমাকে
দেখে না ভাল লাগে? তাহলে তো
আর কাজল কথা বলবে না। এমনকি
অচেনা ছেলের সাথে কথা বলতেও
ভয় পাই। সামনাসামনি কিভাবে কথা
বলবো?? এটা নিয়েও টেনশন হতো,এ
কারণে না করতাম।
প্রহেলা বৈশাখের পাঁচ দিন আগে
দেখা করতে চায়। আমি বললাম
একবারে প্রহেলা বৈশাখে আসো।
কাজল বলে এপ্রিলের নয় তারিখে
দেখা করবো। আবার প্রহেলা
বৈশাখে দেখা করতে আসবো।
আমি শুধু কাজলকে বলতাম তুমি
আমাকে দেখার পরে আর প্রহেলা
বৈশাখে আসবে না। আমি জানি
আমাকে তোমার ভাল লাগবেনা।
না দেখো, আমি ঠিক আবার দেখতে
আসবো।আমার পরীর আম্মুকে...
নয় তারিখে দেখা করি, সেই দিনটা
অনেক সুন্দর একটা দিন কাটে। যতটা ভয়
পেয়েছিলাম তার এক অংশ ভয়
লাগেনি। মনে হয়েছে কাজল আমার
অনেক চেনা। আমি নিজেকে
কাজলের কাছে ভয়হীন ভাবে
উপস্থাপন করেছি। এজন্য কাজল অনেক
টা অবাক হয়েছিল। কিন্তু আমি
কিভাবে বুঝায় কাজলকে আমার
কতটা চেনা মনে হয়েছে,কতটা আপন
মনে হয়েছে।
সেদিনের পরে আমার মনে হয়েছে
কাজল আমাকে পছন্দ করেছে। কারণ
তারপর থেকে আরও বেশি কথা হতো।
কিন্তু কাজল খুব চালাক।
কাজল তো অনেক সুন্দর ছিলো ওর
সাথে আমাকে মানাতোনা। কাজল
আমাকে পছন্দ করেনি ঠিকি, কিন্তু
আমাকে বুঝতে দেয়নি। কাজল পাঁচ
দিন পরে আমার দেখতে আসে
প্রহেলা বৈশাখের দিন। আমি যে
আগে বলছিলাম আজ দেখা করলে আর
প্রহেলা বৈশাখে আসবে না?? তাই
হয়তো আমাকে বুঝতে দেয়নি। আবার
দেখা করতে আসে।
প্রহেলা বৈশাখ টাও মুটামুটি
ভালোই কাটে। আমি লাল
কালারের ড্রেস ও হোয়াইট
কালারের সার্ট পরে। দিনটা
ভালোই চলে গেলো।
বৈশাখের পরের দিন একটা বিষয়
নিয়ে ঝগড়া হয়। দুজন দুজনের সাথে
কথা বলি না। পরের দিন কাজল
যেহেতু কল দেয়না। ওকে খুব মিস
করছিলাম তাই আমি নিজেই কল করি।
তখন কাজল আমাকে জানায় আমি
তোমাকে ভালবাসিনা। আসলে
আমি একজনকে খুব ভালবাসি, ওর
সাথে ব্রেক আপ হওয়াতে তোমার
সাথে কথা বলে সময় পাস করতাম।
কিন্তু গতকাল ও আমার জীবনে ফিরে
আসছে।
প্রথম প্রথম তোমার ব্যবহারে মনে হতো
তুমিও সময় পাস করো। এতো অল্প
দিনেই তুমি আমাকে বিশাস করছো?
তাই মনে হতো সময় পাস করছো। এর
আগে অনেক মেয়ের সাথে সময় পাস
করছি।কিন্তু ওদের এতো ইমোশনাল
হতে দেখিনি। আমি ভাবিনি তুমি
এতো ইমোশনাল হয়ে পরবে।
আমি শুধু চুপচাপ আছি আর চোখের
পানি পরছে।
আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমি
তোমার সাথে খুব অন্যায় করে
ফেলছি। আমাকে ভুলে যেয়ে নতুন
করে জীবন সাজাও।
আমার মুখে কোন ভাষা থাকে না। শুধু
বলি রাখি। এরপর আমাকে ফেসবুকে
ব্লক করে দেয়। নাম্বারও বন্ধ করে।
দুদিন পরে নাম্বার খুলে, আমার এই
দুইটা দিন খুব কষ্টের দিন যায়, এইই দুদিন
কোন দিন ভুলার মতো না।
আমি কল দিয়ে বললাম দেখো তুমি শুধু
আমার সাথে কথা বলো, বলছিনা
আমাকে বিয়ে করো। তুমি শুধু কথা
বলো, তোমার সাথে কথা না বলে
থাকতে পারছিনা। সারাদিন খুব মিস
করতাম, আর কাঁদতাম। কথা হতো তবে
আগের মত ভাল লাগা নিয়ে না।
কাজল ওর জিএফ এর গল্প করতো, অনেক
টা কষ্ট হতো। আমার পরীকে নিয়ে
আর কথা হতোনা।
কাজল একদিন বললো, নাও আমরা ওপেন
রিলেশনশিপ করি। আমার জিএফ ঠিক
মতো কথা বলতে পারেনা। আমরাও
সময় কাটেনা। তুমি যেহেতু আমাকে
ছাড়া থাকতে পারছোনা । ওপেন
রিলেশনশিপ করি, তোমার যখন ভাল
পাত্র সাথে বিয়ে আসবে বিয়ে
করে নিও। এভাবে আমারা কথা
বললে তুমিও ভাল থাকবে আমিও।
আমি বললাম তুমি যাস্ট গুড বন্ধু হয়ে
থাকো। প্রতি দিন সন্ধ্যায় একটু কথা
বলো এতেই দিন চলে যাবে। কোনরকম
রিলেশনের ভিতরে আর যাবোনা।
যে রিলেশনের ভবিষ্যৎ নাই সেটা
যেনেও কেন?? রিলেশনশিপে
যাবো??? আমার এভাবে ভাল থাকার
দরকার নাই।
একসময় কাজলের প্রতি খুব বোরিং
এসে যায়। ওর কথা এমন ছিলো আগে
যেভাবে সব সময় কথা হতো
সেভাবেই তোমার বলতে হবে। আমি
চাইতাম কম কথা বলে আস্তে আস্তে
ভুলে যেতে। যেহেতু আমাকে
ভালবাসেনা অন্য কাউকে
ভালবাসে। ওর এরকম আবদারের ওর উপর
রাগ হয়।
আমি বলি আমাকে আর না কল দিতে
আমিও আর দিবোনা। এক প্রকার রাগ
করেই কথা গুলো বলি।
দুইমাস কথা বলিনা, দুইমাসে খুব মিস
করতাম কিন্তু কথা না বলাতে খুব
একটা কষ্ট হতোনা। কিন্তু দুইমাস পরে
আমার একটা বন্ধুর কাছে সব কিছু
শেয়ার করতে আগের কথা গুলো বলি,
সব কিছু নতুন করে মনে পরাতে খুব মিস
করতে থাকি।
ইশস কেন যে শেয়ার করতে
গেছিলাম? আবার কাজলকে খুব মিস
করি। কাজলকে কল করি ফেসবুকে
এ্যাড করার জন্য।
ফেসবুকে এ্যাড করার পরে জানতে
পারি কাজল আগের জিএফ ব্রেক আপ
করাতে। আবার নতুন রিলেশন করছে।
আর এই মেয়েকেই বিয়ে করবে।
জিনিসটা খারাপ লাগে, কাজল
আমার কাছে আসতে পারতো?? নতুন
করে কেন রিলেশন করলো??? তবু আমার
বিশ্বাস হতোনা। মনে হতো আমি
যাতে কাজলকে ভুলে যায় এজন্য
মিথ্যে বলছে।
আমি কাজলের কাছে ওর জিএফ এর
সাথে এ্যাডযাস্ট ছবি চায়। কাজল
দেয় তখনো বিশ্বাস করিনি। আমার
মনে হয় কাজলের ভাবির সাথে ছবি।
কিন্তু কাজল একদিন ফোনে কথা
বলিয়ে দেয়, তখন মনে হতো সত্যি।
কাজলকে বলছিলাম তুমি আমার
কাছে না এসে কেন নতুন জনের কাছে
গেলে??? কাজল বলেছিলো এমন
একটা মানুষের জন অপেক্ষা করছিলো,
যাকে নিজের সব কিছু দিয়ে
ভালবাসা যায়। আমার সেদিনি মনে
হয়েছিলো আসলে আমি তো
কাজলের যোগ্য না।
আমার কষ্ট হতো এটা ভেবে আরও
কখনো কাজলের সাথে দেখা হবে
না। জীবনে একটা বার দেখা করার
ইচ্ছে ছিলো। আমার চোখের পানি
গুলো কাজলের সামনে ঝড়াতে ইচ্ছে
করতো শুধু একবার।
আমার বিষয়ে আমার কাজিন সব কিছু
জানতো। ওকেই কল করলাম আসার জন্য।
কাজিন আসছে, আমি শুধু ওকে বললাম
আমি যদি কখনো মৃত্যুর সাথে লড়াই
করি। তখন যেনো সাথে সাথে
কাজলকে কল করে। আমি মরার আগে
শেষ বারের মতো দেখে যেতে চাই।
আমার কথায় আমার কাজিন বোন খুব মন
খারাপ করতো। আমাকে বুঝাইতো
একটি ছেলে গেছে কত ভাল ছেলে
আসবে। ভুলে যেয়ে নতুন জীবন শুরু কর।
অনেক কিছু বুঝাতো ।
যাক কথাগুলো কাজিনকে বলে তবু
শান্তি লাগছে। কিন্তু কাজলকে মিস
করা বাদ যাচ্ছে না। আগে কল দিলে
কাজল কথা বলতো, মেসেজ দিলে
রিপ্লাই করতো এখন তাও করেনা।
দিন যত যাচ্ছে মিস করার পরিমাণ টা
বেড়েই যাচ্ছে,না পড়াশোনা
করি??? না বাবা মার কথা শুনি??
উল্টা বাবা মার সাথে খারাপ
ব্যবহার করি। একদম সিদ্ধান্ত নিলাম
আর পৃথিবীকে বেঁচে থাকবোই না।
এভাবে আর জীবন চলে না। পৃথিবীর
মানুষ গুলো নিষ্ঠুর, ওদের থেকে দূরেই
চলে যাব।
আমি রাতে অনেক গুলো ঘুমের
ট্যাবলেট খেয়ে কাজিন বোনকে কল
করে বলি। কিছু ভুল হইলে ক্ষমা করে
দিস। আমার হয়ে কাজলের কাছে
ক্ষমা চেয়ে নিস। আমি তোদের
ছেড়ে চলে যাচ্ছি রে।
আমার কাজিন সাথে সাথে আমার
বাসায় বাবা মাকে জানায়। সবাই
এসে দেখে ঘুমের ট্যাবলেটের
পাতা গুলো পরে আছে বিছানায়।
এটা দেখেই সবাই হসপিটালে নিয়ে
যায়।
আমার কাজিন কাজলকে কল করে বলে
ভাইয়া প্লিজ একটা বার তরু কে
দেখতে আসেন। ও আত্মহত্যা করার
চেষ্টা করছে। মরবে কি বাঁচবে
জানি না শেষ বারের মতো দেখতে
চেয়েছিল। প্লিজ ভাইয়া আসেন, কথা
দিচ্ছি আপনার কোন সমস্যা হবে না।
আপনি শুধু এসে একটু দেখা করে চলে
যাবেন।
কাজল বলে ঠিক আছে, আমি দেখি।
হ্যাঁ কাজল হয়তো মানবতার কারনে
আসে।কাজল যখন আসে আমার জ্ঞান
ফিরে। আমার বাসায় সবাই একটু একটু
জানে আমি কাউকে ভালবাসি তাই
এই কাজ করছি। .
কাজলকে দেখে আমার ভাল লাগা
শুরু হয়। মনে হয় আমি এখন সুস্থ। আমার
কাজিন আমার পরিবারের সবার
কাছে পরিচয় করিয়ে দেয় কাজল
আমার ডিপার্টমেন্ট বন্ধু। সাথে ওর এক
বন্ধু আসছে।
ওর বন্ধু আমাকে বুঝায় আমি ভুল করেছি
এরকম করে ডিসিশন নিয়ে। আর যেনো
পাগলামী না করি। কারণ কাজল এখন
চাইলেও আমার কাছে ফিরে আসতে
পারবে না। কাজল এখন যে মেয়েকে
ভালবাসে সেই মেয়ে কাজলকে খুব
ভালবাসে।এখন ফিরে আসলে তিন
তিনটা জীবন নষ্ট হবে।
কিছু সময় থাকার পরে কাজলরা চলে
আসে। আসার আগে কাজল বলে আর
যেনো পাগলামী না করি, নিজের
মতো করে জীবন সাজাতে, বাবা
মার দিক দিয়ে বুঝায়। তুমি আমার
মতো ছেলের জন্য কেন?? নিজের
বাবা মাকে কষ্ট দিবে????? তাদের
কষ্ট দেওয়া রাইট নাই।কাজল হসপিটাল
থেকে যাওয়ার পরে নাম্বার চেন্জ
করে।
---নিজেকে এখন গুছাতে চেষ্টা
করছি। ডাক্তার বলছে আপনার
মেয়েকে যত তারাতারি বিয়ে
দিবেন?? তত তারাতারি মানুষিক
ভাবে সুস্থ হবে।
---এখন ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করি,
বাবা মার কথা শুনি। মৃত্যু পথ থেকে
বেঁচে নিজেও এখন বুঝি, আমি কত বড়
ভুল করছিলাম? যাইহোক এখন ঠিক মতো
নামাজ কালাম পড়ি। নামাজ ঠিক
মতো পড়লে মন ফ্রেশ থাকে। অবসর
সময়ে হাদিসের বই পড়ে সময় কাটাই।
পাঁচ বছর পরে
---হ্যালো তরু শুনছো????
---হ্যাঁ বলো শাহেদ।
---আজ আমার অফিসের একজন কলিগ
দুপুরে লান্চ করবে। সেই অনুযায়ী
রান্না করো কেমন????
---আচ্ছা ঠিক আছে,
----কষ্ট বাড়িয়ে দিলাম???
---আরে না, আমাদের জন্য তো রান্না
করতেই হবে।
---আচ্ছা তরু এখন রাখি।
---ওকে।
আমি ইলিশ মাছ আর মুরগীর গোস্ত ভুনা
ভুনা করলাম। সাথে ডাল, ভাজি,
সালাদ করলাম। এগুলো শাহেদ খুব
ভালবাসে।
দুপুরে রান্না করে সব কিছু ঠিক ঠাক
করে, গোসল সেরে নেই। যখন চুল
চিরুনি করছিলাম তখনি কলিং
বেলের আওয়াজ আসে। আমি
তারাতারি হালকা মত মাথায় কাপড়
দিয়ে দরজা খুলি।
দরজা খুলেই তো অবাক হয়ে যায়। আজ
পাঁচ বছর পরে কাজল কে দেখছি???
কখনো ভাবিনী কাজলকে এভাবে
দেখবো। কাজলো আমার দিকে
তাকিয়ে আছে অবাক ভাবে।
শাহেদ বলে উঠে আমার কলিগ ওর নাম
কাজল। চলো তারাতারি খেতে দাও,
আমি কোনমতে সালাম দিলাম।
আমি বসতে বলে চলে যায় খাবার
রেডি করতে। আর ভাবনায় পরে যায়।
আমার সেই ঘটনার পরে শাহেদের
সাথে বিয়ে হয়ে যায়। আমি প্রথম
থেকেই শাহেদের সাথে তেমন কথা
বলতাম না। শাহেদ সব কিছু জেনেই
বিয়ে করে।
সাত দিন পরেই শাহেদ বাসায় নিয়ে
আসে। কারণ আমি শাহেদের বাসায়
চুপচাপ থাকতাম কারও সাথে বেশি
কথা বলতাম না। এটা দেখে আরও
তারাতারি শাহেদ বাসায় নিয়ে
আসে যে, ওর বাসার কেউ যাতে
বুঝতে না পারে।
আমি কোন কাজ করতে পারতাম না,
এমনকি কোন রান্না করতেও পারতাম
না। শাহেদ আমাকে সব কিছু
শিখিয়েছে, প্রথম প্রথম ডিম ভাজি
থেকে শুরু করে সব কিছু করে দিতো।
আমি ইচ্ছে করেও আরও কিছুই করতাম
না। সব সময় রাগ দেখাতাম ভাল করে
খেতেও চাইতাম না। .
আস্তে আস্তে শাহেদ কে খুব
ভালবেসে ফেলি। ওর ভালবাসার
কাছে নিজেই কখন যেনো জড়িয়ে
ফেলি। এখন শাহেদ ছাড়া কিছুই চলে
না।
এসব কথা ভাবছিলাম আর শাহেদ
ডাকে কি ব্যপার পরীর আম্মু????
তারাতারি করো, হ্যাঁ হয়ে গেছে।
আমি খেতে দেয়, তারপর শাহেদ গল্প
করছে। জানো কাজল অনেক কষ্টে
আছে??? ওর বউ এর সাথে ভাল পরেনা।
কাজলের বাবা মাকে দেখতে
পারেনা পরিবারে ঝামেলা
লেগেই থাকে। কাজলের মা বাবা
আলাদা থাকে। কাজল ঠিক মতো
খাওয়া দাওয়া করেই আসতে পারে
না। নিজে তৈরী করে খেয়ে আসে।
সকালে কাজলের বউ ঘুম থেকে
উঠৈনা ।
আমি শুধু চেয়ে আছি কাজলের দিকে,
অনেক চেন্জ হয়েছে। চোখে চশমা,
মানুষিক অশান্তিতে আছে,
চেহারার মধ্যে ফুটে উঠছে । কিন্তু ওর
জিএফ তো ভাল ছিলো এরকম ব্যবহার
তো করবে না। তাই আমি জিজ্ঞাসা
করলাম লাভ ম্যারেজ নাকি
এ্যারেন্জ ম্যারেজ?
কাজল বললো বাবা মার পছন্দ মতো।
এখন ক্লিয়ার হলাম।জিএফ সাথে
বিয়ে হয়নি হয়তো কোন কারনে।
কথা বলছিলাম আর আমার পরী টা আম্মু
বলে ডাকে, আমি পরীকে কোলে
নিয়ে আসি। পরীক বাবাকে দেখেই
আমার কোল থেকে ঝাপিয়ে
শাহেদের গলা জড়িয়ে ধরে বলে
বাবাই বাবাই।
শাহেদ কোলে নিয়ে দেখায় ওই যে
দেখো তোমার আংকেল হয়।
কাজলকে উদ্দেশ্যে করে বলে এটা
আমার মেয়ে পরী। কাজল আমার মুখের
দিকে তাকাই, হয়তো ভাবছে আমি
আমার মেয়ের নাম পরীই রাখছি।
আমি একটা তৃপ্তির হাসি দেয়।
পরীকে কোলে নিয়ে আদর করে
কাজল। আমার পরী খুব মিশুক সবার
কোলেই যায়।কাজলের ভিতরে হয়তো
অপরাধ বোধ কাজ করছে। বেশি সময়
লেট করেনা কাজল আমাদের কাছ
থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায়।:)
সত্যি কথা আর আর কোন কষ্ট নাই
কাজলের জন্য। এখন শাহেদ আমাকে ওর
ভালবাসা দিয়ে সব ভুলিয়ে
দিয়েছে। এখন সব ভালবাসা পরী আর
পরীর বাবার জন্য। কখনো যেনো
আমার দ্বারা শাহেদ কষ্ট না পায়,
দোয়া করবেন সবাই।
(মানুষকে ঠকালে কোন একদিন এর
প্রায়শ্চিত্ত্ব ভোগ করতেই হবে এটাই
নিয়ম)
লেখা : উপমা পরি