09/01/2023
👉 স্কুল রেডিনেস কি? অভিভাবক হিসেবে আমরা কিভাবে শুরু করতে পারি?
আপনার সন্তানের যখন ২-৩ বছর বয়স, তখন থেকে কিন্তু তাকে স্কুলের জন্য আস্তে আস্তে তৈরি করতে হবে। পোশাক পড়িয়ে স্কুলে পাঠানো নয়, বরং স্কুলে পাঠানোর আগে বিভিন্ন ধাপ আমাদের বাবা-মার জানতে হবে।
আজকের আলোচনার বিষয়, শিশুকে কিভাবে স্কুলের জন্য প্রস্তুত করে তুলবো?
নতুন বছর চলে আসলো। শিশুর স্কুলে দেয়া নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। যদি আপনার সন্তানের বয়স ৩-৬ বছর হয়ে থাকে তাহলে আমরা কিভাবে তাকে প্রস্তুত করতে পারি? এসময় প্রথমেই শিশুর রাইটিং স্কিল নিয়ে আপনি কাজ করতে পারেন। বিভিন্ন খেলনা দিয়ে তার মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন। ধরুন, আপনার সন্তান লিখতে চাচ্ছেনা। কোনভাবেই তাকে দিয়ে লিখানো সম্ভব হচ্ছেনা। এক্ষেত্রে আপনি কি তাকে জোর করবেন? নাকি আপনি বিভিন্ন এক্টিভিটি দ্বারা তাকে মোটিভেট দেবেন? বিভিন্ন এক্টিভিটি বলতে, প্লে ডো দিয়ে খেলা, ডিম ছোলার মত কাজ ইত্যাদি। অর্থাৎ এমন এক্টিভিটি যেটা আপনার শিশু আগ্রহ খুঁজে পায়। আপনার শিশু যদি পানি দিয়ে খেলতে পছন্দ করে তাহলে তাকে তাই দিন। পেইন্টিং করতে পছন্দ করলে তাই করতে দিন। আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে আপনার শিশু আসলে কি পছন্দ করে। তার পছন্দের খেলাটিকে কেন্দ্র করেই আপনার শিশুটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
শিশুকে স্কুলে দেয়ার আগে আপনাকে জানতে হবে শিশু কি নিজে জুতো পরতে পারে কিনা। নিজের জামা নিজে পড়তে পারে কিনা কিংবা টিফিন বক্স খুলতে পারে কিনা অথবা নিজের আঙুল ব্যবহার করে নিজের খাবারটুকু নিজে খেতে পারে কিনা। এই ছোট ছোট কাজগুলো সে পারে কিনা। এই কাজগুলো শেখানো অভিভাবক হিসেবে একজন বাবা-মায়ের কর্তব্য। এটি কিন্তু স্কুল রেডিন্যাসের মধ্যেই পরে। স্কুলে দেয়ার আগে বাসায় বসে বাবা-মা হিসেবে এই কাজ গুলো আগে শেখাবেন। আপনারা শিখাতে পারেন কিভাবে ওয়াটারপট খুলে পানি খেতে হয়, কিভাবে টয়লেট করবে নিজে নিজে, টয়লেট ব্যবহারের পর কিভাবে হ্যান্ড ওয়াশ করবে এবং কিভাবে জামা পরবে ।
এরপর আসা যাক শিশুর কথা বলার ব্যাপারটিতে।
অনেক শিশু খুব তাড়াতাড়ি কথা শিখে, অনেকে একটু দেরীতে কথা বলা শিখে। যারা কম কথা বলে কিংবা দেরীতে কথা শিখে, তাদের সাথে বাবা-মায়েরা বডি লেংগুয়েজের মাধ্যমে কথা বলতে পারি। নিজেদের মত করে বডি লেংগুয়েজ ব্যবহার করে তার ভাষা বিকাশে সহায়তা করা বাবা-মায়ের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়াবে। পাশাপাশি একটি শব্দ ব্যবহার করে কথা বলার চেষ্টা করুন। এভাবে আস্তে আস্তে দুটি শব্দ, তিনটি শব্দ করে পর্যায়ক্রমে তাকে ইন্সট্রাকশন দিতে থাকুন। একসাথে একগাদা বাক্য বলা থেকে বিরত থাকবেন। যেমনঃ 'পানি', তারপর বলবেন 'পানি খাও' এভাবে আস্তে আস্তে করে শিখাতে হবে। কারন স্কুলে যখন তাকে দেয়া হবে তখন যদি সে তার মনের ভাব প্রকাশ করতে না পারে তাহলে পরদিন আর স্কুলে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করবে। একজন বাবা-মা হিসেবে আপনার কর্তব্য শিশুর ভাষা বিকাশে সহায়তা করা।
আরেকটি বিষয় হলো আপনার সন্তান ফিজিক্যালি বা শারীরিক ভাবে ফীট আছে কিনা। অর্থাৎ সে জাম্প করতে পারছে কি না, সে দৌড়াতে পারছে কি না, বসতে পারছে কি না কিংবা খাতা কলম দিলে সে ঠিকমতো ধরে লিখতে পারছে কি না। এই ব্যাপারগুলো আগে শিখাতে হবে স্কুলে দেয়ার আগেই।
আরেকটি বিষয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, যদি আপনার সন্তান ৩ বছরেও আই কন্টাক না করে, কারো সাথে কমিউনিকেশন না করে এবং কথা না বলতে পারে তাহলে স্কুলে দেয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং স্কুলে দেয়াকালীন টিচারদেরকে অবগত করতে হবে শিশুর দুর্বলতা গুলো। শিশুর চ্যালেঞ্জগুলো অবশ্যই স্কুলের টিচারকে জানাতে হবে এবং প্রতিনিয়ত আপডেট নিতে হবে। আপনার সন্তান স্কুলে কি করছে সেটা সবসময় খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিটি শিশুই ইউনিক। অবশ্যই আপনার সন্তান আরেকটি শিশুর মত নয়। আপনার সন্তানের চিন্তা একমাত্র আপনারই। আপনাকেই চিন্তা করতে হবে কিভাবে তাকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হবে। শিশুর ফাউন্ডেশন স্টেইজটি যদি সুন্দরভাবে গড়ে দিতে পারেন, তাহলে দেখবেন সে তার স্কুল খুব ইঞ্জয় করছে, প্রাইমারিতে ভালো করছে, সেকেন্ডারি স্কুল- কলেজ সব জায়গাতে সে ভালো এগিয়ে যাচ্ছে। আর এই প্রি-প্রাইমারি স্টেইজে সে যদি দুর্বল থাকে তাহলে তার কনফিডেন্স আস্তে আস্তে কমে যেতে থাকবে।
সবশেষে এটাই পরামর্শ দিতে পারি, স্কুল শিশুর জীবনে যে গুরুত্ব বয়ে আনে, তা আমাদের ভুলের কারনে যেন একটি শিশু অনাগ্রহ প্রকাশ না করতে পারে তাই স্কুলে দেয়ার আগে শিশুকে আমাদের অভিভাবকদের রেডি করে ফেলতে হবে তাহলেই একটি শিশুর প্রি স্কুলিং টি আরো আনন্দময় হয়ে উঠবে।
তৃপ্তি পোদ্দার।।