28/04/2025
শ্রদ্ধেয় রাতুল মাহমুদ স্যারের ওয়াল থেকে
বাংলা ভাষা-ভাষীদের জন্য বিশেষ কিছু “নিখাদ বাংলা”অথবা “সংস্কৃত”শব্দ অথবা অপভ্রংশ, বাংলা হোমিওপ্যাথি সাহিত্যকে করে তুলেছে অনেক কঠিন,জটিল আর দু:বোধ্য। বই এবং বইয়ের ভাষা যদি “সুখপাঠ্য”- ই না হয় তবে তা বোধগম্য হবে কিভাবে ? আর মনেই বা থাকবে কিভাবে ?..... আমি দেখেছি, ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে “অর্গানন অফ মেডিসিন”সবচাইতে কঠিন আর দু:বোধ্য সাবজেক্ট, ...এমনিতেই তো অর্গানন একটি কঠিন সাবজেক্ট ... অনুবাদকরা সেটিকে একটু সহজপাঠ্য না করে বাংলা এবং সংস্কৃতির শব্দজালে এমনভাবে জড়িয়েছেন যে, কোন ছাত্রছাত্রী যখন অর্গানন দিয়ে তাদের পড়া শুরু করে প্রথমেই তারা আতঙ্কিত বোধ করে এবং তাদের মধ্যে অবচেতন মনেই একটি বাক্য গেঁথে যায় যে, “হোমিওপ্যাথি খুব কঠিন।”অর্গানন অফ মেডিসিন পড়ে হোমিওপ্যাথি পড়ার উপরই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে... এ রকম অন্তত এক ডজন মানুষকে আমি চিনি।
ছাত্র-ছাত্রীরা এই শব্দগত সমস্যার মুখোমুখি হয় বলেই কিন্তু আমার এই লেখা। কিন্তু তারমানে কিন্তু এই নয় যে, আমিই সব জানি। আমি যে টুকু জানি সেটুকু আপনাদের জানাবো অবশ্যই, কিন্তু প্রথমত: মনে রাখতে হবে, আমি সব জানি না, দ্বিতীয়ত: কিছু শব্দ আছে, যা সম্পূর্ন বাক্যটি না বললে অনেক সময় শিক্ষকরাও ভীমড়ি খান। আর তৃতীয়ত: সামান্যতম বানানের হেরফেরও কিন্তু শব্দটির অর্থ পরিবর্তন করে ফেলতে পারে। “Your Pen is Nice" কে কেউ যদি লিখে “Your P***s Nice" ...মানেটা আলাদা হলে আমাদের আর কি করার থাকে বলুন ?
প্রসঙ্গত: আরেকটি কথা বলি, “সব ইংরেজী শব্দেরই বাংলা করা কিন্তু ভালো নয়।” ডা.হানেম্যান স্যার মিয়াজমকে কিন্তু মিয়াজমই বলেছিলেন, “উপবিষ”বলেন নি। মিয়াজমটার উচ্চারন মিয়াজম থাকলেই হোমিওপ্যাথির শ্রীবৃদ্ধি পেত। তাঁর উল্ল্যেখিত “সোরা”-কে বাংলার পন্ডিতরা “কচ্ছদোষ”নাম দিয়ে এমন একটা বিতিকিচ্ছিরি অবস্থার সৃষ্টি করেছে যে “দোষ”শুনলেই আমাদের মনে একটা খারাপ আর নেতিবাচক মনোভাবের সৃষ্টি হয়। এজন্যই আমার মনে হয়, কিছু শব্দ ইংরেজী থাকাই শ্রেয়।
নীচের লেখাগুলো আমি “বাসন্তি বর্নের”এক “গাঙচিল-এর কাছ্ থেকে পেয়ে, উত্তর দিচ্ছি, আমাকে অন্যভাবে দেখবেন না দয়া করে,
১)মুষ্টিযোগ------ যা ব্যবহারিক ক্ষেত্রে পরিক্ষীত।
২)বিষুচিকা----এক ধরনের চর্রোগ।
৩)ব্যাস্তবাগীষ------ যিনি অতিশয় তাড়াহুড়ো করেন।
৪)শ্বেতপ্টল-------চোখের সাদা অংশ, যাকে কনজাংটিভা বলে।
৫)নির্ঘন্ট------- থেরাপিউটিক্স, কোন রোগের জন্য ব্যবহৃত ঔষধগুচ্ছ।
৬)নিস্প্রভ------ যার মধ্যে প্রভা বা আলো নেই, ম্লান।
৭)কার্বঙ্কল-----এক ধরনের বড় ফোড়া। ২/৩টা মুখ থাকে।
৮)অগ্নিমান্দ্য----এসিডিটি।বদহজম।
৯)ভেদাল ব্যাথা----আফটার পেইন। সন্তান প্রসবের পরে তলপেট ও জরায়ুতে যে ব্যথা হয়। অনেকে হ্যাতাল ব্যথাও বলে।
১০)সন্যাস রোগ----এ্যাপোপ্লেক্সি রোগ। একধরনের স্নায়ু সংক্রান্ত রোগ।
১১)শ্বসোগত------ (শব্দটা বুঝতে পারিনি, দু:খিত, শয্যাগত হলে “বিছানায় পড়ে থাকা অবস্থা” বোঝায়।)
১২)তপনদাহ--------সূর্য তাপ।
১৩)নিশাঘর্ম-------রাত্রে যে ঘাম হয়।
১৪)সূচিবায়------- খুঁতখুঁতে স্বভাব, অন্যের স্পর্শ নিতে চায় না।
১৫)পতিনশ্যি------পূতিনস্য... ইংরেজীতে বলা হয় ওজিনা, নাকের এক প্রকার পঁচা রোগ।
১৬)মিন মিনে------ মিনমিনে স্বভাব (কিভাবে বোঝাবো..., কিভাবে বোঝাবো...এই ধরেন মিন মিনে প্রকৃতির আর কি)।
১৭)হিক্কা-------------হেঁচকী।
১৮)হিষ্টিরিয়া----------মৃগী রোগ। একধরনের স্নায়ু রোগ।আপনি নীচের দুয়েকটি ছাড়া সবই ইংরেজী শব্দ লিখেছেন কিন্তু)....
১৯)হাইড্রফ্লিক্সিয়া------ (সঠিক লেখা হয় নি, ইংরেজীটা সহ লিখে জানাবেন)।
২০)হাইড্রফোবিয়া------জলাতঙ্ক। জলে আতঙ্ক।
২১)রাইটার্স্ক্রাম্প---- সঠিক লেখা হয়নি, শব্দটি হবে “রাইটারস ক্র্যাম্প”... লেখকদের হাতের পেশীর সংকোচন, অনেকক্ষন লেখার পরে যা হয়।
২২)স্পনডালাইটিস---- মেরুদন্ডের বিশেষ রোগ। কয়েক ধরনের হয়, এ রোগে মেরুদন্ডের হাড়ের বিশেষ কিছু পরিবর্তন হয়।
২৩)Night pollution--- (একটা ভন্ড শব্দ, চিকিৎসার পরিভাষায় এ ধরনের শব্দ নেই, তবে তথাকথিত কিছু হোমিওপ্যাথ এই শব্দটি ব্যবহার করেন, স্বপ্নদোষ অর্থে, পলিউশান অর্থ দূষন, দোষ, দূষিত, নষ্ট ইত্যাদি।)
২৪)Hydrocephaloid-- মস্তিকে জলসঞ্চয় (গ্রস্থ যে), হাইড্রোকেফালাস অর্থ মস্তিস্কে জলসঞ্চয়, আর কেফালয়েড যুক্ত হলে “গ্রস্থ” বোঝাবে।
25)সূতিকা উন্মত্ততা---সন্তান প্রসবের পর মানসিক বিকারগ্রস্থতা্।
২৬)সেলুলাইটিস------- কোষ-কলার প্রদাহ।
২৭)Scrofula---------- হোমিওপ্যাথিক মতে রোগীর মধ্যে প্রাপ্ত একধরনের বৈশিষ্ট্য বিশেষ।
২৮)Rachites------------- (লিখা সঠিক হয়নি).. পুনরায় লিখে জানান।
2৯)লোকোমোটর এটাক্সিয়া---এক ধরনের স্নায়ুরোগ, যাতে হাতপায়ের পেশী নিয়ন্ত্রনে থাকে না।
৩০)গ্লিট- Gleet-------গনোরিয়া রোগীর জননাঙ্গ থেকে নির্গত এক ধরনের আঠালো স্রাব।
৩১) ম্যারাসমাস Marasmas-- পুঁয়ে পাওয়া। (কোনটা বেশী কঠিন মনে হচ্ছে, “ম্যারাসমাস” নাকি “পূঁয়ে পাওয়া?” দু’টোর মানেই এক।
৩২)এপিলেপ্সি।-------- মৃগী।
৩৩)মেটরাইটিস-------- শুধু মেট্রাইটিস হবার কথা নয়, হতে পারে এন্ডোমেট্রাইটিস অথবা মায়োমেট্রাইটিস।শুধু মেট্রাইটিস হলে মেট্রিয়ামের প্রদাহ বুঝবো।
৩৪)Obesity------------ মেদ, ভূড়ি, মেদপ্রবনতা।
৩৫)Brain Fag---------এক ধরনের মস্তিস্কের অথবা স্নায়ুর রোগ। মস্তিস্ক কুয়াশাচ্ছন্ন বোধ, চিন্তাশক্তি লোপ পায়।
৩৬)Vertigo-----------মাথাঘোরা।
৩৭)গাউট-----------গিটেবাত। এ রোগে রক্তের ইউরিক এসিড বৃদ্ধি পায়, পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে ব্যথা এ রোগের প্রধান লক্ষন।
৩৮)Hydrothorax----------ফুসফুসের আবরণীর নাম প্লুরা, এর দুইটি আবরন, একটি প্যারাইটাল আরেকটি ভেসারাল। এই দুই লেয়ারের ভেতরে অত্যাধিক জল সঞ্চিত হলে তাকে হাইড্রোথোরাক্স বলে।
৩৯)প্রোলাপ্সস--------নির্গমন, স্থানচ্যুতি, নির্দিষ্ট স্থান থেকে সরে যাওয়া।
৪০)পোড়ানারাঙ্গা -কি? এক ধরনের চর্মরোগ ।
৪১)Griping-----------আঁকড়ে ধরা, মুষ্ঠিবদ্ধ করে ধরা।
ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে।😌